শ্রীশ্রীগীতা
১২৩. যিনি ইহলোকে পুণ্য ও পাপ অতিক্রম করে ব্রহ্মচর্যবান হন এবং পৃথিবীতে জ্ঞানপরায়ণ হয়ে বিচরণ করেন, তিনি নিশ্চয়ই ভিক্ষু বলে কথিত হন।
ত্রিপিটক
১২৪. আকাশ সকল বস্তু ব্যাপিয়া আছে কিন্তু অতি সূক্ষ্ম বুলিয়া আকাশে কোনো কিছু লাগিয়া থাকে না। তেমনি পরমাত্মা অত্যন্ত সূক্ষ্ম, তাই তিনি সকল স্থানে থাকিয়াও কোনোকিছুতে লিপ্ত হন না।
শ্রীশ্রীগীতা
১২৫. ঈর্ষাপরায়ণ ও শঠ ব্যক্তি কেবল মিষ্টি বাক্য দ্বারা কিংবা শরীরের সৌন্দর্যের দ্বারা সাধু হতে পারে না, কিন্তু যাঁর এসকল সমুচ্ছিন্ন ও সমূলে উৎপাটিত হয়েছে সেই নির্দোষ ও মেধাবী ব্যক্তি ‘সাধু’ বলে কথিত হন।
ত্রিপিটক
১২৬. আগুন যেমন ধোয়ায় ঢাকা থাকে, তেমনি সকল কাজই দোষে ভরা (কাজ করিলেই দোষ না থাকিয়া পারে না)। সুতরাং কর্মে কোনো দোষ থাকিলেও তাহা ত্যাগ করিতে নাই।
শ্রীশ্রীগীতা
১২৭. ক্রোধকে অক্রোধ (ক্ষমা) দ্বারা জয় করবে, অসাধুকে সাধুতা দ্বারা জয় করবে, কৃপণকে দান দ্বারা জয় করবে, মিথ্যাবাদীকে সত্য বাক্য দ্বারা জয় করবে।
–ত্রিপিটক
১২৮. যে বলে এ-জীবনে দুঃখকে বরিয়া লও, পরলোকে স্বর্গসুখ পাইবে, সে যেমন ভ্রান্ত, যে পরকালের নরকাগ্নির উল্লেখ করিয়া এ-জীবনের সুখরাশি বর্জন করিতে বলে, সেও তেমনি ভ্রান্ত। দুঃখের কষাঘাতে তুমি-আমি ধরাপৃষ্ঠ হইতে মুছিয়া গেলে অপর কোটি কোটি জীব এ-সৃষ্টিকে মুখরিত করিয়া রাখিবে। তুমি-আমি কে যে, এই পৃথিবীর বাহিরে, মরণের পরপারে আমাদের জন্য বিধাতা এক বিরাট স্বর্গপুরী গড়িয়া রাখিবেন! গৃহী হাঁড়ি লইয়া কার্য করে। হঠাৎ যখন কোনো আঘাতে সেটি ভাঙিয়া যায় সে উহা দূরে নিক্ষেপ করিয়া নতুন করিয়া কাজে লাগে। কবে সে ভগ্ন খোলার সুবর্ণ মন্দির গড়িয়াছে?
