‘আপনি পৃথিবী ছেড়ে যাবেন, যদি যান, কমপক্ষে তিন বছরের জন্য। আমরা আপনাকে একেবারে নির্বিষ, মানে গোবেচারা একটা এ্যানাফ্রোডিসিয়াক ইমপ্ল্যান্ট দিতে পারি। মিশনের শেষ পর্যন্ত থাকরে। আশ্বস্ত করছি, আমরা ব্যাপারটাকে ভালভাবেই শেষ করতে পারব।’
‘নো থ্যাঙ্কস,’ জবাব দিয়েছিল পোল, কথা বলার সময় মুখটাকে স্বাভাবিক রাখার প্রাণান্ত চেষ্টাও চালাচ্ছে, মনে হয় আমি সামলে উঠতে পারব।’
এবং তারা সন্দিহান হয়ে পড়েছিল মাত্র তিন চারটা সপ্তাহ পেরিয়ে যাবার পরই। তারা। সে এবং ডেভ বোম্যান।
‘আমিও ব্যাপারটা খেয়াল করেছি, ডেভ বলে উঠেছিল তখন, ‘ঐ মরার ডাক্তাররা আমাদের খাবারে যে কিছু একটা মিশিয়ে দিয়েছে আগেই বুঝতে পেরেছি।’
সেই কিছু একটা যাই হোক না কেন- যদি আদৌ কিছু মিশিয়ে দেয়া হয়ে থাকে- শেলফের জীবন পার করে এসেছে। কিন্তু এসবে কিছু এসে যায় না। খুব ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। ভাবা হয়ে পড়ার সময় নেই। তরুণী এবং পুরোপুরি তরুণী নয় এমন অনেক মেয়ের অফার প্রতিনিয়ত ফিরিয়ে দিতে হয়। তার রূপ নাকি মনের দক্ষতা নাকি খ্যাতি- কোনটা তাদের আকর্ষণ করে সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই তার। ব্যাপারটা সম্ভবত স্রেফ কৌতূহল, বিশ ত্রিশটা জেনারেশন পার করে আসা মানুষটার প্রতি আগ্রহ।
পোলের মনে বেশ স্বস্তির একটা পরশ বয়ে যায় যখন সে আইডেন্ট থেকে বের করে দেখে যে মিস্ট্রেস ম্যাকঅলি বর্তমানে প্রেমিকদের মাঝেই আছে এবং তার সময় খুব স্বল্প। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে সে চলে গেল অন্য এক অবস্থায়। মেয়েটার সরু কোমরে তার হাত, উড়ে চলেছে পুরোপুরি রোবট এক ড্রাগন, ড্রাকোর পিঠে চড়ে। এভিয়েটর্স গগল পরতে হবে কারণ ড্রাকোর গতি ‘আসল’ ড্রাগনদের চেয়েও অনেক বেশি, যন্দুর মনে হয়।
নিচের চির পরিবর্তনশীল চিত্রে এখন অন্য আবহ। উড়ন্ত কার্পেট থেকে আলি বাবা হাত নাড়ছে খুশি মনে… না, খুশি মনে না, চিৎকার করছে, দেখতে পাও না। নাকি! কোথায় যাচ্ছ?”
সে নিশ্চয়ই বাগদাদ থেকে অনেক দূরে। কারণ নিচে এখন অক্সফোর্ডের চিত্র।
অরোরা নিচে আঙল নির্দেশ করল, ঐ পাবটাতেই ইনটাতেই- লুইস আর টোকিন বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে উঠতেন। আর ঐ নদীটা দেখুন ব্রিজ থেকে মাত্র যে নৌকাটা বেরিয়ে এসেছে না? উপরের ছোট যাজক আর মেয়ে দুইটাকে দেখতে পাচ্ছেন?
‘পাচ্ছি, ড্রাকোর নিঃশ্বাসের সাথে পাল্লা দিয়ে চিৎকার করে ওঠে সে, এবং ধারণা করছি তাদের একজন এলিস।
অরোরা সাথে সাথে ঘুরে তাকায়। বোঝা যাচ্ছে, বেশ আনন্দিত।
ঠিক তাই। একেবারে নিখুঁত রেপ্লিকা, কী বলেন? আপনার সময়টা পেরিয়ে যাবার পরই মানুষ পড়ার অভ্যাস একেবারে ছেড়ে দেয়।’
উষ্ণ একটা প্রবাহ বয়ে যায় পোলের ধমনীতে।
আশা করি আরো একটা পরীক্ষায় পাশ করেছি, বলে সে নিজেকে। ড্রাকোর পিঠে চড়াটা একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা, কিন্তু আর কী কী বাকি আছে? বিশাল বিশাল তলোয়ারের সাথে লড়াই ।
কিন্তু আর কিছু বাকি ছিল না। তোমার জায়গায়, নাকি আমার ওখানে প্রশ্নটা তুলেছিল পোলই।
.
