খারাপ অভ্যেস সম্পর্কে বেশি চিন্তা করা, ছেড়ে দেবো বলে বার বার প্রতিজ্ঞা করা, অনেক সময় এর ফল হয় উল্টো, অভ্যেসটা আরো শক্তভাবে জড়িয়ে ধরে আপনাকে। ব্যাপারটা অনেকটা ঘুম আনার জন্যে অস্থির হয়ে ওঠার মতো, যতোই আপনি অস্থির হবেন ততোই আপনি জেগে থাকবেন, ঘুম আসতে চাইবে না।
এখন দেখা যাক এসব ব্যাপার আমরা নিজেদের কাজে কিভাবে ব্যবহার করতে পারি। এখানে আমরা দুটো অভ্যেস নিয়ে আলোচনা করবো। একটা হলো অতিভোজন, অপরটা ধূমপান।
আপনি যদি ওজন কমাতে চান, আপনার প্রথম কাজ হবে সমস্যাটাকে খতিয়ে পরীক্ষা করা। এই কাজ আপনি জেগে থাকা অবস্থায় অর্থাৎ বিটা লেভেলে করবেন।
আগে জানুন, আপনার সমস্যা অতিভোজন, নাকি ব্যায়ামের অভাব, নাকি দুটোই?
এমনও হতে পারে, অতিভোজন নয়, খাচ্ছেন আপনি পরিমাণ মতোই, কিন্তু খাচ্ছেন ভুল খাবার, সেটাই মেদ বাড়িয়ে তুলে সমস্যার সৃষ্টি করছে। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে কি কি খাবেন আর কি কি খাবেন না সেটা ঠিক করতে হবে আপনাকে, তাহলেই ওজন কমানো সম্ভব হয়ে উঠবে।
তারপর নিজেকে প্রশ্ন করুন, ওজন কমাতে চাইছেন কেন? আপনি কি এতোই মোটা যে আপনার স্বাস্থ্য বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে? এতোই মোটা যে বেচে থাকাটা কষ্টকর হয়ে উঠেছে? নাকি ভাবেন, আরো রোগা হতে পারলে আরো সুন্দর দেখাবে। নিজেকে? যেটাই হোক, ওজন কমাবার যুক্তি হিসেবে দুটোই শক্তিশালী।
আগে জানুন, ওজন কমিয়ে তা থেকে কি লাভ পেতে চান আপনি।
এমন হতে পারে, আপনি হয়তো পরিমিত খাওয়াদাওয়া করেন, যতটুকু দরকার ততোটুকু ব্যায়ামও করে চলেছেন নিয়মিত, এবং আপনার ওজনও খুব নয়, সামান্য বেশি। সেক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হবে, ডাক্তার যদি আপত্তি না করেন, সামান্য এই বাড়তি ওজনটুকু নিয়েই আপনি সন্তুষ্ট থাকুন। শরীরের নিজস্ব নিয়ম-শৃঙ্খলা আছে, সেটা অকারণে ঘাঁটাঘাঁটি না করাই তো ভালো। তাছাড়া, জীবনে সমস্যা কি আর একটা? এরচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেগুলো, সেগুলো সমাধানের জন্যে ব্যবহার করুন এই বিদ্যা।
তবু যদি মনে করেন আপনার ওজন কমানো দরকার, এবং কারণটাও আপনার জানা থাকে, তাহলে আপনার পরবর্তী কাজ হবে ওজন কমাতে পারলে কি কি লাভ হবে তার একটা তালিকা তৈরি করা। ‘ দেখতে আমি আরো সুন্দর হবো, এই ধরনের লাভের কথা বলছি না। নিরেট কি লাভ হবে সেটা বিবেচনা করুন। সম্ভব হলে পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সাহায্য নিন। উদাহরণ থেকে নিয়মটা বুঝে নিন।
দর্শনঃ যখন রোগা ছিলেন তখনকার একটা ফটো বের করুন।
স্পর্শ : কল্পনা করুন, আবার যখন রোগা হবেন, আপনার হাত, উরু আর তলপেট চুলে কি রকম মসৃণ লাগবে।
