কিন্তু হনুমান বেশ বড়। দানবীয়ই বলা যায়। তা ছাড়াও আর লাখ ছোট ঘোঁট অ্যাস্টেরয়েড ঘুরে বেড়াচ্ছে, এদের নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
তোর উপর ঠাঠা পড়ুক, তোর দাড়ি পুড়ে মিশকালো হয়ে যাক, তুই নির্বংশ হ। ভাল গ্যাড়াকলে পড়া গেল!
ঠিক আপনার মতো চিন্তা আর ভয় আমার মনে। পৃথিবীতে মাথায় বজ্রপাত হবার সম্ভাবনা যতটুকু, ততটুকু।
অ্যাজ এ ম্যাটার অফ ফ্যাক্ট, কলোরাডোের পাইক পর্বতের চূড়ায় একবার আমি অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলাম… (কেন মরলি না তুই তখন?)
…আলো আর শব্দ একই সাথে আঘাত করেছিল। আর আপনি স্বীকার করছেন যে সেই হন্তারা এদিক-সেদিকই আছে। আমরা কি এতো গতিতে চলাচল করে প্রচণ্ড ঝুঁকি নিচ্ছি না? ইন ফ্যাক্ট, একেই বলে জীবন হাতে নেয়া।
উইলিস কাঁটায় কাঁটায় জবাবটা জানে। আবারো সে স্পেস সম্পর্কে অজ্ঞ দর্শকের সামনে নিজের আসন উঠিয়ে রাখছে, এবং দর্শকরা প্রতি সেকেন্ডে পিছিয়ে যাচ্ছে হাজার কিলোমিটার। (ইউনিভার্স থেকে, এখানে ওঠার আগ্রহ এবং বর্তমান গতি, দু অর্থেই।)।
মনে মনে বকায় এক ধরনের বিমল আনন্দ আছে, অন্তত ঝাঁঝটা একটু কমে যায়, তাই বকা চালিয়ে গেল ক্যাপ্টেন-ব না, তোর উপর এটম বোমা পড়ক, তোর চান্দি মিশে যাক হাওয়ার সাথে, আরেকটু তেড়িবেড়ি করলেই ইন্টারভিউর খেতা পুড়ব, গুষ্ঠি খিলাব।
গণিত ছাড়া ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা কষ্টকর। বলল ক্যাপ্টেন স্মিথ (জীবনে কতবার সে এই কথা বলে উতরে গেছে? কোনো লেখাজোকা নেই। এমনকি যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানেও দারুণ কাজে লাগে।) “কিন্তু সত্যি, গতির সাথে ঝুঁকির কোনো সম্পর্ক নেই। বলতে চাচ্ছি, গতি বাড়ালে বাড়বে, কমলে কমবে-এমন সমানুপাতিকতা অথবা উল্টো ধরে নিয়ে ব্যস্তানুপাতিকতার কোনো মানে হয় না। ব্যাপারটা এমন, আপনার পাশে যদি কোনো আণবিক বোমা পড়ে, এবং সেটা যদি ফাটে, তাহলে তার হিসাবটা কিলোটনে নাকি মেগাটনে তা ভাবা নিতান্তই হাস্যকর।
এবং জিতে যাচ্ছে উইলিস। এই কথায় আর যাই হোক, স্বস্তি পাওয়া যায় না, মহাকাশ ভ্রমণের সাথে পাশে নিউক্লিয়ার বোমা পড়ার তুলনা! কিন্তু কী আর করা? গতস্য শশাচনা নাস্তি। যা বলার বলে ফেলেছ বাছা, এবার আগে বাড়ো, কথাটাকে ধামাচাপা দাও। উইলিস ভামটা যেন এনিয়ে আর কচলাতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখ।
আর একটা কথা আপনাকে মনে করিয়ে দিতে দিন-যত বড়… না, মানে সামান্য রিস্ক নিলেও আমরা কিন্তু জীবন বাঁচানোর জন্যই ছুটে যাচ্ছি। একটা ঘন্টা বাঁচাতে পারলেও তা অনেক জীবন রক্ষা করার কাজে লাগতে পারে। আর ইউরোপার বুকে…
হ্যাঁ, আমি শিওর। তাছাড়া আমরা সবাই ব্যাপারটায় গর্ববোধ করি। একটু থামল ভিক্টর, আরো কিছু কথা যোগ করতে হবে, অবশ্যই, আমিও একই নৌকার যাত্রী।
আর সেই যাত্রীর যাত্রার কথা সবার সুবিদিত! সবার যাবার সম্মতির মুখে তুমি না গিয়ে করতেটা কী? নৌকা থেকে স্পেসে নেমে ডুব সাঁতার দিয়ে বাড়ি ফিরতে? এসেছে আমার রামরাজত্বের শ্রীরাম, মহা পরোপকারী!
