সহজ এই পদ্ধতি। বৃদ্ধ, তর্জনী আর মধ্যমা, এই তিনটে আঙুল একসাথে করুন, সাথে সাথে মনের একটা গভীর লেভেলে পৌঁছে যাবেন আপনি। এই মুহূর্তে চেষ্টা করতে পারেন আপনি, কিছুই ঘটবে না। জিনিসটা এখনো আপনার পোষ মানেনি, তাই আপনার আদেশ মানবে না। পোষ মানাতে হলে একটু খাটতে হবে। রাজি?
নিজের লেভেলে চলে যান, তারপর নিজেকে বলুন, (শব্দ করে বা মনে মনে), ‘যখনই আমার এই তিন আঙুল এক করবো’–এখন এক করুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য নিয়ে, তখনই মনের এই লেভেলে চলে আসবো, এবং আমার উদ্দেশ্য পূরণ হবে।
এই অনুশীলন প্রতিদিন এক হপ্তা চর্চা করুন। প্রতিবার একই বাক্য ব্যবহার করা। উচিত। দিন কয়েকের মধ্যেই আপনার মন তিন আঙুল এক করার সাথে সাথে ধ্যানমগ্ন হয়ে পড়ায় অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। তারপর একদিন হয়ত একটা কিছু মনে করতে চেষ্টা করবেন আপনি হয়ত একটা নাম–কিন্তু কোনোমতেই সেটা মনে পড়বে না। যতোই চেষ্টা করবেন, ততোই গোঁ ধরে থাকবে নামটা, কিছুতেই মনে আসতে চাইবে না। ইচ্ছাশক্তি শুধু যে ব্যর্থ হবে তাই নয়, এটা একটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এই যখন অবস্থা, আপনাকে ঘাবড়াতে নিষেধ করবো। শান্ত হোন। বুঝতে চেষ্টা করুন যে নামটা আপনার মনে পড়বে, কারণ আপনার আয়ত্তে রয়েছে সেই বোতাম, যেটা টিপলেই মনে পড়ে যাবে নামটা।
বিদেশী এক স্কুল শিক্ষক ছাত্রদেরকে বানান শেখাবার জন্যে তিন আঙুল পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। হপ্তায় বিশটা করে শব্দের বানান শেখাতে পারেন তিনি। ছাত্রদের পরীক্ষা করার জন্যে এক এক করে প্রতিটি শব্দের বানান তিনি জিজ্ঞেস করেন না, চলতি হপ্তায় যে ক’ টা নতুন শব্দ তারা শিখেছে সবগুলো খাতায় লিখতে বলেন তিনি। তিন আঙুল পদ্ধতির সাহায্যে, মনের পর্দায় নতুন শেখা শব্দগুলো দেখতে পায় ছাত্ররা, নির্ভুল বানান সহ সেগুলো খাতায় লিখতে কোনো অসুবিধে হয় না তাদের। এই পরীক্ষায় সবচেয়ে মাথামোটা ছাত্রটির সফল হতে সময় লাগে পনেরো মিনিট।
ট্যাক্সি ড্রাইভার ছাত্রটির কথা মনে আছে? তার একটা বিদঘুঁটে সমস্যা ছিলো। একজন আরোহী হয়ত এমন এক জায়গায় যেতে চাইলো, যেখানে অনেক দিন আগে একবার গেছে ড্রাইভার, রাস্তাঘাট এখন আর ভালো করে মনে নেই। গাড়ি স্টার্ট দেয়ার আগে একটু সময়ের জন্যে ধ্যানমগ্ন হলে খুব কম আরোহীই সেটা ধরতে পারবে। তিন আঙুলের পদ্ধতি ব্যবহার করে মনের পর্দায় ভুলে যাওয়া জায়গাটা দেখে নেয় সে। পদ্ধতিটি শেখার পর থেকে এই ধরনের কোনো সমস্যায় পড়ে ভুগতে হয় না তাকে।
মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখার আগে ছাত্রটি লেখাপড়ায় মোটেও ভালো ছিলো না। তারপর দ্রুত শেখা বা স্পীড লার্নিং পদ্ধতি ব্যবহার করা ধরলো সে। ছাত্র হিসেবে এখন সেরাদের একজন সে, তিন আঙুল পদ্ধতি ব্যবহার করে পরীক্ষা দিয়ে আশ্চর্য ভালো রেজাল্ট করছে। এই পদ্ধতি সম্পর্কে পরের পরিচ্ছেদে আলোচনা করবো আমরা। তার আগে তিন আঙুল পদ্ধতি কোন কাজে কিভাবে ব্যবহার করবেন, সে সম্পর্কে কিছু অনুশীলন।
এক নম্বর পরিচ্ছেদে তিন–এক (৩-১) পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে, মনে আছে। তো? এখানে ওই পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে হবে।
প্রথম কাজ, যে-কোনো হাতের প্রথম তিনটে আঙুল এক করুন। এটা ব্যবহার করায় ইতিমধ্যে আপনি যদি অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, আঙুল তিনটে এক করার সাথে সাথে বিটা থেকে গভীর লেভেলে পৌঁছে যাবেন।
স্কুল বা কলেজের একটা পড়া মুখস্থ করতে চান আপনি। তিন আঙুল তো এক করাই আছে, এবার তিন–এক পদ্ধতি ব্যবহার করে আরো গভীর লেভেলে চলে যান। তারপর নিজেকে বলুন, আপনি এক থেকে তিন পর্যন্ত গুণতে যাচ্ছেন, এবং তিন পর্যন্ত গোণার সাথে সাথে চোখ খুলে পড়াটা পড়তে শুরু করবেন। পড়াটা কি, শিরোনাম এবং বিষয় উল্লেখ করুন।
তারপর বলুন, ‘কোনো শব্দ আমার মনোযোগ নষ্ট করতে পারবে না, আমার মনোনিবেশে একাগ্রতা এবং বুঝতে পারার ক্ষমতা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।”
এবার এক থেকে তিন পর্যন্ত গুণুন, চোখ মেলুন, এবং পড়তে শুরু করুন।
পড়াটা শেষ করে, আবার তিন–এক পদ্ধতির সাহায্যে গভীর লেভেলে চলে যান, তারপর নিজেকে বলুন, এই মাত্র যে পড়াটা আমি শেষ করলাম (পড়াটা কি, শিরোনাম এবং বিষয় উল্লেখ করুন), সেটা আমি তিন আঙুল পদ্ধতির সাহায্যে ভবিষ্যতে যখন খুশি চাইলেই মনে করতে পারবো।
কলেজের লেকচার মনে রাখতে চান আপনি। তিন আঙুল তো এক করা আছেই, এবার তিন–এক পদ্ধতি ব্যবহার করে গভীর লেভেলে চলে যান। তারপর নিজেকে মনে মনে বলুন, আপনি একটা লেকচার শুনতে যাচ্ছেন (শিরোনাম, বিষয় এবং লেকচারের নাম উল্লেখ করুন)।
নিজেকে বলুন, আপনি তিন আঙুল পদ্ধতি ব্যবহার করতে যাচ্ছেন, লেকচার চলাকালে চোখ খোলা রাখবেন, অন্য কোনো শব্দ আপনার মনোযোগ নষ্ট করবে না, আপনার একাগ্রতা এবং বুঝতে পারার ক্ষমতা অনেক গুণ বেড়ে যাবে, এবং লেকচারটা (শিরোনাম বিষয় এবং লেকচারারের নাম উল্লেখ করুন) ভবিষ্যতে যখন খুশি চাইলেই তিন আঙুল পদ্ধতির সাহায্যে মনে করতে পারবেন।
এবার নতুন একটা পদ্ধতি। এটাকে আমরা তিন দফা পদ্ধতি বলতে পারি।
প্রথম দফা।
পরীক্ষার হলে প্রশ্নগুলো যেভাবে সব সময় পড়েন, সেভাবেই পড়ুন, তবে কোনো বিষয় নিয়েই বেশিক্ষণ মাথা ঘামাবেন না। কোনো প্রশ্নের উত্তর যদি তৈরি থাকে, সাথে সাথে লিখে ফেলুন। আর তৈরি না থাকলে ওটাকে বাদ দিয়ে পরেরটা ধরুন।
