–হেরমান হেস
১১২. যে অভিনযে চরিত্রের সাথে সম্পূর্ণ একাত্ম হয়ে চরিত্রটাকে চরিত্রের মতোই ফুটিয়ে তুলতে পারে, যখন মনে হয় না যে এটা অভিনয়, সেই ব্যক্তিই প্রকৃত অভিনেতা।
শম্ভু মিত্র
১১৩. বেপরোয়া হতে না পারলে লেখক নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারেন। বেপরোয়া হওয়া মানে পরিপূর্ণভাবে স্বাধীন বোধ করা।
–আবুল ফজল
১১৪. নির্দোষিতার চাইতে বিবেকের অবস্থান অনেক উঁচুতে।
–টমাস মান।
১১৫. খাঁটি লেখক কখনো হাঁ-হুঁজুরের ভূমিকায় নামতে পারে না। রাজনৈতিক মুক্তির চেয়েও মনের মুক্তি, বুদ্ধির মুক্তি অনেক মূল্যবান।
–আবুল ফজল
১১৬. অনুবাদ যদি স্থানে-স্থানে ব্যাখ্যার আকার ধারণ করে তবে অন্যায় হয়, কারণ, ব্যাখ্যায় অনুবাদকের ভ্রম থাকিতেও পারে। এইজন্য অনুবাদ ও ব্যাখ্যা সব রাখিয়া দিলে পাঠককে বিচার করিবার অবকাশ দেওয়া হয়। মূলের যে সকল কথার অর্থ সুস্পষ্ট নহে অনুবাদে তাহা যথাযথ রাখিয়া দেওয়াই কর্তব্য মনে করি।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১১৭. মানুষ বিকাশধর্মী জীব–তার বিকাশের জন্য এ যাবৎ যত উপায়-উপকরণ আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে নিঃসন্দেহে সাহিত্য শিল্প শ্রেষ্ঠতম। এ বিকাশ মানুষের এত সহজাত যে, মানুষকে মানুষ রেখে এর লোপসাধন কিছুতেই সম্ভব নয়।
আবুল ফজল
১১৮. সাহিত্যে আধুনিকতা মানে সামান্য লাভের জন্য বিরাট দাম দেওয়া আর আঙ্গিকে বিশুদ্ধ আধুনিকতা মানে সব সময় কিছু-না-কিছুটা অশ্লীলতাপ্রবণ।
অস্কার ওয়াইল্ড
১১৯. সাহিত্যের বাণী মাত্রই স্বাধীনতার বাণী। স্বাধীনতা মানে জীবনকে জানা, জীবনের দাবি বুঝে নিয়ে জীবনের রূপায়ণ।
আবুল ফজল
১২০. উত্তমাধম সব উপমাই যাচাই হয়ে তার স্থান পাচ্ছে কাব্যে, সাহিত্যে-শিল্পে। এই যাচাই হাবার দুটো জায়গা–তার একটা হল রসিকের সভা আর একটা হল মহাকালের বিচারালয়।
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১২১. শাস্ত্র, রাষ্ট্র ও মতবাদ সবই এক একটা শৃঙ্খল। সাহিত্য মানুষের মনের মুক্তির ক্ষেত্র। তাই সাহিত্যিককে এ-সব শৃঙ্খল ভেঙে ভেঙেই এগুতে হয়।
আবুল ফজল
১২২. সাহিত্য সত্য-মিথ্যায়, জ্ঞানে-অজ্ঞানে, আলোয়-অন্ধকারে, যুক্তি ও অন্ধবিশ্বাসে পার্থক্য সৃষ্টি করে।
–আহমদ শরীফ
১২৩. বর্ণ বা সম্প্রদায়ের নামে অথবা জাতি কি ভাষাগত কারণে সাহিত্য-শিল্পের স্মরণীয় ঐতিহ্য বিশেষকে উপেক্ষা করা মানে নিজের শিল্প সাধনাকে খর্ব করা। ছোটর জন্য বড়কে ত্যাগ করা।
আবুল ফজল
১২৪. পর্যবেক্ষণী মানুষ বিজ্ঞান রচনা করে, চিন্তাশীল মানুষ দর্শন রচনা করে এবং সমগ্র মানুষটি সাহিত্য রচনা করে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১২৫. তালিম দিয়ে কেউ কাউকে সাহিত্যিক বানাতে পারে না।
আবুল ফজল
