–আবুল ফজল
৫১. শিল্প আর বিদ্রোহের মৃত্যু ঘটবে সেইদিন যেদিন ভূপৃষ্ঠে একটি মানুষও বেঁচে থাকবে না।
–আলবেয়ার কামু
৫২. শিল্পী নিঃসন্দেহে যুগ-সন্তান, কিন্তু তাই বলে তিনি যদি যুগ-শিষ্য হয়ে পড়েন, তবে সেটাই তার জন্য অত্যন্ত শোচনীয়।
শিলার
৫৩. সাহিত্য ও শিল্পের কাজ মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করা–মনকে শুধু মুগ্ধ নয় হৃদয়কে জাগিয়ে তোলাও।
–আবুল ফজল
৫৪. অব্যয় হল পদের জন্যে কলার খোসা।
ক্লিফটন ফ্যাডিম্যান
৫৫. মনে রাখা ভালো ব্যাকরণই সাধারণ কথাবর্তার উৎস।
সমারসেট মম
৫৬. যতক্ষণ ভালো আছি ব্যাকরণের দরকারটা কী?
–আর্টেমস ওয়ার্ড
৫৭. যে-লেখক ব্যাকরণের রীতিতে লিখতে পারেন না তিনি বন্ধ করে দিন দোকান।
আর্টেমাস ওয়ার্ড
৫৮. নিঃসন্দেহে আত্মতৃপ্তি সাহিত্য ও শিল্পের এক বড় শত্রু। –আবুল ফজল
৫৯. যা সবার ভালো লাগে, যা দৃষ্টিনন্দন, যা প্রাণে এক অপরূপ আবেগ ও আনন্দ সৃষ্টি করে–সেটাই যথার্থ উৎকৃষ্ট শিল্প।
–কামরুল হাসান
৬০. কুরূপা মেয়ের চেয়ে সুশ্রী মেয়ের পতিতাবৃত্তি যেমন সমাজের পক্ষে বেশি অনিষ্টকর, তেমনি সমাজের পক্ষে বেশি মারাত্মক ক্ষমতাশালী পথভ্রষ্ট শিল্পী।
বার্নার্ড শ
৬১. পোষা বাঘ যেমন বাঘ নয়, পোষা শিল্পীও তেমনি শিল্পী নয়।
–আবুল ফজল
৬২. প্রত্যেক মানুষের ভেতরেই একটা শিল্পীমন ঘুমিয়ে আছে।
বেকন
৬৩. একজন দক্ষ সমালোচককে লেখকের হৃদয়ে স্থান দেওয়া উচিত।
–এইচ. এল. ম্যালফেল
৬৪. আমাদের দেশে পলিটিক্সকে যারা নিছক পালোয়ানি বলে জানে, সব রকম ললিতকলাকে তারা পৌরুষের বিরোধী বলে ধরে রেখেছে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৬৫. হৃদয় যার সঠিক স্থানে নেই, শত চেষ্টা করেও সে কবি হতে পারে না।
রিচার্ড রাওলে
৬৬. কলমকে হৃদয়ের জিহ্বা বলা যায়।
কারভেনটিস
৬৭. কাব্যের একটি গুণ আছে, যা কম লোকেই অস্বীকার করবে ও কাব্য গদ্যের তুলনায় অনেক অল্প কথায় অনেক বেশি ভাব প্রকাশ করে থাকে।
–ভলতেয়ার
৬৮. জগতে যেথা যত রয়েছে ধ্বনি
যুগল মিলিয়াছে আগে।
যেখানে প্রেম নাই বোবার সভা,
সেখানে গান নাহি জাগে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৬৯. বাঁশি বাজালেই কেউ নাচে না; তার সুরের মধ্যে নাচের উন্মাদনা থাকলেই নাচে।
–ব্রিন্ট হার্টি
৭০. রস জিনিসটা রসিকের অপেক্ষা রাখে, কেবলমাত্র নিজের জোরে নিজেকে সে সপ্রমাণ করিতে পারে না।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৭১. যেখানে সাহিত্য রচনায় লেখক উপলক্ষমাত্র না হইয়াছে সেখানে তাহার লেখা নষ্ট হইয়াছে। যেখানে লেখক নিজের ভাবনায় সমগ্র মানুষের ভাব অনুভব করিয়াছে, নিজের লেখায় সমগ্র মানুষের বেদনা প্রকাশ করিয়াছে, সেইখানেই তাহার লেখা সাহিত্যে জায়গা পাইয়াছে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৭২. সাহিত্যের ইতিহাস সাধারণত গৌণ লেখকদেরই ইতিহাস, যারা দুই মহৎ লেখকের মাঝখানে স্থান ও কালগত শূন্যতার পূরণ করে মাত্র।
