এবং কার মুখে এই অভিযোগ?
প্যারিসের মুখে! তাজ্জব, তাজ্জব! গজব, গজব!!
প্যারিসিনির পরনে তখন কী? A la নুলিয়া নয় তো?
তাই বলছিলুম,
এ যেন প্রেতের গায়
শানেল আর উ (h) বিগ মাখানো
ভুরভুরে খুশবায়।
কিংবা রাষ্ট্রভাষায় :
আরে তেরা লড়কেকা
আজব তরে কা খেল
চুচ্ছুন্দর কা সিরপর
চামেলি কা তেল!
(তোর ছেলেটার আজব কীর্তি! ছুঁচোর গায়ে মাখিয়েছে চামেলির তেল। কীরকম চামেলি? বাদল শেষে করুণ হেসে, যেন চামেলি কলিয়া!)।
পাঠক ভাবছেন, আমি রগড় দেখে, the uter absurdity of it ভূতের মুখে রামনাম শুনে বে-এক্তেয়ার হয়ে উচ্ছ্বসিত গঞ্জিকা বিলাস করছি?
আদৌ না। আর করলেও আমি আছি সত্যঙ্গে, ইন গুড কামপনি!
মোপাসাঁ মোকদ্দমার সাতাশ বছর পরে মসকরা করে বলেন, সরকারি পক্ষের উকিল যেভাবে ফ্লোবেরকে আক্রমণ করে বজ্রনির্ঘোষ বক্তিমে ঝাড়েন, একমাত্র সেই কারণেই তাঁর নাম মার্কামারা (marque) হয়ে থাকবে। কিন্তু প্রশ্ন, উকিল মসিয়োটি মোকদ্দমা আরম্ভের প্রাক্কালে তার নাম Pinard-টি– বদলালেন না কেন।(৪)
পিনার একরকম মদ। মোপাসাঁর বক্তব্য : বক্তিমে ঝাড়বি ঝাড়। হামলা করবি, কর। কিন্তু দোহাই ধর্মের, সাদা চোখে কর। পিনার–হুঃ ড়ি এলেন শ্লীলতা বাঁচাতে। এ যে দুঃশাসন এল নুলিয়াকে জোব্ব পরাতে।
এর পরও মোপাসাঁ আরেকখানা সরসে মাল ছেড়েছেন। কিন্তু হায়, সেটা তুলে দিলে লালবাজার চোখ লাল করেই ক্লান্ত হবে না!! দে উইল বি আফটার মাই রেড় ব্লাড!!!
———–
১. উচ্চারণ ফ্লো, তার পর ব্যার। ফ্লোব্যার লিখতে সাধারণ বাঙালি ফ্লোববার পড়ে বসতে পারে; সেটা হবে ভুল। ওইটে বাঁচাবার জন্য পূর্বসূরিগণ লিখতেন ফ্রোবেয়ার বা ফ্লোবের।
২. এদেশের উপন্যাসে প্রায়ই পড়ি, বিলিতি বড়সাহেব বা বিলেতফের্তা ন-সিকে এটিকেট-দুরস্ত সাহেব জুতো মস্ মস্ করে চলে গেলেন। জুতোজোড়া মস্ মস্ করলে এদেশের ট্যাশসায়েবও সেটা ভেজাছালার উপর রাতভর পেতে রাখে। সামান্যতম মস্ করলেও বন্ধুজন মস্করা করে বলে, দাম দাওনি বুঝি! বেচারি যে চিৎকার করে করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
৩. প্রবন্ধ দুটি বেরোয় মোপাসার চিঠি-চাপাটির (করেদাস) সঙ্গে সঙ্গে পুস্তকাকারে। এ পুস্তকে পাঠক পাবেন মোপাসাঁর অন্যান্য রচনা-সংগ্রহ। গল্পলেখক মোপাসাঁর খ্যাতি ব্যাল ল্যারিসৃৎ (রম্যরচনা তথা প্রবন্ধ-লেখক) মোপাসাকে এমনই ম্লান করে দিয়েছে যে, ফ্রান্সের বাইরে কেউ মোপাসার এসব লেখার সন্ধান বড় একটা করে না। এ পুস্তকে পাঠক পাবেন, বালজাক, জোলা, তুর্গেনিফ (একাধিক), সুইনবার্ন এবং অন্যান্য সম্বন্ধে প্রামাণিক প্রবন্ধ। এবং সবচেয়ে কৌতূহল উদ্দীপক পাঠক এতে পাবেন, মোপাস কোন আকস্মিক যোগাযোগের ফলে কথাসাহিত্যে প্রবেশ করেন। জোলার গ্রামের বাড়িতে একদিন গল্প বলার আর্ট, এবং সে আর্টের রাজা তুর্গেনিফ ও মেরিমে (চারু বাঁড়ুয্যে এর বই কলব