–প্রমথ চৌধুরী
১০১. প্রকৃতি বিধাতার অমূল্য দান।
টমাস
১০২. জন্মান্তরে শতবার সে নির্জন তীরে
গোপনে হৃদয় মোর আসিত বাহিরে–
আরবার সেই তীরে সে সন্ধ্যাবেলায়
হবে নাকি দেখা-শুনা তোমায় আমায়?
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১০৩. দূর দেশে তোরে বহুদিন ছিনু ভুলে পদ্মা মোর।
আবার শাওনে তোর কূলে কূলে
ভাঙনে লেগেছে জোর
নেমেছে বর্ষা ঘোর।
–হুমায়ুন কবীর
১০৪. এখানে সূর্য ছাড়ায় অকৃপণ
দু’হাতে তীব্র সোনার মতন মদ,
যে সোনার মদ পান করে ধানক্ষেত
দিকে দিকে তার গড়ে তোলে জনপদ।
ভারতী। তোমার লাবণ্য দেহ ঢাকে
রৌদ্র সোনায় পরায় সোনার হার,
সূর্য তোমার শুকায় সবুজ চুল
প্রেয়সী, তোমার কতো না অহংকার।
সুকান্ত ভট্টাচার্য
১০৫. ঝর্ণা! ঝর্ণা সুন্দরী ঝর্ণা!
তরলিত চন্দ্রিকা! চন্দন বর্ণা
অঞ্চল সিঞ্চিত গৈরিকে স্বর্ণে
গিরি-মল্লিকা দোলে কুন্তলে কর্ণে
তনু তরী যৌবন, তাপসী অপর্ণা!
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
১০৬. শীতের হাওয়া ছুঁয়ে গেল ফুলের বনে,
শিউলি বকুল উদাস হল ক্ষণে ক্ষণে,
ধূলি-ওড়া পথের পারে,
বনের পাতা শীতের ঝড়ে
যায় ভেসে ক্ষীণ মলিন হেসে আপন মনে।
–সুকান্ত ভট্টাচার্য
১০৭. নিশি অবসান, ওই পুরাতন
বর্ষা হয় গত।
আমি আজি ধূলিতলে এ জীর্ণ জীবন।
করিলাম নত।
বন্ধু হও, শক্র হও, যেখানে যে কেহ রও
ক্ষমা করো আজিকার মতো
পুরাতন বয়সের সাথে
পুরাতন অপরাধ যত।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১০৮. পদ্মা! বাংলাদেশের আদুরী সলীল-কন্যা পদ্মা। আমি তোমায় ভালবাসি। অনন্তযৌবনা চিরকৌতুকময়ী এ কোন্ দুরন্ত মেয়ে তুমি! বিচিত্র তোমার রূপ, অদ্ভুত তোমার প্রকৃতি! কখনো শান্ত, কখনো চঞ্চল, কখনো লাস্যময়ী, কখনো অশ্রুময়ী, কখনো সবল, কখনো অভিমানিনী, কখনো বা কল্যাণময়ী, কখনো বা ভয়ংকরী। ঋতুচক্রের আবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় তোমার মন, বদলে যায় তোমার রূপ।
–গোলাম মোস্তফা
১০৯. যে প্রকৃতির কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে, তার চলার পথ শান্তিপূর্ণ হয়।
–জন কেবল
১১০. যন্ত্রণাকাতর মানুষকে প্রকৃতি আনন্দ দান করে।
হুড
১১১. আদর গরগর
বাদর দরদর
এ তনু ডরডর
কাঁপছে থরথর।
নয়ন ঢলঢল
কাজল কালোজল
ঝরে লো ঝরঝর।
কাজী নজরুল ইসলাম
১১২. আবার বসন্ত রাত্রি আমাদের দুয়ারে দিল হানা,
উন্মনা ছিলাম আমি তবু সে আমারে ভুলিল না।
–বেগম সুফিয়া কামাল
১১৩. যে বাগান ভালোবাসে, সে গৃহের সজীবতাকেও ভালোবাসে।
কুপার
১১৪. ঘাসের বুকের থেকে কবে আমি পেয়েছি যে আমার শরীর–
সবুজ ঘাসের থেকে; তাই রোদ ভালো লাগে–তাই নীলাকাশ
মৃদু ভিজে সকরুণ মনে হয়–পথে-পথে তাই এই ঘাস
