ঠিক ঘুমাতে যাবার আগে তিন–এক পদ্ধতির সাহায্যে বেসিক লেভেলে পৌঁছান।
তারপর আরো গভীর লেভেলে পৌঁছে মনের পর্দায় একটা ঘড়ি দেখুন। মনে মনে ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে নির্দিষ্ট একটা ঘরে নিয়ে আসুন, ঠিক যে সংখ্যার ঘরে কাঁটা উপস্থিত হলে ঘুম থেকে জগতে চান আপনি। এরপর নিজেকে বলুন, এই সময়ে ঘুম থেকে জাগতে চাই আমি, আর ঠিক এই সময়েই ঘুম থেকে আমি জাগবো। দেখবেন ঠিকই ভাঙছে ঘুম।
অনেক সময় জেগে থাকা জরুরী দরকার হয়ে পড়ে। কাল পরীক্ষা, রাত জেগে পড়া দরকার। কিংবা সময় ধরে রোগীকে ওষুধ খাওয়াতে হবে, কোনোমতেই ঘুমিয়ে পড়া চলবে না। অথবা কোথাও সময় মতো পৌঁছুতে হলে অনেক রাত পর্যন্ত গাড়ি চালাতে হবে, ঘুমিয়ে পড়লে সর্বনাশ। এই ধরনের অনেক কারণেই অনেক সময় জেগে থাকা। দরকার হয়।
সাধারণ একটা ধারণা হলো, রাত জাগলে শরীরের ক্ষতি হয়। ক্ষতি যে হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ক্ষতিটা হয় ব্রেনের অনুমতি না দিয়ে রাত জাগা হলে। আমরা জানি, ব্রেনই আমাদের শরীরকে এনার্জি বা শক্তি বরাদ্দ করে। জেগে থাকার জন্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ এনার্জি বরাদ্দ করা হয়, এই বরাদ্দ বাড়াতে হলে ব্রেনকে অনুরোধ করতে হবে। এই অনুরোধ জানাবার আনুষ্ঠানিক নিয়ম আছে, সেটা পালন করলে রাত জাগার জন্যে অতিরিক্ত যে এনার্জিটুকু আমাদের দরকার তা পাওয়া যাবে। তাহলেই রাত জাগলে বা বেশিক্ষণ জেগে থাকলে শরীরের ক্ষতি হবে না। এবার অনুশীলন।
যখনই তন্দ্রার ভাব বা ঘুম আসতে চাইবে, বিশেষ করে আপনি যখন গাড়ি চালাচ্ছেন, রাস্তার একধারে গাড়ি থামিয়ে স্টার্ট বন্ধ করুন, তিন–এক পদ্ধতির সাহায্যে। বেসিক বা আরো গভীর লেভেলে চলে যান।
নিজের লেভেলে পৌঁছে মনে মনে নিজেকে বলুন, ‘আমার ঘুম পাচ্ছে কিন্তু আমি ঘুমাতে চাই না; আমি সম্পূর্ণ সজাগভাবে জেগে থাকতে চাই, জেগে থাকা অবস্থায় পুরোপুরি সুস্থ এবং ঝরঝরে তাজা থাকতে চাই।’
তারপর নিজেকে মনে মনে বলুন, ‘এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত গুণতে যাচ্ছি আমি। পাঁচ পর্যন্ত গুণে চোখ খুলবো, সম্পূর্ণ সজাগ অবস্থায় জেগে থাকবো, পুরোপুরি সুস্থ এবং ঝরঝরে তাজা থাকবো। ঘুমঘুম ভাব থাকবে না। সম্পূর্ণ সচেতনভাবে টনটনে জ্ঞান নিয়ে জেগে থাকতে পারবো আমি।
মনে মনে গুণতে শুরু করুন, ধীরে ধীরে–১, ২, ৩। তিন পর্যন্ত গুণে নিজেকে আবার স্মরণ করিয়ে দিন, ‘পাঁচ পর্যন্ত গুণে চোখ খুলবো, সম্পূর্ণ সজাগ অবস্থায় জেগে থাকবো, ঝরঝরে আর তাজা থাকবো। ঘুম ঘুম ভাব একটুও থাকবে না, সম্পূর্ণ সচেতনভাবে, টনটনে জ্ঞান নিয়ে জেগে থাকতে পারবো আমি।
