‘আমারও ভাল লাগছে ব্যাপারটা। তোমরা কি মাস-লঞ্চার দিয়ে শু্যট করবে?
না। আমি যদি করি, তো আবহাওয়ামন্ডল থেকে টোয়ার দিয়ে নিয়ে আসব। পথিবীর শুলোর চেয়ে ছোট হবে। পাম্প করে তুলে আনব পানি। এ্যাবসলুট জিনোর। কাছাকাছি এনে কঠিন করব। কিছুটা যে বাষ্প হয়ে যাবে তা সত্যি, কিন্তু বেশিরভাগ থেকে যাবে। হাসির কী হল?
‘স্যরি- আমি আইডিয়াটা নিয়ে হাসছি না- পারফেক্ট। কিন্তু স্মৃতি বয়ে আনলে তুমি কথাটা তুলে। আমাদের সময় গার্ডেন স্প্রিঙ্কলার ছিল। ঘুরে ঘুরে পানি ছিটাত বাগানে। তোমরাও একই কাজ করছ, শুধু বড় মাত্রায়। পুরো একটা গ্রহ নিয়ে।
আবার আরেক স্মৃতি উসকে এল। এ্যারিজোনার গরম এলাকায় গার্ডেন প্রিলার থেকে পানি বেরোনোয় ঘুরতে থাকা কুয়াশায় রিকি আর সে একে অন্যকে ধাওয়া করত।
ক্যাপ্টেন চ্যান্ডলারের আবেগ আরো ভাল।
‘ব্রিজে ফিরে যেতে হচ্ছে। আনুবিস নামার পর দেখা হবে।
১৮. গ্র্যান্ড হোটেল
গ্র্যান্ড গ্যানিমিড হোটেল সৌরজগতে হোটেল গ্যানিমিড’ নামে পরিচিত হলেও আসলে ততটা গ্র্যান্ড নয়। পৃথিবীর বুকে এমন একটা হোটেল দেড় তারকা পেত। প্রতিদ্বন্দ্বী হোটেলগুলো হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ম্যানেজমেন্টে আলসেমি দেখা যায়।
খুব বেশি অভিযোগ নেই পোলের, অভিযোগ সে জানাবেও না। শুধু দানিলের অভাব বোধ করে। সে থাকলে এখন সেমি ইন্টেলিজেন্ট যন্ত্রপাতিগুলোর কাজকারবার বুঝিয়ে দিতে পারত। একটু আতঙ্কিত হয়ে উঠল সে (মানুষ) বেলবয়ের পিছনে দরজা বন্ধ হয়ে যাবার সাথে সাথে। লোকটা বিখ্যাত অতিথিকে সবকিছু বুঝিয়ে দিতে অত্যুৎসাহী। দেয়ালের সাথে কথা বলে বলে পাঁচটা মিনিট নষ্ট করার পর সে এমন এক সিস্টেমকে কল করল যেটা তার উচ্চারণ আর শব্দগুলো বুঝতে পারবে। অল ওয়ার্ল্ডস নিউজে কী তরতাজা খবর বের হবে, কিংবদন্তির মহাকাশচারী গ্যানিমিড হোটেলরুমে আটকা পড়ে মারা গেছেন।
দম আটকে আসে এখানকার একমাত্র আন্তর্জাতিক সুইটটার নাম দেখেই। এমনি হবার কথা, তবু কেমন যেন ধাক্কা লাগে। ইউনিফর্ম পরা ডেভ বোম্যানের ছবি ঝুলছে দেয়ালে। একই সময়ে একই রকমের আরেকটা ছবি তুলেছিল পোল। হাজার বছর আগে। এ সাইটটার নাম বোম্যান সুইট।
গোলিয়াথের সব তুর কোনো না কোনো প্রিয়জন আছে এখানে। বিশ দিনের বিশ্রামে সবাই যার যার জায়গায় চলে গেছে। এখানে আফ্রিকা টাওয়ার যেন দুরের কোনো স্বপ্ন।
আর সব আমেরিকানের মতো পোলের মনেও একটা ইচ্ছা দানা বাঁধে, এমন কোনো হোত সমাজে যদি থাকা যেত যেখানে সবাই সবাইকে চিনতে পারবে সহজেই, সবার সাথে সবার সম্পর্ক থাকবে বাস্তবে, সাইবারস্পেসে নয়। আনুবিস সে হিসাবে মন্দ নয়।
