রাতে বা সকালে ঘুম থেকে জেগে স্বপ্নটার অর্থ খোঁজার চেষ্টা করুন।
স্বপ্নের ফ্রয়েডীয় ব্যাখ্যা পদ্ধতির সাথে আমাদের ব্যাখ্যা পদ্ধতির পার্থক্য থাকবে, কারণ আমরা নিজেদের তৈরি করা স্বপ্ন দেখি। কাজেই আপনার যদি ফ্রয়েডীয় স্বপ্ন ব্যাখ্যা পদ্ধতির সাথে পরিচয় থাকে, সেটা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
কল্পনা করুন, এই স্বপ্নটার কি অর্থ করতেন ফ্রয়েড।
নরমাংসভুক একদল আদিবাসী গভীর বনভূমির ভেতর এক ভদ্রলোককে ঘিরে ফেলেছে। তাঁর কাছে চলে আসছে তারা, তাদের হাতের বর্শা উঠছে আর নামছে, উঠছে আর নামছে। প্রতিটি বর্শার ডগায় একটা করে ফুটো রয়েছে। ঘুম ভাঙার পর ভদ্রলোক তাঁর একটা সমস্যার সমাধান হিসেবে স্বপ্নটার অর্থ করলেন। এই সমস্যাটা অনেক দিন থেকে ভোগাচ্ছে তাঁকে। একটা সেলাই মেশিনের ডিজাইন কিভাবে তৈরি করতে হবে, এই স্বপ্ন থেকে তার উত্তর পেয়ে গেলেন তিনি। স্বপ্ন দেখার আগে পর্যন্ত সূচটাকে ওঠা নামা করাতে পারতেন, কিন্তু তাতে সেলাই হতো না। স্বপ্ন থেকেই তিনি শিখলেন, সূচের ডগায় একটা ফুটো রাখতে হবে। ভদ্রলোকের নাম ইলিয়াস হাউই, ইনিই সর্বপ্রথম কাজের উপযুক্ত সেলাই মেশিন আবিষ্কার করেছিলেন।
প্রোগ্রাম-পদ্ধতির সাহায্যে দেখা স্বপ্ন লোকের প্রাণ বাঁচিয়েছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে।
এক জায়গায় যাবার জন্যে মটর সাইকেল নিয়ে সাত দিন বাইরে থাকতে হবে এক লোককে, রওনা হবার কয়েক দিন আগে নিজেকে প্রোগ্রামের আওতায় নিয়ে এলো সে। উদ্দেশ্য, রওনা হবার পর ভাগ্যে যদি কোনো দুর্ঘটনা থেকে থাকে, স্বপ্নটা যেন তাকে আগে থেকে সাবধান করে দেয়। এর আগে দূরে যখন কোথাও গেছে সে, ছোটোখাটো দুর্ঘটনা দু’একটা ঘটেছে, তাই এই সতর্কতা।
নিজেকে প্রোগ্রামের আওতায় নিয়ে আসার পর ঠিকই স্বপ্ন দেখলো সে। দেখলো, এক বন্ধুর বাড়িতে রয়েছে সে। ডিনারের সময় তার প্লেটে পরিবেশন করা হলো কাঁচা তরকারি-একরাশ বরবটি। অথচ অন্য সবার প্লেটে লোভনীয় সব সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।
ঘুম থেকে উঠে চিন্তায় পড়ে গেল বেচারা। কি অর্থ হতে পারে এই স্বপ্নের পথে তাকে কাঁচা বরবটি খেতে নিষেধ করা হচ্ছে? কিন্তু এই নিষেধের কোনো মানে হয় না, কারণ রান্না করা বরবটিই পছন্দ করে না সে, কাঁচা বরবটি তো দূরের কথা। তবে কি স্বপ্নটার মানে, বন্ধুর বাড়িতে তাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করা হবে না?, তাও সম্ভব নয়। অনেক দিনের পুরনো বন্ধুত্ব, বন্ধু তাকে কাছে পেলে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে। তাছাড়া, এবার তার এই যাত্রার সাথে এই বন্ধু বা তার বাড়ির কোনো সম্পর্ক নেই।
