কাজ হবেতো? আমি তোমাকে কোনো বিপদে ফেলতে চাই না।’
‘বাদ দাও। এখানে খানিকটা উত্তেজনা চেখে দেখা যাবে। কিন্তু ভুলেও আর সব কুর কথা ভোলা যাবে না। তারা একেবারে চোখ কান বাধা অবস্থায় আছে।
“থ্যাঙ্কস, দিম। তোমার কাজের প্রশংসা করছি, সত্যি সত্যি। আমাকে গোলিয়াথে ফিরিয়ে আনতে তোমার কোনো সমস্যা হবে না।’
.
সন্দেহ দূর করতে পারল না পোল। ফ্যালকনকে ঠিকঠাক করার সময় ক্রুরা একটু আধটু গন্ধ পায়। চেপে রাখে পোল আর চ্যান্ডলার।
হাজার হলেও, হাজার বছর আগে সে আর ডেভ বোম্যান যেমন একেবারে অজানার উদ্দেশ্যে পাল তুলে দিয়েছিল তেমনটা হবে না এবার। শাটলের মেমোরিতে ইউরোপার হাই রেজুলেশন ম্যাপ আছে। মাত্র কয়েক মিটারের ডিটেইলও পাওয়া যাবে সেখানে। সে জানে কোথায় যেতে হবে। আশা একটাই, হাজার বছরের কোয়ারেন্টাইন যেন ভাঙা যায়।
২৪. এস্কেপ
‘ম্যানুয়াল কন্ট্রোল, প্লিজ।‘
‘তুমি নিশ্চিত তো, ফ্র্যাঙ্ক?’
‘পুরোপুরি, ফ্যালকন… ধন্যবাদ।‘
অযৌক্তিক হলেও সত্যি মানবজাতির বেশিরভাগ মানুষ তাদের তৈরি কৃত্রিম যান্ত্রিক সন্তানদের সাথে নিজের অজান্তে দ্র ব্যবহার করে। সাইকোলজির বড় বড় বইগুলো (কী করে আপনার কম্পিউটারের অনুভূতিতে আঘাত দেয়া থেকে বিরত থাকবেন; আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স- রিয়েল ইরিটেশন টাইপের নাম দেয়া হয় এসব বইয়ের) এখন লেখা হয় মানুষ-যন্ত্র যোগাযোগের ব্যাপারে। আগেই ধরে নেয়া হয়েছিল, রোবটের সাথে খারাপ ব্যবহার যা ফলই বয়ে আনুক না কেন, ব্যাপারটাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
অর্বিটে চলে এসেছে ফ্যালকন। ফ্লাইট প্ল্যান অনুযায়ী, ইউরোপার দু হাজার কিলোমিটার উপরে। সামনের আকাশ জুড়ে আছে দানবীয় চাঁদের চিকণ গড়ন। সব দেখা যায়, স্পষ্ট। পরিকল্পনার জায়গাটা দেখা সরাসরি। কোনো বাড়তি জিনিসের সহায়তা নিতে হবে না। গ্যালিলি সাগরের পাড় এখনো বরফ ছোঁয়া। এখানে নামা প্রথম স্পেসক্র্যাফটের কঙ্কাল দেখা যাচ্ছে। চৈনিক যানটার সব ধাতু তুলে নিয়েছে তারা। ইউরোপানরা। কঙ্কালটা পড়ে আছে নিঃসাড়। এর চারপাশে গড়ে ওঠে সৌর জগতের প্রথম এ্যালিয়েন নগরী। জিয়াংভিল।
পোল প্রথমে নেমে আসবে সমুদ্রের উপর। তারপর ধীরে ধীরে উড়ে যাবে জিয়াংভিলের দিকে। কারো কাছে যেন এগ্রিসিভ না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কাজটা যে খুব বেশি ভাল হবে তা না। কিন্তু এর চেয়ে ভাল কোনো উপায় ভেবে বের করতে পারেনি সে।
তারপর, হাজারখানেক কিলোমিটার নামার পরই, বাধা এল। যেমন আশা করেছিল, তেমনি।
