দ্রুত শেখা আর তিন আঙুল পদ্ধতি, সময় বাঁচাবার জুড়ি নেই এদের। এই দুটো ব্যবহার করে আশ্চর্য, চমকপ্রদ ফল পাওয়া গেছে। হাজার হাজার নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষ এগুলো ব্যবহার করে যার যার পেশায় এবং জীবনে উন্নতি করছে। বিক্রি (বিশেষ করে বীমা পলিসি), প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া, শিক্ষাদান, আইন এবং অভিনয়, এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ফল পাওয়া গেছে।
দ্রুত শেখা আর তিন আঙুল পদ্ধতি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে সবচেয়ে বেশি উপকারে লাগে। সেজন্যেই আমেরিকার চব্বিশটা কলেজ-ইউনিভার্সিটি, ষোলোটা হাইস্কুল আর বারটা গ্রেড স্কুলে এই পদ্ধতি শেখানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
০৫. আয় ঘুম
ঘুমাই আমরা সবাই। কিন্তু ঘুম নিয়ে সমস্যারও অন্ত নেই। কেউ কেউ অভিযোগ করে, তারা ঘুমায় বটে, কিন্তু তাদের ঘুম যথেষ্ট গম্ভীর হয় না। ফলে ঘুম থেকে জাগার পর যে ঝরঝরে, তাজা ভাবটা আসা দরকার তা আসে না; শরীর ম্যাজম্যাজ করে, ব্যথা করে, বিগড়ে থাকে মেজাজ, কাজে মন বসে না, দুর্বল লাগে ইত্যাদি। কারো কারো অভিযোগ, তাদের ঘুম খুব ছোটো, যথেষ্ট লম্বা নয়। ভোর হতে তখনো তিন ঘন্টা বাকি, ভেঙে গেল ঘুম, কি জ্বালাতন! আবার ঘুম কাতুরে লোকেরও অভাব নেই। ক্লাসে বসে, পিকনিকে গিয়ে, বাসে উঠে, রিক্সায় চড়ে, অফিসে পৌঁছে…মোট কথা জায়গা বা পরিবেশের কোনো বাছ বিচার নেই, সুযোগ থাক বা না থাক, দু’চোখ ভরা ঘুম এসে তাদেরকে ঘায়েল করে ফেলে। উল্টোটাও ঘটে, বিছানায় শুয়ে ছটফট করে কিছু লোক, জপ করে আয় ঘুম, ঘুম আয় বলে–এরা অনিদ্রায় ভুগছে। এগুলোই সব নয়, ঘুম নিয়ে আরো অনেক সমস্যা আছে।
আলফা লেভেলে পৌঁছে নিজেকে সাজেশন দেয়ার নিয়ম আপনার জানা আছে। ঘুম নিয়ে আপনার যদি কোনো সমস্যা থাকে, সমাধান –মূলক সাজেশন দিয়ে সে সমস্যা। কাটিয়ে উঠতে পারবেন আপনি। হাতে আরো উপায় আছে আপনার, মনের পর্দায় সমস্যা এবং সমাধানের ছবি দেখলেও উপকার পাবেন। যার ঘুম কম হয় তিনি প্রথমে দেখবেন রাত দুপুরে ঘুম ভেঙে গেল, এই ছবি আপনি মাত্র একবার দেখবেন। ছবি টাকে ডান দিকে সরিয়ে দিয়ে বাঁ দিক থেকে আরেকটা ছবি আনবেন পর্দায়, এই ছবিতে সমস্যার সমাধান থাকবে–ছবিতে দেখবেন, আপনি ঘুমাচ্ছেন, চারদিকে নানা গোলমাল এবং শব্দ হচ্ছে তুবু আপনার ঘুম ভাঙছে না। এভাবে যার যা সমস্যা, সমস্যা অনুসারে সমাধান তৈরি করে নিয়ে পর্দায় ছবি দেখতে পারেন। ছবি দেখার সাথে সাথে তিন আঙুল পদ্ধতিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
