হাসছেন? হাসবার জিনিস মোটেই নয়। চাকরি যেতে পারে। রুটি মারা যেতে পারে।
নিন্ হিটলারের যে কোনও প্রামাণিক জীবনী। পড়ুন ঘটনাটা। হিটলার গেছেন ইতালি– স্টেট ভিজিটে। সঙ্গে গেছেন ফরেন আপিসের শ্যাফ দ্য প্রোটকল। শ্যাটি সাতিশয় খানদানি ঘরের ছেলে। পোষা বেড়ালটাকে আগে দুধ দিতে হয়, না কুকুরটাকে হাড়ি– সে প্রোটকল তিনি সাত বছর বয়সেই পারিবারিক কাসূলে যুক্তিতর্কসহ সপ্রমাণ করে দিয়েছিলেন।
ইতালির রাজা সর্বান্তঃকরণে ঘেন্না করতেন হিটলারকে অবশ্য অনুভূতিটি ছিল উভয়পক্ষীয়, সাতিশয় বরাবরেষু! রাজা পাতলেন ফাঁদ, হিটলারকে অপদস্থ করার জন্য। শেষ মুহূর্তে কী একটা হয়ে গেল রদবদল। যার ফলে হিটলার উপস্থিত হলেন কী এক পরবে সিভিল ড্রেস পরে, যেখানে আর সবাই মুনিফর্মে! কিংবা উল্টোটা।
বিশ্বসংসার জানে হিটলার ছিলেন অত্যন্ত বদ-মেজাজি লোক যদিও একথাও সত্য যে মিষ্টি ব্যবহার করতে চাইলে তিনি পারমিট-প্রার্থী মেবারবাসীকে তিন লেনথে হারাতে পারতেন– দুষ্টলোকে বলে, তিনি তখন মেঝেতে শুয়ে পড়ে কারপেট চিবুতে আরম্ভ করতেন– তাকে নাকি বলা হত The Carpet-Eater!
প্রোটকল শ্যাফ বরখাস্ত হয়ে প্রথমতম ট্রেনে নাক বরাবর আপন গায়ে। হিটলার তার মুখদর্শন পর্যন্ত করেননি।
অবশ্য এর সরল দিক নিয়েও একাধিক কাহিনী আছে। বাল্যকালে হিটলার যে অস্ট্রিয়ার নগণ্য প্রজা ছিলেন সেই বিরাট অস্ট্রিয়া হাঙ্গেরির মহিমান্বিত সম্রাট ছিলেন কাইজার ফ্রানস যোজেফ। তাঁর ভাব-ভালোবাসা ছিল সুন্দরী অভিনেত্রী শ্রীমতী শ্রাটের সঙ্গে। তিনি প্রায়ই কাইজারকে বলতেন, আপনি স্টেজের উপর গিরাডির রসিকতা শুনে হাসতে হাসতে কাত হয়ে পড়েন। স্টেজে আবার রসিকতা করার সুযোগ পান গিরার্ডি কতটুকু? পাবৃ-এ, বার-এ, চায়ের মজলিশে তিনি যা একটার পর একটা ছেড়ে যান তার তুলনায় কেউ কখনও করতে পেরেছেন বলে কোনও কিংবদন্তী পর্যন্ত এই বিরাট ভিয়েনা শহরে নেই। তাই গিরার্ডিকে কফি পানে নিমন্ত্রণ করা হল। কাইজার তো এলেন বিরাট প্রত্যাশা নিয়ে। এদিকে কী আশ্চর্য! গিরাডি-র কোটের বোতাম ওপরবাগে উঠতে উঠতে যেন তার ঠোঁটদুটোকেও বোমিত করে দিয়েছে। নিজের থেকে কথা কন না আদৌ, প্রশ্ন শুধলে মহা সম্ভ্রমে যেটুকু বলেন সেটি তার গোঁফের ছাঁকনিতেই আটকা পড়ে যায়।
কফি পান খতম হতে চলেছে। শেষটায় থাকতে না পেরে হতাশ কাইজার ক্ষুণ্ণকণ্ঠে বললেন, মাই ভেরি ডিয়ার গিরার্ডি! আপনার মজলিশ-জমানো কথার ফুলঝুরি সম্বন্ধে আমি কত মুখে কতই না বেহদ্দ তারিফ শুনেছি– আর এ কী?
রুমাল দিয়ে মাথার ঘাম মুছতে মুছতে এক্কেবারে গ্রাম্য ভাষায় গিরার্ডি বললেন, হুজুর জাঁহাপনা! অস্ট্রিয়া হাঙ্গেরির কাইজারের লগে অ্যাগুবার আপনে কফি খাইতে বইয়া দ্যাহেন না!
