বেন জনসন
২১২. যদি পাপ করে থাক, কাতরকণ্ঠে তা প্রকাশ করো, শীঘ্র সান্ত্বনা পাবে। পাপকে গোপনে রেখো না, উত্তরোত্তর বর্ধিত হয়ে অতিসত্বর তোমাকে অধঃপাতের চরমে নিয়ে যাবে।
ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
২১৩. আল্লাহই মুসলমানদের বন্ধু এবং সঙ্গী। তিনি তাদের অন্ধকার থেকে বার করে আলোকে নিয়ে আসেন।
–আল-কোরআন
২১৪. প্রাচীন ধর্ম বলছে, ঈশ্বরে যে বিশ্বাস করে না, সে নাস্তিক। নতুন ধর্ম বলছে, যে নিজেকে বিশ্বাস করে না, সে-ই নাস্তিক।
–স্বামী বিবেকানন্দ
২১৫. ঈশ্বরকে যত চিন্তা করবে, ততই সংসারে সামান্য ভোগের জিনিসে আসক্তি কমবে।
–শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব
২১৬. যে সত্যপথে চলে, কেউ তার কেশাগ্রও ছুঁতে পারে না, তোমরা সকলে মনে নিষ্ঠার সাথে হরিনাম কর, পবিত্রতার মধ্যে যাও।
–প্রভু জগদ্বন্ধু
২১৭. কুরআন, হাদিস সবাই বলে
পবিত্র সে বেহেশত নাকি
মিলবে সেথায় আসল শরাব
তন্বীনূরী ডাগর আঁখি?
শরাব এবং প্রিয়ায় নিয়ে
নিদ কাটে মোর দোষ কি তাতে?
বেহেশতে যা হারাম নহে
মর্ত্যে হবে হারাম তা কি?
কাজী নজরুল ইসলাম
২১৮. প্রকৃতি হল ঈশ্বরের জীবন্ত ও দৃশ্যমান পরিচ্ছেদ।
গ্যেটে
২১৯. নামায প্রত্যেক বয়স্ক নরনারীর জন্য অবশ্যকরণীয়; কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে হুঁশিয়ার করা হয়েছে, কেবল পূর্বদিকে বা পশ্চিমদিকে মাথা নত করলে কোনো লাভ নাই–যদিনা তার পশ্চাতে থাকে উপাসনা উন্মুক্ত সত্য-সরল মন। সর্বপ্রকার সংস্কারের মোহমুক্ত তত্ত্বান্বেষী জ্ঞানোজ্জ্বল মন–এই-ই ইসলামের কাম্য।
প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ
২২০. আল্লাহর কাছে কখনো চেয়ো না
ক্ষুদ্র জিনিস কিছু
আল্লাহ্ ছাড়া কারো কাছে কভু
শির করিও না নিচু।
কাজী নজরুল ইসলাম
২২১. মহানবীর জীবন ও চিন্তাকে যে অনুসরণ করে না, যে শুধু ‘দরুদ’ (শান্তিবাদ) পাঠ করিয়াই প্রেমিক হইবার দাবি রাখে, সে মহানবীর কেহই নয়। ভণ্ড বলিয়া তাহার গায়ে ধূলি নিক্ষেপ করিলে আমার মনে দুঃখ হইবে না।
–ডা. লুৎফর রহমান
২২২. রথযাত্রা, লোকারণ্য–মহা ধুমধাম,
ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম।
পথ ভাবে আমি দেব’ রথ ভাবে ‘আমি’
মূর্তি ভাবে আমি দেব’ হাসে অন্তর্যামী।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২২৩. ধর্ম মানব-প্রতিভার এক আশ্চর্য উদ্ভাবন। ধর্ম মানুষের প্রাণের উচ্ছলতা, কামনার উদ্দামতা, অভিলাষের অদম্যতা, আচরণের অবাধ্যতা, চিন্তার স্বাধীনতা, সম্ভাবনার বিচিত্রতা প্রভৃতি এক নিয়মিত খাতে পরিচালিত করে যান্ত্রিক পরিমিতিতে সীমিত রাখে।
ড. আহমদ শরীফ
২২৪. ধর্ম দুরাত্মাকে করে নিয়ন্ত্রিত, সু-আত্মাকে রাখে আড়ষ্ট, আনন্দকে করে দুর্লভ, অতৃপ্তিকে করে চিরন্তন, আকাঙ্ক্ষাকে করে বোবা, বেদনাকে করে অন্ধ, অনুভূতি হয় নিরবয়ব আর হয় সীমিত। সবল ও দুর্বল জ্ঞানী-মূর্খ, সাধক ও দুষ্ট সমভাবেই থাকে।
