‘ও, তুমি থার্মাল ক্রাইসিসের কথা তুলছ তো? সেটা ঠিক করা হয় তার পরই।
ফলে- তোমরা পৃথিবীর অর্ধেকটা ঢেকে দিলে রিফ্লেক্টর দিয়ে। সূর্যের আলো ফেরৎ পাঠালে স্পেসে। নাহলে এতদিনে পৃথিবীটা শুক্রের মতো হয়ে যেত। ফুটন্ত।
ত্রয়োবিংশ শতাব্দির ব্যাপারে কুদের জ্ঞান এত কম যে গোলিয়াথের বুকে বসে বসে নিজের সময়ের কয়েক শতাব্দি পরের ঘটনা জানিয়ে তাক লাগিয়ে দিল পোল, প্রকাশ করতে থাকল স্টার সিটি থেকে অর্জিত জ্ঞান। ডিসকভারির কাহিনী চিরায়ত স্পেস এজের এক বিস্ময়। তারা এ ঘটনা এমন মন দিয়ে দেখে যেমন মন দিয়ে সে ভাইকিংদের কাহিনী পড়ত।
‘তোমাদের ছিয়াশিতম দিনে, বলল স্টারস, এক বিকালে, তোমরা গ্রহাণু ৭৭৯৪ এর দু হাজার কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছিলে। ছুঁড়ে দিয়েছিলে একটা পোব। মনে আছে নাকি?
‘অবশ্যই।’ একটু অপ্রস্তুতভাবে বলল পোল, ‘আমার কাছে ঘটনাটা এক বছর আগেরও নয়।
‘উমস্যরি। কালকে আমরা ১৩,৪৪৫ এর আরো কাছে চলে যাব। দেখতে চাও নাকি? অটোগাইডেন্স আর ফ্রিজ ফ্রেমের সাহায্যে দশ মিলিসেকেন্ড চওড়া একটা ফ্রেম পাব।
এক সেকেন্ডের শতভাগের একভাগ। ডিসকভারির ঐ কয়েক মিনিটই অনেক মূল্যবান মনে হয়েছিল আর এখন সব ঘটনা ঘটবে পঞ্চাশগুণ দ্রুত…
কতবড় জিনিসটা?’ প্রশ্ন তুলল পোল।
“ত্রিশ বাই বিশ বাই পনের মিটার,’ জবাব দিল স্টারস, ‘অমসৃণ ইটের মতো দেখাবে।
“স্যরি, এটার দিকে ছুঁড়ে দেয়ার মতো কোনো শামুক নেই আমাদের হাতে, বলল প্রপস, কখনো ভেবেছ ৭৭৯৪ তোমাদের দিকেও কিছু ছুঁড়ে দিতে পারত, সেকথা?
আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু এ্যাস্ট্রোনোমারদের অনেক তথ্য দিয়েছিল। এটুকু ঝুঁকি নিয়ে লাভ হয়েছে দেদার… যাই হোক, এক সেকেন্ডের
একশ ভাগের একভাগ সময়ে কী আর দেখতে পাব, থ্যাঙ্কস।
বুঝতে পারছি। একটাকে যখন দেখেই ফেলেছ, বাকিদের দেখার বাকি নেই তেমন
কথা সত্যি নয়, চিপস। আমি যখন ইরোসে ছিলাম—
‘অন্তত বারোবার বলেছ কথাটা—’
হাজার বছর আগে চলে গেছে পোলের মন। ডিসকভারির শেষ দূর্ঘটনার আগে, শেষ উত্তেজনার কথা মনে পড়ে যায়। যদিও সে আর ডেভ বোম্যান ভালভাবেই জানত যে ৭৭৯৪ একেবারে বিদঘুঁটে প্রাণহীন একটা জিনিস, তবু অনুভূতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বৃহস্পতির এলাকায় এতদিনে শুধু এ জিনিসটার সাথেই তার যোগাযোগ হবার সম্ভাবনা ছিল। যেন কোনো অকুল পাথারে চলতে থাকা নাবিকের দল পাথুরে কোনো দ্বীপের দেখা পেয়েছে যেখানে তাদের নামার কোনো সম্ভাবনা নেই। না থাক সম্ভাবনা। মাটির দেখাতে পাওয়া যাচ্ছে।
পাশ থেকে পাশে ঘুরছিল জিনিসটা। সূর্যের ক্ষীণ আলো পড়ছিল গায়ে…।
