এতদিনে সে অন্তত বেশিরভাগ কথা বুঝে উঠতে শিখেছে, উচ্চারণ করতে শিখেছে এমন সব শব্দ যাতে তার কথা শুধু ইন্দ্রাই বুঝতে পারে না, বুঝে উঠতে পারে আরো কেউ। তার অনেক ভাল লাগে এই জেনে যে এ্যাংলিশ এখনও পৃথিবীর ভাষা যদিও ফ্রেঞ্চ, রাশিয়ান আর মান্দারিন সুপ্ত হয়ে যায়নি, বেঁচে আছে সগর্বে।
‘আমার আরো একটা সমস্যা আছে, ইন্দ্রা- আর যন্দুর মনে হয় একমাত্র তুমিই সহায়তা করতে পার। যখন আমি “গড” শব্দটা উচ্চারণ করি, মানুষ এত কুঁকড়ে যায় কেন?’
ইন্দ্রাকে ততটা অপ্রস্তুত মনে হয় না, বরং হেসে কুটিপাটি হয় সে।
‘কাহিনীটা অনেক জটিল। আহা, আমার পুরনো বন্ধু ডক্টর খান যদি এখানে থেকে তোমাকে ব্যাপারটা বোঝাতে পারত। কিন্তু সে এখন লেগে আছে গ্যানিমিডের পিছনে। সেখানে যে ক’জন সত্যিকারের বিশ্বাসীর খোঁজ পাবে তাদের যত্ন আত্তি করবে। সারিয়ে তুলবে মনের ক্ষত। যখন সব পুরনো ধর্মগুলো ধ্বসে পড়তে শুরু করল- ধরা যাক পোপ বিংশ পিউসের কথা- ইতিহাসের সবচে বড় মানুষদের একজন!- আমাদের এখনো একজন প্রাইম কজকে খুঁজে বের করতে হবে, যে কারণ সৃষ্টি করেছে এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ড- যদি কেউ থেকে থাকে আর কী…
‘অনেক সাজেশন এল- ডিও-পিও-জোভ-ব্রাহ্ম- তাদের সবাইকে নিয়ে চেষ্টার কোনো ত্রুটি হল না… কোনো কোনো শব্দ এখনো টিকে আছে আশপাশে। এমনকি আইনস্টাইনের প্রিয় “সেই পুরনো জন” উক্তিটাও চলে ঈশ্বর বোঝতে। কিন্ত কেমন করে যেন ডিউস চলতি ফ্যাশন হয়ে গেল এবার।’
‘মনে রাখার চেষ্টা করব, কিন্তু আমার কাছে এখনো বেখাপ্পা লাগছে যে!’
তুমি অভ্যস্ত হয়ে যাবে। কোনো চিন্তা নেই। আরো কয়েকটা ভদ্রোচিত শব্দ আর প্রকাশ দেখিয়ে দিতে পারব। আস্তে আস্তে সেগুলোও ধাতে সয়ে যাবে…’
বলছ সব পুরনো ধর্ম ধুয়েমুছে গেছে? তাহলে আজকাল মানুষ কী বিশ্বাস করে? যত কম সম্ভব। আমরা সবাই আজকাল ডেইস্ট অথবা থেইস্ট।
‘আমার বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছ। সংজ্ঞা দাও দেখি।
‘তোমাদের আমলে যেমন ছিল সেটা আর এখন এমন নেই। থেইস্ট বিশ্বাস করে একের বেশি ঈশ্বর নেই, ডেইস্টরা মনে করে একের কম ঈশ্বর নেই।’
ব্যাপারটা আমার কাছে খুব বেশি স্পষ্ট হল না তো?
সবার কাছে স্পষ্ট নয়। পাঁচ শতাব্দি আগের কথা শুনে অবাক হবে। কে যেন রিয়াল ম্যাথমেটিক্স ব্যবহার করে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে থেইস্ট আর ডেইস্টদের মধ্যে অসীম সংখ্যক শ্রেড আছে। যাই হোক, আমেরিকানরা সবচে বেশি পরিচিত ডেইস্ট- ওয়াশিংটন, ফ্র্যাঙ্কলিন, জেফারসন।
‘আমার সময়ের একটু আগে, তুমি বিশ্বাস করবে না, অনেক মানুষই এসব বুঝতে পারত না।’
‘এখন, আমার হাতে কয়েকটা ভাল খবর আছে। জো- প্রফেসর এ্যান্ডারসন অবশেষে দিয়ে দিয়েছে তার ফ্রেজটা যেন কী? ওকে। স্থায়ী কোয়ার্টারে তোমাকে এখন নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।’
খবরটা আসলেই ভাল। এখানে সবাই ভাল ব্যবহার করেছে আমার সাথে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু তাই বলে নিজের একটা বাসা চাই না তা কে বলল?
