মহাজাগতিক হিমবাহ শুক্রের এলাকায় চলে আসার ব্যাপারটা দেখার পর পোলের মনে অন্য এক চিন্তা ঘুরপাক খায়। ছেলেবেলায় ক্রিসমাস ট্রিতে রঙ বেরঙের বাতি আর ঝকঝকে রূপালি জিনিস সাজিয়ে দেয়া হত। তারপর চলত উপহার দেয়া-নেয়ার পালা। এমনি একটা মোড়কে সাজানো উপহার নিয়ে আসছে গোলিয়াথ। পৃথিবীতে পানির কোনো মূল্য নাও থাকতে পারে, এমন ভুবনে, সূর্যের কাছের গ্রহ শুক্রে ফয়েলে মোড়ানো বরফের দাম খুব বেশি।
অত্যাচারিত শুক্রের চিত্র ফুটে ওঠে রাডারে। তারে ঘের জ্বালামুখ, প্যানকেক ডোম, সরু গিরিখাদ, এবড়োথেবড়ো ভূমি। এসবের চেয়ে নিজের চোখকেই বেশি প্রাধান্য দেয় পোল। বিধি বাম, নিচের কোনো দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে না মেঘের সাগর ভেদ করে। ধূমকেতু গ্ৰহটার বুকে নেমে আসার সাথে সাথে কী হবে তা দেখার খুব শখ ছিল তার। সেকেন্ডেরও ভগ্নাংশের মধ্যে নেপচুনের এলাকা থেকে চুরি করে আনা বরফের তালটা সমস্ত শক্তি নিংড়ে দিয়ে প্রলয়কান্ড ঘটিয়ে ছাড়বে…
মুহূর্তের ফ্ল্যাশটা আরো ঘটনাবহুল। বরফের মিসাইল কী করে হাজার হাজার ডিগ্রি বাড়িয়ে দেয় তাপমাত্রা, ভাবাও কষ্টকর। ভয়ানক সব তরঙ্গদৈর্ঘ শুষে নিবে ভিউপোর্টের ফিল্টার, এটাই স্বাভাবিক, তবু নীল আলোর ঝলক দাবি করে যে তাপমাত্রাটা সূর্যের কাছাকাছি।
শান্ত হয়ে যাচ্ছে ছড়ানোর সাথে সাথে হলুদ, কমলা, লাল… শকওয়েভের গতি এখন শব্দের চেয়েও বেশি। আর এ শব্দটা কেমন হবো- মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শুক্রের আনাচে কানাচে ছড়ানোর সময় কেমন হবে চিত্রটা!
এইতো, দেখা যাচ্ছে। ছোট্ট এক কালো রঙের বৃত্ত যেন ধোয়ার পাফ… দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই কেমন নরক নেমে এসেছে সেখানে, কেমন করে ছড়িয়ে দিচ্ছে সাইক্লোন। ছড়ানোর ব্যাপারটা খুব বেশি বোঝা যায় না, মিনিটখানেক অপেক্ষা করে বুঝতে হয়।
মিনিট পনের পর গ্রহের বুকে সবচে বড় ক্ষত রূপে দেখা দিল বৃত্তটা। মিইয়ে আসছে একটু একটু করে এখন ধূলিধূসর। হাজার কিলোমিটার এর ব্যাস। নিচের বিশাল বিশাল পর্বতমালা পেরিয়ে যাবার সময় আকৃতি বদলে যাচ্ছে, নিখুঁত বৃত্তে তৈরি হচ্ছে খুত।
শিপের এ্যাড্রেস সিস্টেম দিয়ে ক্যাপ্টেন চ্যান্ডলারের কষ্ঠ খসখসে শোনায়।
‘আপনাদের আফ্রোদিতি বেসের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছি। কপাল ভাল বলতে হয়, তারা সাহায্যের জন্য হাত পা ছুঁড়ছে না’