দুদিন পরের ঘটনা। নিউইয়র্কের একটা রাস্তা ধরে যাচ্ছে সে। ভোর বেলা, রাস্তায় বলতে গেলে কোনো যানবাহন নেই, একটা হাফট্রাক ছাড়া।
হাফট্রাকটা সামনে। সেটার কাছাকাছি এসে দেখলো, ট্রাকের ওপর পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে রয়েছে বরবটি ভরা বস্তা। স্বপ্নের কথা মনে পড়ে যেতে ঘন্টায় পয়ষট্টি মাইল থেকে ঘন্টায় পঁচিশ মাইলে স্পীড নামিয়ে আনলো সে। তারপর পনেরো মাইল স্পীডে একটা বাঁক নেয়ার সময় তার মটর সাইকেলের পিছনের চাকা পিছলে গেল –বস্তা থেকে কিছু বরবটি পড়ে গেছে রাস্তায়, তার ওপর চাকা পড়তেই ঘটনাটা ঘটলো।
সাবধান ছিলো বলে সামান্য একটু আহত হলো সে। কিন্তু স্বপ্নটা যদি না দেখতে, ঘন্টায় পঁয়ষট্টি মাইল স্পীডেই মটর সাইকেল চালাতো সে। সেক্ষেত্রে কি অবস্থা হতো তার?
যে স্বপ্ন দেখবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আপনি, শুধু আপনিই সেটার ব্যাখ্যা করতে পারবেন। স্বপ্ন বুঝতে হলে প্রোগ্রামের আওতায় নিজেকে নিয়ে আসার সময় উপযুক্ত সাজেশন দিয়ে নিতে হবে। স্বপ্নের অর্থ অনেক সময় ধরা দিয়েও ধরা দেবে না, সেক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টির সহায্যে অর্থ খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে আপনাকে। অনেক সময় কণ্ঠস্বরহীন অবচেতন মন এই অন্তদৃষ্টির সাহায্যে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে থাকে।
স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ শেখার ব্যাপারে আপনি যদি ধৈর্যের পরিচয় দেন, যদি নিয়মিত চর্চা করতে থাকেন, একদিন আপনার মনের একটা অমূল্য ভাণ্ডারের দরজা আপনার সামনে খুলে যাবে। যুক্তির বিচারে, লটারি জেতার আশা আপনি করতে পারেন না কারণ লটারির ধর্মই হলো, মাত্র অল্প দু’ একজন জিতবে ওটা। কিন্তু আবার একথাও তো সত্যি যে, লটারি যা দিতে পারে তারচেয়ে অনেক বেশি দেয়ার জন্যে তৈরি হয়ে আছে জীবন-যে-কেউ চেষ্টা করলেই পেতে পারে।
এবার, এখানে আমরা কয়েকটা অনুশীলন দেবো। এগুলো প্রতিদিন রাতে শোবার আগে চর্চা করতে হবে।
স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণঃ নিয়ম–১
স্বপ্ন মনে রাখা চর্চা করার জন্যে তিন–এক পদ্ধতির সাহায্যে নিজের লেভেলে চলে। যান। ওখানে পৌঁছে, মনে মনে নিজেকে বলুন, ‘আমি একটা স্বপ্ন মনে রাখতে চাই। আমি একটা স্বপ্ন মনে রাখতে পারবো। নিজের লেভেল থেকে বেরিয়ে আসার দরকার। নেই, লেভেলে থাকা অবস্থাতেই ঘুমিয়ে পড়ুন।
সকালে বা রাতে স্বপ্নের উজ্জ্বল, পরিষ্কার স্মৃতি নিয়ে যখন ঘুম ভাঙবে, একটা কাগজে বিবরণ লিখে নিন। যখন বুঝবেন স্বপ্ন নিয়ন্ত্ৰণঃ নিয়ম-১ ভালো কাজ দিচ্ছে, শুধু তখন দু’নম্বর নিয়ম চর্চা শুরু করবেন।