টার্গেটে আঘাত করে কিনা ভোব তাও একটা উত্তেজনার বিষয়। দু হাজার কিলোমিটার দুরে ঘুরতে থাকা, সেকেন্ডে বিশ কিলোমিটার আপেক্ষিক গতিতে চলতে থাকা তে আঘাত দেয়াও মুখের কথা নয়।
এরপর অন্ধকারাচ্ছন্ন পিঠে হঠাৎ আলোর ঝলক দেখা দেয়। খাঁটি ইউরেনিয়াম ২৩৮ এর সবটুকু তীরবেগে আঘাত হানে গ্রহাণুর গায়ে। সবটুকু পরিণত হয় তাপশক্তিতে। গ্যাসের সামান্য অংশ স্পেসে ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত মিলিয়ে যেতে থাকা বর্ণালির রেখাগুলো ধরে রাখে ডিসকভারির ক্যামেরাগুলো। পৃথিবীর বুকে বসে থেকে মাত্র কয়েক ঘন্টা পরই এ্যাস্ট্রোনোমাররা জানতে পারে গ্রহাণুর গঠন সম্পর্কে। প্রথমবারের মতো খুব বেশি চমক ছিল না, কি কয়েক বোতল শ্যাম্পেন হাতবদল হয়।
খাবার সময় সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে ক্যাপ্টেন চ্যান্ডলার। শুধু একটাই অঘোষিত নিয়ম চালু আছে। খাবার টেবিলে কোনো সিরিয়াস কাজের কথা নয়। কোনো টেকনিক্যাল বা অপারেশনাল সমস্যা থাকলে সেগুলোর সুরাহা করতে হবে অন্য কোথাও। এখানে নয়।
একটা ব্যাপার বেশ ব্যথিত করে পোলকে। গোলিয়াথের নাড়ি নক্ষত্রের ব্যাপারে কুরা খুব বেশি কিছু জানে না। তার সময়ে পুরো স্পেসশিপ সম্পর্কে যেটুকু জ্ঞান রাখত তারা, তার কানাকড়িও রাখা সম্ভব নয়। সবাই রেফার করে লাইব্রেরির কাছে। প্রতিটা সিস্টেম অসম্ভব জটিল আকার ধারণ করেছে আজকের দিনে।
মাস্টাররা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রের যন্ত্রগুলোর কাজ জানে, কাজটা কী করে হয় তা জানে না। সব চেক করতে হয় অটোম্যাটিক, মানুষের হাত পড়লে ভাল হবে না।
সাধারণ এক যাত্রায় পরিণত হয়েছে এখন সৌরজগতের একপাশ থেকে আরেক পাশে যাবার ব্যাপারটা। ড্রাইভার যেমন শুধু তার গাড়ির কাজের ধরন জানে, ধারা জানে না, সেভাবেই চলে এখানকার মানুষেরা।
বিশেষ কোনো ঘটনা ছাড়াই লুসিফার আস্তে আস্তে তার প্রতাপ নিয়ে দেখা দিল আকাশে।
গ. গ্যালিলিওর ভুবনগুলো
(এক্সট্রাক্ট, শুধু টেক্সট, বহিঃসৌরজগতে ভ্রমণকারীদের গাইড, ভলিউম, ২১৯.৩)
এমনকি আজকের দিনেও, এককালে যেটা বৃহস্পতি ছিল সেটার উপগ্রহগুলো মানুষের কাছে এক মহাবিস্ময়ের ব্যাপার। কেন কাছাকাছি আকৃতি ও একই রকম দূরত্বের হয়েও চার উপগ্রহে এত পার্থক্য?
শুধু সবচে ভিতরের উপগ্রহ আইওর ব্যাপারে একটা ব্যাখ্যা দেয়া চলে। বৃহস্পতির এত কাছে এটা যে ভিতরটা একেবারে গলিত। এমনকি উপরিভাগও আধা কঠিন। সব সময় দানব গ্রহের টানে ভীষণ জোয়ার হয় এখানে। এত বেশি অগ্নি উদগিরক, আগ্নেয়গিরিতে রা ভুবন সৌরজগতে আর নেই। আইওর মানচিত্রগুলোর অর্থ জীবন মাত্র কয়েক দশকের। ক্রমাগত পরিবর্তনশীল।
