আরেকটা কথা। ওজন কমাবার প্রোগ্রাম যখন তৈরি করবেন, পরিষ্কার ধারণা। থাকতে হবে আপনার, ঠিক কতোটা ওজন কমাতে যাচ্ছেন আপনি। তা না হলে প্ল্যানটা বিশ্বাস্য বলে নাও মনে হতে পারে। আপনার বাড়তি ওজন যদি পঞ্চাশ পাউও হয়, তাহলে এক হপ্তার মধ্যে চলতি বছরের বিশ্ব সুন্দরী বা বাস্কেট বল খেলোয়াড় করিম আবদুল জব্বারের মতো হতে চাওয়াটা যুক্তিসঙ্গত হবে না। তা হতে চেয়ে মনের পর্দায় ছবি দেখলেও ফল হবে অশ্ব ডিম্ব।
প্রথম ক’দিন রসগোল্লা বা চর্বিযুক্ত মাংসের কথা বার বার ফিরে আসতে পারে মনে। পুরনো অভ্যেস, আপনি ছাড়তে চাইলেও, ওরা আপনাকে ছাড়তে চাইবে না সহজে। ওগুলোর কথা মনে পড়ে গেলে রসনা যদি লোলুপ হয়ে ওঠে, তখন কি করবেন? তখন হয়তো ধ্যানমগ্ন হওয়ার সুযোগ থাকবে না, কাজেই ওগুলোর প্রভাব থেকে মুক্ত হবার জন্যে অন্য উপায় ধরতে হবে আপনাকে।
বুক ভরে শ্বাস নিন। তিনটে আঙুল এক করুন। তারপর নিজেকে আগের কথা গুলোই বলুন, ধ্যানমগ্ন অবস্থায় যেগুলো বলেছিলেন। পথ্যগুলো কল্পনা করুন, তারপর বলুন, ‘শুধু এই খাবারগুলোই আমার শরীরের জন্যে দরকার। বলুন, ‘এগুলো ছাড়া অন্য কোনো খাবারের জন্যে আমার লোভ জাগবে না। এই সুযোগে আপনার রোগা পাতলা হ্যাঁণ্ড সাম ছবিটা একবার যদি দেখে নিতে পারেন, ভালো হয়।
মন-নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি চর্চা করলে সামগ্রিক ভাবে আপনার মানসিক অবস্থার উন্নতি হবে, তাতে করে বিশেষ কোনো চেষ্টা ছাড়াই নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক থেকে আপনাআপনি উপকৃত হবে আপনার শরীর। তার ওপর যদি বিশেষ একটা সমস্যা সমাধানের ভ একটু চেষ্টা করেন, অতি চমৎকার সুফল ফলার সম্ভাবনা ষোলো আনা। ওজন কমায় জন্যে অস্থির হবার দরকার নেই, সহজ সরল ভাবে পদ্ধতি ধরে এগোন, সামগ্রিক মানসিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আপনার শরীর নিজেই প্রয়োজনীয় ওজন কমাবার কাজে নেমে পড়বে।
ওপরে যে পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে তার নানা দিক আছে, সেগুলোও আপনি। ব্যবহার করতে পারেন। এই দিকগুলো আপনি দেখতে পাবেন ধ্যানমগ্ন অবস্থায়। একজন লোকের কথা বলি। সে শ্রমিক। আলফা লেভেলে পৌঁছে নিজেকে বলতো, ‘শুধু আমার শরীরের জন্যে ভালো খাবারগুলো খেতে চাইবে আমি, তাছাড়া আর কিছু খেতে ইচ্ছে করবে না আমার। ‘হঠাৎ করেই দেখা গেল মিষ্টি, আলু, মাংস, এরকম অনেক খাবারের প্রতি অরুচি এসে গেছে তার, বদলে ভালো লাগতে শুরু করেছে সবুজ শাকসজি। লোকটা চার মাসে চল্লিশ পাউণ্ড ওজন হারায় সামান্যতম অসুস্থ না হয়ে।
