‘এটাকে রাশপুটিন সিন্ড্রোম বলে। শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে, সব সমাজে এমন মানুষের সন্ধান পাওয়া যেত। হাজারে মাত্র দশবার এমন সঘ টিকে থাকে দু প্রজন্ম ধরে। এক্ষেত্রে কী হয়েছিল?
‘যা হবার তাই। নামটা মনে পড়ছে না। বিশাল, ভারতীয় নাম। স্বামী কিছু একটা বা… কিন্তু দেখা গেল সে এসেছে আলাবামা থেকে। পাতলা বাতাস থেকে পবিত্র সব জিনিস তৈরি করা ছিল তার এক ট্রিক। বের করে এনে পুঁজারীদের হাতে তুলে দিত। আমাদের স্থানীয় রাব্বি সব ভেদ খুলে দেয় সবার সামনে এসব ট্রিক করে। কোনো পার্থক্য ছিল না। কিন্তু বিশ্বাসীরা বলে বেড়ায় যে রাব্বিরটা ছল চাতুরি হলেও তারটা একেবারে বাস্তব।
‘একবার, বলতে আমার লজ্জাও হচ্ছে, আমার মা লোকটার পাল্লায় পড়ে বাবা চলে যাবার পরের কথা, মার মন বিক্ষিপ্ত। তাকে ফিরিয়ে আনার চিন্তায় অস্থির। আমাকেও একবার এক সেসনে নিয়ে গিয়েছিল। মাত্র দশ বছর বয়সেই মনে হয়েছিল এমন অদ্ভুতদর্শন আর দেখলে খারাপ লাগে এমন লোক আগে কখনো দেখিনি। তার দাড়িগুলো একাধিক পাখির বাসা লুকিয়ে রাখতে পারত, আর রেখেছিল বলেই আমার ধারণা।
স্ট্যান্ডার্ড মডেল বলেইতো মনে হচ্ছে, কদ্দিন টিকেছিল?
তিন চার বছর। তড়িঘড়ি করে শহর ছাড়তে হয়েছিল। লোকটা টিনেজদের সেক্স টিম চালাত। অবশ্য হার মানেনি, দাবি করেছিল যে সে আত্ম রক্ষার কাজ করছে। আর আপনি বিশ্বাস করবেন না
ট্রাই মি।’
স্যরি- তখনো তার দল তার উপর বিশ্বাস হারায়নি। কখনো কখনো পুলিশ তাকে ব্যবহার করত- যখন অপরাধী ধরার আর কোনো উপায় নেই, তখন।
হুম, ওয়েল, আপনাদের ঐ স্বামী খুব টিপিক্যাল। খুব বেশি অবাক বা খুশি হতে পারলাম না। কি একটা কথা প্রমাণ করে দিল সে, মানবজাতি বেশিরভাগ সময়েই ভুলপথে চালিত হয়।
‘প্রায় সব সময়।
‘ঠিক। মানুষ নিজের বিশ্বাস জলাঞ্জলি দেয়ার আগে প্রাণপাত করতে প্রস্তুত। বিশ্বাস না বলে ইস্যুশন বলা ভাল। আমার কাছে অজ্ঞতার ব্যবহারিক সংজ্ঞা এটাই।
‘আপনি কি মনে করেন যে শক্ত ধর্মবিশ্বাসী কোনো মানুষ অজ্ঞ?’
‘খুব কঠিন টেকনিক্যাল সেলে বলতে গেলে- হ্যাঁ- তারা যদি সৎ হয়, এবং কোনো প্রতারণা না করে এ বিশ্বাস নিয়ে। আমার ধারণা নববইভাগ মানুষ এ শ্রেণীতে পড়ে।
আমি নিশ্চিত রাব্বি বেরেনস্টাইন বিশ্বাসে সৎ ছিল। কিন্তু আমার জানা মতে তার মতো সজ্ঞান ও ভালমানুষ দ্বিতীয়টা পাওয়া যাবে না। আপনি কী করে তার জবাব দিবেন? আর আমার জীবনে সবচে দামি জিনিয়াস ছিলেন ডক্টর চন্দ্র। হাল প্রজেক্টের জনক। ঘরের সামনে গেলাম একবার। নক করলাম। কোনো জবাব নেই। মনে হল ঘরটা খালি।
‘সে তখন চমৎকার একদল ব্রোঞ্জের মূর্তির সামনে প্রার্থনায় রত। ফুলে ফুলে সাজানো সেগুলো। একটা দেখতে হাতির মতো… আরেকটার অনেকগুলো হাত… আমি বেশ বিব্রত হয়ে পড়ি, কিন্তু কপাল ভাল বলতে হবে, সে আমার উপস্থিতি টেরও পায়নি। পা টিপে টিপে ভালমানুষের মতো বেরিয়ে গেলাম। আপনি কি বলবেন সেও সজ্ঞান ছিল না?
