সাধারণত প্রতিদিন তারপরই সবার আকর্ষণ চলে যায় একটা প্রশ্নের দিকে, ফিরব কখন বাড়ি?
এবং সাথে সাথেই জবাব আসে কারো না কারো কাছ থেকে, আসলেই কি তোমরা বাড়ি ফিরতে চাও?
তারা বললে আমি অবশ্যই যাব। আজকে বলল গ্রিনবার্গ, কিন্তু চিন্তা করে দেখ, বুধের বেলায় একই ব্যাপার হবে। চাঁদে আমরা প্রথম যাই উনিশো উনসত্তুরে। তারপর পঞ্চাশ বছর পা বাড়াইনি। এখন? অবশ্য বুধকে চাঁদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বলা যায় না, কিন্তু অর্ধশত বছর পরে? পানি নেই, তা সত্যি। কিন্তু কে জানতো চাঁদের উপর পানি পাওয়া যাবে… নাকি বলতে হবে চাঁদের ভিতর?
মার্কারীতে নামার মতো অ্যাত্তো বিখ্যাত না হলেও অ্যারিস্টার্কাসে মিউল-ট্রেন বসানো আমার জীবনের এক বিশাল অভিজ্ঞতা।
মিউল-ট্রেন?
হুম! নিরক্ষীয় অঞ্চলের বড় উৎক্ষেপকটা বসানোর আগে বরফ এমন সোজা কক্ষপথে ছুঁড়ে দেয়া যেত না। আমাদের সময়ে বরফকে বয়ে আনতে হত ইম্বিয়াম স্পেস পোর্টে। তার মানে কিন্তু খুব জটিল। লাভায় ঢাকা এবড়োথেবড়ো বিস্তীর্ণ এলাকা সমান কর, জ্বালামুখ আর উপত্যকাগুলোয় বসাও ব্রিজ। অনেক ঠেলা সামলে আইস রোড বানালাম। নামটা সুন্দর না? শুনতে মনে হয় মাত্র তিন শত কিলোমিটার, কিন্তু গড়ার সময় অনেক জীবন কেড়ে নেয় এটা…
খচ্চরগুলো আসলে আট চাকার বিশাল ট্রাক্টর। একেকটা টায়ার বিকট-দর্শন এবং চলাচলও স্বাধীন। একশ টন বরফ ভরা ডজনখানেক ট্রেইলার টেনে নিতেও তাদের তেমন কষ্ট পোয়াতে হয়নি সেসময়ে। চলত রাতেই, ঢাকনার প্রয়োজন হত না তাই।
সেগুলোতে চড়েছি অনেকবার। যাত্রাতে ছঘণ্টা লেগে যেত গড়পড়তা। হাজার হলেও, স্পিড রেকর্ড ভেঙে ফেলার কোনো ধান্ধা থাকত না আমাদের মনে। নিয়ে আসার পর বরফটা ইয়া পেটমোটা এক প্রেশার ট্যাঙ্কে ফেলে সূর্যোদয়ের আশায় বসে থাকা।
গলে যাবার সাথে সাথেই স্পেসশিপগুলো শুষে নেবে।
আইস রোড এখনো সচল। কিন্তু ব্যবহার করে শুধু ট্যুরিস্টরা। তারা যদি কোনো পুরনো ঘ্রাণ খুঁজতে চায় তো রাতে চড়লেই সবচে ভাল করবে, নাহলে মেকি হয়ে যাবে তাদের ভ্রমণ। মাথার উপর বিশাল পৃথিবী নির্দ্বিধায় আলো বর্ষাচ্ছে, একে জোছনা বলা যায় না। আপন মনে হয়, যেন আপনজন পাঠাচ্ছে দূরের আত্নীয়ের খাতিরে। আমরা প্রায়ই লাইট ব্যবহার করতাম না। এমনকি নিয়মিত চেক আউটের জন্য বন্ধুরা যদি রেডিও যোগাযোগের চেষ্টা করত তাহলে আমরা অটো জবাবের হাতে ছেড়ে দিতাম। একা থাকতে চাওয়াটা দোষের কিছু নয়, তার উপর চলন্ত অবস্থায় আকাশে পৃথিবীকে দেখতে কেমন লাগে তা পৃথিবীর চন্দ্রিমাপ্রিয় লোকজন বেশ বলতে পারবে।
