৩৮. প্রকৃতি যে-দরজা খুলে দিয়েছে, এ ছাড়া আর কোনো দরজা নেই জ্ঞানরাজ্যে পৌঁছুবার; প্রকৃতিতে যে-সত্য খুঁজে পাওয়া যায়, এর বাইরে আর কোনো সত্য নেই।
লুথার বারব্যাঙ্ক
৩৯. প্রকৃতি তার গোপন কথা একদিন বলবেই।
–এমিলি ডিকেন্স
৪০. বাতাস শুধায়, বলো তো কমল,
তব রহস্য কী যে।
কমল কহিল, ‘আমার মাঝারে
আমি রহস্য নিজে।’
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৪১. ফুল হচ্ছে পৃথিবীর হাসি। এই হাসির উৎকর্ষবিধানের জন্য সকলের চেষ্টা করা উচিত।
–ইমারসন
৪২. উফুল্লতা আছে কেবল মোরগের; যত তুচ্ছ জিনিসই সে দেখুক না কেন, তার আনন্দ ঘোষণা করবে বিচিত্র আর সপ্রাণ দেহভঙ্গিমায়।
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি
৪৩. প্রকৃতি সবার কাছে মুক্ত এবং তার কোনো শত্রু নেই।
জেমস হ্যামন্ড
৪৪. প্রকৃতি আমাদের ইশারা করে অনেক কিছু বলতে চায়। কিন্তু প্রকৃতির ইশারা আমরা বুঝি না। বুঝতে পারলে আমরা অনেক উপকৃত হতে পারতাম।
জর্জ হার্বার্ট
৪৫. প্রকৃতি সবার কাছে মুক্ত এবং তার কোনো শত্রু নেই।
–জেমস হ্যামন্ড
৪৬. যে-মানুষ ঝরনার নয়নভোলা মনোহর রূপ দেখে মুগ্ধ হয় না, মুগ্ধ হয়ে অপরূপ বলে ওঠে না, জীবনকে বেশি করে ভালোবাসতে শেখে না, প্রেমিকাকে কাছে পেতে চায় না–সে বোঝে না ঝরনার কুলুকুলু ধ্বনির মর্ম। সে বোঝে না প্রকৃতির প্রকৃত সৌন্দর্য। জীবনের রহস্যও সে উপলব্ধি করতে পারে না।
৪৭. প্রতিটি সামাজিক ব্যবস্থাই প্রকৃতির বিরুদ্ধে যায়, আর প্রতিটি মুহূর্তেই প্রকৃতি তার অধিকার ফিরে পাবার চেষ্টা করছে।
–পল্ ভালেরি
৪৮. প্যাঁচা, ধনাত্মক নামের এই পাখি, শীতকালীন ভাষণের জন্যে পালক মুড়ে আলগা করে রেখে দেয়া এক পৌনঃপুনিক প্রশ্ন।
হ্যাল বোরল্যান্ড
৪৯. বুনোহাঁসেরা উত্তরে আসে মুক্তি আর অভিযানের বাণী নিয়ে। বৃহৎ আর দূরপিপাসু পাখিরও সে বেশি; মর্ম সে ভ্রমণলিপ্সা, অশেষ দিগন্ত আর সুদূর পর্যটনের। নিজেই সে ব্যাকুলতা আর স্বপ্ন, অন্বেষা আর বিস্ময়, শেকলহীন পা আর বাতাসপ্রেমী ডানা।
হ্যাল বোরল্যান্ড
৫০. বৃষ্টি! এর নরম স্থাপত্যবিদের হাতের আছে পাথর কাটার সামর্থ্য, আর আছে ছেনি যা পর্বতকেও দিতে পারে মোহনীয় গড়ন।
–হেনরি ওয়ার্ড বিচার
৫১. ভালো বৃষ্টি, খারাপ যাজকের মতোই, জানে না কখন চলে যেতে হয়।
ইমারসন
৫২. বৃষ্টি তৃণের জন্যে ভালো, আর ভালো প্রাণীর জন্যে যারা তৃণ খায়, আর ভালো প্রাণীর জন্যে যারা ওইসব প্রাণী খায়।
স্যামুয়েল জনসন
৫৩. বজ্র মানিক দিয়ে গাঁথা
আষাঢ় তোমার মালা
তোমার শ্যামল শোভার বুকে–
বিদ্যুতেরই জ্বালা।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৫৪. বিকেলের ঝড়ে কি হবে? কি হবে?
