–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৭২. যতদিন বেঁচে আছি আকাশ চলিয়া গেছে কোথায় আকাশে
অপরাজিতার মতো নীল হয়ে আরো নীল–আরো নীল হয়ে
আমি যে দেখিতে চাই,–সে আকাশ পাখনায় নিঙড়ায়ে লয়ে
কোথায় ভোরে বক মাছরাঙা উড়ে যায় আশ্বিনের মাসে,
আমি যে দেখিতে চাই,–আমি যে বসিতে চাই বাংলার ঘাসে,
জীবনানন্দ দাশ
৭৩. ঈশ্বরকে খোঁজার সবচেয়ে ভালো জায়গা হচ্ছে বাগানের মধ্যে তাঁকে খোঁজা। তুমি সেখানে তার জন্য মাটি খুঁড়ে তাঁকে খুঁজতে পার।
জর্জ বার্নার্ড শ
৭৪. বসন্তের হাওয়া সবে আরণ্য মাতায়
নৃত্য উঠে পাতায় পাতায়
এই নৃত্যের সুন্দরকে অর্ঘ্য দেয় তার,
“ধন্য তুমি” বলে বার বার।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৭৫. বেড়াল বেশ অভিজাত প্রাণী, আর বিচিত্র সব অসুখেও তারা ভোগে। কিন্তু এমন কোনো বেড়ালের দেখা আমি পাইনি যে নিদ্রাহীনতায় ভুগছে।
যোসেফ উড ক্রাচ
৭৬. বেড়ালেরা মানুষেরই মতো স্তাবক।
–ওয়াল্টার স্যাভেজ ল্যাওর
৭৭, এমন কোনো বিশ্বাস নেই যা ভেঙে পড়ে না একমাত্র বিশ্বস্ত কুকুরেরটা ছাড়া।
কনরাড জেড লরেঞ্জ
৭৮. রজনী শাওন ঘন, ঘন দেয়া গরজন
রিমি ঝিমি শব্দে বরিষে,
পালঙ্কে শয়ান রঙ্গে, বিগলিত চীর অঙ্গে,
নিদ্রা যাই মনের হরিষে।
জ্ঞানদাস
৭৯. বর্ষা ঋতুটা মোটের উপরে শহরে মনুষ্যসমাজের পক্ষে তেমন সুখকর নয়– ওটা আরণ্য প্রকৃতির বিশেষ উপযোগী।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৮০. খেলোয়াড়, অভিনেত্রী এবং নর্তকীর জীবনে মাত্র একটি ঋতুই আছে। তার নাম বসন্ত ঋতু।
শংকর
৮১. একি গরজত তোর, আজি এলোকেশ,
হাসির ফলকে নাচে তরিত চপলা,
গুরু গুরু তোপধ্বনি যেন রণবেশ,
আকাশ পাতাল ভয়ে হয়েছে উতলা।
সিরাজউদ্দিন চৌধুরী
৮২. কুকুরের সেরা বন্ধু তার নিরক্ষরতা।
অগডেন ন্যাশ
৮৩. প্রাণীরা আমাদের ভাইবন্ধু কিছু নয়; ওদের জাত আলাদা, আমরা কেবল জীবন আর সময়ের জালে ওদের আটকে ফেলেছি।
হেনরি বেস্টন
৮৪. শারদ পূর্ণিমা নিরমল রাতি
উজল সকল বন।
মল্লিকা মালতী বিকশিত তিথি
মাতাল ভ্রমরাগণ।
দ্বিজ চণ্ডীদাস
৮৫. সকল কাজল করুণ নয়ন অধরে মধুর হাসি,
মলিন বসনা সন্ধ্যা দাঁড়ায় গগন কিনারে আসি।
–বেগম সুফিয়া কামাল
৮৬. ধান কাটা হয়ে গেছে কবে যেন–ক্ষেতে মাঠে পড়ে আছে খড়
পাতা কুটো ভাঙা ডিম–সাপের খোলস নীড় শীত।
এইসব উত্রায়ে ঐখানে মাঠের ভিতর
ঘুমাতেছে কয়েকটি পরিচিত লোক আজকেমন নিবিড়।
জীবনানন্দ দাশ
৮৭. হাজার বছর শুধু খেলা করে অন্ধকারে জোনাকির মতো :
চারিদিকে চিরদিন রাত্রির নিধান;
বালির উপরে জ্যোৎস্না–দেবদারু ছায়া ইতস্তত
বিচূর্ণ থামের মতো : দ্বারকার; দাঁড়ায়ে রয়েছে মৃত্যু ম্লান।
শরীরে ঘুমের ঘ্রাণ আমাদের–ঘুচে গেছে জীবনের সব লেনদেন;
মনে আছে? শুধাল সে–শুধালাম আমি শুধু ‘বনলতা সেন?’