জলের মতন স্নিগ্ধ মনে হয়–মউমাছিদের যেন নীড়
এই ঘাস–যত দূর যাই আমি আরো যত দূর পৃথিবীর
নরম পায়ের তলে যেন কতো কুমারীর বুকের নিঃশ্বাস
কথা কয়–তাহাদের শান্ত হাত খেলা করে তাদের খোঁপায় এলো ফাঁস
খুলে যায়–ধূসর শাড়ির গন্ধে আসে তারা অনেক নিবিড়।
–জীবনানন্দ দাশ
১১৫. সন্ধ্যা হয়–চারিদিকে শান্ত নীরবতা,
খড় মুখে নিয়ে এক শালিখ যেতেছে উড়ে চুপে;
গোরুর গাড়িটি যায় মেঠো পথ বেয়ে ধীরে-ধীরে;
আঙিনা ভরিয়া আছে সোনালি খড়ের ঘন স্তূপে;
–পৃথিবীর সব ঘুঘু ডাকিতেছে হিজলের বনে;
পৃথিবীর সব প্রেম আমাদের দু’জনার মনে;
আকাশ ছড়ায়ে আছে শান্তি হয়ে আকাশে আকাশে।
জীবনানন্দ দাশ
১১৬. বৃক্ষের ছায়া কত সাধকের জীবন সার্থক করেছে, বৃক্ষের শোভা কত শিল্পী ও কবির জীবনে প্রেরণা যোগাচ্ছে। গাছপালার যদি ইচ্ছামতো চলাফেরার শক্তি থাকত, তবে তারা এদেশ থেকে হিজরত করে যেখানে তাদের প্রতি যত্ন নেওয়া হয়, সেখানে চলে যেত।
–কাশতকার
১১৭. মৃত্যুর পর আমার শবদেহ যেন মাটিতে পুঁতে রাখা হয় যাতে ওটা পচে সারে পরিণত হয়ে সেখানকার গাছগুলোর উপকারে আসে।
স্যার জন রাসেরো
১১৮. কৃষ্ণ বসন পরিহিতা ওগো এলায়িত বেণী সন্ধ্যা,
মলয় পবন-সঙ্গিনী ওগো হৃদয়-অলকনন্দা– মায়ার যষ্টি করে,
আঁখি-আবরণী ‘পরে,
ছুঁয়ে দাও আসি সুপ্তি জড়ানো, ফুটিছে রজনীগন্ধা,
ক্লান্ত দেহের শান্তিদায়িনী, চিত্ততোষণী সন্ধ্যা।
জসীম উদ্দীন
১১৯. কালোমেঘ আকাশে তারাদের ডেকে
মনে ভাবে, জিত হল তার
মেঘ কোথা মিলে যায় চিহ্ন নাহি রেখে,
তারাগুলি রহে নির্বিকার।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১২০. মালার ফুল বাসি হলেও মর্যাদা কমে না।
–মার্ক টোয়েন
১২১. আবার আসিল বরষা
অশ্রু-সলিল সরসা।
ঘনাইয়া এল কাজল-মায়া
তরু-পল্লব-পরশা।
–গোলাম মোস্তফা
১২২. আমাকে জীবিত অপবাদ দিও না এবং মরণের পর কবরে ফুল দিও না।
–কার্ল স্যান্ডবার্গ
১২৩. শিশুদের হাতে গাছের চারা লাগানো একটি খুশির কাজ। শিশুর কচি হাতের পবিত্র পরশে যে-গাছের জন্ম হল, সেই গাছই হয়তো পঞ্চাশ বছর পরে বৃদ্ধ পিতামাতাকে স্মরণ করিয়ে দেয় অতীতের মধুর পরিবেশের কথা। বৃদ্ধ পিতামাতার হাত দিয়ে ফলের গাছ লাগিয়ে রাখা সন্তানের লাভ। ফটোগ্রাফ মলিন হয়, কিন্তু স্মৃতির ভার নিয়ে গাছ দাঁড়িয়ে থাকে বহুঁকাল।
–হামিদউদ্দিন আহমদ
১২৪. পরিশ্রমী কৃষক এমন সব বৃক্ষও রোপণ করে থাকে, যার ফল সে নিজে কোনোদিন দেখতে পারে না।
সিসেরো
১২৫. আরক্ত সন্ধ্যার মুখে টেনে দিল রাত্রির নেকাব
মৃত্যুঘন অন্ধকার। এখন যায় না দেখা তার
তারুণ্যের স্বর্ণ বিভা, চিবুক নিটোল শুভ্রতার
মর্মরে খোদিত মুখ। প্রশ্ন আর পায় না জওয়াব।
