–সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
১২. চৈত্র যে যায় পত্র ঝরা,
গাছের তলায় আঁচল বিছায়
ক্লান্তি অলস বসুন্ধরা।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৩. শিউলি ফুলের নিশ্বাস বয়
ভিজে ঘাসের ‘পরে,
তপস্বিনী উষার পরা পুজোর চেলির
গন্ধ যেন
আশ্বিনের এই প্রথম দিনে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৪. মাটি যে আমাদের কত বড় আশ্রয়স্থল সমুদ্রের উপর অসহায়ভাবে ভাসমান না হলে হৃদয়ঙ্গম হয় না। সমুদ্রের কুলে বসে সমুদ্রকে দেখে এক মহান ভাবে আপুত হই; কিন্তু দিনের পর দিন যখন দশ দিকের নয় দিক কেবল সমুদ্রই দেখি আর দশম দিকে দেখি সমুদ্র দিগ্বলয়িত আকাশ তখন ভয়ে প্রাণ যায়।
অন্নদাশঙ্কর রায়
১৫. সাগরের প্রশংসা করো, কিন্তু স্থলে অবস্থান করো
হার্বার্ট
১৬. দিনান্তের মৌন সাজে নিষ্প্রভ সবিতা
সহসা মিশিল কোন অস্ত পারাবারে।
বিষাদে আবরে মুখ গাঢ় অন্ধকারে
সন্ধ্যারানী বক্ষে তার জ্বলে রক্ত চিতা।
কে. এম. শমসের আলী
১৭. হে মোর সন্ধ্যা, যাহা কিছু ছিল সাথে
রাখিনু তোমার অঞ্চল-তলে ঢাকি।
আঁধারের সাথী, তোমার করুণ হাতে
বাঁধিয়া দিলাম আমার হাতের রাখি।
–প্রবোধকুমার সান্যাল
১৮. দিনের আলোক রেখা মিলিয়ে দূরে।
নেমে আসে সন্ধ্যা ধীরে ধরণীর পুরে। তিমির ফেলেছে ছায়া, ঘিরে আসে কালোমায়া, প্রান্তর-কানন গিরি পল্লী মাঠঘাট একাকার হয়ে আসে আকাশ বিরাট।
শাহাদাত হোসেন
১৯. আকাশে সোনার মেঘ
কত ছবি আঁকে আপনার নাম তবু লিখে নাহি রাখে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২০. মাটিকে ভালোবাসো, মাটি তোমাকে ভালোবাসবে।
ইবনে আহমদ
২১. রবি কিরণের চুম্বনে আনে ক্ষমা–
পাখির কাকলি দিয়ে আনন্দ জমা।
বাগিচার মাঝে স্রষ্টার নৈকট্য যত।
ধরণীতে আর বুঝি কোথা নেই তত।
ডরোথি ফ্রান্সিস গালি
২২. তারি সঙ্গে মনে পড়ে
মেঘলা দিনের গান
“বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
নদেয় এল বান।”
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২৩. রাত্র ফোঁটায় তারা আর নারীকে আরও উজ্জ্বলতায়।
বায়রন
২৪. রাত আমাদের সমস্যাগুলোকে না মিটিয়ে বরং আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
–সেনেকা
২৫. রাত–যখন মিলিয়ে যায় শব্দ আর জ্যান্ত হয়ে ওঠে বস্তু। যখন সম্পন্ন হয় দিনের ধ্বংসাত্মক বিশ্লেষণ, আর যা-কিছু সত্যি সত্যি গুরুত্বপূর্ণ, হয়ে যায় ফের পূর্ণ এবং সমর্থ। যখন মানুষ জোড়া দেয় নিজের টুকরো-টাকরাগুলোকে, আর বেড়ে ওঠে গাছের মতো শান্ত।
সাঁ এক্সপেরি
২৬. কোনো মুসলমান কোনো ফসলের গাছ বা বাগিচা লাগাইলে বা ক্ষেতে শস্যের বীজ বপন করিলে তাহা হইতে যদি কোনো মানুষ বা পশুপাখি খায়, এমনকি যদি চোর চুরি করিয়াও নিয়া যায় তবে ঐ বাগানওয়ালা এবং ক্ষেত্রওয়ালা ছদগার সওয়াব পাইবে।
–আল-হাদিস
২৭. ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে
ডালে ডালে ফুলে ফলে পাতায় পাতায় রে,
আড়ালে আড়ালে কোণে কোণে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২৮. আমি বর্ষা, আসিলাম গ্রীষ্মের প্রদাহ শেষ করি,
মায়ার কাজল চোখে, মমতায় বর্মপুট ভরি।
–বেগম সুফিয়া কামাল
২৯. ওগো ও কর্ণফুলী!
