স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণঃ নিয়ম–২
ধ্যানমগ্ন অবস্থায় নিজেকে মনে মনে বলুন, ‘আমার স্বপ্নগুলো আমি মনে রাখতে চাই। আমার স্বপ্নগুলো আমি মনে রাখতে পারবো। এরপর ঘুমিয়ে পড়ুন।
রাতে কয়েকবার এবং সকালে স্বপ্নের পরিষ্কার, উজ্জ্বল স্মৃতি নিয়ে জেগে উঠবেন। আপনি। আপনার স্বপ্ন-খাতায় বা কোনো প্যাডে স্বপ্নের সমস্ত বিবরণ লিখে ফেলুন। দু’নম্বর নিয়ম ভালো কাজ দিলে তিন নম্বর চর্চা শুরু করুন।
স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণঃ নিয়ম–৩
এবার শুধু স্বপ্ন মনে রাখতে নয়, সেটা বুঝতে এবং সেই সাথে আপনার সমস্যার সমাধান পাবার জন্যে নিজেকে প্রোগ্রামের আওতায় নিয়ে আসবেন আপনি। তিন–এক পদ্ধতির সাহায্যে নিজের লেভেলে চলে যান। মনে মনে নিজেকে বলুন, ‘আমার একটা সমস্যা আছে। যে স্বপ্নটা দেখবো তাতে এমন কিছু তথ্য এবং উপদেশ থাকবে যার সাহায্যে সমস্যাটা আমি সমাধান করতে পারবো। একটা স্বপ্ন আমি দেখবোই, তাতে সমাধানের সূত্রও থাকবে। স্বপ্নে যা বলা হবে আমি তা পরিষ্কার বুঝতে পারবো।
০৭. মুখের কথাই মন্ত্র
ভূমিকায় বলা হয়েছে, প্রথমবার পড়ার সময় কোনো অনুশীলন চর্চা করবেন না। কিন্তু নিচের অনুশীলনটা সেই নিষেধের আওতায় পড়ে না, এটা আপনি এখুনি একবার চর্চা করতে পারেন। করার সময় আপনার সমস্ত কল্পনাশক্তি ব্যবহার করবেন।
আসুন, এবার শুরু করা যাক।
কল্পনা করুন বাড়ির কিচেনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন আপনি, হাতে একটা লেবু। লেবুটা আপনি এইমাত্র বের করেছেন রেফ্রিজারেটর থেকে, আপনার হাতের তালুতে ওটা ঠাণ্ডা লাগছে। লেবুর বাইরের দিকটা ভালো করে লক্ষ্য করুন, হলুদ মোমের মতো গা। লেবুটার দুই প্রান্তে ত্বকের রঙ বদলে গেছে, বিন্দু বিন্দু সবুজ ভাব দেখতে পাচ্ছেন আপনি। একটু চাপ দিন, আঁটসাঁট, শক্ত ভাবটুকু অনুভব করুন, অনুভব করুন। ওজনটুকু।
এবার নাকের কাছে তুলে লেবুটার গন্ধ নিন। লেবুর মতো গন্ধ আর কিছুর নয়, তাই না? এবার লেবুটাকে মাঝখানে কেটে দু’ভাগ করুন, তারপর একভাগের ঘ্রাণ নিন। গন্ধটা এখন তীব্র। এবার দু’সারি দাঁতের মাঝখানে নিয়ে টুকরোটাকে গভীর ভাবে একটা কামড় বসান, রসটুকু ছড়িয়ে দিন আপনার মুখের ভেতর সবখানে। লেবুর মতো স্বাদ আর কিছুর নয়, কি বলেন?