তিনটা প্রেশার ডোম আছে। প্রতিটা দু কিলোমিটার এলাকাজোড়া। ডোমগুলো একটা বিশাল বরফের চাইয়ের উপর বসানো। বরফ হারিয়ে গেছে দিগন্তে। গ্যানিমিডের স্থানীয় সূর্য কখনো পর্যাপ্ত তাপ দিতে পারবে না। পোলার ক্যাপ গলবে না কস্মিনকালেও। এমন অস্বস্তিকর পরিবেশে আনুবিসকে স্থাপন করার এই আসল কারণ। আগামি কয়েক শতাব্দিতে মহানগরীর ভিত্তি ধ্বসে পড়ার কোনো উপায় নেই।
বোম্যান স্যুইটের সাথে মানিয়ে নেয়ার পর পোল টের পায় পরিবেশপ্রীতি আছে তার। সাগরপাড়ে সারি সারি পামগাছ লাগিয়ে দিয়ে সমুদ্রের গর্জন শুনতে মন্দ লাগত না। হ্যারিকেন এলেও কুছ পরোয়া নেহি। মেরিনার ভ্যালি বা হিমালয়, যে কোনো জায়গায় যেতে পারত ইচ্ছা হলেই।
কিন্তু সৌর জগতের অর্ধেক পথ পাড়ি দিয়ে এসে অন্য একটা বন ঘোরার নেশা মাথায় রেখে পার্থিব স্মৃতির কষ্টে মুষড়ে পড়ার কোনো মানে হয় না। অলসভাবে কয়েকটা মাস কাটানোর সময় কিছু উপভোগ করাই বরং ভাল।
আফসোসের কথা, কখনো মিশরে যাওয়া হয়নি। গ্রেট পিরামিড বা স্ফিংসের কাছাকাছি বসে উপভোগ করার কোনো তুলনা নেই। এসব স্বপ্নে বিভোর থাকার সময় সে বোম্যান স্যুইটের কার্পেটে ধুত দেখতে পায়।
গিজার বুকে শেষ পাথরটা বসানোর পর গত পাঁচ হাজার বছরে এমন দৃশ্য কেউ কখনো দেখেনি। দেখেনি এমন আকাশ। কিন্তু এটা কোনো কল্পনা নয়, এই হল গ্যানিমিডের চির পরিবর্তনশীল প্রকৃতির দৃশ্য।
লুসিফারের প্রতাপ শুরু হবার পর থেকেই বদলে গেছে এ এলাকার উপগ্রহগুলোর ধরন। এটার অন্যপ্রান্ত, যা কখনো ঘুরে আসে না এবং যে কারণে এখানে কখনো দিন আসে না, সেটাকে নাইটল্যান্ড নামে ডাকা হয়। চান্দ্র এলাকার মতো এখানেও কিছু কিছু এলাকায় আংশিক দিন হয়।
প্রাইমারি অর্বিটে গ্যানিমিড ঠিক এক সপ্তাহ সময় নেয়। সাতদিন তিন ঘন্টা। তাই বলা হত এক মিড দিবস= এক পার্থিব সপ্তাহ। কি এ ক্যালেন্ডার আদ্যিকালে বর্জন করা হয়েছিল। তিন ঘন্টা বাড়তি সময়ই ঝামেলা পাকাতে ওস্তাদ। তার বদলে ইউনিভার্সাল স্টান্ডার্ডে পৃথিবীর দিবস হিসাবে চব্বিশ ঘন্টায় দিন ধরা হতে লাগল।
গ্যানিমিডের নতুন বায়ুমন্ডল এখনো একেবারে চিকণ। মেঘের নাম-নিশানা নেই। তাই সৌরজগতের বড় গড়নগুলো হরদম দেখা দেয় আকাশে। আইও আর ক্যালিস্টোকে পৃথিবীর বুক থেকে দেখা চাঁদের অর্ধেক আকারে দেখা যায় সর্বক্ষণ। কিন্তু আর কিছু সব সময় চোখে পড়ে না। লুসিফারের এত কাছের প্রজা এই আইও যে সেটাকে পাক খেয়ে আসতে সময় নেয় মাত্র দুদিন। মিনিটের ব্যবধানে আইওকে তাই চলতে দেখা যায়। চারগুণ দূরত্বে থাকা ক্যালিস্টো দু মিড দিন সময় নেয়, পৃথিবীর হিসাবে গড়পড়তা মোলদিন।
