এমন ক্রমপরিবর্তনশীল পরিবেশে কখনো স্থায়ী মানবঘাটি বসানো যায়নি। কিন্তু ল্যান্ডিং হয়েছে অনেকবার। সব সময় মানুষের রোবট মনিটর কাজ করছে সেখানে।
.
(২৫৭১ সালের অভিযানের করুণ পরিণতি জানতে বিগল ৫ দেখুন।)
ইউরোপা বৃহস্পতি থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে দ্বিতীয় উপগ্রহ। প্রথমে, আসলে এটা ছিল বরফে মোড়ানো এক ভুবন। কিছু বিশাল বিশাল ফাটলের গোলকধাঁধা ছাড়া আর কোনো বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য ছিল না। আইওর উপর যেভাবে জোয়ার প্রভাব ফেলে ততটা প্রভাব নেই এখানে। আছে তাপ। গলে গেছে সব বরফ, পুরো ইউরোপা জুড়ে এখন সাগর। এখানে বিচিত্র সব প্রাণের উদ্ভব হয়েছে। (দেখুন স্পেসক্রাফট জিয়াং, গ্যালাক্সি, ইউনিভার্স।) বৃহস্পতি ছোষ্ট্র সূর্যে পরিণত হবার পর পুরো ইউরোপা সাগরে পরিণত হলেও অগ্নি উদগিরণে জন্ম নিয়েছে কিছু কিছু দ্বীপ।
সবার জানা একটা তথ্য হল, ইউরোপায় হাজার বছরে কোনো ল্যান্ডিং হয়নি। সর্বক্ষণ নজরদারি চলছে এখানে।
সৌরজগতে গ্যানিমিড সবচে বড় চাঁদ (ব্যাস ৫২৬০ কিলোমিটার)। এখানেও নতুন সূর্যের প্রভাব পড়ে। এর বিষুবিয় অঞ্চলের তাপমাত্রা জীবনের অনুকুল, যদিও আবহাওয়ামন্ডল এখনো শাসপ্রশ্বাসের জন্য ভাল নয়। এখানকার বেশিরভাগ অধিবাসীই বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানকর্মী। সবচে বড় সেটলমেন্ট আনুবিস সিটি (জনসংখ্যা ৪১,০০০) অবস্থিত দক্ষিণ মেরুর কাছে।
ক্যালিস্টোও ভিন্ন প্রকৃতির। এর পুরো উপরিভাগ নানা আকার ও প্রকারের জ্বালামুখ, উল্কার আঘাতে সৃষ্ট ক্ষতে ভর্তি। ক্যালিস্টোর বুকে কোনো স্থায়ী ঘাঁটি না থাকলেও আছে কয়েকটা স্টেশন।
১৭. সেই গ্যানিমিড
বেশি ঘুমানোর অভ্যাস নেই ফ্র্যাঙ্ক পোলর, কিন্তু বিচিত্র সব স্বপ্ন এটুকু সময়েই ধরা দেয়। অতীত-বর্তমান তার স্বপ্নে একাকার হয়ে গেছে। কখনো সে ডিসকভারিতে, কখনো আফ্রিকা টাওয়ারে আবার কখনো ছেলেবেলার পোল ফিরে আসে, খেলা করে বন্ধুদের সাথে।
কোথায় আমি? সাতারুর মতো ঘুম থেকে জেগে উঠে প্রশ্ন করে সে নিজেকেই। বিছানার ঠিক উপরেই একটা গোলাকার জানালা। আলো আসছে পর্দার ফাঁক দিয়েও। বিংশ শতাব্দির মাঝামাঝি সময়টায় এক ধরনের বিমান ছিল যেগুলোয় আরাম আয়েশের ব্যবস্থা অনেক বেশি থাকত। মানুষ এভাবে ঘুমাতে পারত। সহজে মনে হতে পারে, সে এমনি কোনো যাত্রাপথে আছে।
আসলে তা নয়, বাইরে তাকালেই দেখা যায়। নিচের দৃশ্যটা আটলান্টিকের মতো হলেও দক্ষিণ মেরুতে দুইটা সূর্য একই সাথে উদিত। এমন দৃশ্য পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে দেখা যাবে না।
শিপটা ভেসে আছে এমন চষা এক ভূমির উপর। যেন কোনো মাতাল চাষি চষতে গিয়ে সব ভন্ডুল করে দিয়েছে। এখানে ওখানে ছড়িয়ে আছে বরফ। সেই সাথে গোল গোল চিহ্ন। উল্কাপাতের নিদর্শন।
দরজায় কে যেন নক করল, ‘আমি এলে কিছু মনে করবে নাতো?’