ড. আহমদ শরীফ
২২৫. ধর্মবোধ মানুষের অন্তরে এমন এক জীর্ণতা এনে দেয়, প্রাণশক্তির উৎসমুখে এমন এক বাঁধ নির্মাণ করে, এমন এক প্রত্যয় ও নিশ্চিত ভাব জাগায়, যার কবলমুক্ত হওয়া সম্ভব হয় না কারো পক্ষে।
ড. আহমদ শরীফ
২২৬. যাহার হৃদয়ে ক্ষুদ্র সষ্টপ (সরিষা) বীজের পরিমাণ ধর্মভাব আছে, সে কখনো দোযখে যাইবে না এবং যাহার হৃদয়ে তদনুরূপ অহংকার আছে, সে কখনো বেহেশতে প্রবেশ করিতে পারিবে না।
–আল-হাদিস
২২৭. ধর্ম মানব-মনীষা আর উপলব্ধির এক দুর্লভ কৃতিত্ব আর সম্পদ। ধর্মের কাছে মানুষ পায় আত্মজ্ঞান, অতীন্দ্রিয় জিজ্ঞাসার প্রেরণা, আধ্যাত্মিক শান্তি ও সাধনা। ধর্ম মানুষকে দিয়েছে বিশ্বাস, ভক্তি, বিনয়, ক্ষমা, করুণা আর আত্মনিবেদনের পথে দিয়েছে শৃঙ্খলা আর সংযত জীবন দীক্ষা।
–আবুল ফজল
২২৮. ইসলামের সেবা এবং আল্লাহর আদেশকে আগামী দিনের জন্য স্থগিত রেখো না।
হযরত আবুবকর (রা.)
২২৯. পৃথিবীর সর্বপ্রকার অশান্তির একমাত্র সমাধান ইসলাম।
–স্যার টমাস আরনল্ড
২৩০. ইসলাম দুটি বিশিষ্ট জিনিস মানুষকে দিতে চেয়েছে। প্রথম, নিরাকার আল্লাহর সঙ্গে তার আত্মিক ও সামাজিক যোগসম্পন্ন প্রবৃত্তি। দ্বিতীয়, ভ্রাতৃত্ব, সাম্য ও স্বাধীন মনোবৃত্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের স্বচ্ছ সদ্ব্যবহার।
–মোঃ ওয়াজেদ আলি
২৩১. যদি ইসলামের অর্থ ঈশ্বরে আত্মনিবেদন হয়, তবে আমরা সকলেই ইসলামে বাঁচি এবং মরি।
–গ্যেটে
২৩২. ইসলামের জাতীয়তা দেশের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ নয়। সে সংকীর্ণ প্রাদেশিকতা ও ক্ষুদ্র জাতীয়তার বহু ঊর্ধ্বে।
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
২৩৩. খোদাতাআলার আদেশসমূহের প্রতি প্রগাঢ় ভক্তি প্রদর্শন এবং যাবতীয় সৃষ্টি জীবের প্রতি সহানুভূতি হইবে ইসলাম।
–আল-হাদিস
২৩৪. ইসলামে নাই বড় ছোট
আশরাফ আতরাফ
এই ভেদ-জ্ঞান নিষ্ঠুর হাতে
কর মিসমার সাফ।
কাজী নজরুল ইসলাম
২৩৫. ঈশ্বরকে ভয় করাই হল মহৎ জীবনের শুরু।
ওল্ড টেস্টামেন্ট (বাইবেল)
২৩৬. মানুষ যে সমস্ত পাপকাজ করে, আল্লাহ্ তার মধ্যে কতকগুলো মাফ করে থাকেন। কিন্তু যে-ব্যক্তি মাতাপিতার অবাধ্য হয়, তাঁদের প্রতি অন্যায় আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করে না।
–আল-হাদিস
২৩৭. ইমানদার পুরুষ ও ইমানদার স্ত্রীলোকেরাই প্রকৃতপক্ষে পরস্পর পরস্পররের বন্ধু ও দরদি। ইহাদের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য এই যে, ইহারা ভাল কাজে আত্মদান করে, অন্যায় ও পাপ হইতে মানুষকে বিরত রাখে, যথারীতি নামাজ কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে, জীবন ভরিয়া আল্লাহর রসুলের বিধান পালন করিয়া চলে। প্রকৃতপক্ষে ইহাদের প্রতিই আল্লাহর রহমত বর্ষিত হইয়া থাকে।
