ক্যালিস্টোর গড়ন মোটেও পাল্টায় না। এর বরফমোড় অঞ্চলগুলো অপরিবর্তনীয়। বৃহস্পতি থাকাকালে লুসিফার শনির সাথে পাল্লা দিয়ে মহাকাশের জিনিসপত্র যোগাড় করত, আটকে রাখত নিজের এলাকায়। সেসব কারণে, শতকোটি বছরের মধ্যে কয়েকটা উস্কাপাতের ঘটনা ছাড়া খুব বেশিকিছু ঘটেনি ক্যাসিস্টোর কপালে।
আইওতে প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো অঘটন ঘটছেই। এখানকার এক অধিবাসী বলেছিল, লুসিফারের জনের আগে আইও ছিল সাক্ষাৎ নরক, এখন নরকটা আরো উস্কে উঠেছে।
আফ্রিকার চেয়ে বড় এলাকাজুড়ে থাকা আইওর বিশাল জ্বালামুখগুলোর সালফার উদগিরণের কাহিনী বসে বসে জুম করে দেখে পোল, সময় পেলেই। প্রায়ই আগুনের হল্কা উঠে যায় শত শত কিলোমিটার উপরে।
এখানে শুধুই আগুনে রঙের খেলা- লাল, কমলা, হলুদ, খয়েরি। মহাকাশ যুগের আগে মানুষের দুঃস্বপ্নেও এমন ভুবনের কথা আসেনি। মানুষ এখানে নামার ঝুঁকি নিয়েছে কিনা কখনো তা খতিয়ে দেখতে হবে, যেখানে রোবট নামালেই নষ্ট করার শামিল…
অবশ্যই, তার আসল আগ্রহ ইউরোপা নিয়ে। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহের মতো আকৃতির এক এলাকা, শুধু চান্দ্র আকৃতি পরিবর্তন করে চারদিনে একবার, এই যা…
খালি চোখে তাকিয়েও অবাক হয়ে পোল দেখে, ডিসকভারি বৃহস্পতির এলাকায় আসার পর এক হাজার বছরে কী বিচিত্র পরিবর্তন এসেছে ইউরোপায়! বরফের উপর ফাটলের আঁকিবুকিগুলো উধাও হয়ে গেছে, আছে শুধু দু মেরুতে। অন্য জায়গাগুলোয় সাগর উষ্ণতায় উদ্বেলিত। পৃথিবীর মতো তাপমাত্রা সেখানে।
এ সুযোগে বরফের ভিতরে লুকিয়ে থাকা বিচিত্র সব প্রাণি মাথা তুলছে। এক হাজার বছরে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে তাদের মধ্যে। স্পাই স্যাটেলাইটগুলো এক সেন্টিমিটার এলাকাও চষে ফেলতে পারে। সেসব দিয়ে বোঝা যায়, তাদের উভচর পর্যায় চলছে এখন। কিন্তু বেশিরভাগ সময় সাগরের তলায় কাটানো প্রাণিগুলোর কী বিচিত্র উন্নয়ন। এরমধ্যেই ইউরোপা সরল বিল্ডিং বানানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে।
এক হাজার বছরে লাখ বছরের উন্নয়ন অকল্পনীয় হলেও সবাই মেনে নিয়েছে সেখানকার কিলোমিটার জুড়ে থাকা মনোলিথের কারবার এটা। গ্রেট ওয়াল নামের মনোলিথ পড়ে আছে সি অব গ্যালিলির প্রাতসীমায়।
কোন সন্দেহ নেই, দেখভাল করছে এটা। দেখভাল করছে সে পরীক্ষণের, যেমন পরীক্ষা করেছিল পৃথিবীর বুকে, চল্লিশ লাখ বছর আগে।
১৯. মানবজাতির পাগলামি
মিস প্রিঙ্গল
ফাইল- ইন্দ্রা
প্রিয় ইন্দ্রা- স্যরি, এর মধ্যে তোমাকে ভয়েস মেইলও পাঠাতে পারিনি। একই বাহানা, তাই আর বললাম না।
তোমার প্রশ্নের জবাব- হ্যাঁ। গ্যানিমিড়ে আমার বেশ ভাল্লাগছে। আমার স্যুইটে পাইপ ইন করা আকাশের দিকে আস্তে আস্তে আরো কম সময় দিচ্ছি। কাল রাতে আইও ফ্লাক্স টিউব দারুণ এক দৃশ্য দেখিয়েছে- আইও আর বৃহস্পতির, মানে লুসিফারের মধ্যকার লাইটনিং ডিসচার্জ অসম্ভব এক দৃশ্য। পৃথিবীর মেরুজ্যোতির মতোই বলা চলে, অনেক বেশি উজ্জ্বল। ব্যাপারটা আবিষ্কার করেছিল রেডিও এ্যাস্ট্রোনোমাররা, আমার জন্মেরও আগে।
আগের দিনের কথা বলছি, তুমি জান নাকি, আনুবিসে একজন শেরিফ আছে? পুরনোদিনের কথা মনে পড়ে যায়। আমার দাদা এ্যারিজোনার ব্যাপারে এসব গল্প বলত। মিডদের বলতে হবে গল্পগুলো…
ব্যাপারটা বিচিত্র- আমি এখনো বোম্যান স্যুইটের সাথে মানিয়ে নিতে পারিনি। মাঝে মাঝেই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাই….
