বিশভাগের উপর এ্যালকোহল মিশানো যে কোনো কিছু চলবে।’
‘পৃথিবীতে কী করছেন? তারা বলল কখনো মঙ্গলের আর্বিটের ভিতরে আসেন না আপনি।
কথাটা সত্যি। এখানেই জন্মেছি, কিন্তু আসতে তিতিবিরক্ত হয়ে যাই। মানুষ আর মানুষ। গিজগিজ করছে। আবার বিলিয়ন ছুঁয়ে ফেলবে সংখ্যাটা।’
‘আমার সময়ে দশ বিলিয়ন ছিল। বাই দ্য ওয়ে, আমার থ্যাঙ্ক ইউ মেসেজ পেয়েছেন?
হ্যাঁ- আসলে আগেই আপনার সাথে যোগাযোগ করা উচিৎ ছিল। সূর্যের দিকে আসার অপেক্ষায় ছিলাম। এলামতো। আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা।
ড্রিঙ্ক নিয়েছে চ্যান্ডলার। পোল খুঁটিয়ে দেখছে অতিথিকে। এ সমাজে দাড়ি, বিশেষত থুতনিতে সামান্য দাড়ি দেখা যায় না। বিশেষত এ্যাস্ট্রোনটদের মধ্যে এমন কখনো দেখেনি। স্পেস হেলমেটের সাথে মিলবে না। ই ভি এর যুগ অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। বাইরের কাজ এখন রোবট করবে এই তো স্বাভাবিক। কিন্তু আচমকা বাইরে যাবার প্রয়োজন যে কোনো সময় পড়তে পারে।
আমার প্রশ্নের জবাব কিন্তু দেননি। পৃথিবী ভাল না লাগলে এলেন কেন?
‘ও- বিশেষত বন্ধুদের জন্য। ঘন্টা পেরিয়ে তারপর তাদের কথা শুনতে পাই, দেখতে পাই। ভাল্লাগে না। এই একমাত্র কারণ নয়। আমার বদলাতে হবে। কয়েক সেন্টিমিটার পুরু হয়ে গেলে ঘুমের অত্তি কমে যায়।’
‘আর্মার?’
‘ডাস্ট শিশু। আপনাদের সময়ে এসব ছিল না, তাই না? কি বৃহস্পতির এলাকা বিরক্তিকর। আমাদের গতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার ক্লিক। তাই গায়ে সব সময় ময়লা হামলে পড়ে। অনেকটা বৃষ্টির মতো।’
‘ইউ আর জোকিং।’
অবশ্যই। এসব শুনতে পেলে মরেই যেতাম। শেষ দুর্ঘটনা ঘটেছিল বিশ বছর আগে। আমরা প্রধান প্রধান ধূমকেতু স্রোতের খবর রাখি। সেখানেই বেশিরভাগ জল। সাবধানে এড়িয়ে চলি।
যাই হোক, বৃহস্পতির পথে বেড়িয়ে যাবার আগে একবার ঢু মেরে যান না আমাদের এখানে।
আপনি কি বৃহস্পতিবললেন?
