উপরের দিকে ষাট ডিগ্রি করে টেক-অফ করতে হবে। আশপাশের থ্রাস্ট দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
মি. চ্যাঙ বলে থাকলে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হয়। কিন্তু আগুনে শিপের কী হাল হবে?
আসলে গ্যারেজের ভিতরটা দুমরে-মুচড়ে যাবে, কিন্তু তাতে কী, আদৌ আর কখনো সেটা ব্যবহার হবে না। ও, হ্যাঁ-বাল্কহেডগুলো অপ্রত্যাশিত বিস্ফোরণের কথা মাথায় রেখে বানানো হয়েছে। তাই জাহাজের বাকী অংশে কোনো আসর পড়বে না। আর, যদি অভিযানে যাই-ই, তো ফায়ার ফাইটিং ক্রুদের ভিতরের দিকে প্রস্তুত রাখব, বাড়তি সাবধানতা-আর কী!
ধারণাটা দারুণ, যদি জিউসের পর্বত ঘুরে আসা যায় তো পুরো অভিযানকে ব্যর্থ বলা যাবে না।
গত এক সপ্তাহে সবার উপর যে ঝড় গেল তাতে ক্যাপ্টেন ল্যাপ্লাস পাহাড়টার রহস্যের দিকে চোখ ফেরানোর ফুরসতই পায়নি; চাচা, আপনা পরান বাঁচা টাই ছিল আসল ধান্ধা।
কিন্তু এখন বেঁচে যাবার আশা জাগছে; কাটছে অনিশ্চয়তা, গুছিয়ে আনা গেছে নিজেদের অনেকটাই-যথারীতি ভাবার মতো সময় হাতে পাওয়াতে নতুন চিন্তা দানা বাঁধছে।
যে মাউন্ট জিউস নিয়ে এতো কল্পনা-অতিকল্পনা তাকে দেখার চান্স কে মিস করে!
এখন, ভাবনার সময় পাওয়া মানেই আবারও ঝুঁকি নেয়ার সুযোগ। সুযোগ কে আর হাতছাড়া করে, নেয়া যাক আরো কিছু ঝুঁকি-মাথা পেতে।
৪৬. শাটল
স্মৃতি থেকে বলছি কথাগুলো, ড. অ্যান্ডারসন কথা পাড়ছে আসরে, গদারের প্রথম রকেটটা মিটার পঞ্চাশেক চলেছিল টেনেটুনে; আল্লা মাবুদ জানে মি. চ্যাঙ রেকর্ডটা ভাঙতে পারবেন কিনা।
আরো ভালোও হতে পারে-কিংবা কে জানে, হয়তো সবাই মহা গায় পড়বে।
সায়েন্স টিমের প্রায় সবাই অবজার্ভেশন লাউঞ্জে জড়ো হয়েছে। চোখ অস্থির, শিপের গায়ের শেষপ্রান্তে কী হয় তা নিয়ে চিন্তিত। এখান থেকে গ্যারেজটা দেখা না গেলেও অসুবিধা নেই, বিল টি বেরিয়ে যেতে নিলে, (যদি আদৌ বেরোয়…) ঠিকই দেখা যাবে।
কাউন্ট ডাউন বলে কিছু নেই; যথেষ্ট সময় নিচ্ছে চ্যাঙ, সম্ভাব্য সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিচ্ছে শেষ মুহূর্তে-একেবারে নিশ্চিত বোধ না করলে ফায়ার করবে না। শাটলকে যথাসম্ভব হাল্কা করে নেয়া ছিল আগেভাগেই। একশ সেকেন্ড ওড়ার মতো প্রোপ্যাল্যান্ট নিয়ে উড়বে। সব ঠিকমতো চললে সমস্যা হবে না, কিন্তু যদি কোনো সমস্যা হয়েই যায়-ঠেকানোর উপায় নেই।
হোয়ার উই গো… সপ্রতিভভাবে বলল চ্যাঙ।
এ এক পুরনো ট্রিক। এ কৌশলে সহজেই টেনশনকে বিকল করে দেয়া যায়; চোখের পলক পড়তে না পড়তেই ঘটনা যা ঘটার ঘটে গেল।
কেউ বিল টি কে বেরুতে দেখেনি। দেখবেই বা কীভাবে, মুহূর্তের মধ্যে চলে গেছে সেটা চারদিকে ধোঁয়া আর বাষ্পের জমাট আস্তর রেখে । মেঘ সরতে সরতে দেখা গেল দুশ মিটার দূরে ল্যান্ড করছে খেয়া নৌকাটা।
লাউঞ্জের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আনন্দের একটা হুল্লোড় বয়ে গেল।
হি ডিড ইট! সাবেক ভারপ্রাপ্ত কাপ্তান লি আনন্দে কেঁদে ফেলল, সে গদারের রেকর্ড ভেঙেছে! এক তুড়িতেই!
