কেন বলবে না…
ভালবাসা-ইন্দ্রা।
স্টোর ট্রা
ন্সমিট
.
মিস থিঙ্গল
রেকর্ড
হ্যালো- ইন্দ্রা- ডক্টর টেডের সাথে আরো একটা সেশন হয়ে গেছে। আমি অবশ্য বলিনি কেন তুমি মনে কর সে ঈশ্বরের সাথে এত বেশি রেগে আছে।
কিন্তু দারুণ সব যুক্তিতর্কে নেমেছিলাম- কোনো ডায়ালগ নয়- যদিও তিনি নিজেই কথার ঝুলি উজাড় করে দেন সব সময়, আমার জন্য অপেক্ষাও করেন না… কখনো ভাবিনি এতদিনের প্রযুক্তিবিদ্যার কলকজা ছেড়ে আবার নামব দর্শনশাস্ত্রে। আমার হয়ত আগেই এসবের ভিতর দিয়ে যাওয়া উচিৎ ছিল। জানি না ছাত্র হিসাবে আমাকে কোন শ্রেণীতে ফেলবেন তিনি।
আমি গতকাল ভিন্ন পথে কথা বলেছিলাম, রিএ্যাকশন দেখার জন্য। ডিসকাশনগুলো পাঠাচ্ছি —
মিস প্রিঙ্গল- কপি অডিও ৯৪।
‘আমি নিশ্চিত, টেড, পৃথিবীর বেশিরভাগ শিল্পকর্মই ধর্মের রসে জারিত, ধর্মই তাদের পথ দেখিয়েছে। এতে কি একটা ব্যাপার প্রমাণ হয়ে যায় না?
হ্যাঁ- কিন্তু এতে কোনো বিশ্বাসীর স্বস্তি হবে এমনতো বলছি না। মানুষ সব সময় বৃহত্তম, মহত্তম আর শ্রেষ্ঠদের তালিকা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকত- আমি নিশ্চিত আপনার আমলে সেটাই পাবলিক এন্টারটেইনমেন্টের ব্যাপার ছিল।
‘নিশ্চই!
যাক, এসব শিল্পকর্মের ব্যাপারে বিখ্যাত কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। এগুলোর কোনো মহাকালীয় মূল্য নেই। কিন্তু এটুকু প্রমাণ করে, মানুষের রুচি কালে কালে যুগে যুগে বদলায়…
‘শেষটা দেখেছিলাম পৃথিবীর আর্টনেটে, কয়েক বছর আগে। স্থাপত্য, মিউজিক, ভিজুয়াল আর্টস সহ আরো নানা ভাগ ছিল সেটায়… মাত্র কয়েকটা উদাহরণ মনে আছে… প্যান্থিয়ন, তাজ মহল… বাঁচের টোকাটা আর ফুগু মিউজিকে সবার আগে ছিল; তারপরই ভার্দির রিকুয়েম মাস। আর্টে মোনা লিসাতো থাকবেই। আর ছিল শ্রীলঙ্কার কোথাও থাকা বুদ্ধমূর্তির সারি, তরুণ রাজা তুতের সোনালি মৃত্যু-মুখোশ।
যদি আর সবও মনে রাখতে পারতাম- অবশ্যই, তা সম্ভব নয়- তাতে কিছু যেত আসত না। তাদের কালচারাল আর রিলিজিয়াস ব্যাকগ্রাউন্ডই আসল। মোটের উপর, মিউজিক ছাড়া আর কোনো ক্ষেত্রে কোনো একক ধর্ম আধিপত্য দেখায়নি। প্রি-ইলেক্ট্রনিক ইন্সট্রুমেন্টের যুগে অর্গান ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি খ্রিস্টধর্মে সবচে বেশি অবদান রেখেছে সম্ভবত এ কারণে যে পশ্চিমা সভ্যতা তখন অগ্রসর ছিল। প্রভাবটা গ্রিক আর চৈনিকদের মধ্যে বেশি পড়ত যদি তারা মেশিনপত্রকে সামান্য খেলনা ভেবে বসে না থাকত।
তবে আমার যতদূর মনে হয় মানুষের শিল্পকলার একক বৃহত্তম নিদর্শন এ্যাঙ্কর ওয়াট। ধর্মটা যুগে যুগে, স্থানে স্থানে পরিবর্তিত হয়েছে, তবু এটুকু অবাক করে, সেখানে একজন ঈশ্বর নিয়ে কারবার করা হয়নি, ছিল শত শত দেবতা!