এই সব ব্যাপার আমাকে আরেকটা কথা মনে করিয়ে দিল। উইলিস এখনো নিজের কথা বলে যাচ্ছে, আপনি কি মাত্র দেড়শো বছর আগে উত্তর আটলান্টিকে ঘটে যাওয়া ব্যাপারটার কথা জানেন?
উনিশো এগার সালের কথা?
ভাল, আসলে উনিশো বার
ক্যাপ্টেন স্মিথ এগুতে থাকা মারটার কথা চিন্তা করছে। নিজে ভেবে বের করতে পারলেই সবচে ভাল হয়, গা বাঁচানো যায়।
আমার ধারণা, ভিক্টর, আপনি টাইটানিকের কথা বলছেন…
“ঠিক তাই, এবারও ব্যাটা কাপ্তান আগে আগে ধরে ফেলল! কিন্তু আর নয়, ছক্কা হাঁকাবে ভিক্টর উইলিস, যেজন্য তার এ্যাদ্দিনের প্রস্তুতি, আমি অন্তত বিশজনের কাছ থেকে কথাটা শুনেছি। তাদের সবার দাবী, মিলটা তারাই প্রথম দেখতে পায়।
কোন মিল? টাইটানিক অসম্ভব সব ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে নেমেছিল। শুধু রেকর্ড ভাঙার তালে…।
তারপর প্রায় বলেই বসছিল ক্যাপ্টেন স্মিথ, এমনকি তাদের পর্যাপ্ত লাইফবোটও ছিল না। কিন্তু স্রষ্টাকে সহস্রবার ধন্যবাদ, তিনি স্মিথের কোনো জনমের পুণ্যের বদৌলতে যেন এ যাত্রা বাঁচিয়ে দিলেন। কথাটা শুধু মুখ ফস্কে বেরুলেই হত, ক্যারিয়ার-জীবন দু-ই নিয়ে টানাটানি।
তাদের এই শিপের সবেধন নীলমণি শাটলটা সাকুল্যে মাত্র পাঁচজন যাত্রী বইতে পারে, এবং সেই শাটল নিয়ে সৌর জগতের খোলা আকাশে ভেসে পড়া আর প্রশান্ত মহাসাগরের ঠিক মাঝখানে ডুবন্ত জাহাজ থেকে উদ্ধার পাবার আশায় রবারের ডিঙি নিয়ে নেমে যাওয়া একই কথা।
আরো অনেক কথা বলা যেত, ক্যাপ্টেন স্মিথ, তবু সময় নষ্ট না করে মানছি, মেনে নিচ্ছি টাইটানিকের সাথে এই অত্যাধুনিক শিপ ইউনিভার্সের আকাশ পাতাল ফারাক। তবু একটা ব্যাপারে সবার মন খুঁতখুঁত করছে, ক্যাপ্টেন। এ যুগেও মানুষ অতিকল্পনা বা কুসংস্কার-আপনি এটাকে যাই বলুন না কেন, ব্যাপারটাকে প্রশ্রয় দেয়।
ক্রমেই তেতে উঠছে স্মিথের মন-মগজ। যা ডোবানোর ডুবিয়েছিসততা ব্যাটা, বলনা, কী বলবি, বল?
আপনি কি টাইটানিকের প্রথম ও একমাত্র ক্যাপ্টেনের নামটা জানেন?
না, আমি অবশ্য একটু মনে করার চেষ্টা… আর কথা যোগাল না স্মিথের মুখে, * ইংরেজি ভাষায় নামের দুপ্রাপ্যতা এবং একই নামে হাজার মানুষের সহজপ্রাপ্যতা
