‘আমার মনে হয় না এতে কোনো কাজ হবে। প্রতিবারই হেসে ফেলব।
দ্যাটস দ্য স্পিরিট- তুমি এর মধ্যেই চলে আসছ।
অবাক হয়ে দেখল, পোল সত্যি সত্যি এ্যান্ডারসনের মুখের উপর হেসে ফেলছে।
‘আবার কী হল, ফ্যাঙ্ক?
‘অরোরার সোসাইটি ফর এ্যানাকোনিজমস। আশা করি এতে আমার সুযোগ আরো বাড়বে। আমার কপাল ভাল বলতে হয়, সে এমন এক এ্যানাকোনিজমের মুখোমুখি হয়েছে যা ঠিক পছন্দ করে না।
১৩. আজব সময়ে অচেনা অতিথি
ইন্দ্রা খুব একটা গা করল না সব শুনে, সম্ভবত তাদের সম্পর্কটার মধ্যে কিছু সেক্সয়াল জেলাসি আছে। প্রথম যুক্তিতর্কে নামল তারা এ নিয়েই।
খুব স্বাভাবিকভাবেই রু হয়েছিল। ইন্দ্রা বলল, ‘মানুষ সব সময় আমাকে দোষ দিয়ে বেড়ায়। কোন দুঃখে আমি ঐ ভয়ঙ্কর সময় নিয়ে গবেষণা করে মরছি। কিন্তু আরো ভয়াল একটা ব্যাপার ছিল তো, এ কথাই তা সবটুকুর জবাব নয়।’
‘তাহলে আমার শতাব্দি নিয়ে তোমার এত আগ্রহ কেন?’
‘কারণ তখন থেকেই বর্বরতা আর আধুনিকতার মধ্যে পার্থক্য সুচিত হয়।‘
‘থ্যাঙ্ক ইউ, জাস্ট কল মি কোনান।‘
‘কোনান? কোনান নামে মাত্র একজনকেই আমি চিনি। তিনি শার্লক হোমসের জন্ম দিয়েছিলেন।’
‘নেভার মাইন্ড- স্যরি, বাধা দিয়েছিলাম কথার মধ্যে। অবশ্যই, আমরা তথাকথিত ডেভেলপড শতাব্দিগুলোয় নিজেদের সভ্য মনে করতাম। অন্তত সেসব দিনে যুদ্ধকে আর শ্রদ্ধা করা হত না। জাতিসংঘ সব সময় যুদ্ধ বাধতে নিলেই থামানোর চেষ্টা করত।
‘খুব বেশি সফল যে হত তা কিন্তু নয়। আমি তাদের সে চেষ্টাকে দশে বড়জোর তিন দিতে রাজি। আর আমরা অবাক বিস্ময়ে দেখি যে তখনকার মানুষ এমনকি দু হাজারের প্রথম দিকেও!- শান্তভাবে এমন সব আচরণকে মেনে নিত এখন যেগুলোকে আমরা বর্বরপূর্ব হিসাবে অভিহিত করি। তারা বিশ্বাস করত মাথা ঘাপলিয়ে—’
‘ঘাবড়ে।’
‘-ননসেন্স। বিশ্বাস করত এমন সব ব্যাপারে আধুনিক মানুষ যেগুলো শুনলে মানুষকে মস্তিষ্কবিকৃত ভাবে।‘
‘উদাহরণ, প্লিজ।‘
‘তোমাদের এসব আচরণের দু একটা উদাহরণই আমাকে এসব নিয়ে গবেষণা করতে বাধ্য করে। তারপর কেঁচো খুঁড়তে কেউটে সাপ বেরিয়ে পড়েছিল। তুমি কি জান কয়েকটা শতাব্দির প্রতি বছর হাজার হাজার বাচ্চা মেয়েকে মিউটিলেট করা হয়েছিল শুধু এ আশায় যে তারা কুমারীত্ব রক্ষা করে চলবে? অনেকেই স্রেফ মারা পড়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ যেন একচোখা হরিণ।‘
‘আমি মানি, ব্যাপারটা ভয়ঙ্কর- কিন্তু এ নিয়ে আমার সরকার কী করতে পারত?
