–আল-কোরআন
৬২. নাস্তিক হওয়া সহজ নয়। এ এক অনন্য শক্তিরই অভিব্যক্তি। কেননা, বিশেষ জ্ঞান, বুদ্ধি, প্রজ্ঞা ও মনোবল না থাকলে নাস্তিক হওয়া যায় না। আশৈশব লালিত বিশ্বাস, সংস্কার, আচার-আচরণ, রীতিনীতি পরিহার করা সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়, কেবল অসামান্য নৈতিক শক্তিধর যুক্তিবাদী পুরুষের পক্ষেই তা সহজ।
ড. আহমদ শরীফ
৬৩. যিনি যোগী, যাহার মন বিশুদ্ধ হইয়াছে, যিনি নিজের মনকে সম্পূর্ণ বশে রখিতে পারেন, যিনি জিতেন্দ্রিয়, সেই জ্ঞানী সকলকেই নিজের আত্মার মতো দেখেন, তাই কর্ম করিলেও তাঁহার আর কোনো পাপ-পুণ্য জন্মে না।
শ্রীশ্রীগীতা
৬৪. যদি কেহ একটি মুদ্রা ধর্মযুদ্ধে ব্যয় করে, একটি দ্বারা কোনো দাসকে মুক্ত করে, একটি দরিদ্রকে দান করে এবং একটি আপন পরিবারের জন্য ব্যয় করে, তবে শেষের কার্যের পুণ্য অপর তিনটি কার্যের পুণ্যসমষ্টি অপেক্ষা অধিক।
–আল-হাদিস
৬৫. যিনি নিয়মিতভাবে আহার-বিহার করেন, কাজকর্ম যিনি নিয়মিতভাবে করেন, আর যিনি নিয়মিতভাবে ঘুমান আর জাগিয়া থাকেন, তাঁহার পক্ষেই যোগ সার্থক হইয়া তাঁহার দুঃখ দূর করে।
শ্রীশ্রীগীতা
৬৬. যারা সৎপথ অবলম্বন করিয়া জীবিকা অর্জন করে,তাহারা খোদাতালার প্রিয় বন্ধু।
–আল-হাদিস
৬৭. যাহারা যেভাবে আমার ভজনা করে, আমি তাহাদিগকে সেইভাবেই দয়া করিয়া থাকি। লোকে সকল রকমেই আমার পথে চলিয়া থাকে।
শ্রীশ্রীগীতা
৬৮. দয়া, সত্য ও কল্যাণ–এই যদি মানুষের আদর্শ হয়, সমাজের প্রতি মানুষ যদি এই সাধনাকে গ্রহণ করে, তা হলে মানুষের জীবনে এমন কোনো সমস্যার কল্পনা করা যায় না, যা আপোসে শান্তিতে মীমাংসা হতে পারে না।
–আল-কোরআন
৬৯. যিনি আমাকে সব প্রাণীর মধ্যে দেখিতে (উপলব্ধি করিতে) পারেন এবং সকল প্রাণী আমারই মধ্যে আছে ইহা বুঝিতে পারেন, আমি তাঁহার কাছে প্রত্যক্ষ হই। আর তিনিও আমার কাছে অদৃশ্য থাকেন না।
–শ্রীশ্রীগীতা
৭০. ঈশ্বরপরায়ণতা চরিত্রলাভের জীবনস্বরূপ।
মানকুমারী বসু
৭১. ভক্তে বাঁচাও দয়া জানি,
সে যে গো তার পাওনা জানি,
পাপীরে লও বক্ষে টানি করুণাময় কইব তবে।
কাজী নজরুল ইসলাম
৭২. কর্মকার যেমন রজতের ময়লা দূরীভূত করে, সেরূপ মেধাবী ব্যক্তি ক্ষণে ক্ষণে অল্প অল্প করে আত্ম-মল ক্রমশ দূরীভূত করবেন।
ত্রিপিটক
৭৩. ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করো তা-ই যা অতিরিক্ত নয়।
স্কাইলাস
৭৪. পরের লব্ধ বস্তুতে স্পৃহা করা ও লালায়িত হওয়া উচিত নয়। যে-ভিক্ষু পরবস্তুতে স্পৃহা করে ও লালায়িত হয়, সেই ভিক্ষু সমাধি লাভ করতে পারবে না।
–ত্রিপিটক
৭৫. সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকো না, আর জেনেশুনে সত্যকে গোপন কোরো না।
