.
হোসে সিলভার স্বপ্নের ব্যাপারটা খতিয়ে দেখা যাক।
এ হতাশার একটা মুহূর্তে স্বপ্নটা দেখেন তিনি। স্বপ্নের ভেতর আশ্চর্য একটা ব্যাপার। ছিলো–আলো। এই আলোটা ছিলো বলেই স্বপ্নটা ঘুম ভাঙার পরও তিনি মনে করতে পেরেছিলেন। পরদিন দোকানে এলো এক বন্ধু, প্রস্তাব দিলো কফি খেতে যাওয়ার। হোসে ক্লান্ত ছিলেন, তাই যেতে রাজি হলেন। সেই মুহূর্তে তাঁর স্ত্রী এসে যদি মেক্সিকান সাইডে গিয়ে অ্যালকোহল কেনার কথা না বলতেন, ওদিক তাঁদের যাওয়াই হতো না। ছোটো ছোটো ঘটনাগুলো শেষ পর্যন্ত হোসেকে টেনে নিয়ে গেল এমন একটা দোকানে, গোটা মেক্সিকোর মধ্যে শুধু ওই দোকানেই ৩-৪–৩ নম্বরের টিকেট কিনতে পাওয়া যায়।
অনেকগুলো ছোটো ছোটো ঘটনা মিলে একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার ঘটেছে, এগুলোকে কেউ যদি কাকতালীয় বলে সন্দেহ করে, সত্যি-মিথ্যে যাচাই করে দেখা সম্ভব বাকি ঘটনাগুলো সম্পর্কে কি বলার থাকবে তার? হোসে সিলভা স্বপ্ন দেখার কৌশল উদ্ভাবন করেন এবং পদ্ধতিগুলোকে উন্নত করেন, সেগুলো ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের আরো চারজন মাইও কন্ট্রোল গ্র্যাজুয়েট লটারি জিতেছেন। তাঁরা হলেন, রকফোর্ড, ইলিয়নয়েস-এর রেগিনা এম, ফরনেকার–তিন লক্ষ ডলার। শিকাগোর ডেভিড সিকি–তিন লক্ষ ডলার। শিকাগোর ফ্রান্সেস মরোনি–পঞ্চাশ হাজার ডলার। এবং বাফেলো, নিউইয়র্কের জন ফ্লেমিং–পঞ্চাশ হাজার ডলার।
কিছু ঘটনা যখন ঘটে, যার কোনো ব্যাখ্যা করা যায় না, কিন্তু ফলটা হয়। গঠনমূলক বা উপকারী, আমরা তখন সেটাকে কোইন্সিডেন্স বলবো। কিন্তু ফল যদি হয়। ধ্বংসাত্মক, সেটাকে আমরা বলি অ্যাকসিডেন্ট। এই বই পড়ে আপনি শিখবেন। কোইন্সিডেন্স কিভাবে ঘটাতে হয়।
লটারি জেতার স্বপ্ন দেখার পর হোসে সিলভার বিশ্বাস জন্মায় হাইয়ার ইন্টেলিজেন্সের অস্তিত্ব আছে এবং সেই শক্তি তাঁর সাথে যোগাযোগ করার ক্ষমতাও রাখে। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই পরিষ্কার হয়ে যায়, হোসে সিলভার এটা নতুন কোনো আবিষ্কার নয়। এ-কথাও সত্যি নয় যে এ ধরনের ঘটনা শুধু তাঁর জীবনে এই প্রথম ঘটলো। জীবনের মোড় ঘোরার মুহূর্তে, চরম হতাশাগ্রস্ত বা বিপদগ্রস্ত মুহূর্তে হাজার হাজার লোক এ-ধরনের স্বপ্ন দেখেছে, যে স্বপ্ন হয় তাদেরকে বিপদ সম্পর্কে আগাম সাবধান করে দিয়েছে নয়ত সমস্যার সমাধান বাতলে দিয়েছে। এ ধরনের স্বপ্নের কথা সকল ধর্মগ্রন্থেই পাওয়া যায়।
ফ্রয়েড বলেছেন, স্বপ্ন টেলিপ্যাথীর জন্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। পরবর্তী কালে আরো একটু এগিয়ে কোনো কোনো গবেষক বলেছেন, হাইয়ার ইন্টেলিজেন্সের কাছ থেকে তথ্য গ্রহণ করার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে স্বপ্ন।
হাইয়ার ইন্টেলিজেন্স? ঠিক কি বোঝাতে চেয়েছেন তাঁরা?