‘আপনি বেছে বেছে খুব খারাপ কয়েকটা উদাহরণ টেনেছেন। জিনিয়াস মাঝে মাঝেই ইনসেন হয়। ধরে নিই বাহ্যিক জ্ঞান তার ছিল, কিন্তু বাল্যকালের শিক্ষার বাইরে কখনো যেতে পানি। জেসাইটরা দাবি করে আমার কাছে দু বছরের জন্য একটা শিশুকে ছেড়ে দাও, সে সারা জীবন ধু আমার। তারা যদি সময়মত ছোট এক চন্দ্রকে কজা করতে পারত, সে তাহলে ধর্মভীরু ক্যাথলিক হত- কখনোই হিন্দু নয়।
সম্ভবত কিন্তু আমি বিভ্রান্ত আমার সাথে দেখা করার জন্য এত অস্থির ছিলেন কেন আপনি? যদ্দূর জানি আমি কখনোই কোনো জিনিসের জন্য পাগল ছিলাম না। কোনো বিশ্বাসের জন্যও নয়। এতকিছুর সাথে আমার কী সম্পর্ক?
আস্তে আস্তে, মনের সমস্ত ভার নির্ভর করে দিয়ে, ডক্টর খান খুব গোপন একটা কথা বলল তাকে।
২০. এ্যাপোস্ট্যাট
রেকর্ড–পোল
হ্যালো, ফ্র্যাঙ্ক… তাহলে শেষ অবধি টেডের সাথে দেখা হয়েছে তোমার। হ্যাঁ, তুমি তাকে এককেন্দ্রীক বলতে পার, কারণ সেন্স অব হিউমারের খানিকটা অভাব আছে তার মধ্যে। কিন্তু এককেন্দ্রীক লোকেরা কিন্তু বড় ধরনের সত্যের সম্মুখীন হয়। মাঝে মাঝে কিন্তু তাদের কথা শুনতে চায় না কেউ… তুমি মন দিয়েছ তার কথায়, তাতেই আমি খুশি, আশা করি সিরিয়াসলি নিবে।
টেডের এ্যাপার্টমেন্টে সব সময়ের জন্য একজন পোপের ছবি দেখে ভড়কে গিয়েছিলে তুমি, বললে না? তিনিই সম্ভবত তার হিরো। পোপ বিংশ পিউস। তাকে ইমপিউসও বলা হয়। তোমার জন্মের কিছুদিন আগে যেমন ভয়ানক ঘটনাগুলো ঘটে তেমনি ঘটিয়েছিলেন তিনি। তুমি নিশ্চয়ই জান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট গর্ভাচেভ কী করে সমস্ত পাপের বোঝা শেষ করে দিয়েছিল?
তিনি অতদূর যাননি- রিফর্ম করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রক্রিয়াটা দীর্ঘ। এমন ধারণা নিয়েই এগুচ্ছিলেন কিনা তা আর জানা যায়নি। কারণ ইনকুইজিশনের ফাইলগুলো প্রকাশ করে পৃথিবীকে বিস্মিত এবং একই সাথে ভীত করার পরপরই এক কার্ডিনালের হাতে খুন হন….
সে সময়ের মাত্র কয়েক দশক আগে আবিস্কৃত হয় টি এম এ জিরো। ধর্ম সমাজে এর প্রভাব পড়ে ভয়ানকভাবে। বিংশ পিউস এরই প্রভাবে পড়েছিলেন কিনা তা আর জানা যাবে না…
ঈশ্বরের খোঁজে নামার কাজে টেডকে কী করে তুমি সহায়তা করবে তাতো জানালে না। মনে হয় ঈশ্বর এত বেশি দূরে লুকিয়ে আছেন দেখেই সেও পাগলের মতো পিছনে পড়ে গেছে। আমি যে একথা বলেছি তা আবার বলোনা।