‘-একটু কাঁপিয়ে দিয়েছিল আমাদের, কিন্তু যতটা আশা করেছিলাম ততটুকুই। মনিটর দেখাচ্ছে এর মধ্যেই নকোমিস পর্বতমালার উপর বৃষ্টি হয়ে গেছে এক পশলা; শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাবে জলদি, কিন্তু এ হল রু। হেক্যাট ক্যাজমে ঝটিকা বন্যা হয়েছিল বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়, চেক করে দেখছি। শেষ ডেলিভারির পর সেখানে ফুটন্ত পানির একটা হ্রদ তৈরি হয়েছিল—’
আমি তাদের হিংসা করি না মোটেও, নিজেকে বলল পোল, কিন্তু অবশ্যই প্রশংসা করি। এই অতি আরামদায়ক, সুবিধার জগতে এখনো যে এ্যাডভেঞ্চারের অবকাশ আছে তা প্রমাণ করে ছাড়ছে তারা।
‘–আর জায়গামত এই ছোট্ট তালটাকে নামিয়ে আনার জন্য ধন্যবাদ। কপাল ভাল থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই আমরা কয়েকটা স্থায়ী সাগর পেয়ে যাব। এরপর কোরাল রিফ বসানোর পালা। লাইম বানাব, বাড়তি কার্বন ডাই অক্সাইড সরিয়ে নিব পরিবেশ থেকে… আহা, ততদিন যদি বাঁচতে পারি।’
আশা করি বেঁচে থাকবেন ততদিন, প্রশংসার সুরে মনে মনে বলে পোল। পৃথিবীর ট্রপিক্যাল সমুদ্রগুলোয় ঝাপাঝাপি করেছে সে, এত বিচিত্র সব প্রাণি দেখেছে, সৃষ্টির এত রূপ দেখতে পেয়েছে চোখে যে মাঝে মাঝে মনে প্র আর সব সূর্যের অযুত নিযুত গ্রহে এমন প্রাণির দেখা মিলবে তো।
সময় মতো প্যাকেজ ডেলিভার করা হয়েছে। পেয়েছি প্রাপ্তিস্বীকারোক্তি। প্রশান্ত সুর ক্যাপ্টেন চ্যান্ডলারের কণ্ঠে, বিদায়, শুক্র… এইতো, আসছি, গ্যানিমিড।
.
মিস প্রিঙ্গল
ফাইল-ওয়ালেস
হ্যালো, ইন্দ্রা। হ্যাঁ, তোমার কথাটা ঠিক। তোমার সাথে তর্কাতর্কিটাকে সামান্য মিস করছি। চ্যান্ডলারের সাথে সম্পর্ক ভালই, আর শুনে অবাক হবে, ক্রুরা আমাকে অবতারের মতো শ্রদ্ধা করে। আমাকে মেনে নেয়া শুরু করেছে আস্তে আস্তে, শুরু করেছে আমার লেগ পুল করা (এ ইডিয়মটা জান নাকি?)।
সত্যিকার সরাসরি কথা বলতে না পারাটা বেশ বিরক্তিকর মঙ্গলের অটি পেরিয়ে এসেছি আমরা। এর মধ্যেই রেডিও ট্রিপ ঘন্টার উপরে চলে যাবে। কিন্তু এখানে একটা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছি, তুমি আমাকে বিরক্ত করতে পারবে না…
বৃহস্পতিতে যেতে মাত্র সপ্তাখানেক লাগলেও মনে হয় আমার হাতে রিল্যাক্স করার মতো সময় থাকবে। আবার স্কুলে ফিরে যাবার ইচ্ছা ঠেকাই কী করে বল। সুতরাং নেমে পড় কাজে। আমি গোলিয়াথের মিনি শাটলে চড়া শুরু করেছি। শুরু করেছি শিখে নেয়া। কে জানে দিম আমাকে একা কিছু করতে দিবে কিনা… ।
এটা ডিসকভারির পোডগুলো থেকে খুব একটা বড় নয় কিন্তু কী পার্থক্য। প্রথমেই বলতে হয়, এর কোনো রকেট নেই, অসীম দূরত্ব আর ভিতরের আরাম আয়েশের সাথে এখনো মানিয়ে নিতে পারিনি। চাইলেই এটা দিয়ে একেবারে পৃথিবীর বুকে ফিরে আসতে পারি কিন্তু লোকে আমাকে বদ্ধ পাগল বলবে। বন্ধ পাগল এর মানে বোঝ তোর
