ফররুখ আহমদ
১২৬. সাঁঝের আঁধার ঘিরল যখন শাল-পিয়ালের বন,
তারই আভাস দিল আমায় হঠাৎ সমীরণ।
কুটির ছেড়ে বাইরে এসে দেখি,
আকাশ কোণে তারার লেখালেখি
শুরু হয়ে গেছে বহুক্ষণ।
সুকান্ত ভট্টাচার্য
১২৭. ধীরে সুমেরুর সুরে আসে সন্ধ্যারানী
সুনীল দুকুলে ঢাকি ফুলতনুখানি।
তরল গুণ্ঠন আড়ে
মুখশশী উঁকি মারে,
কম্পিত কষ্টুলী-ধীরে হৃদয়ের বাণী।
–অক্ষয়কুমার বড়াল
১২৮. এসো শীতকে ভালোবাসি, কেননা প্রতিভাবানদের এটিই বসন্তকাল।
–পিয়েত্রো আরেতিনো
১২৯. এল ফেব্রুয়ারি, অনুরাগের পয়লা চিরকুট হাতে এক কিশোরী, হাওয়ায় ওড়া চুলে লাল বাঁধন, ঠোঁটে স্থির হয়ে আছে চুমু, মুখের হাসিটির পেছনে লুকোনো খেয়ালি খিটিমিটির ঘোর।
হ্যাল বোরল্যান্ড
১৩০. মার্ট এলোমেলো চুলের এক গেছোমেয়ে, মুখে ঠাট্টার হাসি, চপ্পলে মাখামাখি কাদা, আর কণ্ঠস্বরে খুশির আমেজ।
হ্যাল বোরল্যান্ড
১৩১. অক্টোবর হল ঝরা পাতা, আরও স্পষ্টভাবে দেখা ছড়িয়ে পড়া দিগন্তও এটি। এ হল আর একবার দেখতে পাওয়া দূরের পাহাড়, তার মাথার ওপর আরও একবার তারাপুঞ্জের ঝলমল করে ওঠা।
–হ্যাল বোরল্যান্ড
১৩২. কি ফুল ফোঁটাবে তুমি হে বৈশাখ তোমার শাখায়
সে কথা তুমিই জানো, হয়তো যা তুমিও জানো না
তোমার প্রথম দিনে। বিধাতার মৌন অনুরোধ
পারে না হেলিতে, তাই ঘুরে ঘুরে আসে বারে বারে
প্রত্যেক চৈত্রের শেষে।
–অজিতকৃষ্ণ বসু
১৩৩. প্রকৃতির ভালোবাসাই একমাত্র ভালোবাসা, যা মানবিক আশা-আকাঙ্ক্ষাকে প্রতারিত করে না।
বালজাক
১৩৪. সকাল থেকেই বৃষ্টির পালা শুরু,
আকাশ হারানো আঁধার জড়ানো দিন।
আজকেই, যেন শ্রাবণ করেছে পণ,
শোধ করে দেবে বৈশাখী সব ঋণ।
–বুদ্ধদেব বসু
১৩৫. সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সর্বপ্রথমে একটি বাগান স্থাপন করেন। আর বস্তুতপক্ষে বাগানই হচ্ছে মানবিক আনন্দের সবচেয়ে পবিত্র উৎস।
বেকন
১৩৬. সমস্ত নদীই সমুদ্রবক্ষে পতিত হয়, কিন্তু তবু সমুদ্র পূর্ণ হয় না।
–ডব্লিউ. ই. হেনলি
১৩৭. ফুলের আয়ু কত স্বল্প, কিন্তু সেই স্বল্প জীবনপরিধিই কত মহিমাময়।
–টমাস উইলসন
১৩৮. ঝম্ ঝম্ ঝম্ নামে বরষা
ধরণী উছসি জাগে শ্যাম সরসা!
