সবচে বড় পার্থক্য কন্ট্রোল সিস্টেমে। হ্যান্ডসফ্রি কন্ট্রোল শিখতে কষ্ট হয়। আর আমার ভয়েজ রিকগনিশন শিখতে হচ্ছে কম্পিউটারটাকে। প্রথমে প্রতি পাঁচ মিনিটে একবার করে প্রশ্ন তুলল, ডু ইউ রিয়েলি মিন দ্যাট? ব্রেইনক্যাপ ব্যবহার করলেই বোধহয় ভাল হয়। আমি মানিয়ে নিতে পারিনি মোটেও। জানি না মনকে পুরোপুরি পড়ে ফেলছে এমন কোনো যন্ত্রের সাথে মানিয়ে নিতে পারব কিনা কোনদিন…
বাই দ্য ওয়ে, শাটলটাকে ফ্যালকন নামে ডাকে ওরা। অবাক ব্যাপার, নামটার সাথে যে এ্যাপোলো মিশনের সংযুক্তি আছে সেটা জানে না কেউ, আমরা যখন প্রথম বারের মতো চাঁদে যাই…
উঁ… হ্যাঁ, আরো অনেক কথা বলার ছিল, কিন্তু স্কিপার ডাকছে। আবার ক্লাসরুমে ফিরে যাও! লাভ এ্যান্ড আউট।
স্টোর
ট্রান্সমিট
হ্যালো ফ্র্যাঙ্ক- ইন্দ্রা কলিং- যদি শব্দটা বেমানান না হয়। আমার নতুন থটরাইটার দিয়ে কল করছি- পুরনোটার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছে, হা হা হা হাজারটা ভুল করে বসে পাঠানোর আগে যে একটু এডিট করে নিব সে উপায় নেই। আশা করি বুঝতে পারছ ব্যাপারটা।
কমসেট। চ্যানেল ওয়ান, ও থ্রি- সাড়ে বারোটা থেকে রেকর্ড কর কারেকশন- সাড়ে তেটা। স্যরি…।
পুরনো ইউনিটটা সারিয়ে নিতে পারব আশা করি- সেটায় আমার সব শর্টকাট আর এ্যাব্রিভ ছিল- সম্ভবত তোমাদের আমলের মতো করে সাইকো এ্যানালাইজ করতে হবে। জানি না কী করে ফ্রাউডিয়… মানে ফ্রয়েডিয় পদ্ধতিটা কাজ করে। কখনো বুঝতে পারিনি।
গন্ডগোল হচ্ছে থটরাইটারে- স্যরি এ্যাগেইন… আসল পয়েন্টে থাকা কঠিন
এক্স জেড ১২ এল ডব্লিউ ৮৮৮ ৮***** জে এস ৯৮১২ ওয়াই ই বি ডি সি ড্যাম… স্টপ… ব্যাকআপ
তখন কি কোনো ভুল করে ফেলেছিলাম? আবার ট্রাই করছি।
তুমি দানিলের কথা তুলেছিলে… আমরা কোনো গুরুত্ব দেইনি। কারণ আছে। একবার ননপার্সন বলেছিলে না? একেবারে খাঁটি কথা!
আজকের দিনে কী ধরনের অপরাধ হয় জিজ্ঞেস করেছিলে একবার- সাইকিক ব্যাপার স্যাপার। তোমাদের আমলে সাইকো এ্যানালিস্ট টিভি প্রোগ্রামগুলো মাঝে মাঝে গিলার চেষ্টা করে উগলে দিতে হয়েছিল। কয়েক মিনিটের বেশি হজম করতে পারিনি… ডিজগাস্টিং
দরজা- একনলেজ!- ও, হ্যালো মেলিন্ডা- মাফ করো- বস- এইতো, শেষ পর্যায়ে…
কী যেন বলছিলাম? ক্রাইম। কিছু না কিছু তো আছেই সব সমাজে। কমিয়ে এনেছি হারটা, এই আর কী!
