৮৭. বড় লেখকও তাঁর পূর্ববর্তী লেখকের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে পারেন না, কিন্তু এক সময় আপনা-আপনি তার নিজস্ক শৈলী বেরিয়ে আসে।
রাহুল সাংকৃত্যায়ন
৮৮. সুলেখকরাই একমাত্র জানেন কখন তাঁর লেখা বন্ধ করতে হবে। –রউক্স ৮৯. শিল্প-সাহিত্যের মধ্যে বেঁচে থাকার মধ্যে রয়েছে গভীর প্রশান্তি।
–টমাস ফুলার
৯০. বিক্রয় তালিকা দিয়ে মহৎ সাহিত্যের মান নির্ণয় করা যায় না সত্য, তবে জনপ্রিয়তা শিল্পের কালোত্তরণের একটি প্রমাণ তো বটেই।
রাধারানী দেবী।
৯১. অন্তরে যার রসের অভাব সে কখনোই রস-সাহিত্য সৃষ্টি করতে পারে না।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৯২. কিছু দুপাঠ্য গদ্য, দর্শন বা রাজনীতির বক্তৃতা পরিবেশন করে যারা সাহিত্যিকের দায়িত্ব পালন করছেন মনে করেন, আমি তাদের সমর্থন করতে পারি না। কারণ আমি মনে করি শিক্ষকের ভূমিকা গ্রহণ করে তাঁরা পাঠককে অসম্মান করেন। লেখকের সঙ্গে পাঠকের সম্বন্ধ তো বন্ধুত্বের। জ্ঞান বিতরণের অধিকার তো তাঁকে দেওয়া হয়নি, যিনি গল্প উপন্যাসকে সাহিত্যের মাধ্যম হিসাবে বেছে নিয়েছেন।
–শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়
৯৩. মন্দের ওকালতি করিতে কোনো সাহিত্যিকই কোনোদিন সাহিত্যের আসরে অবতীর্ণ হয় না, কিন্তু ভুলাইয়া নীতিশিক্ষা দেওয়া সে আপনার কর্তব্য বলিয়া জ্ঞান করে না। দুর্নীতিও সে প্রচার করে না। একটুখানি তলাইয়া দেখিলে তাহার সমস্ত সাহিত্যিক দুর্নীতির মূলে হয়তো এই একটা চেষ্টাই ধরা পরিবে, মানুষকে সে মানুষ বলিয়াই প্রতিপন্ন করিতে চায়।
–শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
৯৪. আমাদের সংস্কৃতির দুঃখজনক একটি দিক হল কবিরা শিল্পচর্চা করার চেয়ে সে বিষয়ে লিখে বা বলে বরং বেশি টাকা কামাতে পারেন।
ডব্লিউ. এইচ. অডেন
৯৫. আমার বইগুলির সঙ্গে যারা পরিচিত, তারাই জানে আমি কোনোদিন কোনো ছলেই নিজের ব্যক্তিগত অভিমত জোর করে কোথাও খুঁজে দেবার চেষ্টা করিনি। ….. সেইজন্যেই আমার লেখার মধ্যে সমস্যা আছে, সমাধান নেই; প্রশ্ন আছে, তার উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ, এ আমার চিরদিনের বিশ্বাস যে সমাধানের দায়িত্ব কর্মীর, সাহিত্যিকের নয়। কোথায় কোন্টা ভাল, কোন্টা মন্দ; বর্তমানকালে কোন্ পরিবর্তন উপযোগী এবং কোটার সময় আজও আসেনি, সে বিবেচনার ভার আমি সংস্কারকের উপরে রেখেই নিশ্চিন্ত মনে বিদায় নিয়েছি।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
৯৬. যারা লেখক তারা যদি পঞ্চাশ বছর, একশো বছরের কথা এগিয়ে কল্পনা করতে পারে তবে চলবে না। আজ যাদের মনে হচ্ছে–লোক বিগড়ে যাবে, তখন তাঁদেরই আর সে কথা মনে হবে না। মানুষের “idea” ক্রমেই বদলে যাচ্ছে।
–শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
৯৭. একজন নির্বোধ লেখকই কেবল সারাজীবন অর্থ ছাড়া লিখে যায়।
জনসন
৯৮. পৃথিবীতে যা-কিছু মহৎ এবং সুন্দর, কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীরা তাকেই চিরঞ্জীব করে রাখেন।
–শেলি
৯৯. গ্রন্থকার কোন বিশেষ জাতি, সম্প্রদায় বা ধর্মের লোক নয়। সে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, ইহুদি সমস্তই।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১০০. শ্রেষ্ঠ সমালোচক ও স্রষ্টা নীরবে কাজ করে যায়। ভিড় থেকে বহুদূরে থাকে তারা।
–রঁম্যা রলাঁ
১০১. যে কবিতায় বা ছোট গল্পে অনেক fact আছে, ঘটনা আছে, ভাবটা নিতান্ত সাদাসিদা, সাংসারিক, আমি দেখিয়াছি বেশি লোকেরই তা ভাল লাগে। তারা সেটা বোঝে ভাল, কেননা বোঝা সহজ।
–শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১০২. শিল্পসৃষ্টি কখনোই নীতিহীন হয় না।
রঁম্যা রলাঁ
১০৩. জ্ঞানের কথায় আর ভাবের কথায় একই নিয়ম খাটে না। জ্ঞানের কথাকে ভাষান্তরিত করিলে তাহার তেমন ক্ষতি হয় না, কিন্তু ভাবের কথাকে ভাষাবিশেষ হইতে উৎপাটিত করিয়া তাহাকে ভাষান্তরে রোপণ করিলে তাহার স্ফুর্তি থাকে না, তাহার ফুল হয় না, ফল হয় না, সে ক্রমে মরিয়া যায়।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১০৪. সংঘ বা গোষ্ঠীশিল্পীরা শুধু কতকগুলো বাইরের চাকচিক্য আর শেখানো বুলির বাহক। কিন্তু যারা দূরে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাঁরাই শুধু পারেন কোনো এক বিশেষ সময়ের বা বিশেষ জতির বিশষ কোনো তত্ত্ব খুঁজে বার করতে।
–রঁম্যা রলাঁ
১০৫. লেখা আর লেখকের ধর্ম পাঠককে সচেতন করে তোলা, পাঠকমনে সর্ববিষয়ে জিজ্ঞাসা সঞ্চারিত করা।
–আবুল ফজল
১০৬. একজন কবি বা লেখক কখনো নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে বিচরণ করতে পারেন না।
–টমাস ফুলার
১০৭. যে-কোনো দক্ষ লেখকেরই প্রধান লক্ষ্য পাঠক। যারা পাঠক-সমাদৃত হন না, কেবল তারাই ভিন্ন কথা বলেন।
অক্টাভিও পাজ
১০৮. সব মানুষ অল্পবিস্তর ভাবতে আর অনুভব করতে পারে। কিন্তু প্রকাশ করতে পারে লাখে এক। এখানেই সাহিত্যিকের অনন্যতা। ভাব বা অনুভূতি প্রকাশিত হয়ে দেখা না দিলে সাহিত্য হয় না।
–আবুল ফজল
১০৯. রাষ্ট্র বা রাষ্ট্র পরিচালকরা আর যাকেই ফাঁকি দিতে বা বোকা বানাতে পারুক না কেন, লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের পারে না। লেখকরা একটি তৃতীয় নেত্রের অধিকারী, যে নেত্র দিয়ে তারা সব কিছু দেখতে পায়।
–আবুল ফজল
১১০. জাতিকে নৈতিক আর মন-মানসের দাসত্ব থেকে বাঁচাবার দায়িত্ব লেখক আর বুদ্ধিজীবীদের।
–আবুল ফজল
১১১. শব্দ সত্যি-সত্যি মুখোশ। সত্যকে এটি খুব কমই প্রকাশ করে। সত্যি বলতে কি, বরং লুকিয়ে রাখতে চায়।
