স্নাবৃড় উইলসন চুপ-ed!!
———–
১. নির্মাণ আরম্ভ খ্রি. পৃ. ২০; নির্মাণ শেষ খ্রিস্টাব্দ (খ্রিস্টের পর) ৬২। কী ট্র্যাজেডি! যে মন্দির গড়তে লাগল প্রায় ৮২ বছর, সেটা ভাঙতে (প্রধানত লুট করতে কারণ ইহুদি মন্দিরে তাদের কোষাকুষি হয় বিরাট আকারের ও নিরেট সোনায় তৈরি) ৮২ ঘণ্টাও লাগেনি! প্রফেট নোআ-র (আরবি-বাঙলায় নুহ) আর বা নৌকা তুলনীয়।
২. বছর চল্লিশেক পূর্বে হায়দরাবাদের নিজাম প্রায় পাঁচ লক্ষ (পাকা অঙ্কটি কেউ আমাকে বলতে পারেনি) মুদ্রা ব্যয় করে মসজিদটির আমূল সংস্কার করেন।
লক্ষ মার্কের বরমান
সম্প্রতি জর্মন সরকার ঘোষণা করেছেন যে, কেউ যদি এমন খবর দিতে পারে যার সাহায্যে মার্টিন বরমান নামক লোকটাকে গ্রেফতার করা যায় তবে তাকে এক লক্ষ জর্মন মার্ক পুরস্কার দেওয়া হবে।
তাই নিয়ে একখানি মাসিক পত্রিকা ফলাও করে উক্ত হত্যার বরমান সম্বন্ধে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। পত্রিকাখানি চোদ্দটি ভাষায় প্রকাশিত হয় এবং শতাধিক দেশে পড়া হয় বলে পত্রিকার কর্তৃপক্ষ দম্ভ করে থাকেন। প্রবন্ধ-লেখক তাই বলেছেন, হয়তো-বা আপনিই বরমানকে ধরার ব্যাপারে সাহায্য করতে পারেন, কারণ হিটলারের মৃত্যুর পর বরমান কোথায় যে উধাও হয়ে গিয়েছে কেউ জানে না। সর্বশেষে প্রবন্ধ-লেখক বরমানের একটি বর্ণনা দিয়েছেন যাতে করে আপনি তাকে অল্পায়াসে বা অনায়াসে চিনে নিতে পারেন।
আমরা বরমান সম্বন্ধে যেটুকু জানি, তাতে মনে গভীর সন্দেহ হয়, লেখক বরমানের যে বর্ণনা দিয়েছেন সে অনুযায়ী চললে তাকে আদৌ চিনতে পারবেন কি না, বরঞ্চ হয়তো তাঁকে পালাবার সুযোগই দেওয়া হবে বেশি।
ইতোমধ্যে আরেকটি কথা বলে রাখি, উক্ত পত্রিকার ভারতীয় সংস্করণ বলেছেন, এক লক্ষ জর্মন মার্ক যে আপনি পাবেন তার ভারতীয় মূল্য এক লক্ষ টাকা। আমরা যতটুকু জানি, তার মূল্য অন্তত এক লক্ষ দশ হাজার টাকা সাদা বাজারেই। এই হল প্রবন্ধটির বিসমিল্লাতে গলদ। এর পর অন্যসব গলদে আসছি। তার পূর্বে বরমানটির পরিচয় কিঞ্চিৎ দিই।
হিটলারের জীবনে শেষের দু বছর বরমান ছিলেন তাঁর প্রাইভেট সেক্রেটারি। তার পূর্বেই তিনি নাৎসি পার্টির সেক্রেটারি হয়ে গিয়েছিলেন। নাৎসি পার্টিই যে জর্মনি চালাত সে-কথা। সবাই জানেন– অন্য কোনও পার্টির অস্তিত্ব পর্যন্ত বেআইনি বলে গণ্য হত এবং হিটলার ছিলেন তার সর্বময় কর্তা। এবং তার পরেই বরমান।
