‘একজন অভিনেতার সাথে দেখা হয়েছিল আমার, বলেছি নাকি? এখন আমাকে দেখলে তারা ভিড়মি খেত… যাই হোক, আফ্রিকায় ফলাফলটী ভাল হয়নি। বিপর্যয়কর রেজাল্ট…’
‘তাহলে পরেরবার ভাল হোক- ইউরোপা!
হেসে ফেলল পোল।
‘খান ঠিক এ কথাটাই বলেছিল।
‘তাহলে এখন আমাদের কী করা উচিৎ বলে মনে করে সে? সবচে বড় কথা, এসবের মধ্যে তুমি এলে কোত্থেকে?
প্রথমেই-ইউরোপার বুকে কী ঘটছে সে ব্যাপারটা আমাদের বের করতে হবে। কেন ঘটছে? স্পেস থেকে নজরদারি করাই সব নয়।
‘তাহলে আর কী করতে পারি আমরা? মিড যত ভোব পাঠিয়েছে তার সবই ল্যান্ডিংয়ের আগে জ্বলে যায়।
আর গ্যালাক্সি পাঠানোর পর থেকেই যে কোনো মনুষ্যবাহী জাহাজকে ফোর্স ফিল্ডের মাধ্যমে সরিয়ে দেয়া হয়। কী সেই ফোর্স ফিল্ড, কেউ জানে না। প্রমাণ হয়ে যায়, নিচে যা-ই নিয়ন্ত্রণ করুক না কেন, সে ধ্বংস চায় না। মৃত্যু চায় না। এখানেই আসল কথা। যাই থাক না কেন, সে স্ক্যান করতে পারে, জেনে ফেলতে পারে এগিয়ে আসা কোনো স্পেসশিপে মানুষ আছে আর কোনোটায় রোবট- কোনোটা জীবনবাহী আর কোনোটা নির্জীব- সব চিনতে পারে।
‘আমার চেয়ে ভাল পারে তাহলে বলে যাও।
‘এবং, টেড মনে করে সেখানে এমন কেউ আছে যে তার মানুষ বন্ধুকে চিনতে পারবে, একজনকেই নামতে দিবে।
ক্যাপ্টেন দিমিত্রি চ্যান্ডলার একটা লম্বা, নিচু লয়ের শিষ দেয় সাথে সাথে।
‘আর তুমি এ ঝুঁকিটা নিবে স্বেচ্ছায়?
হু। হারানোর কিছু নেই।’
একটা দামি শাটল ক্র্যাফট হারাবে। যদি তুমি ঠিকমত বলতে পারকী করবে… এজন্যই তুমি ফ্যালকন চালাতে শিখছ?
‘তুমি যখন বলেই ফেললে… আইডিয়াটা আমার মাথাতেও এসেছিল।
‘ভাবতে দাও। আমি যদি রাজিও হই, নানা ঝক্কি-ঝামেলা আছে। বুঝতেই পারছ..
যদ্দূর চিনি, তুমি চাইলে পথে সেসব কাটা থাকবে না।
২২. গ্যানিমিড থেকে ভালবাসা
মিস প্রিঙ্গল- পৃথিবী থেকে আসা প্রায়োরিটি মেসেজগুলো লিস্ট কর
রেকর্ড
প্রিয় ইন্দ্রা- নাটুকেপনা করতে চাই না, কিন্তু গ্যানিমিড থেকে এটাই সম্ভবত আমার শেষ মেসেজ। তুমি এটা হাতে পেতে পেতে আমি থাকব ইউরোপার পথে।
সিদ্ধান্তটা হঠাৎ নেয়া। সব যে হয়ে যাবে তা ভাবিনি। কিন্তু আগুপিছু ভেবেছি অনেক। তোমার সন্দেহ ঠিক, পিছনে থেকে কলকাঠি নেড়েছে টেড খান… আমি আর ফিরে না এলে সে-ই সব ব্যাখ্যা করবে।
ভুল বুঝোনা, প্লিজ- আমি এটাকে কোনো অর্থেই সুইসাইড মিশন হিসাবে ধরছি না। আবার এক জীবনে এমন সুযোগ পেয়ে হাতছাড়া করতেও রাজি নই। সম্ভবত বলা উচিৎ ছিল দু জীবনে একবার সুযোগ…
গোলিয়াথের ওয়ান পারসন শাটল ফ্যালকনে চেপে বসব- আহা, স্পেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশনে যদি একবার চালিয়ে দেখাতে পারতাম! দূর্ঘটনা তেমন ঘটবে না। বড়জোর ইউরোপার কাছ থেকে ফিরিয়ে দেয়া হবে… এতেও অনেক শিক্ষা হতে পারে।