আরেক মহিলা, তিনিও এই একই টেকনিক ব্যবহার করেন। একদিন বাজার করতে গিয়ে এক বাক্স মিষ্টি কিনে নিয়ে এলেন। প্রত্যেকের জন্যে হিসেব করে কেনা, মাথা পিছু একটা করে। ছেলেমেয়েদের জন্যে তিনটে, মেহমানদের জন্যে পাঁচটা, স্বামীর জন্যে একটা, বাড়ির ঝি-র জন্যে একটা। তাঁর নিজের ভাষায়, ‘নিজের জন্যে কেনার কথা আমার মনেই পড়েনি! বাড়িতে এসে ব্যাপারটা উপলব্ধি করলাম। আনন্দে আমার কাঁদতে ইচ্ছে করলো।
একজন কৃষক, একশো পঞ্চাশ ডলার দিয়ে একটা স্যুট তৈরি করালো। মাপের চেয়ে অনেক ছোটো করে তৈরি করালো স্যুটটা। এতো ছোটো যে ট্রাউজারটা কোমর পর্যন্ত তুলতেই পারে না, বোতাম লাগাতে পারে না জ্যাকেটের। ‘ সেলসম্যান লোকটা আমাকে পাগল ভেবেছিল। কিন্তু পর্দা টেকনিক ব্যবহার করে চার মাসে পয়তাল্লিশ পাউণ্ড হালকা হই আমি। স্যুটটা এখন নিখুঁত ভাবে ফিট করে।
প্রতি ক্ষেত্রেই ফলাফল এতো সুন্দর হয় না। তা অবশ্য হবার কথাও নয়। ভালো ফল পাবার ব্যাপারটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। একটা নিয়মের ভেতর থাকার জন্যে যেসব শর্ত মেনে চলা দরকার সবার পক্ষে সে-সব শর্ত মেনে চলা সম্ভব হয় না। আসল কথা হলো, চাওয়া। এই চাওয়া যদি দুর্বল হয়, ফলাফলও দুর্বল হতে বাধ্য।
প্রসঙ্গক্রমে এখানে ডেনভারের ক্যারোলিন ডি স্যাপ্তি আর জিম উইলিয়ামের একটা এক্সপেরিমেন্টের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।
ক্যারোলিন এক মাসের জন্যে একটা কর্ম-শিবিরের আয়োজন করেন। কথা ছিলো, পঁচিশ জন নারী-পুরুষ হপ্তায় একবার করে এক জায়গায় জড়ো হবে। এদের মধ্যে পনেরো জন প্রত্যেকটি অধিবেশনে উপস্থিত থাকলো, কিন্তু বাকি দশজন। অংশগ্রহণ করলো অনিয়মিত ভাবে। নিয়মিত পনেরো জনের গড় হিসেবে দেখা গেল, সোয়া চার পাউণ্ডের একটু বেশি করে ওজন কমেছে। প্রত্যেকেরই কমেছে ওজন। তবে অনিয়মিতদের কমেছে গড়ে মাত্র এক পাউণ্ড।
এক মাস পর, এদের পনেরোজনের খোঁজখবর নিতে গিয়ে ক্যারোলিন জানতে পারেন, সাতজন এখনো একটু একটু করে ওজন হারাচ্ছে, আটজন স্থির হয়ে আছে আগের জায়গায়। একজনেরও ওজন বাড়েনি। আর অনিয়মিত দশজনের আটজনই ফিরে গেছে আগের ওজনে।
.
ধূমপান একটা ভয়ঙ্কর বদভ্যাস। আপনি যদি ধূমপায়ী হন, প্রাক্তন-ধূমপায়ী হওয়ার জন্যে ধূমপান ছেড়ে দিতে শুরু করার এখনই সময়। ওজন কমাবার জন্যে আমরা যা করেছি, এক্ষেত্রেও ছোটো ছোটো সহজ নিয়ম ধরে এগোবো, যাতে মন থেকে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের নির্দেশ পেয়ে তা মেনে চলা শিখতে প্রচুর সময় পায় আমাদের শরীর।
কেন ছাড়বেন তাই নিয়ে বিটা লেভেলে যুক্তির অবতারণা করার কোনো দরকার নেই, ছাড়তে চাওয়ার কারণগুলো সবার কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট। দরকার যেটা, কি কি লাভ হবে তার একটা তালিকা তৈরি করা। পরে এই লাভগুলো এতো পরিষ্কার, উজ্জ্বল ভাবে মনের পর্দায় দেখবেন যে নিজে থেকেই তখন ধূমপান ছাড়তে ইচ্ছে হবে।