আগুনের ফুলকি নাম দিয়ে প্রায় ৪৫ বছর হল অনুবাদ করেন) সম্বন্ধে কথা উঠলে জোলা প্রস্তাব করেন, সে মজলিশের সবাইকে একটি একটি করে গল্প বলতে হবে। গল্প বলেন জোলা, হোসমাস সেআর, এনিক এবং সবচেয়ে বড় কথা মোপাস স্বয়ং। সেই তাঁর প্রথম গল্প। সেটি পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয় অন্যান্য গল্প-লেখকদের রচনাবলি সংগ্রহের সঙ্গে। যেহেতু জোলার বাড়ি ঘেঁদাতে গল্পগুলো বলা হয়, চয়নিকার নাম হয় মোর সোয়ারে। সঙ্গে সঙ্গে রাতারাতি মোপাস ফ্রাসে বিখ্যাত হয়ে যান। ফ্লোবের তখনও বেঁচে। আন্তরিক অভিনন্দন ও অকুণ্ঠ প্রশংসা জানালেন তরুণ লেখককে। ভাবতে আশ্চর্য লাগে, জোলার চাপে না পড়লে কী হত! কারণ এর পূর্বে মোপাসা নিজেই জানতেন না, কথাসাহিত্যে তিনি কী অভূতপূর্ব সৃজনীশক্তি নিয়ে জনুগ্রহণ করেছিলেন। মোপাসার চিঠি-চাপাটি ও প্রবন্ধাবলির পরিচয় আমি অন্যত্র অতি সংক্ষেপে দিয়েছি। এ বাবদে দুটি সংকলন আছে এবং যেহেতু এ দুটির ইংরেজি অনুবাদ আমার চোখে পড়েনি, তাই পুনরুল্লেখ প্রয়োজন বোধ করি :
1. Rene Dumesnil, chroniques, Etudes, Correspondance de Guy de Maupassant, publiees pour la premiere fois avec de nombreux documents inedits, Gruend, Paris 1938.
2. Artine Artinian & Edouard Maynial, Correspondance inedite de Guy de Maupassant Wapler, Paris, 1951.
৪. ফ্লোবেরের মৃত্যুর পর জর্জ সাড় (George Sand)-কে লিখিত তার পত্রাবলির ভূমিকারূপে মোপাসাঁ একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লেখেন, উদ্ধৃতিটি সেই প্রবন্ধ থেকে। সাড়, সড, সঁদ– এ তিনটেই শাস্ত্রসম্মত। কিন্তু দিল্লিবাসীর সদম্ভ প্রদত্ত ফতোয়া যে ইটি স্যান্ড়– কোথাও নেই। সাদামাটা a হরফটির উচ্চারণ একমাত্র ইংরেজি ছাড়া কোনও ভাষাতেই অ্যা হয় না। অবশ্য ai, au, ae বা a-র উপর দুটি ফুটকি থাকলে (উমলাউট) ভিন্ন কথা।
রোদন-প্রাচীর– ক্লাগে-মাত্তার
প্রাচীরটা যে প্রাচীন সেটা দেখামাত্রই বোঝা যায়। কত প্রাচীন, সেটা অবশ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ঐতিহাসিক গবেষণা না করে বলতে যাওয়াটা অবিবেচকের কর্ম হবে। তবে এ নগরে যারা বাস করে তারা ছেলেবেলা থেকেই চতুর্দিকের এতসব প্রাচীন দিনের ভগ্নাবশেষ দেখে আসছে যে তাদের চোখ যেন বসে গেছে; আপন অজান্তেই অবচেতন মন জরাজীর্ণ পাষাণস্তূপের একটার সঙ্গে আরেকটা তুলনা করে করে যেন প্রাচীনত্ব নির্ণয়ের কতগুলো সাদামাটা কাঁচা-পাকা সূত্র নির্ণয় করে ফেলে। এমনকি যে বিদেশি প্রাচীন ভগ্নস্তূপ অতি অল্পই দেখেছে– যেমন ধরুন মামুলি মারকিন– সে পর্যন্ত এখানে কিছুদিন থাকার পর এটা-ওটার প্রাচীনত্ব সম্বন্ধে বেশকিছুটা ওয়াকিফহাল হয়ে যায় অবশ্য যদি গাইয়া মারকিনের মতো চোখে ফেটা কানে তুলো মেরে টুরিজম কর্ম না করে।