অনেক কিছু যদি ইচ্ছা থাকত। কিন্তু তারা কিছুই করেনি। করেনি কেন? কারণ তাদের তেল সরবরাহকারী এবং অস্ত্র ক্রেতা দেশগুলো নাখোশ হবে, সেসব অস্ত্র, যেমন ল্যান্ড মাইন যেগুলো হাজার হাজার নিরীহ ছা-পোষা মানুষের প্রাণ নিয়েছিল।
বুঝতে পারছ না, ইন্দ্রা। আমাদের হাতে এত বেশি উপায় ছিল না। আমরা পুরো পৃথিবীটাকে বদলে দিতে পারতাম না। কে যেন একবার বলেছিল না, সম্ভাব্যতার শিল্পই রাজনীতি
‘খুব সত্যি- এ কারণেই দ্বিতীয় শ্রেণীর মাথাগুলো এ কাজে যেত। জিনিয়াস অসম্ভবের পিছু ছোটে, পলিটিক্সের নয়।
যাক, আমি খুব আহাদিত যে তোমাদের ভাল মেধার সাপ্লাই আছে, যাতে তোমরা সব ঠিকঠাক রাখতে পার।’
‘আমি কি বিন্দুমাত্র ইশারাতেও সারকামের প্রসঙ্গ তুলেছি? আমাদের কম্পিউটার সিস্টেমকে অনেক অনেক ধন্যবাদ- রাজনীতিকে মাঠে নামানোর আগে আমরা আগাগোড়া সব দেখে নিতে পারি। সব সম্ভাব্যতার প্রয়োগ দেখতে পাই সিমুলেশনে। লেনিনের কপাল খারাপ; বেচারা শত বছর আগেই জন্মেছিল। রাশিয়ান কম্যুনিজম কাজে লেগে যেতে পারত। অন্তত কিছু সময়ের জন্য যদি তাদের হাতে মাইক্রোচিপ নামের কোনো বস্তুর নাম নিশানা দেখা যেত। তাহলে এড়িয়েও যেতে পারত স্ট্যালিনকে।
পোল রাগবে কী, তার শতাব্দির বিষয়গুলোয় ইন্দ্রার দখল দেখে এত তুচ্ছ তাচ্ছিল্যকে অম্লানবদনে সহ্য করে যাচ্ছে। এদিকে তার সমস্যা ঠিক উল্টে গেছে। একশ বছর বাঁচলেও সে এ জটিল, বর্তমান, মানব সভ্যতাকে বুঝে উঠতে পারবে না পুরোপুরি। এমন সব রেফারেন্স অহরহ টানা হয় যার কোনো কূল-কিনারা করতে পারে না সে। এমন সব কৌতুক বলা হয় অহরহ যেগুলো সোজা মাথার উপর দিয়ে চলে যায়, হৃদয় স্পর্শ করে না। সর্বোপরি, মাঝে মাঝে তাকে রীতিমত ঘর্মাক্ত থাকতে হয় কোন কথা বলে নতুন বন্ধুদের সামনে হেয় হয়ে যায়…।
…এমনি এক ঘটনা ঘটেছিল খাবার সময়। ভাগ্য ভাল, খাচ্ছিল নিজের কোয়ার্টারে। এবং ইন্দ্রা আর প্রফেসর এ্যান্ডারসন ছাড়া আর কেউ ছিল না আশপাশে। অটোশেফ থেকে বের হওয়া খাবার সব সময় অতি উত্তম হয়। শারীরিক-মানসিক অবস্থার সাথে মানানসই করেই পাঠানো হয় সেসব। কিন্তু একবিংশ শতাব্দির এক গেঁয়োর কাছে সেগুলো সব সময় আহাদের হবে এমনটা আশা করাও বোকামি।
তারপর, একদিন, একেবারে সুস্বাদু একটা ডিশ এল। যৌবনের হরিণ শিকার আর বার্বিকিউর স্মৃতি টগবগিয়ে ফুটল মনের ভিতরে। ফ্লেভার আর বাহ্যিক আকৃতিতে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল, সুতাং পোল স্বাভাবিক প্রশ্নটা করেই বসে।
এ্যান্ডারসন হেসেছিল কোনোক্রমে। কিন্তু ইন্দ্রা এমনভাবে তাকিয়ে ছিল যেন সে একেবারে অসুস্থ হয়ে পড়বে। কোনোক্রমে নিজেকে সামলে নিয়ে বলেছিল, ‘তুমি বলবে তাকে অবশ্যই খাবার পর।