‘তোমার নতুন জামা কাপড় দরকার। কেউ একজন জানিয়ে দিবে কী করে সেগুলো পরতে হয়। প্রতিদিনকার শত শত সময় নষ্ট করা কাজ শিখিয়ে দিবে, সময় নষ্ট করতে যেগুলোর কোনো জুড়ি নেই। তাই তোমার জন্য একজন পার্সোনাল এ্যাসিস্ট্যান্ট যোগাড় করার স্বাধীনতা পেয়েছি। এস, দানিল…’।
মধ্য ত্রিশের কোটার ছোটখাট অবয়বের এক লোক এই দানিল। গায়ের রঙ বাদামি। সে শুধু পাম টু পাম স্যালুটই দিল না, সেই সাথে অটোম্যাটিক ইনফরমেশন এক্সচেঞ্চও করল। বোঝা গেল, দানিলের কোনো আইডেন্ট নেই; কখনো প্রয়োজন পড়লে সে একটা চৌকো প্লাস্টিকের কার্ড তৈরি করে নেয়, একবিংশ শতাব্দিতে যেগুলোকে স্মার্ট কার্ড বলা হত তেমন কিছু আর কী।
‘দানিল তোমার গাইডও হবে- আর কী সেই শব্দটা? কখনো সময়মত মনে পড়ে না- “ব্যালের সাথে কবিতা। সে এ কাজে বিশেষ ট্রেনিং পেয়েছে। আমি নিশ্চিত তার সাথে পুরোপুরি সন্তষ্ট হতে পারবে।
হাসি পেল পোলের। সেই সাথে একটু অস্বস্তিতেও পড়ে গেল। ভ্যালে বা ভদ্রলোকের সহায়ক, সোজা কথায় চাকর রাখার চল সে সময়টাতেই একেবারে কমে এসেছিল। যেন সে বিংশ শতাব্দির প্রথমদিকের কোনো উপন্যাসের চরিত্র।
‘দানিল তোমার যাবার যোগাড়যন্ত্র করতে করতে আমরা একটু উপর থেকে ঘুরে আসব, চলে যাব লুনার লেভেলে।
দারুণ! কত উপরে?
‘ও… প্রায় বারো হাজার কিলোমিটার হবে।
বারো হাজার! ঘন্টার পর ঘন্টা লেগে যাবে!
প্রথমে ইন্দ্রা অবাক হল। হাসল তারপর।
না, যত ভাবছ তত সময় কখনো লাগবে না। তাই বলে ভেবোনা, আমরা স্টার ট্রেক মার্কা ট্রান্সপোর্টার বানিয়ে ফেলেছি- তবু, কাজ চলছে যে সেসব নিয়ে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তো, তোমার এখন বেছে নিতে হবে, অবশ্য আমি জানি, কী বেছে নিবে তুমি… একটা এক্সটার্নাল এলিভেটর ধরে উঠে যেতে পার, দেখতে পার বাইরের দৃশ্যগুলো, কিম্বা ধরতে পার কোনো ইন্টারনাল লিফট। একটু খেয়ে নিতে নিতে কিছু লাইটভিউ দেখতে পার সময়টাতে।
‘কেউ ভিতরে থেকে উঠতে চাইবে তা তো কল্পনাও করতে পারি না আমি।
‘তুমি অবাক হবে। কোনো কোনো মানুষের কাছে ব্যাপারটা এত বেশি উচ্চতাভীতিকর যে তারা আঁৎকে ওঠে। বিশেষ করে যেসব ভিজিটর আসে নিচের তলাগুলো থেকে তাদের কথা বলতে পার। এমনকি পর্বতারোহীদের উচ্চতাগর্বও মিনমিনে হয়ে যায় মাঝে মাঝেই।’
