শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১৬৬. লেখকদের সমালোচকের সত্যনিষ্ঠ অপ্রিয় সত্য কথা মেনে নেওয়ার মতো সহনশীলতা থাকা চাই।
–আবুল কাসেম ফজলুল হক
১৬৭. শুধু কবিত্বে নয়, সকল প্রকার কারুকলাতেই কারুকারের চিত্তের একটা নির্লিপ্ততা থাকা চাই–মানুষের মধ্যে যে সৃষ্টিকর্তা আছে কর্তৃত্ব তাহারই হাতে না থাকিলে চলে না। রচনার বিষয়টিই যদি তাহাকে ছাপাইয়া কর্তৃত্ব করিতে যায় তবে তাহা প্রতিবিম্ব হয়, প্রতিমূর্তি হয় না।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৬৮. কৃষ্টি যখন বিলাসে পরিণত হয় তখন মানুষ ফলের কথা না ভেবে ফুলের চাষ করে।
আবদুর রহমান শাদাব
১৬৯. ব্যবসাদারিতে নৈপুণ্য বাড়ে, কিন্তু বেদনাবোধ কমে যায়–ময়রা যে কারণে সন্দেশে রুচি হারায়। আমাদের দেশের গাইয়ে-বাজিয়েরা কিছুতেই মনে রাখে না যে, আর্টের প্রধান তত্ত্ব তার পরিমিতি। কেননা রূপকে সুব্যক্ত করাই তার কাজ। বিহিত সীমার দ্বারা রূপ সত্য হয়, সেই সীমা ছাড়িয়ে আকৃতিই বিকৃতি।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৭০. কেউ কেউ বলছেন, এখন কবিতার যে আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, সে নাভিশ্বাসের আওয়াজ। ওর সময় হয়ে এল। যদি তা সত্য হয়; সেটা কবিতার দোষে নয়, সময়ের দোষে। মানুষের প্রাণটা চিরদিনই ছন্দে বাঁধা কিন্তু তার কালটা কলের তাড়ায় সম্প্রতি ছন্দভাঙা।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৭১. আধুনকি কালের কবিরা তাদের লেখার কালির সাথে খুব বেশি পরিমাণ জল মিশিয়ে থাকেন।
গ্যেটে
১৭২. যে ব্যক্তি ইতিহাস পড়িবার সুযোগ পাইবে না, কাব্যই পড়িবে, সে হতভাগ্য। কিন্তু যে ব্যক্তি কাব্য পড়িবার অবসর পাইবে না, ইতিহাস পড়িবে, সম্ভবত তাহার ভাগ্য আরও মন্দ।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৭৩. কবিতার বিশেষত্ব হচ্ছে তার গতিশীলতা। সে শেষ হয়েও শেষ হয় না।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৭৪. যাহারা শ্রুতিসুখবাহ ছন্দবন্ধে শব্দের সহিত শব্দ গাঁথিয়া শুধু কথার ছটায় সকলকে মোহিত করিতে চেষ্টা করেন; অশিক্ষিত ইতর লোকেরা তাহাদিগকে কবি বলিয়া আদর করে।
কালিপ্রসন্ন ঘোষ
১৭৫. সাধ্বী স্ত্রী যেমন স্বামীকে ছাড়া আর কাহাকেও চায় না, ভালো কাব্য তেমনি ভাবুক ছাড়া আর কাহারও অপেক্ষা করে না। সাহিত্য পাঠ করিবার সময় আমরা সকলেই মনে মনে অভিনয় করিয়া থাকি; সে অভিনয়ে যে কাব্যের সৌন্দর্য খোলে না সে কাব্য কোনো কবিকে যশস্বী করে নাই।