জবাবের অপেক্ষা না করেই ঢুকল ক্যাপ্টেন চ্যান্ডলার।
‘নামা শেষ করে তোমার ঘুম ভাঙানোর ইচ্ছা ছিল, পারলাম না সময়মত নামতে। একটু বেশি লেগে যাচ্ছে। কিন্তু বিদ্রোহ করে পথটাকে সংক্ষিপ্ত করে এনেছি।’
হাসল পোল।
‘স্পেসে কখনো বিদ্রোহ হয়েছিল নাকি?’
‘হয়েছে তো অবশ্যই, মাত্র কয়েকটা। আগে। আমাদের আমলে নয়। তুমি মানবে, এ রীতি শুরু করেছিল হাল… স্যরি, আমার মনে হয় বলা উচিৎ হয়নি। ঐ দেখ, গ্যানিমিড সিটি।’
নিচে তাকায় সে। পথঘাট বোঝা যায়। জ্যামিতিক আকারের। সেই সাথে আছে একটা খাল। পোল ভুলেই গিয়েছিল যে গ্যানিমিডের বিষুবিয় অঞ্চলে এখন তরল পানি থাকতে পারে। মনে পড়ে গেল লন্ডনে কাঠ কাটা দেখার একটা স্মৃতির কথা।
একটু মজা পাবার ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে চ্যান্ডলার। মহানগরীর আকৃতির কথা মনে পড়ল সাথে সাথে।
‘গ্যানিমিডিয়রা,’ বলল সে শুকনো কণ্ঠে, নিশ্চই আকার আকৃতিতে বিশাল। পাঁচ থেকে দশ কিলোমিটার চওড়া রাস্তা বানানো মুখের কথা নয়।
‘কোথাও কোথাও বিশ। ইমপ্রেসিভ, তাই না? মাতা প্রতি অনেক বিচিত্র সব ব্যাপার ঘটায়। আমি তোমাকে আরো কৃত্রিম দেখায় এমন দৃশ্য দেখাতে পারব, আকারে একটু ছোট হবে, এই যা।
‘আমি বাচ্চা থাকার সময় মঙ্গলের বুকে খোদাই করা মুখ দেখা গেছে এমন কথা উঠেছিল। আসলে ক্ষয়ে যাওয়া পাহাড়। পৃথিবীতেও কিন্তু এমন নিদর্শন পাওয়া যায়।’
‘কেউ কি একবার বলেনি যে ইতিহাস নিজের পুনরাবৃত্তি করে গ্যানিমিড সিটির সাথেও কোনো ধরনের বিচিত্র ব্যাপার ঘটেছিল। কোনো কোনো অর্বাচীন দাবি করে এর নির্মাতা ছিল এলিয়েনরা। আমার ভয়, এটা বেশিদিন টিকবে না।
‘কেন?
‘গলে যাচ্ছে। এর পার্মাস্ট গলিয়ে দিচ্ছে লুসিফার। আর একশ বছর পর গ্যানিমিডকে তুমি চিনতেই পারবে না… ঐতো, ঐটা লেক গ্যানিমিডের প্রান্ত ভালভাবে তাকাও- ডানে
বুঝতে পারছি। হচ্ছেটা কী? পানি নিশ্চয়ই এ নিম্নচাপে ফুটছে না?
ইলেক্ট্রোলাইসিস প্ল্যান্ট। জানি না কত স্কিলিয়ন কেজি অক্সিজেন উৎপন্ন হয় প্রতিদিন। অবশ্যই, আশা করি হাইড্রোজেন উপরে উঠে হারিয়ে যাবে।’
হঠাৎ কণ্ঠটা বদলে যায়, নিচে যত পানি আছে তার অর্ধেকও দরকার নেই গ্যানিমিডের। কাউকে বলোনা, মাঝে মাঝে মনে হয় শুক্রের জন্য কিছুটা নিয়ে গেলে হত।
‘ধূমকেতুর গলায় ফাঁস লাগানোর চেয়ে সহজ?
যতক্ষণ এ্যানার্জির প্রশ্ন ওঠে, ততক্ষণ ঠিক। গ্যানিমিড ছেড়ে যেতে সেকেন্ডে মাত্র তিন ক্লিক প্রয়োজন। কিন্তু অন্যান্য সমস্যাও আছে…’