তোমাদের সমাধান ছিল- কারাদন্ড। রাষ্ট্রের অর্ধে প্রিভেনশন ফ্যাক্টরি- একজন ইনমেটকে ধরে রাখতে দশটা পরিবারের গড় আয়ের চেয়ে বেশি খরচ হয়ে যায়। একেবারে পাগলাটে, কী বল… কেউ কেউ আরো বেশি জেলখানার জন্য চিৎকার করে সব সময় তাদেরই বরং মনোবিশ্লেষণ করা দরকার। আচ্ছা, ভোলা মনে কথা বলা যাক- ইলেক্ট্রনিক মনিটরিং এ্যান্ড কন্ট্রোল সবার নজরে আসার আগ পর্যন্ত কোনো বিকল্প ছিল না- লোকজন সোৎসাহে জেলখানার দেয়াল ভাঙছে দেখলে তোমারও ভাল লাগত।
হ্যাঁ- দানিল। জানি না তার ক্রাইমটা কী ছিল- জানলেও তোমাকে জানাতাম না– কিন্তু সাইক প্রোফাইল দেখে জানা গেল সে কী বলে শব্দটাকে?- ভাল গৃহপরিচারক হতে পারবে। মানুষকে কোনো না কোনো কাজে লাগানো সহজ কথা নয়। অপরাধের মাত্রা শূন্যে নেমে এলে কেমন হবে কে জানে! যাই হোক, আশা করি সে দ্রুত ডিকন্ট্রোন্ড হয়ে সমাজে ফিরে যাবে।
স্যরি মেলিন্ডা- এইতো শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এই সব, ফ্র্যাঙ্ক দিমিত্রির জন্য শুভকামনা- তোমরা নিশ্চয়ই গ্যানিমিডের পথে অর্ধেকটা চলে গেছ কে জানে কখনো তোমরা সময় পেরিয়ে আইনস্টাইনের নিয়ম ভেঙে কথা বলতে পারবে কিনা সরাসরি।
আশা করি মেশিনগুলো আমার সাথে মানিয়ে নিবে দ্রুত- নাহলে বিংশ শতাব্দির আসল এ্যান্টিক ওয়ার্ড প্রসেসরের শরণাপন্ন হতে হবে।
লাভ এ্যান্ড গুডবাই।
.
হ্যালো ফ্র্যাঙ্ক- আবার আমি। শেষটার জবাবের আশায় আছি। অন্তত প্রাপ্তিস্বীকার হলেও চলে…
ভাবতে অবাক লাগে, তুমি গ্যানিমিডে যাচ্ছ, সেখানে আমার পুরনো বন্ধু টেড় খানের সাথে দেখা হবে তোমার। কিন্তু এতে বিচিত্র কিছু নেই, তুমি যে রহস্যের টানে যাচ্ছ সেও একই কারণে গিয়েছিল…
প্রথমেই তার ব্যাপারে কিছু বলে নেয়া ভাল। বাবা মা বিশ্রি একটা ট্রিক্স খাঁটিয়েছিল। নাম দিয়েছিল থিওডোর। কখনো ভুলেও ঐ নামে ডেকো না। কী বলছি বুঝতে পারছ তো?
হয়ত এ নামই তাকে ঐ পথে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। এর আগে ধর্মে আগ্রহী এমন পাগলাটে মানুষ আর দেখিনি। আগেই সাবধান করে দিচ্ছি, সে কিন্তু একটু বোরিং হয়ে যেতে পারে।
বাই দ্য ওয়ে, এখন কেমন হচ্ছে? মনে হয় নতুন থটরাইটারটা কাজে লাগছে ভালই। এখন পর্যন্ত কোনো ভুল করেনি, তাই না?
আমি টেডকে কী নামে ডাকি জান? ‘শেষ জেসাইট।‘ তোমাদের সময়ে এ শ্রেণীর অনেক মানুষ ছিল।
অবাক ব্যাপার, সাজাতিক সাতিক সব লোক চমৎকার সব আবিষ্কারের জনক দারুণ স্কলাররা মাঝে মাঝে কী করে যে-কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে বুঝি না…
এইউইডিএন২কেজেএন প্রিয় ২১ ইআইডিজে ডিডব্লিউপিপি।
ড্যাম নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। এক, দুই, তিন, চার… মানুষ কল্যাণের পথে আসছে, এইতো, ঠিক হয়ে যাবে।
যাই হোক, টেডের মনেও তেমনি উঁচু ইচ্ছা। তার সাথে ভুলেও তর্কে নেমো না– স্টিমরোলারের মতো পিষে ফেলবে তাহলে… দৈহিকভাবে নয়, মানসিকভাবে।
