‘অবশ্যই নাঃ আর সব মানুষের মতো আমিও তাদের ভয় পাই, এই যা। হঠাৎ এ কথা তুললে যে?
‘ভূত না হয়ে থাকলে আমার জীবনের সবচে বিচিত্র স্বপ্ন, কোনো সন্দেহ নেই। কাল রাতে ডেভ বোম্যানের সাথে আমার কিছু বাতচিত হয়েছিল।’
পোল জানে, সময় এলে ক্যাপ্টেন চ্যান্ডলার তার কথায় মনোযোগ দিবে, হেলাফেলা করবে না। তাকে হতাশ হতে হল না।
ইন্টারেস্টিং- কিন্তু ব্যাখ্যা আছে একটা। তুমি এখন বোম্যান স্যুইটে বসবাস করছ ভায়া, ফর ডিউস সেক! তুমিইতো বললে, মনে হয় জায়গাটা ভূতুড়ে।
‘আমি নিশ্চিত- সত্যি বলতে কী- নিরানব্বইভাগ নিশ্চিত- তোমার কথাই ঠিক, আর প্রফেসর টেডের সাথে কথাবার্তার ফল এটা। আনুবিসে মাঝে মাঝে ডেভ বোম্যান দেখা দেয় একথা শুনেছ তুমি কখনো? প্রায় প্রতি শত বছরে একবার করে? যেমন হয়েছিল ডিসকভারি ঠিক করার পর সেখানে, ডক্টর ফ্রয়েডের সাথে?
কী হয়েছিল? আমি ভাসাভাসা গুজব শুনেছি। কান দিইনি কখনো।
ডক্টর খান দেয়- আমিও- আমি আসল রেকর্ডিংগুলো শুনেছি। আমার পুরনো চেয়ারটায় বসে আছে ফ্লয়েড। ডেভের মুখমন্ডলের আদল নিতে শুরু করল তার পিছনের ধূলাবালি। তখনি তাকে সেই বিখ্যাত মেসেজটা দিল। জানিয়ে দিল, ফিরে যেতে হবে।’
কিন্তু সেটাতো হাজার বছর আগের কথা।
তাতে কী এসে যায়? আমি আর খান গতকাল দেখছিলাম। জীবন নিয়ে বাজি ধরতে পারি, এতে কোনো ছল চাতুরি নেই।’
আসলে, তোমার সাথে আমিও একমত। রিপোর্টগুলোর কথাও শুনেছি…’
চ্যান্ডলারের কষ্ঠ আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে পড়ে, একটু বিব্রত মনে হয়।
অনেক আগে, এখানে, আনুবিসে আমার এক গার্লফ্রেন্ড ছিল। মেয়েটা বলে, তার দাদা দেখেছে ডেভ বোম্যানকে। খুব হেসেছিলাম তখন।’
কে জানে টেডের লিস্টে ঐ লোকটার নামও আছে কিনা! তুমি কি সেই বন্ধুর সাথে টেডের দেখা করিয়ে দিতে পারবে?
উঁ… ঠিক পারব না। অনেক বছর ধরে কোনো কথাবার্তা নেই। এতদিনে সে চাঁদে গিয়ে থাকতে পারে, থাকতে পারে মঙ্গলে- যে কোনো জায়গায়… যাই হোক, প্রফেসর টেডের এত আগ্রহ কেন?’
এ ব্যাপারটা নিয়েই তোমার সাথে কথা বলতে চাই।’
‘ভালইতো! গো এ্যাহেড।’
‘টেড মনে করে ডেভ বোম্যান, বা যাই সে হয়ে থাক না কেন, বসবাস করছে ইউরোপার ধারেকাছে কোথাও।
‘হাজার বছর পর?’
