আমি এখনো নিজের ঘাড়ে দোষ নিতে রাজি আছি যদি আপনি চান। হাজার হলেও, আমার ইচ্ছাকে বাধা দেয়ার ক্ষমতা কারো নেই। তার উপর পৃথিবীতে ফিরে গিয়ে আমরা সবাই হিরোতে পরিণত হব, তখন মাথার উপর ছড়ি ঘোরানোর সাহস পাবে কোন্ ব্যাটা?
চ্যাঙ এর মধ্যেই মনে মনে কিছু হিসাব কষা শুরু করে দিয়েছে। ফল দেখে বোধহয় বেশ তুষ্ট হল।
পে লোডের বদলে আরো শ কিলো প্রোপ্যাল্যান্ট ভরতে পারলে নতুন দিগন্ত খুলে যাবে চোখের সামনে। আগেই মনে হয়েছিল, কিন্তু বিল টি থেকে কে নামবে সেটা ভাবতেই বিব্রতবোধ করতাম, এখন ব্যাপারটা সহজ হয়ে যাবে। বিশেষত ঐ অতিপ্রাকৃতিক প্রাকৃতিক জিনিসটার…।
আর বলা লাগবে না। চীনের মহা প্রাচীর, বলে যান।
ঠিক তাই, জ্বালানী বেশি ভরতে পারলে কুছ পরোয়া নেহি। আগাগোড়া ছুঁড়ে ফেরা যেত। এটা আসলে কী তাও বের করা যেত সহজেই।
আমার ধারণা, দারুণ একটা আইডিয়া আছে আমাদের হাতে। ঠিক জানি না কাছাকাছি যাওয়া উচিত হবে কিনা… আমাদের কপালে পেরেক ঠুকতে পারে ব্যাপারটা।
পারে। কিন্তু আরো একটা কারণ আছে, আমাদের কারো কারো কাছে এ মরণ অনেক অনেক ভাল…
বলে যান।
জিয়াং। সেটা দেয়াল থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরে। সেখানে একটা প্রোব ফেলতে পারলে দারুণ কাজ হয়।
তো, এই কথাই তার ক্রুরা সারাদিন গুজগুজ করে আলাপ করত! আরো অনেকদিনের মতো আবারও তার ম্যান্ডারিন ভাষা জানার খুব ইচ্ছা হল। চীনের শত কোটি লোক এ ভাষায় কথা বলে, জানলে কাজে লাগতো বেশ।
ব্যাপারটা বুঝতে পারছি আমি, শান্ত সুরে বলল কাপ্তান, ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে হবে। আর এ নিয়ে কথা বলব ফ্লয়েড ও ভ্যান ডার বার্গের সাথে। কাজটা তারা হাজার হলেও, মনোযোগ দিয়ে করবে বলে মনে হয়।
আর হেড অফিস?
ড্যাম ইট! এটা হবে আমার সিদ্ধান্ত।
৪৭. টুকরোগুলো
তাড়াতাড়ি করাই ভাল, গ্যানিমিডের সেন্ট্রাল কমান্ড উপদেশ দিল, ইউরোপার সাথে আইওর অর্বিটের পরের বারের সম্মিলনটা মোটেও জুতসই হবে না। আইওর সাথে সাথে আমরাও ভয়ংকরভাবে কেঁপে উঠব।
আমরা আপনাদের ভয় পাইয়ে দিতে চাইনি, কিন্তু আমাদের রাডারের মাথা খারাপ না হয়ে থাকলে, পাহাড়টা আরো শত মিটার নিচে দেবে গেছে, গতবার চেক করার পর, কীভাবে-গড নোজ।
এই হারে চলতে থাকলে, ভাবল বার্গ, আর বছর দশেক, তারপরই ইউরোপা একেবারে সমতল হয়ে যাবে। পৃথিবীর চেয়ে কত দ্রুত এখানে ঘটনা ঘটছে দেখে তাল সামলানো কষ্টকর। নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি সবার আগ্রহ থাকবেই-কিন্তু এই অকল্পনীয় পট-পরিবর্তনও ভূগোলবিদদের এই উপগ্রহের দিকে আকৃষ্ট করে।
এসব ভাবছে সে ফ্লয়েডের ঠিক পেছনে বসে থেকে; চারদিকে নিজের আনা জিনিসপাতির দঙ্গল। নড়াচড়ার যো নেই।
অদ্ভুত হলেও, সে একইসাথে আগ্রহ আর ভয় দেখতে পাচ্ছে মনের ভিতর। আর মাত্র হাতেগোনা কয়েক ঘণ্টা-তারপরই তার জীবনের সবচে বড় অভিযান সম্পন্ন হবে। ফলটা ভাল হোক আর মন্দ-শেষ যে হবে তা নিশ্চিত। এ ঘটনার সাথে মেলানোর মতো আর কোনোকিছু একজন মানুষ জীবনে একাধিকবার পায় না… ভাবতে ভাবতেই ভ্যান ডার বার্গের মনে পড়ে গেল বৃদ্ধ ফ্রয়েডের কথা। এক জীবনে সে তিন তিনবার যুগ পাল্টানো ঘটনায় জড়িয়ে গেল!
