দ্বিতীয় দফা।
তিন আঙুল পদ্ধতির সাহায্যে প্রথম দফায় যা করেছেন এবারও তাই করুন, তবে এবার যে-সব প্রশ্নের উত্তর তৈরি নেই সেগুলোর ওপর একটু বেশি সময় দিন। উত্তর যদি আসে, লিখে ফেলুন। আর যদি না আসে, ওটাকে বাদ দিয়ে পরেরটা ধরুন।
তৃতীয় দফা।
তিন আঙুল পদ্ধতি ব্যবহার করে যেসব প্রশ্নের উত্তর আসেনি সেগুলো পড়ুন, এবারও যদি উত্তর না আসে, চোখ বন্ধ করুন, বন্ধ পাতার ভেতর একটু ওপর দিকে স্থির করুন দৃষ্টি, আপনার প্রফেসর, টিচার বা লেকচারারকে মনের পর্দায় দেখুন, তারপর প্রশ্নের উত্তরটা জিজ্ঞেস করুন তাঁকে। তারপর মাথা পরিষ্কার করে নিয়ে আবার উত্তর পাবার জন্যে চিন্তা-ভাবনা করতে শুরু করুন। তিন আঙুল পদ্ধতির আরো ব্যবহার আছে। ধ্যানী সাধু আর যোগীরা এই পদ্ধতি কয়েক শতাব্দী আগে থেকে ব্যবহার করে আসছেন। যখন কোনো যোগী বা সাধুর ধ্যানমগ্ন অবস্থার ছবি বা ভাস্কর্য দেখবেন, লক্ষ্য করলেই চোখে পড়বে, তাঁর হাতের তিনটে আঙুল এক করা।
০৪. দ্রুত শেখা
তিন আঙুল পদ্ধতি চর্চা করে আপনি যদি দক্ষতা অর্জন করতে পারেন, দৈনন্দিন হাজারটা কাজে একে ব্যবহার করে উপকার পাবেন। এক সময় মনে করতে পারাটা এমন অভ্যেস হয়ে উঠবে, বিটা লেভেলে থাকা অবস্থায়ও কিছু মনে করতে চাইলে সাথে সাথে মনে পড়ে যাবে আপনার। এটা অনুশীলন করার আরেকটা উপকার, আপনার মনঃসংযোগের ক্ষমতা আশ্চর্য রকম বেড়ে যাবে। আপনি যদি ছাত্র হন, পরীক্ষার সময় তিন আঙুল এক করে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় আবিষ্কার করবেন, যে-বইটা আপনি পড়েছেন সেটা চোখের সামনে প্রায় খোলা অবস্থায় দেখতে পাচ্ছেন। প্রশ্নটা নিয়ে স্যার যে আলোচনা করেছেন ক্লাসে, সবটা প্রায় পরিষ্কার শুনতে পাচ্ছেন।
এখানে আরো একটা পদ্ধতির কথা বলবো। এটা আগেরগুলোর মতো অতোটা সহজ নয়, কিন্তু মন-নিয়ন্ত্রণ চর্চা শুরু করার প্রথম দিকেই এ-ব্যাপারে তৈরি থাকতে হবে আপনাকে। এই পদ্ধতিরও বৈশিষ্ট্য হলো, শুধু আলফা লেভেলে নয়, বিটা লেভেলেও সমান ভাবে কার্যকরী। এটা অনুশীলন করতে হলে একটা টেপ রেকর্ডার দরকার হবে।
ধরা যাক, টেকস্ট বুকের অত্যন্ত জটিল একটা পরিচ্ছেদ শিখতে হবে আপনাকে। ওটা শুধু মনে রাখলেই চলবে না, বুঝতেও হবে। প্রথম দিকে আলফা লেভেলে যাবার দরকার নেই, বিটায় থাকুন। পড়াটা আওয়াজ করে পড়ুন, রেকর্ড হয়ে যাক টেপে। এবার আপনি আলফা লেভেলে চলে যান, টেপ রেকর্ডার চালু করে পড়াটা শুনুন, নিজের কণ্ঠস্বরের দিকে গভীর মনোযোগ রাখুন।
মন নিয়ন্ত্রণ করতে শেখার প্রথম দিকে, বিশেষ করে আপনি যদি টেপ রেকর্ডার ব্যবহারে অভ্যস্ত না হন, প্লে-ব্যাক সুইচ চাপ দেয়ার সময় ধ্যান ভেঙে যেতে পারে আপনার, আলফা থেকে উঠে আসতে পারেন বিটায়। তারপর এমনও হতে পারে, টেপ রের্কডারের শব্দ আবার আলফায় ফিরে যেতে বাধার সৃষ্টি করবে। বাধা টপকে আবার যদি আলকায় যেতে পারেনও, তখন হয়তো দেখবেন, পড়াটা সবটুকু বা প্রায় সবটুকু শেষ করে বসে আছে টেপ।