‘আসলে–আমার দিকে তাকাও।‘
‘একটা স্যাম্পল নিয়ে ভাল স্ট্যাটিস্টিক্স হয় না, আমার অঙ্ক প্রফেসর সব সময় বলত। আচ্ছা, বলে যাও।’
কাহিনীটা জটিল। বলা চলে জিস’- যেখানে অনেকগুলো পিস নেই। এটা মেনে নেয়া হয়েছে যে চার মিলিয়ন বছর আগে আফ্রিকায় ঐ কালো মনোলিথ আসার পর আমাদের পূর্বসূরীদের কপালে সাতিক কিছু ঘটেছিল। প্রাক-ইতিহাসের সব দান উল্টে দেয় এ একটা ব্যাপার। টুলস-উইপনস-রিলিজিয়নস… সবকিছুতে পরিবর্তন চলে আসে। আমাদের মধ্যে বিচিত্র কিছু ঘটিয়ে দিয়েছিল মনোলিথটা, তারপর সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পূজা-অর্চনা নেয়ার জন্য অপেক্ষা করেনি…’ ।
‘টেড খুব বিখ্যাত এক প্যালিয়োনটোলজিস্টের কোটেশন পেয়েছে, ‘টি এম এ জিরো আমাদের প্যান্টে কষে বিবর্তনীয় লাথি ঝেড়েছে।’ সে দাবি করে, লাথিটার সব দিক এখনো আমরা বের করতে পারিনি। তার মতে, আমাদের মতো একটা নিষ্ঠুর প্রজাতির উন্মেষ হবার কথা না। আমরা মস্তিষ্কের দিক দিয়ে অপূর্ণ, নাহলে সব সময় যুক্তির পথে চলতাম। সব প্রজাতিই বাঁচার জন্য কোনো না কোনো নিষ্ঠুর পন্থা বেছে নেয়, আমাদেরটা অনেক বেশি অমানবিক, অনেক বেশি খারাপ কাজ করেছি যা না করলেও চলত। আর কোনো জানোয়ার নিজ প্রজাতিকে এতটা কষ্ট দেয় না যেমনটা মানুষ মানুষের সাথে করে। এটা কি বিবর্তনের দূর্ঘটনা নয়, জেনেটিক বিপর্যয় না?
‘এখন কথাটা পরিষ্কার, টি এম এ-ওয়ান চাঁদে বসানো হয়েছে এ প্রজেক্টের উপর বা এক্সপেরিমেন্টের উপর নজরদারির জন্য। এটা বৃহস্পতিতে রিপোর্ট পাঠাবে। বৃহস্পতির আকাশই তখন এ সৌরজগতের কন্ট্রোলরুম। সেজন্যই সেখানে আরেক মনোলিথ, বিগ ব্রাদার অপেক্ষা করেছিল চল্লিশ লাখ বছর ধরে। আমরা সেখানে ডিসকভারি পাঠানো পর্যন্ত এটা কাজ করে গেছে, এ পর্যন্ত সব ঠিক তো?
হ্যাঁ। আমি সব সময় মনে করতাম এটা সবচে ভাল থিওরি।
‘এখন, আরো বিস্তারিত আসা যায়। হেউড ফ্লয়েড দ্বিতীয় ও তৃতীয় অভিযানে এসব নিয়ে আরো মাথা ঘামায়। বয়স তখন একশোরও বেশি, তবু তার কথা ঠিক ধরে নেয়া যায়, ঠিক আছে?
সেতো বুড়ো হাবড়াদের মতো বিহেভ করে থাকতে পারে।
‘সব রেকর্ড দেখলে তা কিন্তু মনে হয় না। একই সাথে তার নাতি ক্রিস গ্যালাক্সির সাথে বাধ্য হয়ে ইউরোপায় নামার পর এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিল। ঠিক সেখানেই এখনকার মনোলিথটা আছে। চারপাশে বাসা বেঁধেছে ইউরোপানরা…’ ।
‘এখনি দেখতে পাচ্ছি ডক্টর টেডের লক্ষ্যবস্তু। ঠিক এখানেই আমরা এসেছিলাম। এভাবেই পুরো বৃত্ত শুরু করছে তার কাজ।
তাই! তাই। প্রতিটা বিষয় খাপে খাপে মিলে যাচ্ছে। বৃহস্পতিকে শেষ করে দেয়া হয় তাদের উত্তাপ দেয়ার জন্য, কাছাকাছি একটা নক্ষত্র দেয়ার জন্য, বরফের ভিতর থেকে টেনে তোলার জন্য। আমাদের দূরে থাকতে হবে- দূরে থাকতে হবে কারণ আমরা তাদের উন্নয়নে নাক গলাতে পারি…’
ফ্র্যাঙ্ক, কোথায় আইডিয়াগুলো পেয়েছিলাম প্রথমে মনে পড়ছে। তোমার সময়কার কথা। স্টার ট্রেকের সিরিজগুলোয়।