এবার ঘুমের প্যাটার্ন সম্পর্কে সাধারণ একটা ধারণা দেবার চেষ্টা করবো। স্বাভাবিক ঘুম কাকে বলে সেটা জানা থাকলে অনেক অকারণ দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়া যায়। তারপর আসবে ঘুম গভীর করার অনুশীলন।
ঘুমের গভীরতা পরিমাপ করার একটা মাধ্যম হলো ঘুম সাইকেল। একটা ঢেউ, ওঠানামা করতে করতে ঘুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন ভাবে এগিয়ে যায়। শুরুতে এই ঢেউ নিচের দিকে মুখ করে এগোয়, তারমানে তখন আমরা ডেলটা লেভেলে নেমে যাই। তারপর যতোই এগোতে থাকে ঢেউটা ততোই নিচের দিকে নামার প্রবণতা কমে আসে। এটাই স্বাভাবিক গতি এবং প্রবণতা। এই প্যাটার্ন যদি বদলে যায় তাহলে মনে করতে হবে বিশ্রামে বিঘ্ন ঘটছে। তাই স্বাভাবিক ঘুম বজায়। রাখা এবং সেটাকে আরো গভীর করা আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। সেটা নিচের এই পদ্ধতির সাহায্যে সম্ভব করে তোলা যেতে পারে।
স্লিপ কন্ট্রোল বা ঘুম নিয়ন্ত্রণ একটা ফর্মুলা-টাইপ টেকনিক, এর সাহায্যে স্বাভাবিক, সাধারণ, সাইকোলজিক্যাল ঘুম যে-কোনো সময়, যে কোনো জায়গায় ওষুধ ছাড়াই নিয়ে আসা যায়।
যখনই আপনি ঘুম নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবেন, তিন–এক পদ্ধতি ব্যবহার করে বেসিক লেভেলে পৌঁছান। বেসিক লেভেল থেকে আরো গভীরে চলে যাবার কৌশল আপনার জানা আছে, ইচ্ছে করলে সেখানেও চলে যেতে পারেন। এবার পর্দায় একটা ব্ল্যাকবোর্ড দেখুন। মনে মনে কল্পনা করুন, আপনার হাতে একটা চক আর একটা ডাস্টার রয়েছে।
এরপর ব্ল্যাক বোর্ডে একটা বড়সড় বৃত্ত আঁকুন। বৃত্তের ভেতর চক দিয়ে তৈরি করুন একটা গুণন বা ক্রস-চিহ্ন। তারপর হাতের ডাস্টার দিয়ে ক্রস-চিহ্নটাকে মুছে ফেলুন–মুছতে শুরু করবেন মাঝখান থেকে, কোনোভাবেই যেন বৃত্তের গায়ে ডাস্টারের ছোঁয়া না লাগে।
বৃত্তের ভেতর ক্রস-চিহ্ন মুছে ফেলার পর, বৃত্তের বাইরে এবং ডান দিকে ইংরেজিতে লিখুন ডীপার বা বাংলায় লিখুন আরো গভীর।
এবার বৃত্তের ভেতর লিখুন ১০০। ডাস্টার দিয়ে সেটা মুছে ফেলুন–মুছতে শুরু করবেন মাঝখান থেকে যাতে বৃত্ত-রেখা এতোটুকুও মুছে না যায়।
বৃত্তের ভেতর ১০০ সংখ্যাটি মুছে ফেলার পর, বৃত্তের বাইরে এবং ডান দিকে লিখে রাখা ‘ডীপার’ বা ‘আরো গভীর’ লেখার ওপর চক বুলান।
এবার বৃত্তের ভেতর লিখুন ৯৯। একই ভাবে সেটা মুছে ফেলুন। তারপর ডীপার বা আরো গভীরের ওপর চক বুলান।
এভাবে ৯৮, ৯৭, ৯৬, ৯৫, ৯৪, ৯৩ নিচের দিকে নামতে থাকুন, যতোক্ষণ না ঘুম আসে।
.
সময় মতো ঘুম ভাঙে না, এটাও অনেকের জন্যে সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। যারা এই সমস্যায় ভুগছেন, নিচের এই অনুশীলন চর্চা করতে পারেন, ভাল ফল পাবেন। ঘড়ির অ্যালার্ম বাজবে না, তবু ঠিক যখন চান তখনই ঘুম থেকে জাগতে পারবেন।