‘ধর্মের এই বিচিত্র হেরফেরের ব্যাপারে রাব্বি বেরেনস্টাইন ভাল বলতে পারত।’
‘আমার কোনো সন্দেহ নেই। পারত সে। তার সাথে দেখা করতে পারলেও ভাল হত। আর ভেবে ভাল লাগছে যে সে ইসরায়েলের ভাগ্যে শেষমেষ কী ঘটেছিল সেটা দেখার জন্য বেঁচে ছিল না।
এন্ড অডিও
.
এইতো, পেয়ে গেলে, ইন্দ্রা। আশা করি গ্যানিমিডের মেনুতে এ্যাঙ্কর ওয়াটও আছে– আমি কখনো দেখিনি। কিন্তু তুমি চাইলেই এক জীবনে সবকিছু দেখে ফেলতে পারবে না….
এখন, যে প্রশ্নের উত্তর চাইছিলে তুমি… আমি এখানে থাকায় ডক্টর টেড এত খুশি কেন?
সে নিশ্চিত, অনেক রহস্যের জবাব পড়ে আছে ইউরোপার বুকে, যেখানে হাজার বছর ধরে কেউ যায়নি।
সে মনে করে আমি হয়ত একটা ব্যাখ্যা নিয়ে এসেছি। হয়ত আমি নিজেই একটা ব্যাখ্যা। বিশ্বাস করে সেখানে আমার এক বন্ধু আছে। ঠিক ধরেছ- ডেভ বোম্যান, কিম্বা যাই সে হয়ে থাক না কেন এতদিনে…
আমরা জানি বিগ ব্রাদার মনোলিখের ভিতরে চলে গিয়েও সে ঠিক ঠিক বেঁচে আছে, অন্তত পরিবর্তিত হয়ে গেলেও তার অস্তিত্ব রয়ে গেছে। তারপর, পরে কোনো এক সময় চক্কর মেরেছে পৃথিবীর কাছাকাছি। কিন্তু আরো কয়েকটা ব্যাপার খুব কম মানুষ জানে। মিডরা জানাতে চায় না কাউকে, অস্বস্তি বোধ করে…
বছরের পর বছর ধরে প্রমাণ খুঁজেছে টেড খান। এখন সে নিশ্চিত- শুধু ব্যাখ্যা করাটা কঠিন। অন্তত দুবার, শত বছরের ব্যবধানে, বেশ কয়েকজন নিযোগ্য লোক বিচিত্র কিছু একটা দেখে আবির্ভাব- ভৌতিক আবির্ভাব- ঠিক যেমন ফ্লয়েড দেখে ডিসকভারিতে। তাদের কেউ ঘটনাটার কথা জানত না। কিন্তু যখনি ডেস্ত্রে হলোগ্রাম দেখানো হয়, তখনি চিনতে পারে। ছশ বছর আগে ইউরোপার কাছাকাছি যেতে থাকা আরেকটা সার্ভে শিপের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে…
এককভাবে কেউ ব্যাপারগুলোকে সিরিয়াসলি নিবে না, সব একত্র করলে একটা প্যাটার্ন দাঁড়িয়ে যায়। টেড নিশ্চিত ডেভ বোম্যান কোনো না কোনো রূপে বেঁচে আছে, বলা ভাল টিকে আছে, এবং তার সম্পর্ক গ্রেট ওয়াল নামের মনোলিথটার সাথে। এখনো আমাদের ব্যাপারে তার আগ্রহ প্রচুর।
যোগাযোগের কোনো চেষ্টা করে না সে, কিন্তু টেড মনে করে আমাদের মধ্যে যোগাযোগ হওয়া সম্ভব। তার বিশ্বাস, আমিই একমাত্র মানুষ যে এ কাজ করতে পারবে….
এখনো মনস্থির করতে পারিনি। কাল কথা বলব ক্যাপ্টেন চ্যাভলারের সাথে। তখন জানতে পারবে তুমি। ভালবাসা- ফ্র্যাঙ্ক।
স্টোর
ট্রান্সমিট- ইন্দ্রা
২১. কোয়ারেন্টাইন।
‘তুমি কি ভূতে বিশ্বাস কর, দিম?
