(বক্তৃতা শেষ করে কোনও কোনও সদস্য ভবিষ্যতে তার বক্তৃতার কী ভাষ্য হবে না হবে সে বাবদে তার অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার দাবি জানান। পক্ষান্তরে বক্তব্য স্পষ্ট হ্যাঁ, না বা নিতান্ত দ্ব্যর্থহীন হলে সে অধিকার যে রাখছেন না, সেকথাও বলে দেন। এটার প্রয়োজন এই কারণে যে কৌনসিলের বাহান্ন রঙের নানান চিড়িয়া নানান বুলি কপচান। অনুবাদ নিয়ে পরে তাই নানা হক-না-হক তর্ক ওঠে)।
প্রেসিডেন্ট বললেন, আমি এখন ইজরাএলের মহামান্য ডেলিগেটকে ফ্লর ছেড়ে দিচ্ছি!
ইজরাএল ডেলিগেট : আমার মহামান্য সরকার যখন সিস-ফায়ারে স্বীকৃতি দেন তখন তিনি স্পষ্ট বলেন, আমরা সিস-ফায়ার মানব, কিন্তু শর্ত (অন কন্ডিশন) যে আরবরাও তাই মানবে! অতএব সিস-ফায়ারটা মুচুয়াল করতে হবে। ইতোমধ্যে আমার মহামান্য সরকার তাঁর সেনাবাহিনীকে সিস-ফায়ারের হুকুম দিয়েছেন।
এ উত্তরে সন্তুষ্ট হয়ে হয়তো-বা রুশ ডেলিগেট নিন্দাসূচক প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে পারেন। সে সম্ভাবনা দেখে প্রেসিডেন্ট ফের রুশকে ফ্লর দিলেন।
রুশ : (অতি সামান্য অসহিষ্ণু কণ্ঠে) মি. প্রেসিডেন্ট! এ তো বড় তাজ্জব কি বাত! এই মচুয়াল সিস-ফায়ার রহস্যটা কী? মহামান্য ইজরাএল ডেলিগেট কি বলতে চান, প্রথমে, পয়লা, সিরিয়া সিস-ফায়ার করবে, তবে ইজরাএল অস্ত্রসংবরণ করবেন? তদুপরি, মি. প্রেসিডেন্ট, চুয়াল শব্দটাই আমাদের অনুশাসনে নেই। এবং আসল তত্ত্ব, ইজরাএলই আক্রমণ করেছে প্রথম। সিস-ফায়ার করতে হবে তাকেই প্রথম। আচমকা ওই মুচুয়াল শব্দ আমদানি করে ইজরাএল কথার মারপ্যাঁচ (কজিস্টরি) আরম্ভ করে মূল সত্য এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন? (তার পর অতি সামান্য ব্যঙ্গের সুরে– লেখক) এর পর বুঝি সফিরি আরম্ভ হবে! (কথার প্যাঁচে সত্য গোপন ও মিথ্যা ভাষণের ভদ্র নাম সফিরি–রুশ সদস্য ফেদেরেকো কব্জিস্টুরি ও সফিস্টুরি দুটো শব্দই ব্যবহার করেছিলেন যৎসামান্য ব্যঙ্গের সুরে কারণ ইজরাএল সদস্য যে সত্যি সত্যিই পাঁকাল মাছের গা মোচড়ানো আরম্ভ করে দিয়েছেন সেটা ততক্ষণ শক্ৰমিত্র সকলের কাছেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে– লেখক)। মি. প্রেসিডেন্ট! আমি আদৌ অবিশ্বাস করছিনে যে, ইজরাএল সরকার তার সেনাবাহিনীকে সিস-ফায়ারের হুকুম দিয়েছেন, কিন্তু মহামান্য ইজরাএল সদস্য বলুন, তারা সেটা মেনে নিয়েছে কি না, তিনি বলুন, তারা সিরিয়ায় ক্রমাগত আরও অনুপ্রবেশ করছে কি না? থ্যাঙ্কু মি. প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট : আমি মহামান্য এজরাএলের ডেলিগেটকে ফ্লর দিচ্ছি।