–দেবেশ রায়।
৭৩. প্রয়োজন হলে একজন সৎ, আন্তরিক সাহিত্যিককে জীবনের অন্য সবকিছুই ছেড়ে দিতে হয়। সাহিত্য সতীন পছন্দ করে না।
–বুদ্ধদেব গুহ
৭৪. যিনি লেখক তাকে অনেক কিছুই লিখতে হয়, যা না লিখে তিনি পারেন না।
–জন ক্লার্ক
৭৫. রসের সচ্ছলতায় সাহিত্য হয় না, রসের উচ্ছলতায় সাহিত্যের সৃষ্টি।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৭৬. লেখকের একটি প্রধান কাজ হল তাঁর লেখা মারফত পাঠকের সঙ্গে কমুনিকেশন ঘটানো। আর এই কুমুনিকেশনের জন্য ভাষাকে হতে হবে নির্ভার, মেদহীন এবং ঋজু।
–প্রফুল্ল রায়
৭৭. যদি লেখক হওয়ার বাসনা থাকে তবে লেখো।
ইপিকটিটাস
৭৮. শুধু প্রতিভা থাকলেই লেখক হওয়া যায় না, পেছনে একজনকে থাকতে হবে।
এমারসন
৭৯. একজন লেখক তখনই লেখে–যখন লিখতে বসে তার বিশ্বাস হয় এমন জিনিসটি আগে আর কেউ লেখেনি। পরে হয়তো সে বিশ্বাস ভুল প্রমাণিত হয়। কিন্তু লেখার সময় ঐ বিশ্বাসটুকু চাই-ই চাই। নয়তো লেখা যায় না।
শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
৮০. সাহিত্যের প্রদীপ লেখকের মগজের তেল দিয়ে জ্বলে।
সাদাত হাসান মিন্টো
৮১. একটি কপোত যদি কপোতীকে দেখে বাকবাকুম করে উঠতে পারে, তা হলে নারীকে নিয়ে একজন পুরুষ গজল বা গল্প লিখলে আপত্তি কী? মেয়েরা কপোতীর চেয়ে অনেক অনেক বেশি আকর্ষণীয় এবং লাবণ্যময়ী।
সাদাত হাসান মিন্টো
৮২. যে নিজের সম্বন্ধে লেখে এবং তার সমকালের ব্যাপারে লেখে, সে-ই একমাত্র ব্যক্তি, যে সব লোকের জন্য লেখে ও সব মানুষের জন্য লেখে।
বার্নার্ড শ
৮৩. লেখকের জন্য লেখার শাসন ছাড়া অন্য কোন শাসন নেই, অন্তত যখন তিনি লিখতে বসেন তখনকার মতো। তখন তিনি শুধু শিল্পী। শিল্পের শাসনে তিনি যুগপৎ বন্দী
–আবুল ফজল
৮৪. শক্তিমান লেখকের একটি গুণ ভাষা ও ভাবে বেপরোয়া হতে তাঁর দ্বিধা নেই।
–আবুল ফজল
৮৫. লেখক আর শিল্পীর পক্ষে ভবঘুরেমি ধর্মবিজয়, কলাবিজয় এবং সাহিত্য বিজয়ের সূচনাস্বরূপ। বাস্তবিক ভবঘুরেমিকে সামান্য জিনিস মনে করা উচিত নয়। ভবঘুরেমি হল সত্যানুসন্ধানের জন্য, শিল্পসৃষ্টির জন্য সদৃভাবনার প্রসবের জন্য দিগ্বিজয়।
রাহুল সাংকৃত্যায়ন
৮৬. সাহিত্যিকের কাছে সত্যই বড় কথা। সত্যের সঙ্গে যদি জাতীয় আদর্শ, ধর্ম বা শাস্ত্রের বিরোধ ঘটে, নিঃসন্দেহে বিনা দ্বিধায় সাহিত্যিক সত্যের পক্ষাবলম্বন করবেন।
–আবুল ফজল