বেচারি গিরার্ডি প্রোটকলকে কনস্লট করে কফি খেতে এসেছিলেন!
তার শেষ বাক্যটি ঠিক প্রোটকলসম্মত কি না সে নিয়েও আমার মনে ধোকা আছে।
একদম হালের ঘটনায় চলে আসি।
এই গত ৯/১০ জুন তারিখে আরব রাষ্ট্রগুলো এবং ইজরাএল সকলেই যখন অস্ত্রসম্বরণ (সিস ফায়ার) করতে রাজি হয়ে গেছেন তখন রাশা ইউনাইটেড নেশনের সিকুরিটি কৌনসিলের বিশেষ জরুরি সভা ডাকার জন্য প্রস্তাব পাঠাল; তার অভিযোগ, ইজরাএল সিস ফায়ার করেনি ক্রমাগত সিরিয়ার ভিতর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সিটিং বসল সকাল নটা-দশটায়। এদেশে তখন রাত বারোটা। মিটিঙে বসানো মাইকের মারফত তার প্রত্যেকটি বাক্য ভইস অব আমেরিকার নিউজ রুমে আসছে। সেইটে ফের বেতারিত হয়ে রিলের পর রিলের মারফত ভারতে পৌঁছচ্ছে। অধমের অন্দ্রিা ব্যাধি আছে।
এই সিকুরিটি কৌনসিলের কর্মপদ্ধতি অতিশয় ছিমছাম। যে যার বক্তব্য বলে যান সাধারণত অতিশয় শান্ত-কণ্ঠে। কেউ কাউকে বাধা দিয়ে আপন কথা বলতে চায় না– অতি দৈবেসৈবে কেউ যদি কখনও করে তবে বার বার মাফ চেয়ে, ও বাধাপ্রাপ্ত বক্তাও সঙ্গে সঙ্গে থেমে যান। চেল্লাচেল্লি হৈ-হুঁল্লোড়ের কথাই ওঠে না।
প্রেসিডেন্ট গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, আমি এখন সোভিয়েত রাশিয়ার মহামান্য (ডিসটিংগুইসট শব্দটি প্রতিবার প্রতি মেম্বারের উল্লেখ করবার সময় ব্যবহার করাটা প্রোটকলানুযায়ী নিরঙ্কুশ বাধ্যতামূলক) ডেলিগেটকে ঘরের ফ্লর ছেড়ে দিচ্ছি। অর্থাৎ তখন ঘরের ফ্লর মেঝেটাতে দাঁড়িয়ে কথা বলার হক সোভিয়েত ডেলিগেটের। অবশ্য তিনি ফ্লর গ্রহণ না-ও করতে পারেন।
মহামান্য রাশান ডেলিগেট দাঁড়িয়ে বললেন, স্পাসিব– কিংবা ব্লাগোদারিয়ু ভাসও বলে থাকতে পারেন। অর্থ একই; থ্যাঙ্কু। অর্থাৎ তিনি ফ্লর গ্রহণ করলেন।
তার পর এখন যে বিবৃতি নিবেদন করছি সেটা স্মৃতিশক্তির ওপর নির্ভর করে। সন্দেহপিচেশ পাঠক আমার অত্যল্পই। তাঁরাও ওই সময়কার খবরের কাগজ পড়ে চে-অপ্ করে নিতে পারবেন, তাদের হাত দিয়ে আমি দা-কাটা তামাক অর্থাৎ সাতিশয় স্কুল ভুল– খেয়েছি কি না। কিন্তু আমি অতি সংক্ষেপে সারছি।
রুশ : থ্যাঙ্কস, মি. প্রেসিডেন্ট! আমি বলতে চাই, এই সম্মানিত কৌনসিল আরব এবং ইজরাএল উভয়কে আদেশ দিয়েছেন সিস-ফায়ার মেনে নিতে। সিরিয়ার মহামান্য ডেলিগেট বলেছেন, সিস-ফায়ার মেনে নেওয়া সত্ত্বেও ইজরাএল সিরিয়ায় অনুপ্রবেশ করে, ট্যাঙ্ক সাঁজোয়া গাড়িসহ ক্রমাগত রাজধানী দিমিশকের (ডিমেকাস্, দামা, ডামাস্কুস) দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, বোমারু বিমান অনবরত রাজধানীর উপর বোমাবর্ষণ করছে। আমি প্রস্তাব করি, কৌনসিল সর্বসম্মতিক্রমে ইজরায়েলের এ আচরণের নিন্দা করুক। ধন্যবাদ, মি. প্রেসিডেন্ট।
