ভাঁড়টা কে? প্রশ্ন তুলল ভ্যান ডার বার্গ।
রনি লিম। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এই ল্যান্ডিং রানওয়েতে আপনারাই প্রথম। ডায়ালগটা অ্যাপোলো যুগের কথা মনে করিয়ে দেয় খুব।
ভ্যান ডার বার্গ সহজেই বুঝতে পারে কেন কথাটা বলছে ফ্লয়েড। এটা আসলে ঠিক ঠাট্টা নয়, চিরাচরিত রসিকতা কিংবা ভাড়ামো নয়, যখনই কোনো বড় ধরনের বিপদের দিকে কেউ এগিয়ে যায় তাকে এমন করে উৎসাহ দেয়া উচিত। কথার উৎসাহ নয়, রসিকতা দিয়ে হাল্কা করা।
ব্রেকিং শুরু করতে পনের মিনিট বাকী। বলল ফ্লয়েড, দেখা যাক আর কে এখন অন দ্য এয়ার।
সে অটোস্ক্যানের দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে। ব্লিপ আর আলোর ওঠানামা দেখতে হচ্ছে তীক্ষ্ণ চোখে। না, কোনো না কোনো জায়গা থেকে শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে এগিয়ে আসছে। কোত্থেকে, তারা না জানলেও আন্দাজ করতে জানে।
আপনাদের লোকাল বিকন আর ডাটা ট্রান্সমিশনে বোঝা যাচ্ছে বলল ফ্লয়েড, অনেকটা আনমনেই, মনে করেছিলাম যে… আহ্ এই তো, এসে পড়েছি!
একটা ছোট্ট মিউজিক্যাল টোন বাড়ছে-কমছে। ফ্লয়েড তাকালো সেদিকে।
ডপলার শিফট চলে গেছে-নামিয়ে আনছি তাকে।
এটা আবার কী? টেক্সট?
স্লোস্ক্যান ভিডিও, যদ্দূর মনে হয়। তারা গ্যানিমিডের বিগ ডিশটা দিয়ে সারাক্ষণ হাজারটা তথ্য পাঠায় পৃথিবীতে। নেটওয়ার্ক নতুন খবরের জন্য তীর্থের কাকের মতো চেয়ে আছে।
এই কিম্ভূত শব্দের দিকে তারা অনেকক্ষণ কান পেতে থাকল। এ কেমন মিউজিক? বাজনার তো একটা ধরণ থাকা উচিত। আর না, ফ্লয়েড সাথে সাথে বন্ধ করে দিল সুইচটা। এখন এসব শোনার কোনো মানে হয় না। ইউনিভার্স এগিয়ে আসছে, সাহায্য আসতে দুদিন বাকী।
কেন যাচ্ছে তারা? অসম্ভবের দিকে কেন যাওয়া? কেন নিষিদ্ধের পথে? নিষেধ না মানার জন্য, নাকি বিজ্ঞানের কল্যাণে? নাকি শুধু নিজের কৌতূহলে! কে জানে!
ভ্যান ডার বার্গ হঠাৎ অপ্রাসঙ্গিকভাবেই বলল, পরে আর আপনার দাদার সাথে কথা হয়েছে নাকি?
হয়েছে। অবশ্যই, কথাটা কেমন যেন খাপছাড়া। কোটি কিলোমিটার দূর থেকে কথা হওয়ার ব্যাপারটা সহজ নয়। তাই মানুষ সব সময় সহজ বিকল্প বেছে নেয়। ভয়েসগ্রাম, অডিওমেইল বা এ-মেইল, ভোকার্ড এর উন্নতি এতো দ্রুত হয়েছে যে বলে প্রকাশ করার মতো না। তারপর স্রেফ মিলিয়ে গেছে হাওয়ায়।
এখনো মানুষ আশা ছাড়েনি। সৌর জগতের বিশাল এলাকায়, কোটি কোটি কিলোমিটারের দূরত্বে, এখনো মানুষ রিয়েল টাইম স্পিকিংয়ের আশা নিয়ে বসে আছে। সারাক্ষণ তারা একটা যন্ত্রণা করে বেড়ায়: আপনারা বিজ্ঞানীরা কোন ঘোড়ার ঘাস কাটেন? কেন পারছেন না এ কাজটা করতে?