১২৬. অনুভূতিসঞ্জাত যে ভাব মনে ও মাথায় আলোড়ন জাগায় তাই বাণীরূপ লাভ করে হয় সাহিত্য। পরিণত সাহিত্যে সমন্বিত হয় আদিমতা, বৈদগ্ধ্য এবং পরিণত মনের লক্ষণ, আবেগ ও বুদ্ধির সামঞ্জস্য ও জীবন সম্পর্কে ট্রাজিক চেতনা।
–আহমদ শরীফ
১২৭. সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য রসসৃষ্টি।
–প্রবোধকুমার সান্যাল
১২৮. সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দ দান করা, কিন্তু সে-আনন্দটি গ্রহণ করাও নিতান্ত সহজ নহে, তাহার জন্য শিক্ষা এবং সাহায্যের প্রয়োজন।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১২৯. মানুষের দর্শন-বিজ্ঞান, ধর্মনীতি, অনুরাগ-বিরাগ, আশা-নৈরাশ্য তার অন্তরের সত্য ও স্বপ্ন। এই সকলের সমবায়ে সাহিত্যের জন্ম। অপরাপর শাস্ত্রের ভিতর যা আছে, রস–সব হচ্ছে মানুষের মনের ভগ্নাংশ। তার পুরো মনটার সাক্ষাৎ পাওয়া যায় শুধু সাহিত্যে।
–প্রমথ চৌধুরী
১৩০. খণ্ড, ক্ষুদ্র ও তুচ্ছকে সমগ্রতার মর্যাদা ও গুরুত্ব দান করাই সাহিত্যিকের কাজ। সাহিত্য তাই যাতে মানুষ আনন্দে করিবে পান সুধা নিরবধি।
আহমদ শরীফ
১৩১. মহৎ শিল্পী মানেই বিদ্রোহী।
আবুল ফজল
১৩২. বটতলার সাহিত্য লেখাও যে কী পরিশ্রমসাধ্য ও কষ্টকর, যারা লেখে কেবল তারাই বোঝে। সাহিত্য ক্ষেত্রে সহজে বাজীমাত করা যায় না।
বুদ্ধদেব বসু
১৩৩. কাঁচা আমের রসটা অম্লরস, কাঁচা সমালোচনাও গালিগালাজ। অন্য ক্ষমতা যখন কম থাকে তখন খোঁচা দিবার ক্ষমতাটা খুব তীক্ষ্ণ হইয়া উঠে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৩৪. মানবহৃদয়ের মহৎ চিন্তাই সাহিত্যের ভিত্তি।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৩৫. সাহিত্য হচ্ছে মনকে সজীব, সতেজ, সচল ও গ্রহণশীল রাখার এক শ্রেষ্ঠ উপায়।
আবুল ফজল
১৩৬. সহিত শব্দ হইতে সাহিত্যের উৎপত্তি। অতএব ধাতুগত অর্থ ধরিলে সাহিত্য শব্দের মধ্যে একটি মিলনের ভাব দেখিতে পাওয়া যায়। সে যে কেবল ভাবে-ভাবে ভাষায়-ভাষায় গ্রন্থে-গ্রন্থে মিলন তাহা নহে; মানুষের সহিত মানুষের, অতীতের সহিত বর্তমানের, দূরের সহিত নিকটের অত্যন্ত অন্তরঙ্গ যোগসাধন সাহিত্য ব্যতীত আর কিছুর দ্বারাই সম্ভবপর নহে। যে দেশে সাহিত্যের অভাব সে দেশের লোক পরস্পর সজীব বন্ধনে যুক্ত নহে; তাহারা বিচ্ছিন্ন।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৩৭. সাহিত্যিক হিসাবে প্রতিষ্ঠালাভের জন্য পাঠক-পাঠিকার সহযোগিতা চাই পঞ্চাশ ভাগ, পঁচিশ ভাগ চাই লেখকের সত্যিকার প্রতিভা আর পঁচিশ ভাগ ধৈর্য।
বার্নার্ড শ
১৩৮. রিয়ালিটি শিল্প নয়। জীবন সাহিত্য নয়। শিল্প হচ্ছে সুন্দরতার চয়ন, জীবনের বিস্তার দর্পণ নয়। শতদলের পরিচয় তার পঙ্কিল জন্মস্থানে নয়, তার প্রস্ফুটিত রূপলাবণ্যে, তার নির্মল নৈবেদ্যে।