এম্নিতে তেমন ভয় স্পর্শ করছে না মনটাকে-মনোবল বাড়িয়ে রেখেছে তার আত্মবিশ্বাস এবং যন্ত্রবিশ্বাসের সমন্বয়। একটা কথা ভেবে মন কেমন যেন করছে। মৃত রোজি ম্যাককোলেনের কথা ভেবেই এ চিন্তা আসে ঘুরেফিরে। মেয়েটা এমন না করলে কোনোদিনই সে এ সুযোগ পেত না।
ঠেসে ভরা বিল টি টেক-অফের সময় বড়জোর এক-দশমাংস মাধ্যাকর্ষণ সহ্য করতে পারে; এমন কাজের জন্য সে মোটেও উপযুক্ত নয়। কিন্তু পোক্তভাবে বানানোয় টিকে যাবে, বেশ ভাল কাজ দিবে এই অভিযানটায়।
অনেক যুগ পরে যেন আকাশে উড়ল শাটলটা। এদিকে এতোক্ষণে শিপ-গাত্রের ক্ষতি খতিয়ে দেখার সময় পেল তারা। এসিড বৃষ্টি হয়েছে সেখানে-মৃদু।
ফ্লয়েড যখন উঠতে উঠতে যন্ত্রপাতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে তখন ভ্যান ডার বার্গ ভিউপোর্টে দেখে দেখে শিপের অবস্থা নিয়ে একটা রিপোর্ট পাঠিয়ে দিল দ্রুত। অবশ্য খুব একটা কিছু যায় আসে না, আর দিন দু-তিন-তারপরই গ্যালাক্সি বিরান হয়ে যাবে।
তারা পুরো স্বর্গ দেখতে পাচ্ছে তাদের ঠিক নিচে। এখন ভ্যান ডার বার্গ ঠিক বুঝতে পারছে অ্যাক্টিং ক্যাপ্টেন লি কী কঠিন কাজটাই না করেছে শিপ ভিড়ানোর সময়।
এই স্বর্গে শিপটা রাখার মতো মাত্র কয়েকটা স্থান ছিল আর সাবেক নাবিক কী অদ্ভুত দক্ষতায় কাজ করল, তাও আবার বাতাস-সাগরের ঢেউ কাজে লাগিয়ে!
বিশ মিনিট ধরে চারদিকে শুধু রহস্যময় মেঘ, কারণ বিল টি শক্তি বাঁচাতে সেমি ব্যালাস্টিক মিসাইল হয়ে প্রায় সোজা উঠে গেছে উপরে, নামবেও সোজা। সাগরের উপর দিয়ে সরাসরি উড়িয়ে নিতে গেলে প্রতিনিয়ত ফুয়েল খোয়াতে হবে, দরকার কী!
একটু মন খারাপ হল গ্যানিমিডের বিজ্ঞানীর, আমি নিশ্চিত নিচের সমুদ্রে অজানা অচেনা অনেক প্রাণী সাঁতরে বেড়াচ্ছে, আর আমার পরে আর কেউ সেগুলো দেখার কোনো সুযোগ পাবে বলে মনে হয় না…
ইঞ্জিন কাট অফ হতে যাচ্ছে। বলল ফ্লয়েড, এভরিথিং নরমাল।
ভেরি গুড, বিল টি! আপনাদের উচ্চতায় কোনো যানবাহন থাকার রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না। এখনো ল্যান্ডিং রানওয়েতে আপনারাই প্রথম।
