হ্যালো, ডক্টর ফ্লয়েড। এবার আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে
আকৃতির ঠোঁটগুলো কখনো নড়েনি। পোল বুঝতে পারে, কঠটা অবশ্যই বোম্যানের, তবে আসছে স্পিকার থেকে।
কাজটা আমার জন্য খুব কঠিন। হাতে সময়ও খুব কম। এ সতর্কবাণী দেয়ার অনুমতি জুটেছে কোনোক্রমে। তোমাদের হাতে সময় মাত্র পনের দিনের।
‘কেন- আর তুমি কী?’
কিন্তু এর মধ্যেই ভূতুড়ে আদলটা হারিয়ে যাচ্ছিল। এর ফাঁপা অবয়ব হারিয়ে যাচ্ছিল আশপাশের সাথে মিশতে মিশতে।
বিদায়, ডক্টর ফ্লয়েড। আমাদের আর দেখা হবে না। কিন্তু আরো একটা মেসেজ আসতে পারে যদি সব ঠিকঠাক চলে।
হারিয়ে যায় ইমেজটা। একটু না হেসে পারে না পোল। তার মুখের কোণে ঝিকিয়ে ওঠে হাসি। যদি সব ঠিকঠাক চলে! সেই পুরনো কথা। মহাকাশ অভিযানে এ কথাটা কতবার কতভাবে কতজনকে যে বলতে হত, তার ইয়ত্তা নেই। হারিয়ে গেল ছবিটা। মিশে গেল ধূলিকণার সাথে। ঘুরে তাকাল ডক্টর কিম। যাক, কমান্ডার- কী মনে হয় আপনার?
এখনো আঁকি কাটিয়ে উঠতে পারেনি পোল। জবাব দিতে কয়েক সেকেন্ড সময় লেগে যায়।
‘মুখের আদল আর কষ্ঠ যে বোম্যানের তা আমি কসম কেটে বলতে পারি কিন্তু এটা কী?’
‘ঠিক এ ব্যাপারটা নিয়েই আমরা আজো মাথা কুটে মরছি। একে হলোগ্রাম বলে ডাকতে পারেন। একটা প্রজেকশন, এটুকু নিশ্চিত। কেউ চাইলে সে সময়টাতেও এমন সব মিথ্যা ব্যাপার গড়তে পারত। কিন্তু এ অবস্থায়? অসম্ভব। আর তারপরই, বুঝতে পারছেন কি…?’
‘লুসিফার?’
‘ঠিক তাই। সেই সতর্কবাণীর জন্য ধন্যবাদ। তারা কোনোক্রমে লেজ গুটিয়ে পালায়। আর বিস্ফোরিত হয় বৃহস্পতি।‘
‘তাহলে, সে যাই হোক না কেন, বোম্যানের মতো দেখতে-শুনতে জিনিসটা বন্ধুভাবাপন্ন ছিল। চেষ্টা করেছিল সাহায্য করতে, তাই না?’
‘মনে হচ্ছে তাই। এখানেই তার আনাগোনা শেষ নয়। হয়ত সেই আরো একটা মেসেজ এসেছিল। আমরা যেন ইউরোপায় নাক গলানোর কোনো প্রকার চেষ্টা না করি সে সম্পর্কে জানান দিতে চেয়েছিল সে।‘
‘আর আমরা কখনো সে চেষ্টা করিনি?’
শুধু একবার, তাও দূর্ঘটনায় পড়ে গ্যালাক্সিকে হাইজ্যাক করে জোর দিয়ে নামানো হল। মাত্র ছত্রিশ বছর পরের ঘটনা। সিস্টার শিপ ইউনিভার্স সেটাকে রক্ষার জন্য যায়। সামান্য কিছু জানতে পেরেছি আমাদের রোবট মনিটরের মাধ্যমে। ইউরোপানদের বিষয়ে এই আমাদের সঞ্চয়।
‘দেখার জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছি।’
‘তারা উভচর। সব আকার প্রকারে পাওয়া যাবে। লুসিফার তাদের পুরো দুনিয়া জুড়ে থাকা বরফ গলাতে শুরু করল। সাগর থেকে মুখ তুলল তারা। তখন থেকে যে গতিতে উন্নতি করছে, জীববৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে তা বলা চলে একেবারে অসম্ভব।‘
‘আমার যদ্দূর মনে পড়ে, ইউরোপার বরফে অনেক অনেক ফাটল ছিল। হয়ত তারা তখন থেকে উঁকিঝুঁকি মারতে শুরু করে।
‘এ তত্ত্ব অনেকেই মেনে নিয়েছে। কিন্তু আরো একটা মত আছে। আরো বেশি বিশ্বাস্য এবং যৌক্তিক। মনোলিথ হয়ত সেখানে কাজে লাগছে। এমন কোনো পথে, যার হদিস আমরা পাইনি। এই চিন্তাকে আরো বেগবান করে টি এম এ জিরো। সেটাকে পাওয়া যায় শ পাঁচেক বছর পরে। কোথায় জানেন? পৃথিবীর বুকে। আশা করি সেটার কথা বলা হয়েছে আপনাকে?’