সময় কাটাই কীভাবে? আফ্রিকা টাওয়ারের মতোই। এখানেও স্থানীয় হর্তাকর্তাদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ চলছে হরহামেশা। কিন্তু তাদের দাম আরো একটু কম। (আশা করি কেউ বাগিং করবে না আমার এ মেইল…)। শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে যোগাযোগ করছি। ভালই। কিন্তু এ বিপরীত পরিবেশে আর কত ভাল হবে…
কিন্তু এতে আমি বুঝতে শিখছি কেন মানুষ এখানে থাকতে চায়। এখানে উদ্দেশ্য আছে, আছে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। পৃথিবীতে এ ব্যাপারটা খুব বেশি নেই।
কথা সত্যি, বেশিরভাগ মিড জন্মেছে এখানেই, তাই বসতবাড়ি বলতে এ এলাকাকেই চেনে। তারা এখানেই অভ্যস্ত। পৃথিবী তাদের কাছে দূরের এক এলাকা। আমরা টেরিরা (এ নামেই পৃথিবীর লোকদের ডাকে তারা) এ নিয়ে কী করতে পারব? একটা টিনএজ ক্লাসের সাথে মিশেছিলাম আমি, তারা আমাদের জাগাতে চায়। কেউ কেউ গোপনে পৃথিবী জয়ের চিন্তায় মত্ত- আবার বলোনা আমি তোমাদের সাবধান করিনি।
আমি আনুবিসের বাইরে একবার গিয়েছিলাম। তথাকথিত নাইটল্যান্ডে যেখান থেকে কখনো লুসিফারের দেখা পাওয়া যায় না। দশজন ছিলাম। চ্যান্ডলার, আমি, গোলিয়াথের দুজন কু, ছজন মিড- গিয়েছিলাম দূরে। সূর্য ডুবে যাবার আগ পর্যন্ত ছিলাম। তারপর সত্যিকার রাত নেমে আসে। দারুণ। পৃথিবীতে মেরুর শীতের মতো। আকাশটা একেবারে মিশকালো। মনে হয় স্পেসে আছি।
দেখেছি আইওর জাদু। ট্রিপটাকে সেভাবেই সাজানো হয়…
বেশ কয়েকটা ছোট উপগ্রহও চোখে পড়ে। পৃথিবীকে কি মিস করছি? মনে হয় না। মিস করছি সেখানকার নতুন বন্ধুদের…
আর আমি সত্যি স্যরি। এখনো ডক্টর খানের সাথে দেখা হয়নি। আমার জন্য কয়েকটা মেসেজ দিয়েছেন। আমি কয়েকদিনের মধ্যেই দেখা করব। পার্থিব দিন, মিডের দিন নয় অবশ্যই।
জোর জন্য বেস্ট উইশেস, দানিলের জন্যও শুভকামনা। জান নাকি কী হয়েছে তার? আবার রিয়েল পারসন হয়েছে? আর ভালবাসা তোমার জন্য…