এ পর্যন্ত এসে, আপনি যদি আপনার কল্পনা শক্তিকে ঠিকমতো ব্যবহার করে থাকেন, নিশ্চয়ই আপনার জিভে পানি এসে গেছে।
আসুন, এবার এই ঘটনার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা যাক।
শব্দ, নিছক শব্দ, আপনার স্যালিভারি গ্ল্যাণ্ড কে সচল করে তোলে। শব্দগুলো এমন। কি বাস্তবকেও প্রতিফলিত করেনি, আপনি একটা কিছু কল্পনা করেছিলেন, সেই কল্পনাটাকে প্রতিফলিত করেছে। লেবু সম্পর্কে শব্দগুলো আপনি যখন পড়ছিলেন, সেই মুহূর্তে আপনি আসলে আপনার ব্রেনকে বলছিলেন, আপনার কাছে একটা লেবু আছে। যদিও আসলে ছিলো না, ঠিক আছে বলে বোঝাতেও চাননি আপনি। কিন্তু আপনার ব্রেন ব্যাপারটা সিরিয়াসলি নেয়, স্যালিভারি গ্ল্যাওকে বলে, ‘লোকটা একটা লেবুতে কামড় দিচ্ছে! জলদি, ধুয়ে অ্যাসিড় সাফ করে ফেললো। গ্লাও নির্দেশটা পালন করেছে।
আমরা সবাই জানি, আমাদের ব্যবহার করা শব্দগুলো অর্থ প্রতিফলিত করে, এবং এই অর্থ খারাপ বা ভালো, সত্যি বা মিথ্যে, শক্তিশালী বা দুর্বল হতে পারে। সত্যি তাই, কিন্তু সত্যের এটা অর্ধেক মাত্র। শব্দ শুধু বাস্তবকে প্রতিফলিত করে না, তারা বাস্তবতা তৈরিও করে–যেমন মুখের লালা।
ব্রেন যে শুধু আমাদের ইচ্ছা আর উদ্দেশ্যের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা দিতে পারে তাই নয়, তথ্য সংগ্রহ করে নিজের ভাঁড়ারে জমাও রাখতে পারে সে, সেই সাথে আমাদের শরীরের নিয়ন্ত্রণ ভারও নিজের হাতে রেখেছে। তাকে যদি, ‘আমি এখন একটা লেবু খেতে যাচ্ছি, বা এই ধরনের কিছু বলা হয়, অমনি কাজ শুরু করে দেয় সে।
এবার মনের ঘর-দুয়ার পরিষ্কার করার কাজে নেমে পড়া উচিত আমাদের। এর জন্যে কোনো অনুশীলন নেই, ব্রেনকে চালু করে দেয়ার জন্যে কি ধরনের শব্দ আমরা ব্যবহার করবো শুধু সে ব্যাপারে সতর্ক থাকলেই হবে।
এই পরিচ্ছেদের প্রথমেই যে অনুশীলনটা চর্চা করলেন ওটাকে নিউট্রাল বা নিরপেক্ষ বলা যেতে পারে–শারীরিক ভাবে ভালো বা মন্দ কিছুই ঘটেনি। কিন্তু শব্দকে অতো নিরীহ মনে করার কোনো কারণ নেই। আমাদের ব্যবহার করা শব্দের যেমন উপকার করার ক্ষমতা আছে তেমনি ক্ষতি করার ক্ষমতাও আছে।
চায়ের কাপে চুমুক দিতে গিয়ে কেউ হয়তো বললো, ‘চা তো নয়, যেন কানা চোখের পানি। চা খুব পাতলা হয়েছে, রঙ হয়নি, তাই এ-কথা বলা। আপাতঃ দৃষ্টিতে এই কথাগুলোর ক্ষতি করার কোনো ক্ষমতা আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু দেখা গেল, যারা চা খাচ্ছিলো তাদের মধ্যে একজন চায়ের কাপে চুমুক দিতে পারলো না, বা ইতিমধ্যে দিয়ে থাকলে তার মধ্যে বমি বমি একটা ভাব জাগলো। এ থেকে কি প্রমাণ হয় না, শব্দ ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে? খেতে বসে ছোটো ছেলেরা প্রায়ই একটা খেলা। খেলে। খাবার জিনিসকে তারা দুর্গন্ধময় বা দেখতে কুৎসিত কোনো জিনিসের সাথে তুলনা করে। মাখন হয়ে যায় হলুদ মল, ভাত হয়ে যায় নর্দমার পোকা, ইত্যাদি। কিন্তু ভালো একটা খাবারকে মল বা নর্দমার কীট বলে ভান করা সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই দেখা যায়, কিছু না খেয়েই দু’একজন উঠে গেল।