–আল-কোরআন
৭৬. সকল প্রাণীর মূল, নিত্য কারণ আমিই। আমিই বুদ্ধিমানের বুদ্ধি ও তেজস্বীর তেজ।
–অজ্ঞাত
৭৭. সকল জগৎ যাহার মধ্যে আছে, আর যিনি সকল জগৎ ব্যাপিয়া আছেন সেই পরম পুরুষকে শুধু একনিষ্ঠ ভক্তি দ্বারাই পাওয়া যায়।
শ্রীশ্রীগীতা
৭৮. নিজে সৎ না হয়ে অন্য লোককে সৎ হতে উপদেশ দেওয়া অর্থহীন।
–আল-কোরআন
৭৯. যে-ব্যক্তি প্রাণী হিংসা করে, সে কখনো আর্য হতে পারে না। যিনি সর্বজীবের প্রতি হিংসা ত্যাগ করে মৈত্রীভাবাপন্ন হয়েছেন তিনিই আর্য নামে অভিহিত হন।
ত্রিপিটক
৮০. যাঁহারা অন্য কামনা ত্যাগ করিয়া একমনে আমারই কথা ভাবেন আর সর্বদা আমারই উপাসনা করেন, সেই ভক্তদের আমি ইহলোকে কল্যাণ ও পরলোকে মুক্তির ব্যবস্থা করিয়া থাকি।
শ্রীশ্রীগীতা
৮১. রাষ্ট্রশাসনের ব্যাপারে জনসাধারণের মতামত প্রকাশ করতে দাও।
–আল-কোরআন
৮২. নিশ্চয় আল্লাহ্ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাহারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করে।
–আল-কোরআন
৮৩. যিনি ধর্মে আনন্দ লাভ করেন, যিনি সতত ধর্মে রত–ধর্মপথে অবস্থিত, যিনি ধর্মচিন্তায় আত্মনিয়োগ করেন এবং সতত ধর্মানুসরণ করেন, সেই ভিক্ষু কখনোই সদ্ধর্ম হতে পতিত হন না।
ত্রিপিটক
৮৪. নিশ্চয় আল্লাহ সীমা লংঘনকারীকে ভালোবাসেন না।
–আল-কোরআন
৮৫. অভ্যাসযোগের চেয়ে জ্ঞান বড়, জ্ঞানের চেয়ে ধ্যান বড়, ধ্যানের চেয়ে কর্মফল ত্যাগ করা বড়। সকল প্রকার কর্মফল ত্যাগ করিতে পারিলেই পরম শান্তি পাওয়া যায়।
শ্রীশ্রীগীতা
৮৬. নিশ্চয়ই নিজের মনের বিরুদ্ধে জেহাদ করাই শ্রেষ্ঠ জেহাদ।
–আল-কোরআন
৮৭. সকল প্রকারের কুসংস্কার ও অনাচার ছাড়িয়া দাও।
–আল-কোরআন
৮৮. চন্দ্র যেমন তারকারাজির উপর প্রধান–জ্ঞানী লোক তেমনি মূর্খ নামাজির উপর প্রধান।
–আল-হাদিস
৮৯. ধর্মের জন্য কোনো জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় সুপথ প্রকাশ্যভাবে কুপথ থেকে পৃথক হয়েছে।
–আল-কোরআন
৯০. যে-ব্যক্তি নিজের জন্য কাজ করে না এবং অপরের জন্য কাজ করে না, সে ব্যক্তি খোদার কাছ থেকে কোনো পুরস্কার আশা করতে পারে ন।
–আল-কোরআন
৯১. কিতাবপ্রাপ্ত জাতিদের সঙ্গে মহত্তর কারণ ব্যতীত বিবাদ কোরো না, বরং বলো–আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে আমরা বিশ্বাস করি এবং তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতেও আমরা বিশ্বাস পোষণ করি, আমাদের এবং তোমাদের আল্লাহ এক এবং তাঁর প্রতি আমরা নতি স্বীকার করে থাকি।
–আল-কোরআন
৯২. যে-নামাজে হৃদয় নম্র হয় না, সে-নামাজ খোদার নিকট নামাজ বলেই গণ্য হয় না।