এরপর মনে মনে গুণুন, ৪, ৫। পাঁচ পর্যন্ত গুণে, চোখ খুলুন। নিজেকে মনে মনে বলুন, ‘আমি সম্পূর্ণ সজাগ অবস্থায় জেগে আছি, শরীরটা আগের চেয়ে ভালো, তাজা আর ঝরঝরে লাগছে।’
০৬. স্বপ্নের দেশে
সত্যিকার অর্থে মুক্ত যদি কখনো থাকি আমরা তো সে স্বপ্লে। সময়ের বেড়া, মহাশূন্যের সীমানা, যুক্তির গণ্ডি, বিবেকের বাধানিষেধ সব মিলিয়ে যায়, আমরা আমাদের নিজেদের সৃষ্টি অদ্ভুত এক জগতের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে পারি। স্বপ্নে আমরা যা তৈরি করি, তা একান্ত ভাবেই আমাদের। স্বপ্নকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিচার করেছেন। ফ্রয়েড। তিনি অনেকটা এই রকম বলেছেনঃ একজন লোকের স্বপ্নকে বোঝো, তাহলে লোকটাকেও বুঝতে পারবে।
মনের নিয়ন্ত্রণ শিখতে গিয়ে স্বপ্নকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিচ্ছি, কিন্তু আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি সম্পূর্ণ অন্য দিক থেকে, কারণ আমরা আমাদের মনটাকে সম্পূর্ণ অন্য এক ভাবে ব্যবহার করতে শিখছি। কোনো চেষ্টা ছাড়াই যে-স্বপ্ন দেখে মানুষ, ফ্রয়েড সে-ধরনের স্বপ্ন নিয়ে মাথা ঘামিয়েছেন। মনের নিয়ন্ত্রণ তাঁর গবেষণার বিষয়। ছিলো না। কিন্তু আমরা বিশেষ ধরনের কিছু সমস্যা সমাধানের জন্যে নিজেদের তৈরি। করা স্বপ্নকে ব্যবহার করতে চাইছি। স্বপ্নের বিষয়বস্তু কি হবে তা আমরা আগে থেকেই নির্ধারণ করে নেবো বলে, স্বপ্নের ব্যাখ্যাও আমরা করবো সম্পূর্ণ আলাদা এক নিয়মে, ফ্রয়েডীয় নিয়ম সেখানে কোনো কাজে আসবে না। নিজেদের তৈরি করা স্বপ্নের ব্যাখ্যা থেকে বেরিয়ে আসবে আমাদের সমস্যার সমাধান। এর ফলে যদিও চেষ্টা-ছাড়া-স্বপ্ন সংখ্যার দিক থেকে কমে যাবে, কিন্তু বিনিময়ে লাভ করবো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটা স্বাধীনতা, সেই সাথে জীবনের ওপর আরো শক্ত এবং সুষ্ঠু হবে আমাদের নিয়ন্ত্রণ।
স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার তিনটে নিয়ম শিখবেন আপনি। প্রতিটি নিয়ম শেখার জন্যে, ধ্যানমগ্ন হতে হবে।
স্বপ্ন মনে করতে না পারা একটা সমস্যা, প্রায় সবারই এই সমস্যা আছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে কি স্বপ্ন দেখেছি তা আর মনে করতে পারি না। তাই কি করলে স্বপ্ন মনে। থাকবে সেটাই আগে শেখা যাক।
প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়, স্বপ্ন আমি একেবারেই দেখি না। কথাটা ঠিক নয়। স্বপ্ন আমরা সবাই দেখি, হয়ত মনে রাখতে পারি না। কোনো ভাবে যদি স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দেয়া যায়, কয়েক দিনের মধ্যেই আপনি মানসিক এবং শারীরিক সুস্থতা হারিয়ে ফেলবেন।
তা স্বপ্ন সম্পর্কে হোসে সিলভার কিছু বক্তব্য আছে, প্রথমে তাঁর ভাষাতেই সেটা শোনা যাক।