ঝড়কে রুখেছে কখন কে কবে?
দু’চারটে গাছ দু’একটা ঘর
পড়বে হয়তো, তবু তারপর
নামবে হয়তো, তবু তারপর
নামবে বৃষ্টি অঝোর ধারায়
ক্ষেত ও খামারে পাড়ায় পাড়ায়।
–আবদুর রশীদ খান
৫৫. শীত রাত ঢের দূরে, অস্থি তবু কেঁপে ওঠে শীতে।
জীবনানন্দ দাশ
৫৬. শীতকাল স্বর্গীয় জল আর মানুষের হৃদয়কে করে পাথর।
ভিক্টর হুগো
৫৭. আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে–এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়–হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল ছায়ায়;
হয়তো বা হস হবো কিশোরীর ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে-ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে।
জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়;
জীবনানন্দ দাশ
৫৮. বসন্তকে আমি উপভোগ করি ফুলের পরে ফুলে, প্রত্যেকটিকেই মনে হয় আমার জন্যে শেষ উপহার।
আঁদ্রে জিদ
৫৯. শীতের হাওয়ায় লাগলো নাচন
আমলকীর ওই ডালে ডালে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৬০. শীতকালে প্রতিটি মাইলই দ্বিগুণ।
জজ হাবার্ট
৬১. ফুল নেয়া ভাল নয় মেয়ে
ফুল নিলে ফুল দিতে হয়,
ফুলের মতন প্রাণ দিতে হয়।
জসীম উদ্দীন
৬২. আয়রে বসন্ত তোর ও
কিরণ মাখা পাখা তুলে।
নিয়ে আয় তোর কোকিল পাখীর
গানের পাতা গানের ফুলে।
–দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
৬৩. প্রকৃতির কিছু-কিছু শাসন আছে যা আমাদের প্রত্যেককে মানতে হবে।
বেকন
৬৪. প্রকৃতি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তবুও মানুষ অগ্রগতির দিকে ধাবিত হয়।
রবার্ট ব্রাউনিং
৬৫. রূপে গন্ধে মানি তুমি জগতে অতুল,
পূজায় লাগ’ না কিন্তু, অনার্য গোলাপ
দেমাকে দেবতাসনে কর না আলাপ–
ফুলের নবাব তুমি, নবাবের ফুল।
–প্রমথ চৌধুরী
৬৬. বসন্তকাল একমাত্র মানুষ ব্যতীত অন্য সব জিনিসকেই যৌবন দান করে।
–জন পল রিচার্ড
৬৭. যেখানে ফুল বিলুপ্ত হতে থাকে, মানুষ সেখানে বাস করতে পারে না।
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
৬৮. কুসুমের শোভা
কুসুমের অবসানে
মধুরস হয়ে
লুকায় ফুলের প্রাণে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৬৯. বুড়ো বটগাছ–
দ্বাপর হইতে কলির অবধি আজ
মাঠের সীমায় ঠায় দাঁড়াইয়া শূন্যে নজর তুলি
যেখানে ধরিতে চাহে হেলায় অঙ্গুলি।
বন্দে আলী মিয়া
৭০. আপনি কি মানুষকে বলবেন না যে ক্ষুদ্র এক খণ্ড ভূমিতে ফুলের চাষ করো? দেহের পক্ষে যেমন খাদ্যের আবশ্যক, আত্মার পক্ষেও তো রঙ ও সৌন্দর্যের প্রয়োজন তেমনি।
আগাথ হ্যারিসন
৭১. গোলাপের আকারে আয়তনে, তার সুষমায়, তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পরস্পর সামঞ্জস্য বিশেষভাবে নির্দেশ করে দিচ্ছে তার সমগ্রের মধ্যে পরিব্যাপ্ত এককে, সেইজন্য গোলাপ আমাদের কাছে কেবল একটি তথ্যমাত্র নয়, সে সুন্দর।
