–বেগাস
৮৭. আজকের এই অল্প সময়ের মধ্যেই আছে জীবনের পূর্ণতা। কারণ গতকাল তো স্বপ্ন। আগামীকাল অনাগত; কিন্তু আজ যদি ভালো করে বাঁচা যায় তা হলে গতকালগুলো সুখের স্বপ্ন হয়ে দেখা দেয় আর আগামীকালগুলো আশায় ভরে ওঠে। কালিদাস
৮৮. বর্তমানটাকেই ভালো সময় হিসেবে বিবেচনা করো এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক হও।
–এনডিউ উলাং
৮৯. নগদ যা পাও হাত পেতে নাও
বাকির খাতায় শূন্য থাক,
দূরের বাদ্য কাজ কি শুনে
মাঝখানে যে বেজায় ফাঁক।
–ওমর খৈয়াম
৯০. চলো, খাই এবং আনন্দ করি, কারণ আগামীকাল নাও বাঁচতে পারি।
–ডর্যেথি পার্কার
৯১. গতদিনের সঙ্গে আগামীদিনের পার্থক্য থাকবেই।
আলেকজান্ডার স্মিথ
৯২. যখন সবকিছু হারিয়ে যায় ভবিষ্যৎ তখন থাকে।
বোভি
৯৩. জীবনকে তুমি যদি ভালোবাস তবে সময়ের অপচয় কোরো না। কারণ জীবনটা সময়েরই সমষ্টি দ্বারা তৈরি।
ফ্রাংকলিন
৯৪. হে অতীত, তুমি ভুবনে ভুবনে
কাজ করে যাও গোপনে গোপনে
মুখর দিনের চপলতা মাঝে স্থির হয়ে তুমি রও।
হে অতীত, তুমি গোপনে হৃদয়ে কথা কও, কথা কও।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৯৫. পূর্বনির্ধারিত বন্দোবস্তক্রমে কারও সাথে সাক্ষাৎকার না করায় যে বিশ্বাসঘাতকতা রয়েছে তা পুরোপুরিভাবে অসাধুতার পরিচয়। কারণ তুমি মানুষের নিকট হতে টাকাপয়সা ধার নিতে পার, ঠিক তেমনি তার সময়ও ধার নিয়ে থাক।–হোরেসম্যান
৯৬. ভবিষ্যৎকে জানার জন্যই আমাদের অতীত জানা উচিত।
–জন ল্যাংকহন
৯৭. বর্তমান কাল ছুটিতেছে বলিয়াই স্তব্ধ অতীত কালের এত মূল্য। অতীত কালের প্রবল বেগ প্রচণ্ড গতি সংহত হইয়া যেন স্থির আকার ধারণ করিয়াছে। কালকে ঠাহর করিতে হইলে অতীতের দিকে চাহিতে হয়। অতীত বিলুপ্ত হইলেও বর্তমান কাল কেহ-বা চিনিতে পারে, কেহ-বা বিশ্বাস করে, তাহাকে সামলায় কাহার সাধ্য! কেননা, চিনিতে পারিলে জানিতে পারিলে তবে বশ করা যায়।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৯৮. সব বুলি মিছা; শুনহ গোপনে একটি বচন সত্য সার
যে ফুল নিশায় পড়িছে ঝরিয়া সে নাহি কখন ফুটিবে আর।
ওমর খৈয়াম
২৩. প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
১. প্রকৃতি এমন একটা পুস্তক খণ্ড যার সম্পাদক এবং প্রকাশক স্বয়ং বিধাতা।
ডব্লিউ. হেনলি
২. বিশ্বপ্রকৃতির সঙ্গে ভাব করার একটা মস্ত সুবিধা এই যে, সে আনন্দ দেয় কিন্তু কিছু দাবি করে না, সে তার বন্ধুত্বকে ফাঁসের মতো বেঁধে ফেলতে চেষ্টা করে না, সে মানুষকে মুক্তি দেয়, তাকে দখল করে নিতে চায় না।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৩. তোমাতে আমাতে আছে মিল এই মাত্র
ঠকিতে যদিও শিখি, শিখিনি ঠকামি।
জীবনে জ্যাঠামি আর সাহিত্যে ন্যাকামি।
দেখে শুধু, জ্বলে যায় আমাদের গাত্র,