আসলে গ্যানিমিড। আনুবিস সিটি। আমাদের অনেকেই সেখানে আপনজন রেখে এসেছে। দেখা পাচ্ছে না অনেকদিন হল।
হঠাৎ কী যেন হয়ে গেল পোলর।
একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে জীবনের একটা উদ্দেশ্য খুঁজে পেল সে। একেবারে নিষ্কর্মা বসে থাকার ধাত নেই কমান্ডার ফ্র্যাঙ্ক পোলের। সেকেন্ডে হাজার কিলোমিটার গতি, ধূলির পরশ, উত্তেজনা। হাজারখানেক বছর আগে সে এই বৃহস্পতিয় অঞ্চলে শেষ না করা কিছু কাজ ফেলে এসেছিল।
খ. গোলিয়াথ
খ. গোলিয়াথ
১৪. বিদায়, পৃথিবী
যাই আপনি চান না কেন, কারণ থাকলে চলবে শুনেছিল সে কিছুদিন আগে। এখনো নিশ্চিত নয়, বৃহস্পতির এলাকায় ফিরে যেতে চাওয়ার পিছনে খুব শক্ত কোনো কারণ দাঁড় করাতে পারবে। অন্যান্য চিন্তাও ঘুরপাক খাচ্ছে মাথার ভিতরে।
পোল এর মধ্যেই আগামী বেশ কয়েক সপ্তাহের কাজ আর এ্যাপয়েন্টমেন্ট ঠিক করে রেখেছে। বেশিরভাগ মিস হয়ে গেলে হাপ ছেড়ে বাঁচে, কিন্তু বাকি কয়েকটা কাজ বাদ পড়ে গেলে আসলে কষ্ট হবে।
ইন্দ্রা আর প্রফেসর এ্যান্ডারসন ভেটো না দিয়ে বরং উৎসাহিত হয়ে উঠলে বেশ অবাক হল সে। বোঝা যায়, তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা, পৃথিবী ছেড়ে যেতে পারলে ওষুধের কাজ দিবে ব্যাপারটা।
সর্বোপরি ক্যাপ্টেন চ্যান্ডলার তো আহ্লাদে আটখানা। আপনি আমার কেবিন জুড়ে বসতে পারেন, আমি ফাস্ট মেটকে তারটা থেকে লাথি মেরে বের করে দিব।
সিদ্ধান্তটা একবার নিয়ে নেয়ার পর ঘটনার গতি বেড়ে গেল। খুব সামান্য জিনিসপত্র ছিল, নেয়ার দরকার আরো কম। তার ইস্ট্রেনিক অটার ইগো ও সেক্রেটারি মিস প্রিঙ্গল সবচে গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় কয়েক টেরাবাইট তথ্য।
তার যুগের হ্যান্ডহোল্ড এ্যাসিস্ট্যান্টের চেয়ে খুব একটা বড় নয় মিস প্রিঙ্গল। আগের দিনের কোল্ট ফোর্টিফাইভের মতোই, কোমর থেকে যখন খুশি ড্র করা যায়। মেয়েটা তার সাথে যোগাযোগ করে অডিও বা ব্রেইনক্যাপের মাধ্যমে। মূল কাজ ইনফরমেশন ফিল্টার হিসাবে থাকা, বাইরের পৃথিবী থেকে পোলকে সরিয়ে রাখা। দক্ষ সেক্রেটারির মতো সব সময় সাবধানে কাজ করে সে। কখনো বলে, পরে যোগাযোগের কথাটা জানাব’ অথবা, দুঃখিত, মিস্টার পোল এখন ব্যস্ত আছেন, কোনো মেসেজ থাকলে জানিয়ে দিতে পারেন।
মাত্র কয়েকজনের কাছ থেকে বিদায় নিতে হবে। রিয়েলটাইম যোগাযোগ সম্ভব হলেও কথাবার্তা চালাবে দুজন প্রকৃত বন্ধুর সাথে জো আর ইন্দ্রা।
পোল অবাক হয়ে দেখে আসলেই সে গৃহপরিচারককে মিস করবে- প্রতিদিনের নানা টুকিটাকি কাজ ভালই সামলে নিতে পারত দানিল- এখন এসব করতে হবে নিজে নিজে। আলাদা হয়ে যাবার সময় ভদ্রভাবে বো করল দানিল, কোনো বাড়তি আবেগ দেখাল না মধ্য আফ্রিকার ছত্রিশ হাজার কিলোমিটার উপরে, পৃথিবী ঘিরে রাখা চাকাটার কাছে।
.
‘ঠিক জানি না আমার তুলনাটা বেখাপ্পা মনে হবে কিনা, দিম, তুমি কি জান গোলিয়াথ শব্দটা কোন স্মৃতি জাগিয়ে তোলে মনে?
এখনো এতটা বন্ধুত্ব হয়ে যায়নি যে পোল ক্যাপ্টেনের ডাকনাম ব্যবহার করবে, কিন্তু আশপাশে কেউ না থাকলে চলে।
‘খুব খুশি হবার মতো কিছু নয় নিশ্চয়ই।
‘ঠিক তা না। ছেলেবেলার কথা, আমার চাচার কাছে একগাদা সায়েন্স ফিকশন পত্রিকা ছিল। তখনকার দিনে ‘পাল্প বলা হত সেগুলোকে, সস্তা যে কাগজে ছাপা হত সেই নামে নাম। আর কী বিচিত্র যে তার কভার! আজব আজব গ্রহ-নক্ষত্র, বুক কাঁপানো জও-জানোয়ার আর ছিল স্পেসশিপ।
