–শচীন ভৌমিক
১৩৯. সাহিত্য মূর্খদের জন্য নয়, শিক্ষিত, রুচিবান ও বিদগ্ধ ব্যক্তিদের জন্য।
–আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
১৪০. সাহিত্যে মানুষ নিজেরই অন্তরতম পরিচয় দেয় নিজের অগোচরে, যেমন পরিচয় দেয় ফুল তার গন্ধে, নক্ষত্র তার আলোকে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৪১. সাহিত্য হচ্ছে দেশ ও জাতির জীবন ও মানসের প্রতিফলন।
–এমারসন
১৪২. পৃথিবীতে দশে মিলে অনেক কাজ হয়ে থাকে, কিন্তু সাহিত্য তার অন্তর্গত নয়। সাহিত্য একান্তই একলা-মানুষের সৃষ্টি।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৪৩. ভাবের আদান-প্রদান মানুষকে মানসিক প্রস্তুতি দান করে এবং লেখার সাধনা মানুষকে যথার্থ মানুষ করে তোলে। লেখার অভ্যাস যার কম, তার স্মৃতিশক্তি অসাধারণ হওয়া দরকার।
ফ্রান্সিস বেকন
১৪৪. লোক যদি সাহিত্য হইতে পাইতে চেষ্টা করে তবে পাইতেও পারে; কিন্তু সাহিত্য লোককে শিক্ষা দিবার জন্য কোনো চিন্তাই করে না। কোনো দেশেই সাহিত্য ইস্কুল মাস্টারির ভার লয় নাই।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৪৫. সাহিত্যের বিচার করিবার সময় দুইটা জিনিস দেখিতে হয়। প্রথম, বিশ্বের উপর সাহিত্যকারের হৃদয়ের অধিকার কতখানি; দ্বিতীয়, তাহা স্থায়ী আকারে ব্যক্ত হইয়াছে কতটা।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৪৬. সাহিত্য কখনো কোনো মানুষের, সমাজের বা জাতির ক্ষতি করে না। সাহিত্য হল সুন্দরের সাধনা।
সন্তোষকুমার ঘোষ
১৪৭. শব্দ ও ভাষা গঠনের জন্য নির্ভরশীল হতে হবে লেখকের উপর। শক্তিশালী লেখক জন্ম দেন ভাষার, সৃষ্টি করেন নতুন নতুন শব্দের। আসলে সুন্দর ভাষার জন্ম হয় লেখকের সাধনায়।
ড. শহীদুল্লাহ
১৪৮. শিল্প ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে আত্মার খাদ্যের সংস্থান করা যায়।
শেলি
১৪৯. দ্রিালস জাতিকে জীবন্ত, উদ্বুদ্ধ ও সঞ্জীবিত করিতে হইলে সর্বাগ্রে জাতীয় সাহিত্যের উন্নতি করিতে হয়।
হারানচন্দ্র রক্ষিত
১৫০. এই অভিশপ্ত, অশেষ দুঃখের দেশে, নিজের অভিমান বিসর্জন দিয়ে রুশ সাহিত্যের মতো যেদিন সে আরো সমাজের নীচের স্তরে নেমে গিয়ে তাদের সুখ-দুঃখের বেদনার মাঝখানে দাঁড়াতে পারবে, সেদিন এই সাহিত্য-সাধনা কেবল স্বদেশে নয়, বিশ্ব সাহিত্যেও আপন স্থান করে নিতে পারবে।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১৫১. আনন্দ দিতে, মানুষের জীবনের বোঝা কমাতে, তাদের দুঃখ বেদনা, তাদের নিশ্ৰুপ গৃহের মাঝে তাদের বিফল আশা ও তাদের বিষাদময় ভবিষ্যৎ হতে মুক্তি দিতেই সাহিত্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রিয়েল ১৫২. সাহিত্যের সঙ্গে সংশ্রবহীন মানুষ সুস্থ স্বাভাবিক নয়। বাট্রান্ড রাসেল
১৫৩. সাহিত্যসেবকেরা পরস্পরের পরমাত্মীয়। হিন্দু হোক, মুসলমান হোক, তবু পর নয়–আপনার জন। সাহিত্যিকদের কোনো ধর্ম নেই।
–শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১৫৪. ভাষা ও সাহিত্যে পশ্চাদভ্রমণ কোনো কালেই সম্ভব নয়, ভাষা ও সাহিত্য চিরকালই অগ্রসরমান।
আব্দুল মান্নাল সৈয়দ।
১৫৫. মানুষ যখন সাহিত্য রচনায় নিবিষ্টচিত্ত তখন ঠিক হিন্দুও নয়, মুসলিমও নয়। তখন সে তার সর্বজন পরিচিত ‘আমি’টাকে বহুদূরে অতিক্রম করে যায়, নইলে তার সাহিত্য-সাধনা ব্যর্থ হয়।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১৫৬. যদি গুণ না থাকে, তা হলে তার অভিনয় করো।
–শেক্সপীয়ার
১৫৭. নাট্যাভিনয়ে আমাদের হৃদয় বিচলিত করিবার অনেকগুলি উপকরণ একত্রে বর্তমান থাকে। সংগীত, আলোক, দৃশ্যপট, সুন্দর সাজসজ্জা, সকলে মিলিয়া নানা দিক হইতে আমাদের চিত্তকে আঘাত করিয়া চঞ্চল করে; তাহার মধ্যে একটা অবিশ্রাম ধারাস্রোত নানা মূর্তি ধারণ করিয়া, নানা কার্যরূপে প্রবাহিত হইয়া চলে–আমাদের মনটা নাট্যপ্রবাহের মধ্যে একেবারে নিরুপায় হইয়া আত্মবিসর্জন করে এবং দ্রুতবেগে ভাসিয়া চলিয়া যায়। অভিনয়স্থলে দেখা যায়, ভিন্ন ভিন্ন আর্টের মধ্যে কতটা সহযোগিতা আছে, সেখানে সংগীত সাহিত্য চিত্রবিদ্যা এবং নাট্যকলা এক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সম্মিলিত হয়, বোধ হয় এমন আর কোথাও দেখা যায় না।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৫৮. অভিনেতার হাতে যখন টাকা থাকে, তখন চিঠি লেখার প্রয়োজনে সে টেলিগ্রাম করে।
আন্তন শেখভ
১৫৯. ধর্ম, রাষ্ট্র, রাজনৈতিক মতবাদ বা ইজম–এসবের কোনো একটাকে সাহিত্যের প্রতিষ্ঠাভূমি করতে গেলে বনের বাঘকে, খাঁচায় বন্ধ করলে যে দশা হয়, সাহিত্য-শিল্পের সেই দশা ঘটে।
–আবুল ফজল
১৬০. আমাদের ধর্মহীন ধর্মধ্বজীদের নিষেধ মানতে গেলে দেশে সবরকম সংস্কৃতি সাধনার ভরাডুবি অনিবার্য।
–আবুল ফজল
১৬১. সে-ই বড় অভিনেতা সে মানুষকে সমভাবে কাঁদাতে ও হাসাতে পারে।
দিলীপ কুমার
১৬২. অল্প বয়সে কবিতা লেখা ভালো, কিন্তু সমালোচনা লিখতে যাওয়া অন্যায়–সে সাহিত্যের ওপরেই হোক আর নারীর ওপরেই হোক।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১৬৩. সুবৃহৎ অনাবরণের মধ্যে অশ্লীলতা নেই। এই জন্যে শেক্সপীয়ার অশ্লীল নয়, রামায়ণ মহাভারত অশ্লীল নয়। কিন্তু ভারতচন্দ্র অশ্লীল, জোলা অশ্লীল। –রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৬৪. দুর্নীতি আর অশ্লীলতাই সাহিত্যের প্রাণ। এই দুইটি সুন্দর হয়েছে যে প্রতিভার হাতে তাকেই আমরা বলি অপরাজেয় শিল্পী।… মানব সৃষ্টিতত্ত্বের মূলে রয়েছে অশ্লীলতার চরম বিলাসকুণ্ড।
প্রবোধকুমার সান্যাল
১৬৫. ত্রুটি, বিচ্যুতি, অপরাধ অধর্মই মানুষের সবটুকু নয়। মাঝখানে তার যে বস্তুটি আসল মানুষ–তাকে আত্মা বলা যেতে পারে–সে তার সকল অভাব, সকল অপরাধের চেয়েও বড়। আমার সাহিত্য রচনায় তাকে যেন অপমান না করি। হেতু যত বড়ই হোক, মানুষের প্রতি মানুষের ঘৃণা জন্মে যায়, আমার লেখা কোন দিন যেন না এত বড় প্রশ্রয় পায়।