এসব বিঘ্ন এড়াবার জন্যে দু’একটা পরামর্শ দেয়া গেল।
টেপের সুইচে আঙুল রেখে তারপর ধ্যানমগ্ন হোন। এতে চোখ খুলে সুইচ হাতড়াবার ঝামেলা নেই।
কিংবা কারো সাহায্য নিন, আপনার ইঙ্গিত পেলে প্লে-ব্যাক সুইচে চাপ দেবে সে।
নতুন করে তাড়াতাড়ি আলফায় যাবার জন্যে তিন আঙুল পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
কিন্তু সমস্যাটা আসলে যতো কঠিন তারচেয়ে বেশি কঠিন বলে মনে হতে পারে। সত্যি কথা হলো, আপনি যে উন্নতি করছেন এটা তারই লক্ষণ। যতোই আপনি অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন, ধ্যানমগ্ন অবস্থাটা ততোই অন্য রকম লাগবে আপনার কাছে। যতো দিন যাবে, বিটা লেভেলের সাথে আলফা লেভেলের পার্থক্য ততোই কমতে থাকবে, তার কারণ আলফা লেভেলটাকে আপনি সচেতন ভাবে ব্যবহার করতে শিখে ফেলবেন। কাজেই তন্দ্রাচ্ছন্ন বা মোহাচ্ছন্ন যদি না হন, সেটাকে আলফায় পৌঁছুতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে। ধরে নেয়া ঠিক হবে না।
চর্চা আর অনুশীলনের সাথে সাথে আপনার দক্ষতা বাড়বে, এক সময় এতো সহজে আলফা লেভেলে পৌঁছে যাবেন যে প্রায় সময় টেরই পাবেন না–আর তখন যদি লেভেলে পৌঁছুবার প্রথম দিককার লক্ষণগুলো নতুন করে অনুভব করেন, বুঝতে হবে আপনি আরো গভীর লেভেলে চলে যাচ্ছেন, হয় আলফার আরো গভীরে কিংবা থিটায়। ড. সিলভার ট্রেনিং কোর্সের ক্লাসে অনেক ছাত্রকেই গভীর লেভেলে পৌঁছেও চোখ খোলা রাখতে দেখা যায়, আপনি এই মুহূর্তে যতোটুকু জেগে আছেন ততোটুকু জেগে থেকে পরিষ্কার ভাবে কথা বলে, প্রশ্নের উত্তর দেয়, হাসি-ঠাট্টা করে। আলফায় মনের সম্পূর্ণ কার্যকারিতা সহ পুরোপুরি জেগে থাকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এতে সাধ্য-সাধনা তো এ অবস্থাটা অর্জন করার জন্যেই।
আবার আপনার টেপ রেকর্ডিঙের কথায় ফিরে আসা যাক। শক্তি জড়ো করে আবার জোর দেয়ার জন্যে, কয়েকটা দিন বিরতি নিন, তারপর আবার বিটা লেভেলে পড়াটা পড়ুন, আলফায় পৌঁছে প্লে-ব্যাকটা শুনুন। আশা করা যায় তথ্যগুলো এবার আপনার অন্তরের অন্তস্তলে গেথে যাবে।
এই বই পড়ে কয়েকজন যদি এক সাথে মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখেন, তাহলে ভালো হয়। সেক্ষেত্রে খাটা-খাটনি ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন। আরো অনেক সুবিধের একটা হলো, টেপ বিনিময়। অন্যের রেকর্ড করা টেপ থেকেও পুরোপুরি ফায়দা পাবেন আপনি, যদিও নিজের গলা শুনতে পেলে সামান্য একটু বিশেষ সুবিধে পাওয়া যায়।