–ওমর খৈয়াম
১২৯. লৌহজাত দ্রব্য হতে উৎপন্ন মরিচা যেমন লৌহকেই নষ্ট করে ফেলে, সেরূপ নীতিধর্ম অতিক্রমকারী ব্যক্তিকে নিজকৃত দুষ্কর্ম সকল দুর্গতিতে নিয়ে যায়। –ত্রিপিটক
১৩০. মূর্খতার চেয়ে বড় পাপ আর নাই।
সন ইবনে আবদুল্লাহ
১৩১. রাগ আসক্তির ন্যায় অগ্নি নেই, দ্বেষের ন্যায় গ্রাহ বা প্রাসকারী (হিংস্র জন্তু) নেই, মোহের ন্যায় জাল নেই ও তৃষ্ণার ন্যায় নদী নেই।
ত্রিপিটক
১৩২. যত প্রকার পাপ আছে মানুষের চিত্তে ব্যথা দেয়াই তার মাঝে বড় পাপ। এই মহাপাপ কেউ কোরো না।
–ডা. লুৎফর রহমান
১৩৩. যে শাস্ত্রের ব্যবস্থা না মানিয়া ইচ্ছামতো কাজ করে, সে সিদ্ধিলাভ করিতে পারে না। ইহলোকেও তাহার সুখ হয় না, পরলোকেও তাহার উত্তম গতি হয় না।
শ্রীশ্রীগীতা
১৩৪. ভক্তি আপনার উন্নতির জন্য। যাহার ভক্তি নাই, তাহার চরিত্রের উন্নতি নাই।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১৩৫. আমাদের রিপু সত্যের সম্পূর্ণ মূর্তিকে আচ্ছন্ন করে, কামে আমরা মাংসই দেখি, আত্মাকে দেখি নে; লোভে আমরা বস্তুই দেখি, মানুষকে দেখি নে; অহংকারে আমরা আপনাকেই দেখি, অন্যকে দেখি নে; একটা রিপু আছে যা এদের মতো উগ্র নয়। যা ফাঁকা তাকে বলে মোহ; সে হচ্ছে জড়তা, অসাড়তা। আমাদের চৈতন্যের আলো ম্লান করে দিয়ে সত্যকে আবৃত করে। সে বিঘ্ন নয়, সে আবরণ। অভ্যাস অনেক সময় সেই মোহরূপে আমাদের মনকে আকৃষ্ট করে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৩৬. কোনো প্রকার পাপকর্ম না করা, কুশলকর্মের অনুষ্ঠান করা এবং অপন চিত্তকে পরিশুদ্ধ করে রাখা–এটাই বুদ্ধগণের অনুশাসন।
ত্রিপিটক
১৩৭. উপবাসপালন আত্মশুদ্ধি এবং সংযমের শ্রেষ্ঠতম একটা উপায়। এর মাধ্যমে স্রষ্টাকে লাভ করা যায়, স্বাস্থ্যকে রক্ষা করা যায়, হিংসা-দ্বেষ এবং নৃশংস স্বভাব থেকে দূরে সরে থাকা যায় এবং খুব সহজেই কুপ্রবৃত্তির ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখা যায়।
ডি. এস. ফোর্ড
১৩৮. চিত্তকে মিথ্যার বিরুদ্ধে স্বাধীন করে রাখার নামই ধর্ম।
–ডা. লুৎফর রহমান
১৩৯. এই জগৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন, এখানে অল্প লোকেই উত্তমরূপে দেখতে পায়, অল্পসংখ্যক লোকই জালমুক্ত পাখির ন্যায় স্বর্গে গমন করে।
ত্রিপিটক ১৪০. মুসলমান একটি বিশেষ ধর্ম, কিন্তু হিন্দু কোনো বিশেষ ধর্ম নহে। হিন্দু ভারতবর্ষের ইতিহাসের একটি জাতিগত পরিণাম।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৪১. একটি মহৎ আত্মা সমুদ্রে ভাসমান জাহজের মতো।
–ফ্লেচার
১৪২. যার কৃত পাপকর্ম কুশলকর্ম দ্বারা আবৃত হয়, সে মেঘমুক্ত চন্দ্রের ন্যায় জগৎতেগ উজ্জ্বল করে।
ত্রিপিটক
১৪৩. ইমানের সঠিক অর্থ হচ্ছে এই যে, অন্তর দিয়ে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও মহত্ত্বের উপলব্ধি করবে এবং তার প্রতিটি নির্দেশকে যথাযথ পালন করবে।
হযরত ওমর ফারুক (রা.)
১৪৪. হীনধর্মের অনুসরণ কোরো না, প্রমত্তভাবে জীবনযাপন কোরো না, মিথ্যা দৃষ্টির সেবা কোরো না, সংসারবর্ধক হয়ো না।
ত্রিপিটক
১৪৫. ঈশ্বর উদাসীন বলেই তাঁকে পাবার জন্য আমাদের এত আগ্রহ, এত ব্যাকুলতা। দেবতা কথায় কথায় আমাদের করতলগত হলেই তার মূল্য যেত কমে, আমাদের কামনা ও কৌতূহল যেত থেমে।
–প্রবোধকুমার সান্যাল
১৪৬. স্রষ্টার সৃষ্টির দিকে চাহিয়া এক প্রহর ধ্যান করা সত্তর বৎসরের এবাদত অপেক্ষা শ্রেয়।
–আল-হাদিস
১৪৭. ওঠো, অলস হয়ে থেকো না, সদ্ধর্ম আচরণ করো। ধর্মাচারী ইহ এবং পর উভয় লোকেই সুখে থাকেন।