এখন সেখানে টেরাভোল্টের কোয়ার্ক ভাঙার কল বসানো হচ্ছে। নিরক্ষীয় অঞ্চলেই। তার উপর আবাসিক ডোমে ডোমে ছেয়ে গেল চাঁদের বুক। কিন্তু আমরা একেবারে নিখাদ চন্দ্রদেবীকে দেখেছিলাম-কুমারী, অসূর্যস্পর্শা। ঠিক যেমন দেখেছে নিল আর্মস্ট্রং আর অনি, ঠিক তেমন-আপনাদের বর্তমান ঐ কী যেন বলে, ট্রাংকুইলিটি বেস থেকে “যদি তুমি থাকতে হেথায় টাইপের কার্ড কেনেন, তেমন স্যুটকোট পরা চাঁদ নয়।
৪০. পৃথিবীর দানবেরা
…শত জন্মের কোন্ পূণ্যে যেন তুমি বাৎসরিক ভোজনটা মিস করেছ। বিশ্বাস করতে পার আমার কথায়, একেবারে গতবছরের মতোই বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা এবারও। এবং আবারও আমাদের প্রিয় হস্তিনী মিসেস উইলকিনসন তার ড্যান্স পার্টনারের পা জীবনের তরে বিকল করে দিয়েছে হাফ-জি ড্যান্স ফ্লোরের উপর নেচেই।
“পরচর্চা অনেক হল, কাজের কথায় আসি। তুমি হপ্তা কয়েকের বদলে মাসের পর মাস বাইরে থাকবে শুনে প্রশাসন তোমার ফ্ল্যাটের দিকে কুনজর দিচ্ছে। তোমার ফ্ল্যাটের অবস্থানটা হাজার হলেও, আকর্ষণীয়, ডাউন টাউনের খোলামেলা পরিবেশ-সেইসাথে পৃথিবী দেখার লোভ। ইত্যাদি ইত্যাদি। ফলে, তুমি ফেরার আগ পর্যন্ত সাবলেট দেয়ার তালে আছে। প্রস্তাব শুনে খারাপ লাগেনি, অনেক পয়সাকড়ি আসবে তোমার, মুফতে, কী বল? যে কোনো পার্সোনাল ব্যাপারে কথা জানার থাকলে বলবে, সগ্রহ করব…
“এখন, শাকা না কী ছাই নিয়ে কথা উড়ছে হাওয়ায়। আমি জানি, তুমি ঠ্যাঙ ভেঙে দেয়ার কাজ বেশ পছন্দ করেই কর। কিন্তু সত্যি, আমি আর জেরি সিম্পলি ভয় পেয়ে গেছিলাম। বোঝাই যায় কেন ম্যাগি মবালা তাকে এমন ঠেস দিল, তার অলিম্পাসের পিপাসা পড়েছি আমরা প্রায় সবাই। বইটা একটু বেশি নারীবাদী, আমাদের জন্য…
“কী দানবরে বাবা! বোঝাই যায় কেন তার পেছনে আফ্রিকান গুন্ডা লেলিয়ে দিয়েছিল কেউ একজন। কী হিংসুটে! দলের কোনো যোদ্ধা বিয়ে করলেই সোজা ফাঁসিকাষ্ঠে। তার এলাকায় কোনো গরুও ছিল না-একমাত্র দোষ ওগুলো ফিমেল । আর তার আবিষ্কার করা স্পিয়ারগুলো কী ভয়ংকর ছিল, চেনা অচেনা যে কোনো মানুষের গলায় ফুঁ দিয়ে গেঁথে দিত বিষাক্ত ছোট্ট তীর, বেশিদূর থেকে দেখলে মনে হবে নলটা কোনো চুরুট… ।
“আর আমাদের জন্য কী লজ্জাজনক প্রচারণা, আল্লা মাবুদ! কোনো মানুষকে হিংস্র করার জন্য যথেষ্ট। আমি সব সময় দাবী করে আসছি যে আমরা ভদ্র, সদয় (এবং পাগলের মতো মেধাবী ও সৃষ্টিশীল, অবশ্যই। আর আজকে কিনা তোমরা আমাদের চোখের সামনে তথাকথিত যোদ্ধার স্পিরিট আনতে চাচ্ছ! যেন মানুষ মারার মধ্যে মহান কোনো ভাব লুকিয়ে আছে। আমরা আমাদের এই সঙ্গত কারণেই লজ্জিত..