‘দিস ইজ গ্যানিমিড কন্ট্রোল, কলিং ফ্যালকন। আপনি ফ্লাইট প্ল্যানের বাইরে চলে গেছেন। কী হচ্ছে জানিয়ে এ্যাডভাইস পাঠান দ্রুত।
এমন জরুরি ভঙ্গিতে আসা মেসেজ এড়িয়ে যাওয়া যায় না। কিন্তু পোল এড়িয়ে গেল।
ঠিক ত্রিশ সেকেন্ড পর, ইউরোপার একশ কিলোমিটারে আসার সাথে সাথে আবার সেই মেসেজ। অবহেলা করল পোল, কি জবাব দিল ফ্যালকন।
তুমি নিশ্চিত তো, ফ্র্যাঙ্ক’ শাটল প্রশ্ন তুলল। সে জানে না ঠিক শুনেছে কিনা, ফ্যালকনের কঠে যেন উদ্বেগের ছোঁয়া।
‘একেবারে নিশ্চিত, ফ্যালকন। আমি ভাল করেই জানি কী করছি।’
কথাটা সত্যি নয়। সবটুকু সে জানে না।
কন্ট্রোল বোর্ডের পাশে ইন্ডিকেটর লাইট জ্বলছে। স্বস্তির হাসি পোলের মুখে। সব চলছে পরিকনামাফিক।
দিস ইজ গ্যানিমিড কন্ট্রোল! আমাকে রিসিভ করছেন, ফ্যালকন? আপনি ম্যানুয়াল ওভাররাইডে অপারেট করছেন, আপনাকে চালাতে পারছি না আমি। হচ্ছেটা কী? এখনো নেমে যাচ্ছেন ইউরোপার দিকে। মেসেজ প্রাপ্তি স্বীকার করুত, প্লিজ।
মহিলার কষ্ঠ চিনতে পারছে পোল। আনুবিস আসার পর পর মেয়রের দেয়া এক সংবর্ধনায় তার সাথে দেখা হয়েছিল। মহিলা নিশ্চয়ই অথৈ সাগরে পড়েছে।
হঠাৎ সে বুঝতে পারল, তার উদ্বেগ দূর করা যায় সহজে। চেষ্টা করে দেখা যাক, ক্ষতি নেই কোনো কাজ হলেও হতে পারে।
‘দিস ইজ ফ্র্যাঙ্ক পোল, কলিংফ্রম ফ্যালকন, আমি ঠিক আছি পুরোপুরি ঠিক আছি। মনে হয় কন্ট্রোল নিয়ে নিয়েছে অন্য কেউ। শাটলটাকে নামিয়ে আনছে ইউরোপার বুকে। আশা করি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন। যতদূর সম্ভব মেসেজ দিয়ে যাব।
কন্ট্রোলারের সাথে মিথ্যা কথা বলছে না সে। কোনো একদিন হয়ত সৰ ব্যাখ্যা করে বলার সময় আসবে।
নিয়মিত যোগাযোগ করে গেল সে, যেন কোনো ভুল করছে না, ভুল হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে।
আবার বলছি, দিস ইজ ফ্র্যাঙ্ক পোল এ্যাবোর্ড দ্য শাটল ফ্যালকন, নেমে যাচ্ছি। ইউরোপার দিকে। মনে হয় বাইরের কোনো শক্তি আমার শাটলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। নিরাপদে ল্যান্ড হতে পারে।
‘ডেভ- আমি তোমার পুরনো শিপমেট ফ্র্যাঙ্ক। আমাকে নিয়ন্ত্রণ করা অস্তিত্ব কি তুমিই? তুমি ইউরোপায় সেটা বিশ্বাস করার কারণ আছে।
তা হয়ে থাকলে আমি তোমার সাথে যোগাযোগ করতে চাই, যেখানে, যেভাবেই থাক না কেন?
প্রথমে কয়েক মুহূর্ত আর কোনো আওয়াজ নেই। এমনকি গ্যানিমিড কন্ট্রোলও স্তব্ধ হয়ে গেছে।
অন্য দিক দিয়ে সে একটা জবাব পেয়ে যায়। এখনো গ্যালিলি সাগরে নেমে যাচ্ছে ফ্যালকন।
ইউরোপা মাত্র পঞ্চাশ কিলোমিটার নিচে। কালো লম্বা জিনিসটা, সব মনোলিথের চেয়ে বড় মনোলিথ, পড়ে আছে জিয়াংভিলের পাশেই। শুয়ে আছে।