এর পর কিছুক্ষণ চুপচাপ। তার পর শোনা গেল ফের প্রেসিডেন্টের কণ্ঠস্বর : আমি মহামান্য বুলগেরিয়ার ডেলিগেটকে ফ্লর দিচ্ছি। স্পষ্ট বোঝা গেল মহামান্য ইজরাএল ফ্লর গ্রহণ করলেন না। পোটকলানুযায়ী প্রেসিডেন্ট তাঁকে হুকুম দিতে পারেন না।
বুলগেরিয়া (ঈষৎ উত্তেজিত কণ্ঠে বস্তুত একমাত্র ইনিই কিঞ্চিৎ উত্তেজনা দেখান যদিও সর্বদ্রতা বজায় রেখে। ইজরাএল কথা বলেছে স্বভাবতই বিজয়ীর গর্বিত কণ্ঠে, সিরিয়া করুণ ফরিয়াদভরা সুরে আর ইজরাএলের জয়ে খুশিতে ডগমগ মার্কিন তথা তার ফেউ ইংরেজ করেছে হে-হে-হে-হে) : মি. প্রেসিডেন্ট! ইজরাএল উত্তর দিচ্ছেন না কেন? আমি শুধু জানতে চাই, ইজরাইলি বাহিনী এখন কোথায়? সিরিয়াতে? হ্যা কি না তিনি স্পষ্ট বলুন। তিনি যদি কথা বলেন তবে আমাদের যা বলার বলব, তিনি যদি না বলেন তবে আমরা ভেবে নিয়ে জেনে যাব। (ডিলেমাটি সুন্দর If Israel speaks, we shall speak; if Israel does not speak we shall know,- 977)
প্রেসিডেন্ট পুনরায় ইজরাএলকে ফ্লর দিলেন। খানিকক্ষণ চুপচাপ।
প্রেসিডেন্টের গলা : আমি মালির মহামান্য ডেলিগেটকে ক্ষুর দিচ্ছি।
এর থেকে স্পষ্ট বোঝা গেল, ইজরাএল ফ্লর গ্রহণ করেননি, করতে চান না। এর পর বোধহয় কর্মসূচিতে মালি রাষ্ট্রের নাম ছিল।
মালি : মি. প্রেসিডেন্ট! আমরা সবাই এখানকার সদস্য। এক সদস্য যদি অন্য সদস্যের কাছে কিছু জানতে চান তবে আপনি তাকে সেটা শুধোচ্ছেন না কোন বিধি অনুসারে? থ্যাঙ্কু! (বা ওই ধরনের)
প্রেসিডেন্ট; আমি সম্মানিত মালি সদস্যের কাছে জানতে চাই, আমি যে সম্মানিত ইজরাএলি সদস্যকে সম্মানিত রুশের প্রশ্ন জিগ্যেস করব তা কোন বিধি অনুযায়ী? মালি কোনও উত্তর দিতে চান কি না ঠাহর হল না। কারণ ইতোমধ্যে রুশ সদস্য ফ্লর চাইলেন। প্রেসিডেন্ট সসম্মানে তাই দিলেন।
রুশ : মি. প্রেসিডেন্ট! সভার কাজ সুষ্ঠুরূপে চালাবার জন্য আমরা ওয়ার্কিং এরেঞ্জমেন্ট মেনে নিয়ে থাকি। সেই অনুযায়ী যে কোনও সদস্য যে কোনও খবর যে কোনও সদস্যের কাছে চাইতে পারেন। এই তো আমরা সভার সদস্য সেক্রেটারি জেনারেল উ থান্তকে অনুরোধ করলুম, সিরিয়া থেকে তাজা খবর আনিয়ে দিতে। তিনি দিলেন। ইত্যাদি ইত্যাদি।
তৎসত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট সম্মানিত ইজরাএলি সদস্যকে প্রশ্নটি শুধোলেন না। তিনি কিন্তু একাধিকবার তাঁকে সসম্মানে ফ্লুর ছেড়ে দিলেন। ইজরাএল ফ্লর গ্রহণ করলেন না।
তবেই বুঝুন, সম্পাদক মশাই, প্রোটকলের ঠেলা কী চিজ!
কিন্তু চিন্তা করলে দেখতে পাবেন মি. প্রেসিডেন্ট থুড়ি সম্পাদক মশাই (ক্ষণতরে ভাবছিলুম, আমি বুঝি সেকুরিটি কৌনসিলে পৌঁছে গিয়েছি!) এটা কিছু নতুন তত্ত্ব নয়। আমি প্রাচীনপন্থী পদি পিসির অপজিট পুংলিঙ্গ। যা নাই ভারতে! খুলে বলি।