কারো গুরু নই, মোরা, প্রকৃতির ছাত্র,
আজো তাই কাঁচা আছি, শিখিনি পাকামি।
–প্রমথ চৌধুরী
৪. সুন্দর তুমি কতভাবে রূপে প্রকাশিছ আপনারে,
আকাশের নীল সাগরের জলে শ্যামল শস্যভারে।
–আ. ন. ম. বজলুর রশীদ
৫. আষাঢ় আকাশে আঁধার ঘনিয়ে আসে
জহুরী চাপায় সুরভী হাওয়ায় ভাসে,
আজি আমি নাই শুধু আমার প্রিয়ার পাশে।
করুণানিধি বন্দ্যোপাধ্যায়
৬. বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর; অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড়ো পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দোয়েল পাখি। চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম বট কাঁঠালের হিজলের-অশ্বথেরা করে আছে চুপ;
ফণীমনসার ঝোপে শটিবনে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে;
মধুকর ডিঙা থেকে না জানি সে কবে চাঁদ চম্পার কাছে
এমনই হিজল–বট–তমালের নীল ছায়া বাংলার অনুরূপ রূপ দেখেছিলো;
জীবনানন্দ দাশ
৭. ঝড়কে আমরা সবাই ভয় পাই কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত–ঝড় আছে। বলেই শক্তিকে আমরা সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে পারি।
টমাস ক্যাম্পবেল
৮. কচি লেবুপাতার মতো নরম সবুজ আলোয়
পৃথিবী ভরে গিয়েছে এই ভোরের ভেলা;
কাঁচা বাতাবীর মতো সবুজ ঘাস–তেমনি সুঘ্রাণ
হরিণের দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে নিচ্ছে।
আমারো ইচ্ছা করে এই ঘাসের এই ঘ্রাণ হরিৎ মদের মতো
গেলাসে-গেলাসে পান করি,
এই ঘাসের পাখনায় আমার পালক,
এই ঘাসের শরীর ছানি–চোখে চোখ ঘষি,
ঘাসের পাখনায় আমার পালক,
ঘাসের ভিতর ঘাস হয়ে জন্মাই কোনো এক নিবিড় ঘাস-মাতার
শরীরের সুস্বাদ অন্ধকার থেকে নেমে।
জীবনানন্দ দাশ
৯. বরষার ভরা নদী জল থই থই
নদী তীরে একা বসে শুধু চেয়ে রই
কলকল অবিরল
কোথা যায় এত জল
খরতর ধারা ছুটে–দেখে ভীত হই।
ঢেউগুলো নাচে তার দুই কিনারায়
বৈকালী রোদ লেগে রূপ ঝলকায়
ওই দিক সীমানায়
যত দূর চোখ যায়
জল বিনে আর কিছু চোখে পড়ে কই?
বি. সি. রায়
১০. আমার ঘরের আশেপাশে যেসব আমার বোবা-বন্ধু আলোর প্রেমে মত্ত হয়ে আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে আছে তাদের ডাক আমার মনের মধ্যে পৌঁছাল। তাদের ভাষা হচ্ছে জীবজন্তুর আদি ভাষা, তার ইশারা গিয়ে পৌঁছায় প্রাণের স্তরে, হাজার হাজার বৎসরের ভুলে যাওয়া ইতিহাসকে নাড়া দেয়; মনের মধ্যে যে নাড়া ওঠে সেও এই গাছের ভাষায়–তার কোনো স্পষ্ট মানে নেই অথচ তার মধ্যে বহু যুগ-যুগান্তর গুনগুনিয়ে ওঠে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১১. পলে পলে আলোকে পুলকে;
ভরি উঠে গোলাপ ঊষার,
স্ফুরিত পাপড়ি, দিকে দিকে,
কচি ঠোঁটে কি বলিতে চায়?