ইউরোপার অচেনা ভূমিতে চারপায়ে কিম্ভূতভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় বিল টি কে দেখতে প্রায় আগেরদিনের অ্যাপোলো চান্দ্র মডিউলের মতো লাগছিল। কিন্তু এই চিন্তাটা এখন ব্রিজে থাকা ক্যাপ্টেন ল্যাপ্লাসের মাথায় ঘুরছে না।
হঠাৎ মনে হল তার শিপটা যেন কোনো অকেজো মা-তিমি মাছ মারা যাবে আর একটু পরই-সদ্য জন্মানো বাচ্চাটা যেন বাঁচে সে প্রত্যাশা তার মনে।
.
আরো অনেক অনেক ব্যস্ত আটচল্লিশটা ঘন্টা পেরিয়ে উইলিয়াম সুখকে রণসজ্জায় সাজানো হল। দ্বীপের দশ কিলোমিটার সার্কিটে বারবার তাকে বাজিয়ে নেয়া হয়েছে এরই মধ্যে। এখনো মিশন পুরো করতে অনেক সময় পাওয়া যাবে।
আরো তিন দিনের মধ্যে ইউনিভার্সের চলে আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এদিকে জিউস পর্বতের অভিযান নিবে মাত্র ছঘণ্টা সময়। এমনকি ড. ভ্যান ডার বার্গের জটিল যন্ত্রপাতি বসানো সহ অন্যান্য কাজ হিসাবে নিলেও এরচে বেশি সময় লাগবে না।
সেকেন্ড অফিসার চ্যাঙ ল্যান্ড করার সাথে সাথে ক্যাপ্টেন তাকে কেবিনে ডেকে নিল।
স্কিপারকে এমন অসুস্থ আর অপ্রকৃতিস্থ দেখাচ্ছে কেন! ভাবল চ্যাঙ।
দারুণ কাজ, ওয়াল্টার-কিন্তু অবশ্যই, এ ফলটা আমরা আশা করেছিলাম। ক্যাপ্টেন সহজে অফিসার ও প্যাসেঞ্জারদের কাউকে ডাকনাম ধরে ডাকে না। আন্তরিকতা প্রকাশ পাচ্ছে তার কথায়।
“থ্যাঙ্কস, স্যার-তাহলে সমস্যাটা কোথায়?
হেসে দিল ক্যাপ্টেন। কোনো ভাল স্পেস –পেটে কথা রাখতে জানে না।
হেড অফিস, যথারীতি। আমি আপনাকে নিরুৎসাহিত করতে চাই না মোটেও। কিন্তু ভাই, বিধি বাম। সোজা আদেশ এসেছে, ড, ভ্যান ডার বার্গ আর সেকেন্ড অফিসার ফ্লয়েড এ অভিযানে বেরুচ্ছেন।
মনের চোখে ছবিটা দেখতে পাচ্ছি। বেচারা হতাশ মনে তিক্ত গলায় বলল, তো, আপনি কী জবাব দিলেন?
যথারীতি, কোনো জবাবই দেইনি। এখনো দেইনি বলেই আপনার সাথে কথা বলতে চেয়েছি। আমি নির্দ্বিধায় বলব যে আপনিই মিশনটা চালানোর সবচে যোগ্য পাইলট।
তারাও জানবে যে কথাটা… ননসেন্স হয়ে যাবে। ফ্লয়েড আমার মতো ভালভাবেই কাজটা করতে পারবে। অভিযানে বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নেই-যদি যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা না দেয়, তো। আর যান্ত্রিক ত্রুটি আপনাকে-আমাকে বা ফ্লয়েডকে দেখে আসবে না।