–জীবনানন্দ দাশ
৮৮. সমুদ্রের বিশেষ মহিমা এই যে, মানুষের কাজ সে করিয়া দেয়, কিন্তু দাসত্বের চিহ্ন সে গলায় পরে না।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৮৯. হে সিন্ধু, হে বন্ধু মোর, হে চির-বিরহী
হে অতৃপ্ত! রহি রহি
কোন বেদনায়
উদ্বেলিয়া ওঠ তুমি কানায় কানায়?
কাজী নজরুল ইসলাম
৯০. আমিও তোমার মতো নিঃসন্তান হয়েছি এখন।
তীর নেই, শস্য নেই, পল্লী কুটির, কানন।
শুধু ঢেউ, চাঞ্চল্য, ফুলে ওঠা দীর্ঘশ্বাস,
আর সকল দিগন্ত জুড়ে ক্ষমাহীন ক্ষুধার বিস্তার।
বুদ্ধদেব বসু
৯১. কুকুরের মধ্যে সংহতির চেয়ে প্রেমের ভাগটা বেশি। আমাদের প্রতি ওরা খুবই সৎ। কিন্তু নিজেদের প্রতি একদমই সৎ নয়।
ক্লারেন্স ডে
৯২. জন্তু-জানোয়াররা বড়োই নিবেদিত বন্ধু–কখনো প্রশ্ন করে না, সমালোচনাও করে না।
জর্জ এলিয়ট
৯৩. জীবজন্তুদের সৃজনশীলতায় আমরা পরিয়ে দিয়েছি শেকল, তা ছাড়া আমাদের এসব দূরসম্পর্কীয় ভাইবোনদের পালক আর পশমও বড় নৃশংসভাবে আমরা ব্যবহার করেছি। ওরা যদি কোনো ধর্ম বানাতে পারত তা হলে নিঃসন্দেহে শয়তানের চেহারা হত মানুষের মতো।
উইলিয়াম র্যালফ ইঙ্গ
৯৪. শরতের রংটি প্রাণের রং। অর্থাৎ তাহা কাঁচা, বড়ো নরম। রৌদ্রটি কচি সোনা, সবুজটি কচি, নীলটি তাজা।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৯৫. মেঘ যদি না থাকত, তবে আমরা সূর্যকে এমনভাবে উপভোগ করতে পারতাম না।
জন রে
৯৬. অনেকের ধারণা–আরে দূর! সরকারি বাড়ি–গাছ লাগিয়ে কী হবে…দুদিন বাদে যেতেই হবে…। আর একটু ভাবুন, দুদিন বাদে কবরে যেতে হবে–তবে লাভ কী বিরাট বাড়ি করে, ক্ষণস্থায়ী দেহটাকে ঘিরে রাখা সিল্কের পোশাকে! এ-মনোভাব দুর্বলের, সুন্দর মানুষের নয়।
–এন. এম. হাসানুজ্জামান
৯৭. কুলায় কাঁপিছে কাতর কপোত,
দাদুরী ডাকিছে সঘনে
গুরু গুরু মেঘ গুমরি গুমরি
গরজে গগনে গগনে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৯৮. জোটে যদি মোটে একটি পয়সা
খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি,
দুটি যদি জোটে তবে অর্ধেকে
ফুল কিনে নিও হে অনুরাগী।
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
৯৯. মানুষ বা পশুর মতো ফুলের চেহারায়ও রয়েছে ভাবের অভিব্যক্তি। কতকগুলোকে দেখে মনে হয় যেন হাসছে, কতকগুলোর রয়েছে বিষণ্ণ মুখভাব, কতকগুলো যেন চিন্তাক্লিষ্ট এবং সংশয়ী, এ ছাড়া প্রশস্ত আনন, সূর্যমুখী আর হালিহকের মতো অন্যগুলো অনাড়ম্বর, সরল এবং ঋজু।
–হেনরি ওয়ার্ড বিশার
১০০. আমার আসবে যবে জীবনের সন্ধ্যা,
দিবসের আলো যবে ক্রমে হবে ঘোর,
কানেতে পশিবে নাকো পৃথিবীর শোর,
মোর পাশে ফুটো তুমি, হে রজনীগন্ধা।