বোঝাতে চেয়েছেন, আলোর একটা ঝলকানির মতো অন্তদৃষ্টি, ঠিক যখন আপনার দরকার ওটা। কিংবা, কারো স্নেহময়, শক্তিশালী উপস্থিতি। এক হাইয়ার ইন্টেলি জেন্সের উপস্থিতি আমরা সবাই অনুভব করি, কেউ কম কেউ বেশি। তার সাহায্য এবং সান্নিধ্য কামনা করি আমরা, কিন্তু কখনোই তাকে নাগালের মধ্যে পাই না।
.
গবেষকদের মনে এক সময় একটা প্রশ্ন জাগলো, লোকে যেমন টেলিফোন পাবার জন্যে অস্থির ভাবে অপেক্ষা করে, আমাদের জন্যেও সেই রকম কেউ অপেক্ষা করছে কিনা? যোগাযোগ করার জন্যে আমরা কি নিজেরা উদ্যোগী হয়ে ডায়াল করতে পারি না? প্রার্থনার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সাথে যদি যোগাযোগ করা যায়, তাহলে হাইয়ার ইন্টেলিজেন্সের সাথে যোগাযোগের একটা মাধ্যম আবিষ্কার করা যাবে না কেন?
গবেষণায় দেখা গেল, একাধিক মাধ্যমের সাহায্যে হাইয়ার ইন্টেলিজেন্সের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব। তার মধ্যে একটা ডিম কন্ট্রোল বা স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ। অত্যন্ত সহজ একটা পদ্ধতি, খুব সহজে শেখা যায়।
স্বপ্ন স্মরণ করার জন্যে উজ্জ্বল আলো আপনাকে সাহায্য করবে, এটা আশা করা ঠিক হবে না। তবে প্রোগ্রাম-পদ্ধতির ওপর আপনি ভরসা রাখতে পারেন। এই পদ্ধতির নিয়ম হলো, নিজেকে একটা প্রোগ্রামের আওতায় আনতে হবে, ধ্যানমগ্ন অবস্থায়।
ঘুমোতে যাবার ঠিক আগে আলফা লেভেলে চলে যান। নিজেকে সাজেশন দিন, আমি একটা স্বপ্ন মনে রাখতে চাই। আমি একটা স্বপ্ন মনে রাখতে পারবো।
এবার হাতের কাছে কলম আর কাগজ নিয়ে ঘুমাতে যান। তারপর যখন ঘুম ভাঙবে, তা সে রাতেই হোক বা সকালে, যে স্বপ্নটা দেখেছেন সেটার বিবরণ লিখে ফেলুন, যতোটুকু মনে করতে পারেন। এই পদ্ধতি রাতের পর রাত চর্চা করতে থাকুন, যতো দিন যাবে ততই বেশি স্পষ্ট মনে করতে পারবেন, এক সময় সম্পূর্ণ স্বপ্নটা মনে রাখতে কোনো অসুবিধেই হবে না। পদ্ধতিটার সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে দক্ষতা বাড়বে আপনার, তখন বুঝবেন, দ্বিতীয় নিয়মটা শেখার জন্যে তৈরি হয়েছেন আপনি।
ঘুমের আগে আলফা লেভেলে পৌঁছে মনের পর্দায় একটা সমস্যাকে জ্যান্ত করে। তুলুন। ওটা এমন একটা সমস্যা হতে হবে, উপদেশ বা তথ্য পেলে যা সমাধান করা সম্ভব। তার আগে ভালো করে বুঝে দেখুন, সত্যি আপনি সমস্যাটার সমাধান চান কি না। নির্বোধ প্রশ্ন করলে উত্তর পাবেন হাস্যকর, অর্থহীন। এবার এই কথাগুলো বলে নিজেকে প্রোগ্রামের আওতায় নিয়ে আসুন। আমার একটা সমস্যা আছে। যে স্বপটা দেখবো তাতে এমন কিছু তথ্য এবং উপদেশ থাকবে যার সাহায্যে সমস্যাটা আমি সমাধান করতে পারবো। স্বপ্ন আমি একটা দেখবোই, তাতে সমাধানের সূত্রও থাকবে। স্বপ্নে যা বলা হবে আমি তা পরিষ্কার বুঝতে পারবো।