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৭৬. প্রবন্ধের কথা যেখানে থামে সেখানে কেবলমাত্র ফাঁকা। গানের কথা সেখানে থামে যেখানে সুরে ভরাট। বস্তুত সুর যতই বৃহৎ হয়, ততই কথার অবকাশ বেশি হতে চায়। গায়কের সার্থকতা কথার ফাঁকে, লেখকের সার্থকতা কথার ঝাকে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৭৭. ইতিহাসের সংশ্রবে উপন্যাসে একটা বিশেষ রস সঞ্চার করে, ইতিহাসের সেই রসটুকুর প্রতি ঔপন্যাসিকের লোভ, তাহার সত্যের প্রতি তাহার কোনো খাতির নাই। কেহ যদি উপন্যাসে কেবল ইতিহাসের সেই বিশেষ গন্ধটুকু এবং স্বাদটুকুতে সন্তুষ্ট
হইয়া তাহা হইতে অখণ্ড ইতিহাস উদ্ধারে প্রবৃত্ত হন, তবে তিনি ব্যঞ্জনের মধ্যে আস্ত জিড়ে-ধনে-হলুদ-সরষে সন্ধান করেন।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৭৮. ছবি হল নীরব কবিতা, আর কবিতা হল এমন একটি ছবি যা কথা বলে।
সিমোনিডেস
১৭৯. জটিল মানুষকে কেউ শ্রদ্ধা করে না। জটিল সাহিত্যও কেউ পছন্দ করে না। জটিলা-কুটিলা একটা ডাইনির বিশেষণ।
–অমীয় চক্রবর্তী
১৮০. কলাবিদ্যার সরলতা উচ্চ অঙ্গের মানসিক উন্নতির সহচর। বর্বরতা সরলতা নহে। বর্বরতার আড়ম্বর-আয়োজন অত্যন্ত বেশি। সভ্যতা অপেক্ষাকৃত নিরলঙ্কার। অধিক অলঙ্কার আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, কিন্তু মনকে প্রতিহত করিয়া দেয়।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৮১. গ্রন্থই আমার প্রভূ, প্রন্থই আমার সঙ্গী।
–জোসেফ হল
১৮২. যার বাগান পুষ্পরাজিতে পূর্ণ এবং যার গৃহ গ্রন্থরাজিতে পূর্ণ, মনের দিকে থেকে সে ঐশ্বর্যবান।
–এন্ডিউল্যাংস
১৮৩. পাঠাগার যেন সর্বকালের স্বাক্ষর।
–উইলিয়াম স্কট
১৮৪. যে বই পড়ে না, তার মধ্যে মর্যাদাবোধ জন্ম নেয় না।
গ্রিয়ারসন স্মিথ
১৮৫. কোনো একটি বিষয় যখন বলতে পারছ না, তখন সেটিকে গাও।
–বুমারচেইজ
১৮৬. সবচেয়ে সেরা বাণিজ্য হল গান তৈরি করা, আর দ্বিতীয় সেরা হল সেগুলো গাওয়া।
–হিলেয়ার বেলোক
১৮৭. আইনের মৃত্যু হয়, কিন্তু বইয়ের মৃত্যু হয় না।
বুলওয়ার লিটন
১৮৮. কোনো আসবাবপত্রই বইয়ের মতো চমকপ্রদ নয়।
–সিডনি স্মিথ
১৮৯. কোনো বিশেষ ব্যক্তি কর্তৃক পৃথিবীর কোনো ভাষাই সৃষ্টি হয়নি। মানবসমাজ যুগ যুগ ধরে অলক্ষিতে একটি ভাষা গড়ে তোলে।
–প্রমথ চৌধুরী
১৯০. সব শিল্পকর্মই প্রকৃতির নকল।
–সেনেকা
১৯১. যে-জাতি তার দেশ ও মাতৃভাষাকে যত বেশি মর্যাদা দেবে, সে তত বেশি উন্নত হবে।
–জি. মোল্যান্ড
১৯২. সংগীতের ভাষাই বিশ্বভাষা।
–জন উইলিয়াম
১৯৩. নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা?
রামনিধি গুপ্ত (নিধুবাবু)
১৯৪. যে সংগীতকে ভালোবাসে, তার নিঃসঙ্গতা সংগীতের মাধুর্যে ভরে ওঠে।
–জন আর্মস্ট্রং
১৯৫. ভাষা হচ্ছে মন্দিরের মতো, যেখানে আত্মা বিচরণ করে।
–লর্ড চেস্টারফিল্ড
১৯৬. বাংলা আমাদের মাতৃভাষা এবং এই মাতৃভাষা ও সাহিত্যের যথোচিত সেবা ব্যতীত আমাদের সামাজিক ও জাতীয় উন্নতি একান্তই অসম্ভব।