তোমার সলিলে পড়েছিল কবে কার কানফুল খুলি;
তোমার স্রোতের উজান ঠেলিয়া কোন তরুণী কে জানে,
সাম্পান নায়ে ফিরেছিল তার দয়িতের সন্ধানে।
আনমনা তার খুলে গেল খোঁপা, কানফুল গেল খুলি,
সে ফুল যতনে পড়িয়া কর্ণে হলে কি কর্ণফুলী?
কাজী নজরুল ইসলাম
৩০. গাছগুলি যে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ওদের মধ্যে যেন একটা না-জানা ভাব আছে। সেই ভাবনায় বর্ষার মেঘের ছায়ায় নিবিড় হয়ে শীতের সকালের রৌদ্রে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সেই না-জানা ভাবনার ভাষায় কচি পাতায় ওদের ডালে বকুনি জাগে, গান ওঠে ফুলের মঞ্জুরিতে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৩১. ভিজে হয়ে আসে মেঘে এ দুপুর–চিল একা নদীটির পাশে
জারুল গাছের ডালে বসে বসে চেয়ে থাকে ওপারের দিকে;
পায়রা গিয়েছে উড়ে তবু চরে, খোপ তার; শসালতাটিকে
ছেড়ে গিয়ে মৌমাছি;–কালো মেঘ জমিয়াছে মাঘের আকাশে,
মরা প্রজাপতিটির পাখার নরম রেণু ফেলে দিয়ে ঘাসে
পিঁপড়েরা চলে যায়,দুই দণ্ড আম গাছে শালিখে শালিখে
ঝুটোপুটি, কোলাহলবউ কথা কও আর রাঙা বউটিকে
ডাকে নাকো–হলুদ পাখনা তার কোন যেন কাঁঠাল পলাশে।
জীবনানন্দ দাশ
৩২. এই মাঠে–এই ঘাসেফলসা এ ক্ষীরুয়ে যে গন্ধ লেগে আছে
আজো তার; যখন তুলিতে যাই টেকিশাক দুপুরের রোদে
শস্যের ক্ষেতের দিকে চেয়ে থাকি-অঘ্রানে যে ধান ঝরিয়াছে
তাহার দু’এক গুচ্ছ তুলে নেই, চেয়ে দেখি নির্জন আমোদে
পৃথিবীর রাঙা রোদ–চড়িতেছে আকাক্ষার চিনিচাপা গাছে—
জানি সে আমার কাছে আছে আজো–আজো সে আমার কাছে আছে।
জীবনানন্দ দাশ
৩৩. ঝরনা তোমার স্ফটিক জলের
স্বচ্ছ ধারা,
তাহারি মাঝারে দেখে আপনারে সূর্য তারা।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৩৪. আমার গোধূলি স্বপ্নে আজ তুমি অযুত বৎসর,
নিঃসঙ্গ সন্ধ্যার তারা জেগে আরো নিভৃত একাকী।
ফররুখ আহমদ
৩৫. নদী প্রাণের টানে বয়ে যায়, তাই তার কোনো ক্লান্তি নেই। এই বয়ে যাওয়াতেই তার আনন্দ।
–এইচ, এস, মেরিম্যান
৩৬. প্রকৃতির ভাষা সর্বজনীন।
রিচার্ড জেফারিজ
৩৭. শান্ত নদী চাই না, যে নদী ভাঙতেও জানে, যার গতি আছে, সুর আছে, গান আছে সমুদ্রের সাথে, আকাশের সাথে যার চিরদিনের যোগ–আমরা চাই সেই নদী।
–গোলাম মোস্তফা
