বাই দ্য ওয়ে, স্টিমরোলার জিনিসটা কী? জামাকাপড়ে চাপ দেয়ার যন্ত্র ট?
থটরাইটার তোমার সমস্ত চিন্তা লিখে নিবে, ব্যাপারটা একটু বিদঘুঁটে, সন্দেহ নেই। নিজেকে সামলানোর পদ্ধতিটা শিখে নিতে হয় এক্ষেত্রে… এর আগেও কথাটা বলেছিলাম…
টেড খান… টেড খান… টেড খান।
সে এখনো পৃথিবীতে জনপ্রিয়। তার দুইটা কথাতো বিখ্যাত বলা চলে, সভ্যতা থেকে ধর্মকে আলাদা করা অসম্ভব। আর বিশ্বাস হল এমন কিছুকে মেনে নেয়া যা তুমি সত্যি বলে মনে কর না। আমার মনে হয় না শেষের কথাটা তার নিজের। কারণ কখনো ঠাট্টা তামাশার এতটা কাছে যায় না সে। হাজার চেষ্টা করেও মুখে একটা হাসির রেখা তুলে আনতে পারিনি আমি…
ডিন তার ফ্যাকাল্টিতে অভিযোগ তুলছে, আপনারা সায়েন্টিস্টরা এত বেশি দামের ইকুইপমেন্ট চান কেন? কেন আপনারা ম্যাথ ডিপার্টমেন্টের মতো হতে পারেন না, যাদের প্রয়োজন শুধু একটা ব্ল্যাকবোর্ড আর ওয়েস্টপেপার বাস্কেট যাক, দর্শন বিভাগটা এখনো আমার ভাল্লাগে। তাদের একটা নষ্ট কাগজের বাক্সেরও প্রয়োজন নেই…’ আশা করি টেড কথাটা শুনেছিল। বেশিরভাগ দার্শনিকেরই জানা থাকার কথা….
যাই হোক, তাকে আমার শুভেচ্ছা জানিও, আর, ভালভাবে বলে রাখছি, নো যুক্তিতর্ক।
আফ্রিকা টাওয়ার থেকে ভালবাসা আর শুভকামনা।
ট্রান্সক্রাইব। স্টোর।
ট্রান্সমিট পোল।
১৬. কাপ্তানের টেবিল
গোলিয়াথের ছোট্ট পৃথিবীতে এমন দামি এক লোকের আবির্ভাবে প্রথম দিকে খুব আলোড়ন হলেও আস্তে আস্তে ক্রুরা ভাল রসবোধের সাথে মানিয়ে নিয়েছে। প্রতিদিন ১৮.০০ টায় সব পার্সোনেল একত্র হয় ডিনারের জন্য, ওয়ার্ডরুমে। ঘরটা বেশ বড়, জিরো জি-তে কম করে হলেও ঘরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ত্রিশজনকে ধরে রাখতে পারবে। কিন্তু এখানে বেশিরভাগ সময়েই চাঁদের অভিকর্ষ থাকে, তাই সবাই হেসেখেলে থাকতে পারে। আটজনের বেশি হলে একটু ঝামেলা হবে।
অর্ধবৃত্তাকার টেবিল বেরিয়ে এসেছে অটোশেফ থেকে। সেখানে সাতজন বসে পড়তে পারে সহজে। সমস্যা অন্য কোথাও, এখানে সাতজন ক্রু থাকার কথা। আছে আরো একজন। তাই একজনকে অন্য কোথাও খেতে হয়। এখানে বিচিত্র নাম আছে জিনিসপত্রের। অভ্যস্ত হতে সমস্যা হয়। ‘বোল্টস’ মানে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ‘চিপস’ মানে কম্পিউটার্স এ্যান্ড কম্যুনিকেশনস, ফাস্ট মানে ফার্স্ট মেট, ‘লাইফ’- লাইফ সাপোর্ট এ্যান্ড মেডিক্যাল সিস্টেম, ‘প্রপ’- প্রপালশন আর পাওয়ার, ‘স্টার’ মানে অর্বিট ও নেভিগেশন।
অভিযানের দশদিন কেটে গেছে। এ কদিনে প্রচলিত জোকগুলো বুঝতে শিখছে, চিনছে প্রচলিত গালগল্পের ধারা, পৃথিবীর বুকে থাকতে বর্তমান সৌরজগত সম্পর্কে যতটা জেনেছিল তার তুলনায় জেনেছে অনেক বেশি। নিশ্চুপ আর আগ্রহী শ্রোতা পেয়ে তারা খুশি হলেও পোল তাদের রঙ চড়ানো কাহিনীগুলোর সারসংক্ষেপ ঠিকই। বুঝতে পারে।
চতুর্বিংশ শতাব্দির আলোড়ন তোলা গোল্ডেন এ্যাস্টেরয়েডের গুজব এখন আর নেই। কিন্তু গত পাঁচশ বছরে অন্তত জনা বারো নির্ভযোগ্য লোকের কাছ থেকে যে মাকুরিয়ান প্লাজমোয়িডের কথা এসেছে তার কী হবে?