আর যদি সেই মনোলিথ- মহাপ্রাচীর সিদ্ধান্ত নেয় আমি একটা রোবট, তাহলে কপালে পুড়ে মরা ছাড়া আর কিছু নেই। এ ঝুঁকি নিজ দায়ে নিচ্ছি।
থ্যাঙ্ক ইউ ফর এভরিথিং, শুভকামনা রইল জোর জন্য। গ্যানিমিড থেকে ভালবাসা আর আশা করি, অচিরেই ইউরোপা থেকে পাবে…
স্টোর
ট্রান্সমিট
ঘ. সালফারের রাজত্ব
২৩. ফ্যালকন
‘এ মুহূর্তে গ্যানিমিড থেকে ইউরোপার দূরত্ব চার হাজার কে, ক্যাপ্টেন চ্যান্ডলার জানিয়ে দিল পোলকে, তুমি যদি গ্যাস প্যাডালে ঠিকমত চাপ দিতে পার- ফ্রেজটা শিখানোর জন্য ধন্যবাদ পৌঁছে যাবে এক ঘন্টার মধ্যে। কিন্তু আমি এতটা গতি চাই না। এত দ্রুত কিছু আসতে দেখে পুরনো বন্ধু ভড়কে গেলে সব ভেস্তে যাবে।’
মানলাম। আমাকে আরো একটু ভাবতে হবে। অত কয়েক ঘন্টা বেশি সময় নিব। এখনো আশা করি…’নিরবতায় হারিয়ে গেল পোলের কণ্ঠ।
কী আশা কর?
‘যে ডেভের সাথে কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ হবে। নামার আগেই।
‘দাওয়াত ছাড়া কোথাও যাওয়া খারাপ। সব সময় খারাপ- তা পরিচিত মানুষের বাসায় হোক আর অপরিচিত… কিছু উপহার নিয়ে গেলে কেমন হয়? আদ্যিকালের সমুদ্রচারীরা কী নিয়ে যেত নতুন নতুন এলাকায়? আয়না আর গয়না?
হাল্কা কথাবার্তা চ্যান্ডলারের মনের উদ্বেগ ঢাকতে পারছে না। পোলের জন্য উদ্বেগ, দামি যানটার জন্য উদ্বেগ।
‘এখনো ভেবে পাচ্ছি না। তুমি ফিরে এলে তো মস্ত বীর, তোমার আলোয় আমার গায়েও একটু ছাট টাট লাগবে। আর যদি ফিরে না আস? ফ্যালকন আর তোমার জীবন গেলে আমার কী হবে? কেউ এ কাহিনী কিনবে না। গ্যানিমিডের ট্রাফিক কন্ট্রোল খুব কড়া- এমনি হবার কথা, তাই না? যদি উড়তে শুরু কর, এক মাইক্রোসেকের মধ্যে- বলা ভাল মিলিসেকের মধ্যে পিছু নিবে। সময়ের আগে ফ্লাইটপ্ল্যান না করলে কোনো উপায় নেই।
তাই এখন পর্যন্ত এটুকু অফার করতে পারি।
‘তুমি ফ্যালকন নিয়ে যাচ্ছ ফাইনাল কোয়ালিফিকেশন টেস্টের জন্য সবাই জানে, এর মধ্যেই সলো করে ফেলেছ। তুমি ইউরোপার দু হাজার কিলোমিটার উপরে যাবে। এখানে কোনো আপত্তি নেই। মানুষ এসব করছে অহরহ, লোকাল অথরিটির নাকের ডগা দিয়েই।
‘পুরো ফ্লাইট টাইম পাঁচ ঘন্টার দশ মিনিট আগে-পরে। তুমি যদি ফিরে আসার সময় এদিক সেদিক কর, কারো কিছু করার নেই। অন্তত গ্যানিমিডে কেউ কিছু করতে পারবে না। অবশ্যই, আমি একটু চেঁচামেচি করব। চিৎকার করে বলব এমন অপারেশনাল সমস্যার কথা আগে ভাবিনি ইত্যাদি, ইত্যাদি। কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে কাজে দিবে।