পরদিন সকালে, স্তব্ধ হয়ে, প্রফেসর এ্যান্ডারসনকে কল করল সে।
‘সব চলছিল ঠিকঠাক। কোনোক্রমে কথাগুলো উগড়ে দিল, তারপর হঠাৎই হিস্টিরিক্যাল হয়ে গিয়ে আমাকে ঠেলে দিল। ভড়কে গেলাম সাথে সাথে, নিশ্চয়ই কোনো না কোনোভাবে আঘাত দিয়েছিলাম–
তারপর রুমলাইট কল করল, আমরা অন্ধকারেই ছিলাম তারপর ঝাঁপিয়ে পড়ল বিছানা থেকে। সম্ভবত বোকার মতো শুরু করেছিলাম আমি… সে নিশ্চয়ই তাকিয়ে ছিল…’
‘আমি বুঝতে পারছি। বলে যাও।
কয়েক মিনিট পর একটু রিল্যাক্সড হল। এমন কিছু বলল যা কখনো ভুলতে পারব না।’
অপেক্ষা করছে এ্যান্ডারসন। পোল নিশ্চয়ই নিজেকে সামলে নিয়ে ভালভাবে বলতে পারবে।
বলেছিল, আমি সত্যি সত্যি দুঃখিত, ফ্র্যাঙ্ক। আমরা হয়ত ভাল সময় কাটাতে পারতাম। কিন্তু জানতাম না যে- তুমি মিউটিলেটেড।
শূন্য চোখে তাকিয়ে আছে প্রফেসর। একটু পরই বুঝতে পারল।
‘ও- বুঝতে পারছি। আমিও দুঃখিত, ফ্র্যাঙ্ক- হয়ত তোমাকে সতর্ক করা উচিৎ ছিল। আমার ত্রিশ বছরের প্র্যাকটিসে মাত্ৰ জনা ছয়েকের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা দেখেছি।
প্রতিটাই মেডিক্যাল কারণে হয়েছিল যা তোমার বেলায় খাটবে না…
‘আদ্যিকালে সারকামসেশন বা শরীরের স্পর্শকাতর অংশবিশেষ সরিয়ে ফেলা অনেক গুরুত্ব বহন করত- এমনকি তোমার আমলেও। অস্বস্তিকর, মরণ ডেকে আনতে পারে এমন বেশ কিছু রোগের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য প্রাথমিক শতাব্দিগুলোয় কাজটা করা হত। তখন হাইজিন খুব একটা উচ্চ স্তরে পৌঁছেনি। কিন্তু তার পরই, সময় এগিয়ে চলল, এর পক্ষে আর কোনো যুক্তি রইল না বরং থাকল বিপক্ষে, নিজেই আবিষ্কার করলে।
‘তোমাকে প্রথম পরীক্ষা করার আগে রেকর্ড চেক করে নিয়েছি। একবিংশ শতাব্দির মাঝামাঝি সময়ে এত বেশি অপব্যবহার শুরু হয় যে আমেরিকান মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন ব্যাপারটা তুলে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এ বিষয়ের ডাক্তারদের আলোচনা বেশ মুখরোচক।’
‘আমি নিশ্চিত, খুৰ মুখরোচক।’ তিক্ত মুখে বলল পোল।
কিছু কিছু দেশে আরো একটা শতাব্দি ব্যাপারটা চলে। তারপর কোনো কোনো জিনিয়াস দারুণ একটা শ্লোগান তৈরি করে, শব্দের ব্যবহারের জন্য ক্ষমা করবে, ঈশ্বর আমাদের ডিজাইন করেছেন; সারকামসেশন ইজ ব্লাসফেমি। মোটামুটি এটাই এ রীতির পথ রুদ্ধ করে দেয়। কিন্তু তুমি চাইলে একটা ট্রান্সপ্লান্টের ব্যবস্থা করা যায় সহজেই। তুমি কিন্তু মেডিক্যাল হিস্টোরিতে নাম লিখিয়ে ফেলবে না এমন কিছু করলে।