সব চেয়ে ভাল ব্যাখ্যা হল, সেগুলো বল লাইটনিঙের সাথে সম্পর্কযুক্ত। পৃথিবী আর মঙ্গলের বুকে ইউ এফ ও’র রিপোর্ট এসেছে এদের কারণেই। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করে সেসবে উদ্দেশ্যবহুলতা দেখা যায়। বোকামি, বলত স্কেপটিকরা সামান্য ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক এ্যাট্রাকশন।
সব সময় এসব নিয়ে শক্ত মনোভাব আছে পোলর। এলিয়েনরা আছে আমাদের মাঝেই পাগলামি চূড়ান্তে পৌঁছেছিল তার বাল্যকালে। পরে ২০২০ সাল পর্যন্ত মহাকাশ বিষয় পাগলাটে লোকদের মুখোমুখি হয়। অনেকে দাবি তোলে তারা এলিয়েনদের দেখেছে বা ভিনগ্রহের প্রাণির মুখোমুখি হয়েছে, করেছে যোগাযোগ। কেউ কেউ বিশ্বাস করত। পরে চিকিৎসা সাহিত্যে এ ধরনের মনোভাবের নাম দেয়া হয় ‘এ্যাডামস্কি রোগ।
টি এম এ-এক এর আবিষ্কার এর মুখে কুলুপ এঁটে দিল। মানুষ বিশ্বাস করল, বুদ্ধিমত্তা আছে মহাকাশে, কিন্তু তারা মিলিয়ন বছরের মধ্যে আমাদের ধারেকাছে আসেনি। একই সাথে কুলুপ এঁটে দিল সেসব বিজ্ঞানির মুখে যারা ফণা তুলে বলত ব্যাকটেরিয়ার কাছাকাছি প্রাণ ছাড়া আর কিছু এ গ্যালাক্সিতে পাওয়া সম্ভব নয়, হয়ত পুরো কসমসেও পাওয়া যাবে না।
পোলের আমলের রাজনীতি আর অর্থনীতির ঘোড়াই পরোয়া করে গোলিয়াথের জুরা। তাদের সমস্ত আগ্রহ সে সময়কার টেকনোলজির ব্যাপারে। তার জীবদ্দশায় বিজ্ঞানে যে অকল্পনীয় পরিবর্তন চলে এল হঠাৎ করে, সেসব নিয়ে খুব আগ্রহী। হারিয়ে গেল ফসিল ফুয়েলের যুগ। তেল যুগের মানব সভ্যতা কী করে হাজার হাজার প্রজাতিকে বিলুপ্ত করে, কী করে পরিবেশকে নরকে পরিণত করে তা এখনো তাদের কাছে ঠিক বিশ্বাস্য নয়।
‘আমাকে দোষ দিওনা,’ উত্তপ্ত মনোভাব দেখে আৎকে ওঠে পোল, যাই হোক, বরং দেখ একবিংশ শতাব্দি কী ভয়ানক গন্ডগোল পাকিয়েছিল।’
সাথে সাথে টেবিলের চারপাশ থেকে শোর উঠল, মানে?
‘আসলে, তথাকথিত অসীম ক্ষমতার যুগ যখন থেকে শুরু হয়, প্রত্যেকের হাতে হাতে চলে আসে হাজার হাজার কিলোওয়াটের চিপ, নিখাদ এনার্জি নিয়ে খেলার মাতলামি ভর করে, তখন থেকে কী শুরু হয় বুঝতেই পারছ।