আইনত হিটলার হঠাৎ মারা গেলে কিংবা কোনও কারণে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেললে তাঁর জায়গায় বসার কথা ছিল গ্যোরিঙের। ওদিকে নাৎসি পার্টির সশস্ত্র বাহিনীর (এস.এস.) বড়কর্তা ছিলেন হিমলার। তিনি আবার ছিলেন দেশের সামরিক বেসামরিক সর্ব রিজার্ভ ফোর্সের অধিপতি এবং সর্ব কনসেনট্রেশন ক্যাম্প ছিল সম্পূর্ণ তাঁরই জিম্মায়। শেষের দিকে গ্যোরিঙ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এবং দেশের আপামর জনসাধারণ জানত, হিটলারের হঠাৎ কিছু একটা হয়ে গেলে হিমলারই দেশের ফুরার–লিডার–বা নেতা হবেন। আইষমান যা কিছু করেছেন সেসব হিমলারের হুকুমেই।
তা ছাড়া ছিলেন গ্যোবেলস। যদিও তিনি প্রপাগান্ডা মিনিস্টার কিন্তু তিনি হিটলারের বিশেষ প্রিয় আমির ছিলেন। শেষদিন পর্যন্ত তিনি ও হিমলার যদি হিটলারের সঙ্গে দেখা করতে চাইতেন তবে বরমানও সেটা ঠেকাতে পারতেন না। বিশেষ করে গ্যোবেলকে। বরমান সেটি জানতেন, এবং হিমলারকে যদিও তিনি শেষপর্যন্ত কোণঠাসা করে এনেছিলেন তবু গ্যোবেলসকে ঠেকাতে পারবেন না জেনে তাঁর সঙ্গে একটি চুক্তি (ওয়ার্কিং এরেঞ্জমেন্ট– মডুস ভিভেন্ডি) করে নিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই, হিটলারের জীবনের শেষের বছরখানেক বরমান ছিলেন সর্বেসর্বা। হিটলারের তাবৎ হুকুম তারই মারফতে বেরুত। তাঁর ইচ্ছেমতো তিনিও হিটলারকে দিয়ে অনেক কাজ করিয়ে নিতেন। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী খ্রিস্টধর্মের এমনই কট্টর শত্রু ছিলেন যে, তারা খ্রিস্টানদের মাবার জন্যে যেসব ব্যবস্থা করতে চাইতেন তার দু-একটি হিটলারের মতো ধর্মদ্রোহীর মনেও বিরক্তির সঞ্চার করেছিল।(১)
এ বিষয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই, গ্যোরিঙের পতনের জন্য বরমানই দায়ী। এমনকি হিটলারের বিনানুমতিতে তিনি হুকুম পাঠান যেন গ্যোরিঙকে গুলি করে মারা হয়। কিন্তু নাৎসি রাজ্য পতনের দিন আসন্ন দেখে যে কাপ্তানের ওপর সে আদেশ দেওয়া হয়েছিল তিনি সেটা অমান্য করেন।
হিটলারের মাত্র একটি খাস দোস্ত ছিলেন। চক্রান্ত করে বরমান তাঁকেও প্রায় ছ মাস ধরে হিটলারের কাছ থেকে দূরে রাখেন। হিটলারকে বলেন, তিনি সংক্রামক টাইফুঁসে ভুগছেন। হিটলারের মৃত্যুর কয়েকদিন পূর্বে তিনি কোনও গতিকে হিটলারের সাক্ষাৎটা পান– শেষবারের মতো। চক্রান্ত ধরা পড়ে। হিটলার কিন্তু বরমানকে কিছুই বললেন না। বরঞ্চ দোস্ত হফমানকে অনুরোধ করলেন, তিনি যেন দয়া করে এ প্রসঙ্গ উত্থাপন না করেন।(২)
এই যে এত শক্তিশালী বরমানকে লোকে খুঁজে পাচ্ছে না? আইষমান তাঁর অনেক নিচের নিচে কর্মচারী ছিলেন। তাঁকেও ইহুদিরা ধরতে পেরেছে। এঁকে পারছে না কেন?
যে বিখ্যাত মাসিকপত্রের উল্লেখ করে এ প্রবন্ধ আরম্ভ করেছি সেখানে এ প্রশ্নটির উল্লেখ নেই। যদিও হিটলার-বরমান নিয়ে যারাই আলোচনা করেন তাঁদের সবাই এর উত্তর জানেন।