স্বাদ : নতুন যে পথ্য গ্রহণ করতে হবে, সেগুলোর স্বাদ কল্পনা করুন। ঘ্রাণঃ যে খাবারগুলো খেতে হবে সেগুলোর ঘ্রাণ কল্পনা করুন।
শ্রবণ : আপনি যাদের মতামতের দাম দেন তারা আপনাকে রোগা হতে দেখে খুশি হয়ে কি বলবে সেটা কল্পনা করুন।
কিন্তু শুধু পাঁচটা ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে ছবি দেখাও যথেষ্ট নয়। সেই সাথে দরকার ভাবাবেগও।
কল্পনা করুন, মনের মতো রোগা হতে পারলে কি রকম খুশি লাগবে আপনার, আত্মবিশ্বাস কতোখানি বেড়ে যাবে।
এসব প্রয়োজনের কথা মনে রেখে, এবার আপনি নিজের লেভেলে চলে যান। পর্দা তৈরি করুন, সেই পর্দায় ফুটিয়ে তুলুন আপনার এখনকার চেহারা। ছবিটাকে ডানদিকে সরিয়ে পর্দা থেকে বের করে দিন, তারপর নতুন একটা ছবি আনুন বাঁ দিক থেকে। এই ছবিতে নিজেকে রোগ দেখুন, ঠিক যতোটা রোগা হতে চান। ইচ্ছে করলে পুরনো ফটোটাও দেখতে পারেন। এই ছবিটা দেখার সময় নিজেকে স্মরণ করিয়ে দেবেন, আপনি কি কি খাবার খেয়ে রোগা হতে চাইছেন।
আপনার নতুন চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকার সময় সমস্ত ছোটোখাটো ব্যাপার খুটিয়ে লক্ষ্য করুন। এই রকম রোগা হলে আপনার কেমন লাগবে, এক এক করে কল্পনা করুন। এই রকম রোগা হতে পারলে কি কি সুবিধে হবে, এক এক করে কল্পনা করুন। কল্পনা করুন, জুতোর ফিতে বাঁধার জন্যে ঝুঁকে পড়ার সময় কেমন লাগবে আপনার। সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় ওঠার সময়? এখন যে পোশাকগুলো ছোটো হয় সেগুলো পরলে?
সময় নিয়ে, তাড়াহুড়ো করবেন না, সুবিধে আর লাভগুলো অনুভব করুন। এক একবার এক একটি ইন্দ্রিয়ের সাহায্য নিন, ওপরে যে নিয়ম দেয়া হয়েছে।
এবার আপনার পথ্যগুলোকে পর্দায় নিয়ে এসে ভালো করে দেখুন আরেকবার। কি কি খাবেন শুধু তাই নয়, পরিমাণে কতোটা খাবেন তাও দেখুন। তারপর নিজেকে বলুন, এই খাবারগুলো এই পরিমাণেই আপনার শরীরের জন্যে দরকার, অন্য কোনো খাবার বা এর চেয়ে বেশি নয়। বলুন, অন্য কোনো খাবারের জন্যে আপনার লোভ জাগবে না।
ধ্যান করার এখানেই শেষ। দিনে দুবার চর্চা করলেই হবে।
বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় অন্য কোনো খাবারের চিন্তা বা ছবি যেন মনে না আসে, যেগুলো আপনার খাওয়া নিষেধ। এতোদিন ওগুলো যে বেশি খেয়েছেন তার কারণ আপনি ওগুলো পছন্দ করেন। কাজেই ওগুলোর কথা শুধু চিন্তা করলেই আপনার কল্পনা আজেবাজে দিকে ছুটে যেতে চাইতে পারে।
আসল কথা হলো হা-সূচক চিন্তা-ভাবনা। এতে যদি অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেন, ওজন কমানো কোনো সমস্যা নয়। কি হারাবেন সেটা না ভেবে ভাবুন কি লাভ করবেন।