‘ভাসাভাসা। এত কম সময়ে এতকিছু জানতে চেয়েছি আমি। কিন্তু নামটা বিদঘুঁটে, তাই না? এটা তো কোনো ম্যাগনেটিক এ্যানোমালি নয়। তার উপর অবস্থান ছিল আফ্রিকায়, টাইকোর বুকে না।‘
‘আপনার কথা পুরোপুরি সত্যি, কিন্তু নামটার সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে। সমস্যা হল, মনোলিথের পানি যত নাড়তে যাই ততই ঘোলাটে হয়ে ওঠে। অন্তত এখনো পৃথিবীর বাইরের এ্যাডভান্সড টেকনোলজির নিদর্শন তারাই।
ব্যাপারটা আমাকে চমকে দিচ্ছে। আমি মনে করেছিলাম এ্যাদ্দিনে আমরা তাদের কাছ থেকে রেডিও সিগন্যাল পেয়ে গেছি। আমি একেবারে বাচ্চা ছেলে থাকার সময় এ্যাস্ট্রোনোমাররা এ খোঁজ শুরু করে।’
‘আসলে, একটা ইশারা এসেছিল। কিন্তু ইশারাটা এত বেশি ভয়ানক যে আমরা এসব নিয়ে আলাপ করতেও ভয় পাই। কখনো নোভা স্করপিওর কথা শুনেছেন?’
‘মনে হয় না।’
‘তারকারা নোভায় পরিণত হয় সব সময়, আর এটা খুব বেশি ভাল কিছু ছিল । কিন্তু এটা ধ্বসে যাবার আগে এন স্করপিওতে অনেক গ্রহ থাকার ব্যাপারটা ধরা পড়ে।’
‘এবং সেখানে বসবাস করা হত?
‘বলার আর কোনো উপায় নেই; রেডিও সার্চাররা কোনো কিছুই ধরতে পারেনি। এবং এখানেই দুঃস্বপ্নটার শুরু…
‘সৌভাগ্যক্রমে একটা স্বয়ংক্রিয় নোভা প্যাট্রল ব্যাপারটাকে ধরতে পেরেছিল একেবারে গোড়াতেই। ঘটনার শুরু অকল্পনীয়। নক্ষত্রেই হবার কথা, তাই না? তা। হয়নি। হয়েছে একটা গ্রহ থেকে। সেই গ্রহ নক্ষত্রটাকে এবং পুরো জগৎকে ধ্বংস করেছে।’
‘মাই গড… স্যরি! বলে যান।‘
ব্যাপারটাকে কি আপনি ধরতে পারছেন? একটা গ্রহের পক্ষে নোভায় পরিণত হবার কোনো উপায় নেই। কোনোই উপায় ছিল না। পরে… আমরা যেহেতু জানি, একটা উপায় আছে।
‘আমি একবার এক সায়েন্স ফিকশন উপন্যাসে সস্তাদরের কৌতুক পড়েছিলাম সুপারনোভাই (supernovae) হল ইন্ডাস্ট্রিয়াল এ্যাক্সিডেন্ট।
‘না-না। কোনো সুপারনোভা ছিল না। কিন্তু কথাটা হয়ত কৌতুক নয়। সবচে গ্রহণযোগ্য মতবাদ হল, অন্য কেউ ভ্যাকুয়াম এ্যানার্জি ট্যাপ করছিল। তারপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।‘