হ্যাঁ বলল ফ্লয়েড বেশ কিছুক্ষণ পরে, ভালই আছে। আশা করি দেখব কদিন পরেই।
তার সুরের ঠিক কোথায় যেন একটু টান টান উত্তেজনার ভাব লুকানো। কে জানে… ভাবল ভ্যান ডার বার্গ, কিন্তু টাচডাউনের আগে কোনোরকম বাগাড়ম্বরে যাবার কোনো ইচ্ছাই তার নেই।
প্রোগ্রাম সিকোয়েন্সরটা ঢোকানোর পর পরই নিভে গেল কমেন্স ব্রেকিং অ্যালার্ম ।
আমার ভার ভাল হাতের উপরই পড়েছে, ভাবল ভ্যান ডার বার্গ, রিল্যাক্স করে নিজের কাজে মন দেয়া উচিত আমার। ক্যামেরা কোথায় গেল-বলোনা আবার ভেসে গেছে একদিকে…।
মেঘ সরে যাচ্ছে আকাশ থেকে। অথবা তারা মেঘময় আকাশ থেকে নেমে আসছে। যদিও চোখে দেখার মতো স্পষ্ট করে রাডার দেখিয়েছে ঠিক কোথায়, কীভাবে জিউস পর্বতটা মাথা তুলে দাঁড়ালো, তবু মেঘ কেটে যেতেই ঠিক নিচে, কয়েক কিলোমিটার দূরে পাহাড়টা দেখে কেমন যেন করে উঠল তাদের মনের ভিতরটা।
দেখুন! চিৎকার করে উঠল ফ্লয়েড, ব দিক দিয়ে। জোড়া চূড়ার দিকে দেখুন… একটু আন্দাজ করা সম্ভব কী ঘটছে সেখানে।
শিওর। আপনার কথাই ঠিক। মনে হয় না আমরা কোনো ক্ষতি করেছি-জিনিসটা শুধু ছড়িয়ে পড়েছিল-অন্যটা যে কোথায় পড়ল…
উচ্চতা এক হাজার। কোনো ল্যান্ডিং সাইটটায়? এখান থেকে আলফাঁকে দেখে তেমন ভাল লাগছে না।
“ঠিক বলেছেন-গামাতে চেষ্টা করলে কেমন হয়-মাউন্টেন থেকে বেশ কাছে…
পাঁচশো। এটা গামা। বিশ সেকেন্ডের জন্য ভাসব-আর যদি পছন্দ না হয় তো বল, বিটাতে যাচ্ছি। চারশো… তিনশো… দুশো,… (গুডলাক, বিল টি–বলল গ্যালাক্সি সংক্ষেপে)… থ্যাঙ্কস রনি… ওয়ান হান্ড্রেড অ্যান্ড ফিফটি… এবার কী করা যায়? কয়েকটা পাথর ছড়ানো আছে সেখানে। আর-এটাতো বেমানান-সারাটা জায়গাজুড়ে ভাঙা কাঁচ ছড়ানো, অন্তত দেখে এমনি মনে হচ্ছে-কারা যেন এখানে জঙলি পার্টি দিয়েছিল… এখনো ওকে?
পারফেক্ট। নামতে থাক, ক্রিসি।
“চল্লিশ… ত্রিশ… বিশ… তোমরা নিশ্চিত? এখনো মন বদলাবে না?… দশ… একটু ধুলা ওড়াচ্ছি লাথ মেরে… যেমনটা বলেছিল এককালে নিল আর্মস্ট্রং-নাকি বলেছিল ব্যস্ত?… পাঁচ… কনটাক্ট! একদম সহজেই, তাই না? ঠিক বুঝলাম না কেন আমার ঠিক ইজি লাগেনি।
৪৮. লুসি
হ্যালো, গ্যানি সেন্ট্রাল-আমাদের ল্যান্ডিংটা একেবারে নিখুঁত। মানে, ক্রিস কোনো এক কিম্ভূত পাথরের উপর নামিয়ে দিয়েছে যানটাকে। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে মাত্র কিলোমিটার দুয়েক দূরে। কিন্তু আমার মনে হয় এরচে কাছে যাবার কোনো মানে নেই…
এখন টপ স্যুটগুলো পরে নিচ্ছি, পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আনলোডিং শুরু হয়ে যাবে। মনিটর চালু রাখব, অবশ্যই। আর প্রতি পনের মিনিটে একবার করে কল করব। ভ্যান আউট।