উছলিত ভরা নদী জাগে কলোলে
তীরে বন মল্লিকা কেতকী দোলে।
–শাহাদাৎ হোসেন।
১৩৯. প্রকৃতি প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরেরই সাকার মূর্তি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে লুকিয়ে আছে তার নিরাবয়ব রূপ প্রকৃতি।
বি. সি. রায়
১৪০. ঐ দেখ গো আজকে আবার পাগলি জেগেছে,
ছাইমাখা তার মাথার জটায় আকাশ ঢেকেছে;
মলিন হাতে ছুঁয়েছে সে ছুঁয়েছে সব ঠাঁই,
পাগলি মেয়ের জ্বালায় পরিচ্ছন্ন কিছুই নাই।
–সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
১৪১. শয়ন শিয়রে ভোরের পাখির রবে
তন্ত্ৰা টুটিল যবে।
দেখিলাম আমি খোলা বাতায়নে
তুমি আনমনা কুসুম চয়নে
অন্তর মোর ভরে গেল সৌরভে।
সুকান্ত ভট্টাচার্য
১৪২. আমি চারটি দেয়াল এবং একটি ছাদের অত্যাচারে ক্লান্ত। আমি সবুজ ঘাসে পা ডুবিয়ে বুক ভরে নিশ্বাস নিতে চাই।
–জন ম্যাসফিল্ড
১৪৩. ধরা তব আদরিণী মেয়ে
তাহারে দেখিতে তুমি আস মেঘ বেয়ে
হেসে ওঠে তৃণে শস্যে দুলালী তোমার,
কালো চোখ বেয়ে ঝরে হিমকণা আনন্দাশ্রুভরা
জলধারা হয়ে নামো, দাও কত রঙিন যৌতুক।
কাজী নজরুল ইসলাম
১৪৪. প্রকৃতি বিদ্রোহ করে কিন্তু তাতে মানুষের জয়যাত্রা ব্যহত হয় না বরং নব উদ্যমে এগিয়ে চলে।
–জেমস বি. কেনিয়ন
২৪. আদেশ-উপদেশ
১. কেউ আদেশ করবে আর কেউ মেনে নেবে এইটাই নিয়ম। কিন্তু যারা আদেশ করবে তাদেরও আবার কারও আদেশ মেনে চলতে হবে।
–মালো
২. বিয়ে করার জন্যে বা যুদ্ধে যাবার জন্যে কাউকে উপদেশ দিও না।
–স্পেনীয় প্রবাদ
৩. যে উপদেশই দাও তা যেন খুব ছোট হয়।
–হোরেস
৪. উপদেশ দেওয়া অত্যন্ত সহজ–কিন্তু উপদেশ পালন করা খুব শক্ত কাজ।
–ভবেশ রায়
৫. হযরত ইব্রাহিম আদহাম (রা.)-এর কতগুলো স্মরণীয় উপদেশ–
(ক) অতিভোজী কখনোই ইবাদতে শান্তি পাবে না।
(খ) যে অত্যধিক ন্দ্রিা যায় তার আয়ু কমে যায়।
(গ) যে-ব্যক্তি কেবল মানুষেরই মন জোগায় সে আল্লাহতা’আলার মন জোগাতে সমর্থ হবে না।
(ঘ) যে অধিক কথা বলবে, তার থেকে মিথ্যা ও পরনিন্দা নিশ্চয়ই বের হবে। ৬. যখন কোনো লোক তোমার কাছে উপদেশের জন্য আসে বস্তুত সে তোমার কাছ থেকে তার প্রশংসাই শুনতে চায়।
–চেস্টারফিল্ড
৭. প্রাচুর্যের মাঝে থাকাকালে দুখিদের প্রতি উপদেশ দেয়া খুবই সহজ।
–এসকাইলাস
৮. কারো না মনবগণ
বৃথা ক্ষয় এ জীবন
সংসার সমরাঙ্গণ মাঝে;
সঙ্কল্প করেছ যাহা,
সাধন করহ তাহা
রত হয়ে নিজ নিজ কাজে।
–হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
৯. মানুষ এত সহজে কোনো জিনিসই বিলিয়ে দেয় না, যত সহজে সে উপদেশ বিলিয়ে দিয়ে থাকে।
–রো চে ফুঁকো
১০. সৎ উপদেশকে টাকার মূল্যে পরিমাপ করা যায় না।
ইরাসমুস
১১. অনেকেই উপদেশ পায়; কিন্তু জ্ঞানী যারা তারাই তা লক্ষ করে তার দ্বারা লাভবান হয়।
সাইরাস
১২. অন্যকে উপদেশ দিতে
পাণ্ডিত্যের কমতি কারও নাই।
স্বয়ং আচরি ধর্ম শিক্ষা দেন
শুধু মহাত্মাই।
–চাণক্য পণ্ডিত
১৩. সংযত হও, কিন্তু নির্ভীক হও, সরল হও, কিন্তু বোকা হয়ো না। বিনয়ী হও, তাই বলে দুর্বল-হৃদয় হয়ো না।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র
