তখন লাগবে ধুন্ধুমার, ইংরেজিতে যাকে বলে দ্য ফ্যাট উইল বি ইন দ্য ফায়ার। উপরের প্যারায় আমি পাঁচ রকমের দৃষ্টিবিন্দু পরিবেশন করেছিলুম– এবারে পারলিমেনটে জুটবে এসে আরও পাঁচশো!
আমার ঘাড়ে কী ৫০৬টি মাথা যে আমি রা-টি কাড়ব।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়।
পারলিমেনটে বিস্তর বেদরদ ভোলাইয়ের পর ইস্ত্রি হয়ে বেরুবেন বিলটি তখন আইনরূপে।
আমরা শঙ্খ বাজাব, হুলুধ্বনি দেব।
কিন্তু হায়, এ পোড়ার সংসারে শান্তি কোথায়? এই নয়া তুলতুলে তুলোয় ভরা তাকিয়া-পারা আইনটার ওপর ভর করে যে দুদণ্ড জিরিয়ে নেবেন তারই-বা মোকাফুরসত কোথায়?
আবার এক পাষণ্ড হয়তো হয়তো কেন, নিশ্চয়ই সে আইনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টে দাঁড়াবে।
এবং এবারও যদি মহামান্য বিচারপতি…?
তা হলে শুরুসে, ফিসে, সেই ঔড্র পদ্ধতিতে :
ক-রে কমললোচন শ্রীহরি,
খ-রে খগ-আসনে মুরারি।
গ-রে…!
————
১. কাগজে রিপোর্ট বেরিয়েছে : Giving their reasons the minority said that there was no compulsion of law that a passport must be obtained before leaving India. আমারই মতো জনৈক সম্পাদক ব্যাপারটা বুঝতে পারেননি এবং ওই নিয়ে সম্পাদকীয় লিখেছেন।
পূর্ণপ্রেম
ভিয়েনাতে সর্বপ্রচেষ্টায় পরিপূর্ণ নিষ্ফলতা অর্জন করে হিটলার দেশত্যাগ করে চলে গেলেন জর্মনির বাভারিয়া প্রদেশের প্রধান নগর মুনিকে। সেখানেও তিনি বেকার, এমন সময় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ লেগে গেলে তিনি স্বেচ্ছায় জর্মন সৈন্যবাহিনীতে জওয়ান রূপে প্রবেশ করলেন। যুদ্ধশেষে মনিকে ফিরে এসে জওয়ানদের কী যেন এক কালচারাল বা ওইজাতীয় অস্পষ্ট কী এক ট্রেনিং দেবার জন্য নিযুক্ত হলেন। এই সময়ে তিনি আবিষ্কার করলেন, সরস্বতী তাঁর রসনায় বিরাজ করেন তাকে একদিন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বক্তারূপে জনসমাজের অভিনন্দন গ্রহণ করাবার জন্য। এই সময় মুনিক শহর রাজনৈতিক ঝঞ্ঝাবাত্যায় বিক্ষুব্ধ। অসংখ্য রাজনৈতিক দল এবং রাস্তায় রাস্তায় গণবিক্ষোভের কোলাহল। হিটলার এরই একটার সদস্য হলেন। সে দলের সভ্যসংখ্যা দশ হয় কি না হয়। ১৯১৯ থেকেই তিনি এই দল (National Sozialictiche Deutsche Arbeitspartei এরই প্রথম শব্দের Na এবং দ্বিতীয় শব্দের Zi নিয়ে বিপক্ষ না নিরপেক্ষ দলের অজানা কে একজন Nazi–নাৎসি নামকরণ করে) গড়ে তুলতে আরম্ভ করলেন, অচিরে সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব লাভ করলেন, এবং বাভারিয়া প্রদেশের সর্বাপেক্ষা মারাত্মক কমুনিস্টবৈরী রূপে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দুসরা জঙ্গিলাট, পয়লা নম্বর হিন্ডেনবুর্গের (ইনি পরবর্তী যুগে জর্মনির প্রেসিডেন্ট হন) সহকর্মী জেনারেল এরিষ লুডেনডর্ফের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিন-চার বছর যেতে না যেতে পার্টির সভ্যসংখ্যা আশাতীতরূপে বৃদ্ধি পাওয়ায় হিটলারের এতখানি শক্তিসঞ্চয় হল যে তিনি সবলে বাভারিয়া প্রদেশের তদানীন্তন রাষ্ট্রপ্রমুখদের অপসারণ করে প্রদেশের রাজ্যভার গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন–এই বিশ্বাস তার দৃঢ় হল। এই উদ্দেশ্যে লুডেনডর্ফকে পুরোভাগে নিয়ে এই ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে তিনি সদলবলে প্রধান রাজকার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হলেন। রক্ষীরা গুলি ছোঁড়াতে সমস্ত দল পালাল, স্বয়ং হিটলার কিঞ্চিৎ আহত হলেন (কিন্তু বন্দুকের গুলিতে নয়), কিছুদিন পর, রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে পাঁচ বছর জেল হল। কিন্তু ইতোমধ্যে এবং বিশেষ করে কারাবাসের সময় তিনি মুনিক তথা বাভারিয়া প্রদেশের সর্বত্র এমনই জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন, (এবং তথাকার সরকার ইতোমধ্যে কম্যুনিস্টদের শশীকলার ন্যায় বৃদ্ধিপ্রাপ্তি দেখে, রীতিমতো শঙ্কিত হয়ে কণ্টক দ্বারা কন্টক উৎপাটনার্থে) হিটলারকে অল্প কিছুদিন যেতে না যেতেই, অর্থাৎ ১৯২৩ সালেরই ডিসেম্বর মাসে এবং শুভেচ্ছার প্রতীক রূপে বড়দিনের অল্প কয়েকদিন পূর্বে কারামুক্ত করে দিলেন।
হিটলার নবোদ্যমে ইতোমধ্যে নেতার অভাবে দ্বিখণ্ডিত পার্টিকে দিনে দিনে শক্তিশালী করে তুলতে লাগলেন।
রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে হিটলার সম্বন্ধে কোনও কিছু বললে সেটা যথেষ্ট বোধগম্য হয় না বলে সংক্ষেপে কয়েকটি বছরের বর্ণনা দেওয়া হল।
এখন প্রশ্ন, ইতোমধ্যে হিটলার আর কাউকে প্রেম নিবেদন করেছিলেন কি না। ভিয়েনায় এসে হিটলার কিছুদিন তাঁর বন্ধুর মারফতে উৎকণ্ঠিত চিত্তে তাঁর প্রিয়ার (লেখক ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন স্তেফানি) খবর নিতেন। তার পর সেই বন্ধু, গুস্তাফও ভিয়েনায় এসে একই কামরায় বাসা বাঁধলেন। স্তেফানি হিটলারের তুলনায় বহু উচ্চবংশের কন্যা। পাত্র হিসেবে হিটলারের চেয়ে অযোগ্যতর পাত্র তখন বোধহয় লিনৎস শহর খুঁজলেও দ্বিতীয়টি পাওয়া যেত না। ম্যাট্রিক ক্লাসে ওঠার পূর্বেই সে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে, জাতে প্রায় মজুর শ্রেণির, অর্থসম্বল প্রায় ধনুগুণ ভক্ষণের অবস্থা। হিটলার ভিয়েনা থাকাকালীন স্তেফানির বিয়ে হল সুযোগ্য বরের সঙ্গে। হিটলার সে খবর কখন পেয়েছিলেন– আদৌ পেয়েছিলেন কি না, কারণ বন্ধু গুস্তাফ তাঁর সঙ্গে তখন ভিয়েনাতে এবং ওদের দু-জনার পরিবারের কেউই স্তেফানিকে চিনতেন না– এ সম্বন্ধে সর্ব ঐতিহাসিকই নীরব।
কারণ তখন হিটলার বিরাট ভিয়েনা শহরের ঘূর্ণাবর্তে প্রায় বিলীন হবার উপক্রম।
